আব্রাহাম চুক্তিতে দামাস্কাসের সম্ভাব্য প্রবেশ আঞ্চলিক জোটগুলিকে নতুন আকার দিতে পারে, পুরনো আনুগত্যকে চাপ দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন কৌশলগত সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
২০২৫ সালের ১৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাঁকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেন এবং প্রণোদনা হিসেবে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সৌদি কর্মকর্তারা এই সরাসরি মার্কিন-সিরীয় সম্পৃক্ততার জন্য সক্রিয় ভাবে তদবির করেছিলেন। সিরিয়ার আল-কায়েদা সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর আল-শারা আরও মধ্যপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে সৌদিরা বিশ্বাস করে যে, তিনি তাঁর দেশের গতিপথ পুনর্নির্মাণে সহায়তা করতে পারেন।
মার্কিন নেতৃত্বে দামাস্কাসের ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও জোট পুনর্নির্মাণ করবে। অতএব, আব্রাহাম চুক্তিতে সিরিয়ার সম্ভাব্য প্রবেশের ফলে প্রভাবিত দেশগুলির অগ্রাধিকারগুলি বোঝা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতা সমীকরণের জন্য বৃহত্তর প্রভাব পরীক্ষা করা জরুরি।
আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন
আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বর্তমান দেশগুলি সিরিয়ার সম্ভাব্য যোগদান থেকে লাভবান হলেও তারা যথেষ্ট সতর্কতাও অবলম্বন করছে। ২০১৮ সালে দামাস্কাসে নিজেদের দূতাবাস পুনরায় চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এখন ইজরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে গোপন নিরাপত্তা আলোচনার আয়োজন করেছে বলে জানা গিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আল-শারার চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সতর্ক থাকার উপর জোর দিলেও, তাঁর আরও মধ্যপন্থী ভাবমূর্তির কারণে ইউএই তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। বাহরাইনও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য স্বাভাবিকীকরণকে অপরিহার্য বলে মনে করেছে। বাহরাইন একই সঙ্গে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রতিশ্রুতি এবং সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে।
আবু ধাবি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন চুক্তি অর্জনের প্রত্যাশা করছে, যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো থেকে শুরু করে জ্বালানি প্রকল্প, অর্থনৈতিক লাভ এবং ইরানের উপর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব।
আসাদের আমলে বছরের পর বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর সিরিয়া আঞ্চলিক স্তরে পুনঃএকত্রীকরণের ফলে এই উভয় জিসিসি দেশই যথেষ্ট উপকৃত হবে। আবু ধাবি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন চুক্তি অর্জনের প্রত্যাশা করছে, যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো থেকে শুরু করে জ্বালানি প্রকল্প, অর্থনৈতিক লাভ এবং ইরানের উপর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব। এ দিকে, মানামা নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং এর আঞ্চলিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার আশা করছে। সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সফরে বাহরাইনের একটি প্রতিনিধিদল চরমপন্থা মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া, সিরিয়ানদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও সিরিয়ার পুনর্গঠনে বিনিয়োগের সুযোগের উপর মনোনিবেশ করেছে। অতএব, এই উভয় দেশের জন্য স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি উপায়। কারণ অতীতের সংঘাতগুলি দেখিয়েছে যে, লেভান্তের বিশৃঙ্খলা সহজেই এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একই কারণে মরক্কোও সিরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রকাশ্যে সিরিয়ার আরব লিগের সদস্যপদকে সমর্থন করেছে। মরক্কো দামাস্কাসে তার দূতাবাস পুনরায় চালু করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে, যা সিরিয়ার সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য তার প্রস্তুতিকেই দর্শায়। মরক্কোর লক্ষ্য হল সুপ্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ইজরায়েল প্রথমে ওয়াশিংটনের বিষয়ে গভীর সংশয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। আল-শারার উত্থানের পর থেকে ইজরায়েল সিরিয়ায় বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং ইজরায়েলি কর্মকর্তারা তাঁকে আল-কায়েদা জিহাদি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। ইজরায়েল অবশ্য প্রথমে সতর্ক করেছিল যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সিরিয়ার চরমপন্থী ছিটমহলগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে এবং পরে তারা দামাস্কাসের চুক্তিতে যোগদানের জন্য সুযোগ তৈরি করে। ইজরায়েল পরামর্শ দিয়েছে যে, সিরিয়ার সদস্যপদ অবশ্যই ‘কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক’ হতে হবে, যার জন্য আল-শারার জিহাদি গোষ্ঠীগুলিকে ভেঙে ফেলা, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করা এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
যাই হোক, এই চুক্তিকে ব্যাহত করতে সক্ষম একটি মূল বিরোধ হল গোলান হাইটসের অবস্থা। ইজরায়েল ১৯৮১ সালে গোলান দখল করে এবং যুক্তি দেয় যে, আসাদ সরকারের পতনের পর দামাস্কাসের সঙ্গে তাদের ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, অঞ্চলটির সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুতর আলোচনা ছাড়া আল-শারা বাস্তবসম্মত ভাবে চুক্তিতে যোগ দিতে পারেন না। যদিও আল-শারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লেখা একটি সাম্প্রতিক চিঠিতে বলেছেন যে, সিরিয়া ‘সঠিক পরিস্থিতিতে’ চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। দামাস্কাস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অগ্রগতির জন্য গোলান পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কোনও আলোচনা করা যাবে না।
অঞ্চলটির সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুতর আলোচনা ছাড়া আল-শারা বাস্তবসম্মত ভাবে চুক্তিতে যোগ দিতে পারেন না।
যদি পূর্ণ প্রত্যাবর্তন, সীমিত স্বায়ত্তশাসন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হয় গোলান হাইটসের ভবিষ্যতের সমাধান ইজরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দামাস্কাসের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করবে, এর উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষিত করবে এবং সিরিয়াকে মার্কিন-সমর্থিত নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করবে, যা আসলে তেহরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তবে গোলান প্রসঙ্গে অর্থপূর্ণ অগ্রগতি ছাড়া, ইজরায়েলি-সিরিয়ার স্বাভাবিকীকরণ রাজনৈতিক ভাবে অপ্রাপ্য।
‘প্রতিরোধের অক্ষ’র জন্য অব্যাহত বিপত্তি
ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধের অক্ষ’র বর্তমান রূপ হল হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি এবং ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)। প্রাক্তন অক্ষ অংশীদার বাশার আল-আসাদের পতনের পর এই অক্ষ বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। হিজবুল্লাহর জন্য, আসাদের পতন তাৎক্ষণিক ভাবে ইরানি অস্ত্র স্থানান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিয়ান সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে, যা গোষ্ঠীটির নিজস্ব স্বীকারোক্তি অনুসারে বেশ ‘বড়, বিপজ্জনক রূপান্তর’।
ইয়েমেনে হুতিদের জন্য ইরানি অস্ত্রের করিডোর হিসেবে সিরিয়ার ভূমিকা এখন মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে। একই ভাবে, ইরাকে পিএমএফ - যারা প্রক্সি মোতায়েনের জন্য সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করত - তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মক্ষম সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সর্বোপরি, আল-শারাও এই পথগুলিতে সক্রিয় ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হামাস প্রাথমিক ভাবে আসাদের পতনকে স্বাগত জানালেও তাদের টানাপড়েনের কারণে সশস্ত্র দলগুলির উপর আল-শারার কঠোর ব্যবস্থা তাদের আঞ্চলিক কর্মক্ষম পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ করবে। সিরিয়া যদি স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়ে যায়, তা হলে ইরানি প্রক্সিদের বিরুদ্ধে আল-শারার দৃঢ়তা আরও তীব্র হবে।
আব্রাহাম চুক্তিতে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তি তাদের নিজ নিজ জাতীয় ক্ষমতা-বণ্টন কাঠামোর মধ্যে অক্ষ গোষ্ঠীগুলির দর কষাকষির ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে। লেবাননে হিজবুল্লাহর কৌশলগত স্বার্থ প্রায়শই দেশটির ভঙ্গুর জোট সরকারের স্বার্থের চেয়ে ভিন্ন ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইতার এই ভিন্নতাকেই তুলে ধরেন, যিনি বলেছিলেন: ‘এখন এমন কোনও কারণ নেই যে, আমরা সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গে আপসের পথে হাঁটব না।’ এর পাশাপাশি, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সক্রিয় ভাবে হিজবুল্লাহ ও হামাসকে নিরস্ত্র করার জন্য কৌশল তৈরির জন্য চেষ্টা করছেন। যদি সিরিয়া-ইজরায়েলি সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ সম্পন্ন হয়, তা হলে বেইরুট সীমান্তবর্তী মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার জন্য নতুন করে আহ্বান জানাতে পারে, যা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে প্রভাবিত করবে।
ইয়েমেন রাজনৈতিক আলোচনায় জড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুতিরা পুনর্গঠন সহায়তার বিনিময়ে একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রণোদনা পেতে পারে।
পিএমএফ ও হুতিদের উপরও একই প্রভাব পড়তে পারে। পূর্ববর্তী ব্যর্থ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, বাগদাদের উপর মার্কিন চাপ আবারও পিএমএফকে ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে নিরস্ত্রীকরণের কথা বিবেচনা করতে প্ররোচিত করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে হুতিদের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইয়েমেনে মার্কিন হামলা স্থগিত করে, যার বিনিময়ে হুতিরা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ফলে মিলিশিয়ারা রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক উভয় দিক থেকেই একত্রিত হওয়ার জন্য সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। তবে সিরিয়ার কূটনীতিতে বদল আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরাকি ও ইয়েমেনি মিলিশিয়ারা তাদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রণোদনা দেখতে পারে। তার মধ্যপন্থী অবস্থান থেকে উদ্ভূত বিশ্বব্যাপী মঞ্চে আল-শারার নতুন বৈধতা এই সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। আন্তর্জাতিক বৈধতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সন্ধানকারী ইরাকি নেতারা পিএমএফকে ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোয় সমন্বিত হতে বা এর স্বায়ত্তশাসন সীমিত করতে চাপ দিতে পারে। একই ভাবে, ইয়েমেন রাজনৈতিক আলোচনায় জড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুতিরা পুনর্গঠন সহায়তার বিনিময়ে একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রণোদনা পেতে পারে। অক্ষশক্তির মধ্যে ছদ্মবেশী জঙ্গিবাদ দুর্বল হতে শুরু করলে হামাসের জন্য ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি সুসংহত আঞ্চলিক অক্ষের অংশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অতএব সিরিয়ার বাগ্মিতামূলক ও রাজনৈতিক সমর্থন হারানোর ফলে অক্ষশক্তির অভিন্ন সাধারণ ‘প্রতিরোধমূলক’ পরিচয় দুর্বল হয়ে পড়বে, যার ফলে প্রতিটি গোষ্ঠী আরও বিচ্ছিন্ন ও আন্তর্জাতিক চাপের ঝুঁকিতে পড়বে।
চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দিয়েছেন যে, প্রতিরোধের অক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ‘আকৃতিগত ভাবে পরিবর্তনশীল’ স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করলেও প্রতিকূলতার মুখে পড়ে প্রভাব বিস্তারের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে। এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে, যদি সিরিয়া-ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে পৌঁছনো হয়, তা হলে অক্ষ রাশিয়ার মতো অঞ্চল-বহির্ভূত শক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করে, ব্যাক-চ্যানেল আলোচনায় সম্পৃক্ত হয়ে এবং প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য তাদের বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলগুলিকে কাজে লাগিয়ে সংঘর্ষ থেকে কূটনীতিতে রূপান্তরিত হতে পারে।
মস্কোর জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
সিরিয়া-ইজরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সম্ভাব্য ঘটনা এই অঞ্চলের বাইরেও রাজনৈতিক রূপরেখা পরিবর্তন করতে পারে। আসাদের পতন - যাঁকে এখন রাশিয়ায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে - এই অঞ্চলে মস্কোর কৌশলগত স্বার্থকে উল্লেখযোগ্য ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দামাস্কাসের প্রতি ওয়াশিংটনের যোগাযোগের দরুন রাশিয়া উদ্বিগ্ন এবং রাশিয়ার আঞ্চলিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সিরিয়ার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির নিন্দা করলেও তিনি আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে উচ্চ-স্তরের যোগাযোগ রাখার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। এটি সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভাবে ছিন্ন করার পরিবর্তে প্রতিপক্ষ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তকেই দর্শায়।
এই পদ্ধতিটি বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রেসিডেন্ট আল-শারার এখনও তারতুস ও খোমেইমিমে রাশিয়ার নৌ ও বিমান ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন। মস্কোর কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে এই সুযোগ-সুবিধাগুলি রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে চুক্তিতে সিরিয়ার যোগদান রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য মস্কোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে দামাস্কাসের উৎসাহকে হ্রাস করবে।
জেরুজালেম আশঙ্কা করছে যে, আঙ্কারা-সমর্থিত দলগুলি - বিশেষ করে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যা আসাদকে উৎখাতের নেতৃত্ব দিয়েছিল - সিরিয়ার সীমান্তে হামাস জঙ্গিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে দামাস্কাসে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায়, রাশিয়াকে সামরিক ঘাঁটি রাখার অনুমতি দিয়ে, সিরিয়ায় একটি দুর্বল ও বিকেন্দ্রীভূত সরকার গঠনের জন্য ইজরায়েল আমেরিকার কাছে তদবির করছে। জেরুজালেম আশঙ্কা করছে যে, আঙ্কারা-সমর্থিত দলগুলি - বিশেষ করে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যা আসাদকে উৎখাতের নেতৃত্ব দিয়েছিল - সিরিয়ার সীমান্তে হামাস জঙ্গিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রস্তাবগুলি কতটা আকর্ষণ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু কর্মকর্তা ও কংগ্রেসনাল ‘রাশিয়ান হক’ বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি উৎখাত করলে ইরান-সমর্থিত প্রক্সিগুলি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দামাস্কাসে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। তবে অন্যরা সতর্ক করে দিচ্ছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভঙ্গুর আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে।
যা-ই হোক না কেন, আব্রাহাম চুক্তিতে সিরিয়ার প্রবেশ ক্ষমতার সমীকরণ ও নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্লিখনের সম্ভাবনা রাখে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শৃঙ্খলা সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। তবুও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা এবং এই ধরনের যে কোনও চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষমতা গভীর ভাবে সন্দেহের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনিক শূন্যতার সম্মুখীন হচ্ছে। এই শূন্যতা এতটাই তীব্র যে, সিরিয়ার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন ‘নতুন সংঘাত ও গভীর ভাবে দ্বিখণ্ডিত হওয়ার প্রকৃত বিপদ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তবে পেডারসেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরে সিরিয়ার পুনর্গঠনের আশাও স্বীকার করেছেন। আব্রাহাম চুক্তিতে প্রবেশ এবং এর ফলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন তহবিলের লব্ধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সিরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রেরণা প্রদান করতে পারে। সিরিয়া যখন এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি কথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যেতে পারে: এই ধরনের ঐতিহাসিক পুনর্বিন্যাসের প্রভাব - যদি আদৌ কেউ করতে সক্ষমও হয় – তা হলে মরক্কো থেকে মস্কো পর্যন্ত অনুভূত হবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ওআরএফ মিডল ইস্ট-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Samriddhi is an Associate Fellow, Geopolitics at ORF Middle East, where she focuses on producing research and furthering the dialogue on regionally relevant foreign policy ...
Read More +