Author : Shoba Suri

Published on Nov 30, 2025 Updated 0 Hours ago

খাদ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা আরও গভীর করেছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যকে নাগালের বাইরে ঠেলে দিয়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বৈষম্য প্রকাশ করেছে।

ক্রমবর্ধমান খরচ, সঙ্কুচিত থালা: খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতির প্রভাব, ২০২১–২০২৩

বিশ্বব্যাপীঅতিমারির প্রভাবে অর্থনীতি সরবরাহ শৃঙ্খলে ইতিমধ্যেই চাপ তৈরি হয়েছে, এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির এক ভয়াবহ হুমকির মুখোমুখি হয়ে বিশ্ব ২০২১ সালে প্রবেশ করেছে। বিশ্বব্যাপী ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মাঝারি খাদ্য মূল্যস্ফীতি . শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে ১৩. শতাংশের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ছাড়িয়ে গেছে।

২০২১-২০২৩ সালের খাদ্য মূল্যস্ফীতির পিছনে ছিল বিভিন্ন কারণ, যার মধ্যে রয়েছে অতিমারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং জলবায়ু-সৃষ্ট সরবরাহ ধাক্কা। কোভিড-১৯ অতিমারি ২০২০ সালে সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে এবং  ২০২১ সালেও তা অব্যাহত থাকে, যা লকডাউন, শ্রমিক ঘাটতি এবং লজিস্টিক বাধার মতো সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে, কারণ উভয় দেশই গম,  সূর্যমুখী তেল এবং সারের প্রধান রপ্তানিকারক ছিল। এই সংঘাত জ্বালানি এবং পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য পণ্য সূচক ২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ইউরোপে খরা এবং এশিয়ায় বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলি ফসলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে, যার সঙ্গে শক্তির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পরিবহণ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।


নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মূল্যস্ফীতি বিস্ময়করভাবে ৩০% বৃদ্ধি পায়, যা মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়  .% বৃদ্ধি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে .% বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।



নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে পরিস্থিতি একটি ভয়াবহ গল্পের জন্ম দেয়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মূল্যস্ফীতি বিস্ময়করভাবে ৩০% বৃদ্ধি পায়, ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হয়। এই দেশগুলিতে খাদ্যের দামের ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় . শতাংশ বৃদ্ধি, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে . শতাংশ বৃদ্ধি, যা ইতিমধ্যেই কাঠামোগত বৈষম্যের সঙ্গে লড়াইরত অঞ্চলগুলির দুর্বলতা বৃদ্ধি করে। অতিমারির প্রতিক্রিয়ায় শিথিল মুদ্রানীতি এবং রাজস্ব উদ্দীপনাও চাহিদা বৃদ্ধি করে,এবং সরবরাহ চাহিদা উভয় দিকেই মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করে। খাদ্য কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, এই বহিরাগত ধাক্কাগুলির ফলে ২০১৯ সালের অতিমারি-পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি  পেয়েছে।

২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় দৈনিক খরচ ছিল .৬৮ মার্কিন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক চরম দারিদ্র্যসীমা মাত্র .১৫ মার্কিন ডলার নির্ধারিত বলে দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা মানুষরাও সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এই বৃদ্ধি বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশকে প্রভাবিত করেছিল, যার ফলে তারা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলআফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে ধরা হয়েছিল কারণ সেখানকার প্রায় বিলিয়ন মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় ছিল। স্বাস্থ্যকর এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্পগুলির মধ্যে বৈষম্য এই ফাঁকটিকে আরও বিস্তৃত করেছে। স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম যখন বাড়ছিল, সেই সময় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিনিযুক্ত খাবার, সোডা এবং প্রস্তুত (‌রেডি-‌টু-‌ইট)‌ খাবার, অপ্রক্রিয়াজাত বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় ৪৭ শতাংশ সস্তা হয়ে গিয়েছে। এই ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান কোটি কোটি মানুষকে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত কিন্তু কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারের দিকে ঠেলে দেয়, যা লুকানো ক্ষুধাকে বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী শিশুদের ক্ষয় (‌ওয়েস্টিং)‌ — যা তীব্র অপুষ্টির এমন একটি রূপকে বোঝায় যেখানে শিশুরা তাদের উচ্চতার তুলনায় খুব বেশি রোগা হয়ে পড়ে, যা অপ্রতুল খাদ্য গ্রহণ বা অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক, দ্রুত ওজন হ্রাসকে নির্দেশ করে২০২৪ সালে . শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১২ সালে ছিল . শতাংশ। অর্থাৎ, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিকে বিপরীতমুখী করার হুমকি দিচ্ছে। তার উপর, শিশু মহিলাদের মধ্যে খাদ্যতালিকাগত বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য উদ্বেগজনক, যেখানে দেখা যাচ্ছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শিশু এবং দুই-তৃতীয়াংশ মহিলা (১৫-৪৯ বছর বয়সী) বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার গ্রহণ করেন।


২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় খরচ ছিল .৬৮ ডলার। তবে আন্তর্জাতিক চরম দারিদ্র্যসীমা মাত্র .১৫ ডলারে নির্ধারিত বলে দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা মানুষরাও সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে পড়ে।



বিশ্ব ব্যাঙ্কের খাদ্য নিরাপত্তা আপডেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিম মধ্য আফ্রিকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৪৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যার ফলে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খল শিথিলকরণ এবং ক্রমাগত পাইকারি চাপের কারণে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (ইউএস) খাদ্যের দাম . শতাংশে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় খাদ্য উৎপাদন এবং ফলনকে প্রভাবিত করে এমন চরম আবহাওয়ার ১৬টি ঘটনাকে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ভারতের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে দেখা যায় ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতি গড়ে প্রায় শতাংশ ছিল, যার মধ্যে সর্বনিম্ন পরিসংখ্যান ছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসের .৭৬ শতাংশ। অনুকূল ভিত্তি প্রভাব এবং খাদ্যের দাম হ্রাস, বিশেষ করে শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো পণ্যগুলির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির একটি রিগ্রেশন অ্যানালিসিস খাদ্য উৎপাদন, বিনিময় হার এবং ভোক্তা মূল্য সূচকের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক নির্দেশ করে। ভারত ছাড়া অনেক নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে আরও সাশ্রয়ী মূল্যের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দিকে ঝোঁক বাড়ছে (চিত্রটি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে) ভারতে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার ২০০৬ সালের . বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৩৭. বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি পুষ্টির চ্যালেঞ্জগুলিকে আরও খারাপ করেছে, কারণ দামের অস্থিরতার মধ্যে সস্তা বিকল্পগুলি স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলিকে স্থানচ্যুত করছে। কোভিড-১৯ বৃদ্ধির হার ভারতের ১৬৭টি বাজারে  খাদ্য বিভাগে মূল্যবৃদ্ধিকে আরও প্রভাবিত করেছে, যার ফলে ব্যাঘাত ঘটেছে। কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্যকে বিলাসিতা হিসেবে দেখে আসছে, যার দাম ২০২৪ সালে ছিল দিনপ্রতি ব্যক্তির জন্য গড় .৪৬ মার্কিন ডলার। গড় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের জন্য সর্বোচ্চ পরিসংখ্যান লাতিন আমেরিকা ক্যারিবিয়ান জুড়ে নিবন্ধিত হয়েছে (.১৬ মার্কিন ডলার), তারপরে এশিয়া এবং আফ্রিকা (যথাক্রমে .৪৩ এবং .৪১ মার্কিন ডলার), যেখানে ওশেনিয়া অঞ্চলে সর্বনিম্ন পরিমাণ (‌.৮৬ মার্কিন ডলার)‌ রেকর্ড করা হয়েছে।

Surging Costs Shrinking Plates Food Price Inflation S Impact 2021 2023
সূত্র: বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা পুষ্টির অবস্থা ২০২৫

পুষ্টির জন্য খাদ্য মূল্য প্রকল্পের মতো প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যকর খাদ্যের খরচ মূল্যায়ন করা এবং বিভিন্ন দেশে নীতিমালার উপর প্রভাব ফেলা। উদাহরণস্বরূপ, নাইজেরিয়ায় এই প্রকল্পের কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বজায় রাখার খরচ সম্পর্কে মাসিক বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে মজুরি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সংস্কারে ভূমিকা পালন করেছিল।  ভারতে অনুরূপ উদ্যোগগুলিযেমন ডালের শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া, মজুতদারি রোধে মজু্ত সীমা বাস্তবায়ন করা এবং ভর্তুকিযুক্ত বিক্রয়মাঝারি ফলাফল এনেছিল। ২০২৩ সালের মধ্যে, খাদ্য ভর্তুকি দেশের মোট আভ্যন্তর উৎপাদনের (জিডিপি) শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।


অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার অপ্রক্রিয়াজাত বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় ৪৭ শতাংশ সস্তা হয়ে ওঠে, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ অধিক ক্যালোরি কিন্তু কম পুষ্টিকর খাবারের দিকে এগিয়ে যায়।



২০২১-২০২৩ সালের খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি বৈশ্বিক স্থানীয় ভূ-চিত্রকে নতুন রূপ দিয়েছে, যা অনেককে প্রাচুর্য থেকে অভাবের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন অনুসারে, ভবিষ্যতের স্ফীতি রোধ করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল পরিকাঠামো কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি হ্রাসকে দেশীয় সংস্কারের সঙ্গে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি। এফএও যেমনটি বলে থাকে, খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি রোধ এবং কৃষিখাদ্যে বিনিয়োগের জন্য একটি সমন্বিত নীতিগত প্রতিক্রিয়া অপরিহার্য, যাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে কেউই সঙ্কুচিত প্লেটের মুখোমুখি না হয়।



শোভা সুরি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.