Published on Oct 03, 2025 Updated 0 Hours ago

ভারতীয় ওষুধের উপর শুল্ক আরোপের যে কোনও মার্কিন পদক্ষেপ ওষুধের দাম বাড়ানো, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করা, উভয় পক্ষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা দুর্বল করা, এবং বিশ্বব্যাপী ফার্মা উদ্ভাবনের শ্বাসরোধ করার ঝুঁকি তৈরি করে।

শুল্ক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ফার্মা বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ

‌ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলি আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত শুল্ক থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল, তবে এই সুযোগ এখন বিপন্নতার মুখোমুখি। সাধারণভাবে, ভারতীয় আমদানির উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৫০ শতাংশ হওয়ার পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অগাস্ট মাসের শুরুতে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কথা উল্লেখ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে ওষুধ ক্ষেত্রটি মার্কিন শুল্কের আওতার বাইরে ছিল। অবশ্য আগেই এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন  যে তিনি ফার্মা-নির্দিষ্ট শুল্ক চালু করার পরিকল্পনা করছেন, যা আগামী ১৮ মাসে ২৫০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। আনুমানিক হিসাব অনুসারে , ২৫ শতাংশ ফার্মা শুল্ক মার্কিন ওষুধের দামে বছরে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ করবে, যার ফলে ওষুধের দাম ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ট্রাম্প অবশ্য তাঁর সাম্প্রতিক টুইটে ১ অক্টোবর থেকে তাঁর দেশে আমদানিকৃত ব্র‌্যান্ডেড ওষুধের উপর ২৫ নয়, ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছেন।

শুল্ক উত্তেজনা এবং ধারা ২৩২ পর্যালোচনা

মার্কিন-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারত থেকে আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার শাস্তি হিসেবে
মোট শুল্ক  ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ওষুধ শিল্পকে মার্কিন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা ছিল, যেখানে ভারত মার্কিন ওষুধ পণ্যের উপর ৫-১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন, ১৯৬২-‌র অধীনে তার ওষুধ আমদানির ধারা ২৩২ পর্যালোচনা শুরু করে। এই অনুসন্ধানের ফলাফল — ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে প্রত্যাশিত — নির্ধারণ করবে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসাবে বিবেচিত আমদানির উপর শুল্ক আরোপ করবেন কিনা। ধারা ২৩২-‌এর অধীনে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর পূর্বে শুল্ক প্রয়োগ মার্কিন উৎপাদনশীলতা এবং তার অংশীদারদের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর  বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-‌তে তার মামলা  উপস্থাপন করবে, এবং যুক্তি দেবে যে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর নতুন শুল্ক ড্বলিউটিও সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে ভারতের কাছে প্রতিশোধমূলক পাল্টা  শুল্ক বসানোর অধিকার থাকবে।
 

এতদিন পর্যন্ত ওষুধ শিল্পকে মার্কিন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা ছিল, যেখানে ভারত মার্কিন ওষুধ পণ্যের উপর ৫-১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।



ওষুধের উপর মার্কিন শুল্ক: বর্তমান অবস্থা

ঔষধের ক্ষেত্রে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সম্প্রতি  ইইউ এবং জাপান থেকে ওষুধ আমদানির উপর ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বের কারণে ওষুধ পণ্যগুলিকে বাণিজ্য বিরোধ থেকে বিরত রাখার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য থেকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্থান। এই শুল্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কারণ এগুলি ধারা ২৩২ তদন্তের ফলাফলের সাপেক্ষ  হবে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করতে এবং উৎপাদন আমেরিকায় ফিরিয়ে আনতে আগামী ১৮ মাস ধরে যে কোনও নতুন শুল্ক ক্রমবর্ধমানভাবে চালু করা হবে।

তবে এই পরিকল্পনায় ধরে নেওয়া হয়েছে যে শুল্কের ফলে আমদানিকৃত ওষুধের দাম আরও বেশি হবে, যার ফলে গ্রাহকেরা দেশীয় বিকল্পগুলির দিকে ঝুঁকবেন এবং মার্কিন ওষুধ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি উৎসাহিত হবে। এই অনুমানগুলি মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সূক্ষ্মতা বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয় এবং অনশোরিংয়ের অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত দিকগুলিকে উপেক্ষা করে। প্রথমত, মার্কিন স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৯০ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী রোগের জন্য দায়ী, যা ব্র্যান্ডেড ওষুধ ও জেনেরিক উভয় ধরনের প্রেসক্রিপশন ওষুধের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম ওষুধ বাজার, এবং ২০২৪ সালে
২১২.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের  পণ্য আমদানি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশনের নব্বই শতাংশ জেনেরিক ওষুধের জন্য দেওয়া হয়, তবে এগুলি ব্যয়ের মাত্র ২০ শতাংশের জন্য দায়ী, যা ইঙ্গিত করে যে ওষুধের ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেটেন্ট- সুরক্ষিত ওষুধের পিছনে যায়।

ভারতীয় জেনেরিকের উপর নির্ভরতা

মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভারতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; ভারত দেশটির জেনেরিক ওষুধের ৪৭ শতাংশ সরবরাহ করে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় জেনেরিক রোসুভাস্ট্যাটিন পরিস্থিতিকে চিত্রিত করে — বাজারে প্রবেশের পর, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই ওষুধ কিনতে সক্ষম আমেরিকানদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। জেনেরিকের উপর শুল্ক চাপ —
১০-১৫ শতাংশের বেশি  — ভারতীয় নির্মাতাদের 'সামান্য লাভের মার্জিন'-‌এর কারণে মার্কিন বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করতে পারে অথবা এমনকি ওষুধের মান হ্রাসকারী ব্যয়সঙ্কোচে বাধ্য করতে পারে। অতএব, শুল্কের ফলাফল মার্কিন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরাসরি বিপদ তৈরি করে, ওষুধের ঘাটতি সৃষ্টি করে, এবং মার্কিন রোগীদের জন্য ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেয়।


জেনেরিকের উপর শুল্ক চাপ — ১০-১৫ শতাংশের বেশি — ভারতীয় নির্মাতাদের 'সামান্য লাভের মার্জিন'-‌এর কারণে মার্কিন বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করতে পারে অথবা এমনকি ওষুধের মান হ্রাসকারী ব্যয়সঙ্কোচে বাধ্য করতে পারে।



সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা

ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খল জটিল, এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের জন্য চিনের উপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে এতে দুর্বলতা দেখা দেয়। এটি মূলত ওষুধ উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য মূল প্রাথমিক উপকরণ (কেএসএম) এবং সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই)-‌এর জন্য চিনের উপর নির্ভরতার কারণে ঘটে। বিশ্বব্যাপী এপিআই চাহিদার
৮০ শতাংশ চিন সরবরাহ করে। কোভিড-১৯ অতিমারি ভারতের  দুর্বলতাগুলিকে তুলে ধরেছিল, এবং কেএসএম ও এপিআই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উৎপাদন-সংযুক্ত-প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্পগুলি জোরদার করেছিল। তা সত্ত্বেও, ভারত তার এপিআই চাহিদার ৭০ শতাংশ চিন থেকে আমদানি করে। যদি ভারতীয় ওষুধ পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে এটি ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের এপিআই উৎপাদন থেকে নিরুৎসাহিত করবে। পরিবর্তে, অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওষুধ প্রস্তুতকারকেরা ক্ষতি কমাতে এবং শুল্ক থেকে উদ্ভূত খরচ-মার্জিন সংরক্ষণের জন্য সম্ভবত সস্তা চিনা উৎস থেকে এপিআই ক্রয় বৃদ্ধি করবে, যা চিন থেকে ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলকে উন্মুক্ত করার জন্য ভারতীয় ও মার্কিন প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে। এটি চিনের উপর এপিআই নির্ভরতা গভীর করে ভারতীয় ও মার্কিন স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ

মার্কিন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মার্কিন ওষুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা জটিল, এবং
অনুমান অনুসারে এতে কমপক্ষে ৫-১০ বছর সময় লাগবে। শুল্কের ফলে উচ্চ মুনাফা মার্জিনের ব্র্যান্ডেড ওষুধের নির্মাতারা আমেরিকায় উৎপাদন করতে উৎসাহিত হতে পারে, হয় বিদ্যমান পরিকাঠামো অধিগ্রহণের মাধ্যমে অথবা নতুন উৎপাদন ইউনিট নির্মাণের মাধ্যমে। তবে, এই কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং বৃহৎ বিনিয়োগ ছাড়াও, আমেরিকায় উৎপাদন প্রচেষ্টার জন্য তিনটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন:‌ ১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক, যা নির্মাণ ব্যয়কে প্রভাবিত করবে, ২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, এবং ৩) উচ্চ-দক্ষ কর্মীবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা।

এমএফএন ওষুধের মূল্য নির্ধারণ এবং উদ্ভাবনের ঝুঁকি


ফার্মা আমদানির একটি জটিল কারণ হল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি। ২০২৫ সালের মে মাসে
একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে — 'আমেরিকান রোগীদের কাছে সর্বাধিক পছন্দের দেশের (এমএফএন) প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য নির্ধারণ' — প্রবর্তিত নীতিটি কিছু উদ্ভাবনী ওষুধের দামকে অন্য উন্নত দেশগুলির প্রদত্ত সর্বনিম্ন মূল্যে নির্ধারণ করে। উন্নত দেশগুলির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (ওইসিডি) এমন দেশগুলিকে তালিকাভুক্ত করেছে যেখানে মাথাপিছু জিডিপি মার্কিন জিডিপি-‌র কমপক্ষে ৬০ শতাংশ। এমএফএন-এর অধীনে আমেরিকান রোগীদের জন্য ওষুধের দাম কমানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে ট্রাম্পের তরফে সতেরোটি ফার্মা কোম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

মূল্য নিয়ন্ত্রণ কৌশলগুলি স্বল্পমেয়াদি লাভ আনলেও, এর ফলে লাভ কমে যাবে,  এবং গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। এটি ওষুধের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে আর মার্কিন-ভিত্তিক উৎপাদনে বিনিয়োগ থেকে কোম্পানিগুলিকে নিরুৎসাহিত করবে।
এটি অনুপযুক্ত হবে কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য রাষ্ট্রগুলিকে নতুন ওষুধ এবং অত্যাধুনিক থেরাপির জন্য উদ্ভাবনের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে-‌আনা চিনের উপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে, যা আরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা উদ্বেগ তৈরি করবে। যদিও এই নীতির লক্ষ্য হল অর্থনৈতিকভাবে তুলনীয় দেশগুলির তুলনায় উদ্ভাবনী ওষুধের দাম কমিয়ে আমেরিকান রোগীদের 'বিশ্বব্যাপী ফ্রিলোডিং' কমানো, এটি উদ্ভাবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি বহন করে। ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি চালু করার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা বিভিন্ন অংশীদারের কাছ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিল।


যদিও এই নীতির লক্ষ্য হল অর্থনৈতিকভাবে তুলনীয় দেশগুলির তুলনায় উদ্ভাবনী ওষুধের দাম কমিয়ে আমেরিকান রোগীদের 'বিশ্বব্যাপী ফ্রিলোডিং' কমানো, এটি উদ্ভাবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি বহন করে।



শিল্প প্রতিক্রিয়া

ফার্মা শুল্ক এবং এমএফএন-এর আসন্ন বিপদ ওষুধ শিল্পে
অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, এবং এমনকি আমেরিকার হাসপাতাল ও ফার্মেসিগুলিকে নির্দিষ্ট ওষুধ মজুত করতে বাধ্য করেছে। শিল্পের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত হয়েছে:‌ শুল্ক বসানোর প্রয়াস কোম্পানিগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর করা উচিত কি না তা নিয়ে অনিশ্চিত করে তুলেছে;‌ অন্যদিকে কিছু প্রধান অংশীদার মার্কিন উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। এলি লিলি, জনসন অ্যান্ড জনসন, অ্যাবভি, ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব, গিলিয়েড ও রেজেনারনের মতো মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারকরা এবং সুইজারল্যান্ডের রোচে ও নোভার্টিস, জাপানের তাকেদা, ফ্রান্সের সানোফি এবং যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকা তাদের মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষমতা জোরদার করা ও সম্প্রসারণের জন্য আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্মিলিত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে শুল্ক ঝুঁকির বিরুদ্ধে ঝাঁকি কমানোর চেষ্টা শুরু করছে। জাইডাস লাইফসায়েন্সেস ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ইমিউন থেরাপি তৈরিতে নিবেদিত মার্কিন-ভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি আ্যগেনাল ইঙ্ক-‌এর উৎপাদন সুবিধা অধিগ্রহণ করবে, যা বিশ্বব্যাপী বায়োলজিক্স সিডিএমও (কন্ট্রাক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অর্গানাইজেশন) ব্যবসায় প্রবেশের
সূচনা করবে। সিনজিন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রথম বায়োলজিক্স উৎপাদন কেন্দ্র অধিগ্রহণ করেছে, যা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি উৎপাদনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সানফার্মা এই বছরের শুরুতে চেকপয়েন্ট থেরাপিউটিক অধিগ্রহণ করেছে, যা শিল্প বিশেষজ্ঞদের দ্বারা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে সান ফার্মা ত্বকের অ্যাডভান্সড স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (সিএসসিসি)-‌র জন্য প্রথম এফডিএ-অনুমোদিত থেরাপি আনলকসিট অর্জন করে, যা ত্বকের ক্যান্সারের জন্য ইমিউনো-অনকোলজিতে তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে। এই প্রচেষ্টাগুলি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করে, আর কোম্পানির পোর্টফোলিও এবং উৎপাদন অবস্থানগুলিকে বৈচিত্র্যময় করে  স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখে। নতুন ওষুধের গবেষণা ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করার জন্য ভারতের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গেও এগুলি সামঞ্জস্যপূর্ণ


জাইডাস লাইফসায়েন্সেস ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ইমিউন থেরাপি তৈরিতে নিবেদিত মার্কিন-ভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি আ্যগেনাল ইঙ্ক-‌এর উৎপাদন সুবিধা অধিগ্রহণ করবে, যা বিশ্বব্যাপী বায়োলজিক্স সিডিএমও (কন্ট্রাক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অর্গানাইজেশন) ব্যবসায় প্রবেশের সূচনা করবে।



ভবিষ্যতের পথ

ঔষধ শিল্পের জন্য শুল্কের বিকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ তৈরিতে উদ্ভাবনের জন্য মার্কিন রাজস্ব উৎসের উপর
নির্ভরতা কমাতে নোভার্টিস ও সানোফির ইউরোপীয় ফার্মা প্রধানেরা ইউরোপকে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং মার্কিন শুল্ক হুমকির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য তাদের ওষুধের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। কর প্রণোদনা বা ভর্তুকি মার্কিন উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে পারে
, এবং একে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও স্বচ্ছতা উৎসাহিত করার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারতীয় জেনেরিক-‌সহ ফার্মার উপর শুল্ক মার্কিন ওষুধের দাম বাড়াবে, ঘাটতি সৃষ্টি করবে, এবং চিনা এপিআই-এর উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করবে। পরিবর্তে, ব্যয় না বাড়িয়ে ভারত থেকে উৎপাদন প্রতিশ্রুতি সুরক্ষিত করার উপর আলোচনা কেন্দ্রীভূত হতে পারে, যার মধ্যে উচ্চ লাভের মার্জিন-‌সহ মার্কিন ওষুধ তৈরির কেন্দ্রগুলিতে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

উপসংহার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ওষুধের বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ফার্মা-নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের ফলে সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের ক্ষেত্রে আমেরিকানরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এবং বিশ্বব্যাপী ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলে কম্পন তীব্রতর হবে। ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারকরা ‘‌অত্যন্ত কম মার্জিনে’‌ কাজ করে এবং মার্কিন জেনেরিকের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করা সত্ত্বেও ১০-১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক তাদের লাভের অঙ্কে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে মার্কিন গবেষণা ও উদ্ভাবনের উপর শুল্ক  বিরূপ প্রভাব ফেলবে, যা সম্ভাব্যভাবে চিনের নেতৃত্বকে জোরদার করে তুলবে। ফার্মা কোম্পানিগুলির কৌশলগত বিনিয়োগ ও এপিআই বৈচিত্র্যই এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়ই প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখবে।



লক্ষ্মী রামকৃষ্ণন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের  অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.