ভুটান প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে, জাতীয় পরিষেবাগুলিকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত বা বাধ্যতামূলক করেছে এবং গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ‘পেলসাং’ নামে একটি নতুন জাতীয় উদ্যোগের সূচনা ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি)’ প্রকল্পের জন্য সৃজনশীল ও বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরিতে ভুটানের তরুণদের সংযুক্ত করা। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ভুটান তরুণদের বেকারত্ব (১৭.৮ শতাংশ) এবং উল্লেখযোগ্য মেধা নিষ্কাশনের মতো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে, যা দেশটির স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তরুণদের ধরে রাখতে রাষ্ট্র নতুন সুযোগ তৈরি ও উপস্থাপনের মাধ্যমে তার জাতীয়তাবাদকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আজকের ভুটান প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করছে, জাতীয় পরিষেবাগুলিকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করছে, সেগুলি চালু করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক করছে এবং জিএমসি-কে একটি প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।
প্রব্রজন ও টিকে থাকা
চলতি বছরের শুরুতে প্রাইম মিনিস্টার শেরিং তোবগে অভিবাসন ও প্রব্রজনকে দেশের জন্য একটি অস্তিত্বের সঙ্কট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই সমস্যার গুরুত্ব ভুটানি জাতীয়তাবাদের মূলে আঘাত হানে। বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার (১৯০৭ সালে) পর থেকে ভুটানের জনগণ দেশটির জাতীয় কল্পনা, পরিচয় এবং টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থেকেছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে তাদের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন জোরদার করার পাশাপাশি একটি জাতীয় ভাষা ও পোশাক গ্রহণের মাধ্যমে এটি আরও শক্তিশালী হয়েছিল। এমনকি গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস বা মোট জাতীয় সুখের (জিএনএইচ) ধারণাটি কেবল ভুটানের জনগণের জীবনযাত্রাকেই সংজ্ঞায়িত করেনি, বরং দেশের জন্য একটি অনন্য পরিচয়ও তৈরি করেছে।
বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার (১৯০৭ সালে) পর থেকে ভুটানের জনগণ দেশটির জাতীয় কল্পনা, পরিচয় এবং টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থেকেছে।
তবে ২০০৮ সালে ভুটান গণতন্ত্রকে গ্রহণ করে, যেখানে রাজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবেই থেকে যান। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি ব্যাপক কল্যাণমূলক নীতির (বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) পাশাপাশি ঘটেছিল, যা ইন্টারনেট, গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করে এবং দেশের যুবসমাজের জাতীয়তাবোধকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করে। তাদের জাতীয়তাবোধ এখনও সে ভাবে বিকশিত হয়নি এবং ঐতিহ্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত পুরনো ধারার জাতীয়তাবাদ দেশের যুবসমাজ ও তাদের জীবনযাত্রাকে উপেক্ষা করছে। আজকের প্রজন্ম অর্থাৎ যারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় বিশ্বের সঙ্গে অনেক বেশি পরিচিত, তারা কাঠামোগত অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে হতাশ এবং উন্নত সুযোগ, কাজের পরিবেশ ও বেতনের সন্ধানে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। মোট অভিবাসী জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশই সরকারি কর্মচারি, যা রাষ্ট্রের সক্ষমতা, আমলাতন্ত্র এবং সরকারি খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের জনসংখ্যার ৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ অভিবাসী হওয়ায় এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দেশটি একটি বার্ধক্যপ্রবণ সমাজে রূপান্তরিত হতে চলায়, ভুটানের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা দেশটিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে বাধ্য করছে।
প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদ
ভুটান প্রযুক্তির আলিঙ্গনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের একটি নতুন ধারণা খুঁজে পায়, যা তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারে। ২০১৯ সালের শুরুতে রাজা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দেন। কোভিড-১৯ অতিমারি এই প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১১২তম জাতীয় দিবস উদ্যাপনের ভাষণে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, অটোমেশন, বিগ ডেটা, ব্লকচেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং ফিনটেক অর্থাৎ ডিজিটাল মুদ্রা, ডিজিটাল ওয়ালেট, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং-এর মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দ্বারা চালিত হয়ে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা যা এখনও বুঝি না, তা এড়িয়ে চলার এবং সেরা কিছুর জন্য আশা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। এই ধরনের মনোভাব আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’
প্রকৃতপক্ষে, ভুটান প্রযুক্তিকে জিএনএইচ-এর সম্ভাবনাকে উন্মোচন এবং অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, কল্যাণ উন্নত করার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও পরিবেশকে টিকিয়ে রাখার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেছিল। সেই বছর ই-গভর্ন্যান্স, সরকারি পরিষেবার ডিজিটালকরণ, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং এবং একটি ফিনটেক বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য ডিজিটাল ড্রুকইউল ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম (ডিডিএফপি) চালু করা হয়। প্রায় একই সময়ে ভুটান বিটকয়েন মাইনিংও গ্রহণ করে। ২০২২ সালে সরকার সরকারি সংস্থা জুড়ে ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা এবং কার্যকারিতা ত্বরান্বিত করার জন্য গভ-টেক প্রতিষ্ঠা করে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভুটান বিটকয়েনের পঞ্চম বৃহত্তম ধারক দেশে পরিণত হয় (যার মূল্য ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ)। তারা পুঁজি প্রবাহ এবং রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের খরচ মেটানোর জন্য বিটকয়েন কৌশলটি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়াও দেশটি তাদের জাতীয় ডিজিটাল আইডি প্রকল্পের জন্য ব্লকচেন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
২০২২ সালে সরকার সরকারি সংস্থা জুড়ে ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা এবং কার্যকারিতা ত্বরান্বিত করার জন্য গভ-টেক প্রতিষ্ঠা করে।
তবে এটি কেবল ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনও উদ্যোগ নয়। দ্রুত প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি ভুটান তার নাগরিকদেরও এই পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উৎসাহিত করতে সমান ভাবে আগ্রহী। সাতজন কলেজ ছাত্রের দ্বারা ভুটানের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ, নোমাইন্ডভুটান-এর প্রতিষ্ঠা এই নতুন ডিজিটাল ভোরের প্রতিশ্রুতির একটি প্রমাণ। সর্বোপরি, ২০২৬ সালে কার্যকর হতে চলা ইন্টিগ্রেটেড বিজনেস লাইসেন্সিং সিস্টেমটি এই ধরনের আরও স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তা উদ্যোগের জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে। যে প্রজন্ম একই সঙ্গে স্থানীয় এবং বৈশ্বিক অনুভূতি ধারণ করে, তাদের জন্য এই ডিজিটাল পরিবর্তনটি উদ্ভাবন এবং সুযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদের একটি নতুন ভাষা হিসেবে কাজ করে।
জাতীয় পরিষেবা
এ ছাড়াও, রাষ্ট্র নতুন নাগরিক জাতীয়তাবাদ এবং জাতি গঠনের নৈতিক মূল ভিত্তি হিসেবে তিনটি জাতীয় পরিষেবা — দে-সুং, গ্যালসুং এবং পেলসুং — ব্যবহার করছে। ২০১১ সালে চালু হওয়া দে-সুং কর্মসূচিটি একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি, যা প্রাথমিক ভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সম্প্রদায়িক সেবার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা ভুটানের নাগরিকদের প্রয়োজনের সময় জাতি এবং তার জনগণের সেবা করতে উৎসাহিত করে। ২০২০ সালে অতিমারির সময় হাজার হাজার দেসুপ জনস্বাস্থ্য এবং লজিস্টিক্সে সহায়তা করেছিল, যা প্রমাণ করে যে, স্বেচ্ছাসেবা কী ভাবে ভুটানি হওয়ার পরিচয়ের একটি মূল অংশে পরিণত হয়েছে। আজ পর্যন্ত এই কর্মসূচির অধীনে ৫১,৩৫৩ জনেরও বেশি ভুটানিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, কিছু দক্ষ দেসুপ ‘দে-সুং ফর গ্যালসুং’ প্রকল্পের অধীনে গ্যালসুং উদ্যোগকেও সহায়তা করছে।
২০১৯ সালে দেশটির রাজা ১৮ বছর বয়সি সকল ভুটানি নাগরিকের (বিদেশে বসবাসকারী-সহ) জন্য একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় পরিষেবা হিসেবে গ্যালসুং ঘোষণা করেন। ২০২২ সালে এটি দেশের পার্লামেন্টে গৃহীত হয়। যুবকদের এক বছরের একটি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সকল ক্যাডেট তিন মাসের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এর পর জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং নির্মাণ প্রযুক্তি, কম্পিউটিং, উদ্যোক্তা বা কৃষির মতো যে কোনও একটি খাতে প্রশিক্ষণ পায়। ক্যাডেটরা ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত সেবায় নিয়োজিত থাকে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় দায়িত্বের জন্য তাদের তলব করা হতে পারে। ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে তারা রিজার্ভিস্ট হিসেবে থাকে এবং তারপর বাকি জীবন দেসুপ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবা দিতে পারে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬,৩৩১ জনেরও বেশি গ্যালসুংকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
যুবকদের এক বছরের একটি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সকল ক্যাডেট তিন মাসের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এর পর জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং নির্মাণ প্রযুক্তি, কম্পিউটিং, উদ্যোক্তা বা কৃষির মতো যে কোনও একটি খাতে প্রশিক্ষণ পায়।
দু’টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেব এই উদ্যোগটিকে রূপ দিয়েছে। প্রথমত, এই পরিষেবাটির লক্ষ্য হল তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা এবং তাদের দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। দ্বিতীয়ত, গ্যালসুং-এর জীবন দক্ষতার উপর মনোযোগ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং বেকারত্বের মূল কারণগুলি, যেমন যোগ্যতার অমিল এবং পর্যাপ্ত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবের মতো বিষয়গুলির সমাধান করবে (দ্রষ্টব্য রেখচিত্র ১)।
রেখচিত্র ১। বেকারত্বের কারণসমূহ

উৎস: তৃতীয় ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি প্রতিবেদন ২০২৫
গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি
জিএমসি হল ভুটানের দক্ষিণাঞ্চলের সমভূমিতে অবস্থিত একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (এসএআর), যা ভারতের সীমান্তবর্তী এবং এটিকে উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে বিকশিত হচ্ছে, যেখানে স্বয়ং রাজা হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জিএমসি একটি বিস্তৃত বলয় হিসেবে কাজ করছে, যার অধীনে জাতীয় পরিষেবা এবং ডিজিটালাইজেশন হাতে হাত রেখে তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। তৃতীয় পরিষেবা অর্থাৎ পেলসুং প্রবর্তনের সময় রাজা জোর দিয়ে বলেন, ‘আজ আমরা যা কিছু করছি, তা আমাদের তরুণদের জন্য – যাতে তারা আমাদের চেয়েও উন্নত হতে পারে।’ এই পরিষেবাটি হল বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ভুটানিদের জন্য একটি তিন মাসের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হল তাদের শহরটির জন্য ধারণা ও সমাধান প্রদানে ক্ষমতায়ন করা।
রাষ্ট্র জিএমসি-র মাধ্যমে প্রবাসীদের তাদের দেশের প্রতি ‘কিছু ফিরিয়ে দেওয়া’র আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তাদের একত্রিত ও সম্পৃক্ত করছে। ২০২৪ সালে রাজার অস্ট্রেলিয়া সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এবং বিশ্বে ভুটানের স্থান খুঁজে নেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পর্কে তথ্য ভাগ করে নেওয়া। একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি সংক্রান্ত পথনির্দেশিকা ২০৩৫ সালের মধ্যে ৬৫,০০০ দক্ষ চাকরি তৈরি এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করায় জিএমসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেমন, সরকার জিএমসি-র উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রতিভা, পুঁজি এবং অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি জিএমসি নেশন বিল্ডিং বন্ড (জিএনবিবি) চালু করেছে, যা প্রবাসী ভুটানিদের এই প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে সরকার তার জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু প্রবাসী প্রত্যাবর্তনকারীকে পুনর্বাসন করছে।
সরকার জিএমসি-র উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রতিভা, পুঁজি এবং অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডিজিটাল উদ্যোগ, জাতীয় পরিষেবা কর্মসূচি এবং জিএমসি-র বিকাশের ফলে যা উঠে আসছে, তা হল জাতীয়তাবাদের একটি সুচিন্তিত ও সচেতন নতুন রূপায়ণ। ভুটান এখন আর তরুণদের ধরে রাখার জন্য কেবল অর্থনৈতিক প্রণোদনার ওপর নির্ভর করছে না, বরং এটি আবেগগত ও নাগরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে বিনিয়োগ করছে। রাষ্ট্র নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মিলিত দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিবাসনকে নিছক একটি সঙ্কট হিসেবে না দেখে, থিম্পু এটিকে আত্মবিশ্লেষণের একটি মুহূর্ত হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তরুণদের সক্রিয় অন্তর্ভুক্তি, ক্ষমতায়ন এবং পুনঃএকত্রীকরণের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আশা করা হচ্ছে যে, জাতীয়তাবাদের নতুন ঢেউ, জাতীয় কর্তব্য এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো, ব্যবসাবান্ধব নীতি ও তরুণদের জন্য সুযোগের মতো আকর্ষণীয় কারণগুলির মাধ্যমে ব্যাপক দেশত্যাগ রোধ করা যাবে এবং এমনকি পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়াও সম্ভব হবে।
আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
উদিতি লুনাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme’s Neighbourhood Studies Initiative. He focuses on strategic and security-related developments in the South Asian ...
Read More +
Uditi Lunawat is a Research Intern at the Observer Research Foundation. ...
Read More +