-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
স্থিতিস্থাপক অঙ্গনওয়াড়ি গড়ে তোলার মাধ্যমে জলবায়ুজনিত দুর্বলতাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ সম্প্রদায় তৈরির জন্য একটি সুযোগে রূপান্তরিত করা যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু-প্ররোচিত দুর্যোগ ভারতের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে (এডব্লিউসি) অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলিকে বারবার ব্যাহত করেছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য ও বিকাশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং শিশু ও নারীদের সবচেয়ে বেশি অসম ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতের ভঙ্গুরতা একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়, এবং ২০২৪-২৫ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এটিকে সপ্তম সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে জলবায়ু সংকট, বায়ু দূষণ এবং অন্যান্য দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। এই কেন্দ্রগুলি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয় এবং ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শৈশবের যত্ন ও শিক্ষা প্রদান করে, পাশাপাশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং কিশোরী মেয়েদের সহায়তা দেয়।
বিভিন্ন ভূখণ্ডজুড়ে অবস্থিত প্রায় ১৩.৯৬ লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপ্লিকেশনের অধীনে নিবন্ধিত রয়েছে। জলবায়ু-প্ররোচিত দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান হার — যেমন ওয়ানাড, বেঙ্গালুরু, ওড়িশা ও কেরালার মতো স্থানগুলিতে ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং মেঘভাঙা বৃষ্টি — ভৌত পরিকাঠামো, যার মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত, সেগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এর ফলে সুবিধাভোগীদের স্বাস্থ্য ও মঙ্গলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি ব্যাহত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এই বিদ্যমান পরিকাঠামোগত ঘাটতিগুলিকে আরও খারাপ বা প্রসারিত করতে বাধ্য।
২০১৮ সালের নীতি আয়োগের একটি প্রতিবেদনে স্থায়ী ভবনের অভাব, অপ্রতুল পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন সমীক্ষায় শৌচাগার, টিকার জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনুপস্থিতির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এই বিদ্যমান পরিকাঠামোগত ঘাটতিগুলোকে আরও খারাপ বা বিস্তৃত করে তুলবে।
সর্বশেষ বাজেট এই ঘাটতিটি চিহ্নিত করেছে এবং অঙ্গনওয়াড়ি পরিকাঠামোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের জন্য বাজেট বরাদ্দ সম্প্রতি ২৩,১৮২.৯৮ কোটি টাকা (২০২৪-২৫) থেকে বাড়িয়ে ২৬,৮৮৯.৬৮ কোটি টাকা (২০২৫-২৬) করা হয়েছে। এই বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, ২১,৯৬০ কোটি টাকা সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০ উদ্যোগের জন্য উৎসর্গীকৃত, যা শিশু ও কিশোরী মেয়েদের পুষ্টি সহায়তা, প্রারম্ভিক শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর উন্নতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। পুরনো এবং/অথবা নতুন কেন্দ্রগুলোর পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এই বিনিয়োগে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য সহনশীলতা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জোর দিয়ে বলেছেন যে এই উদ্যোগটি সহায়তা করে ৮ কোটি শিশু, ১ কোটি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলা এবং ২০ লক্ষ কিশোরীকে, বিশেষ করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলাগুলিতে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। যেহেতু বেশ কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত এবং তাদের কর্মীসহ দুর্বল জনগোষ্ঠীর সেবা প্রদান করে, তাই তাদের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার উপর মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য। এই পদ্ধতিটি শুধু আসবাবপত্র, সরঞ্জাম, ডিজিটাল স্থাপন এবং রেশন সরবরাহের মতো ভৌত সম্পদকেই সুরক্ষা দেয় না, বরং এটি জরুরি পরিস্থিতিতে পরিষেবার ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করে এবং কোভিড-১৯-এর মতো জনস্বাস্থ্য সংকটের জন্য প্রস্তুতি বাড়ায়।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা — স্কুল সুরক্ষা নীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীবন ও পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাফল্য পেয়েছে। এটি জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অঙ্গনওয়াড়ি স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনা (এআরপি) প্রণয়নে সহযোগিতার জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ এনে দিয়েছে। বিদ্যমান সর্বোত্তম অনুশীলন, যেমন স্কুল দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা বা স্কুল দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, মূল্যবান কাঠামো সরবরাহ করে যা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্য অভিযোজিত করা যেতে পারে। স্মার্ট সিটি মিশনের অধীনে গৃহীত উদ্যোগগুলি, বিশেষ করে ‘নারচারিং নেবারহুড চ্যালেঞ্জেস’, যার মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত, স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে অতিরিক্ত অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। একইভাবে, মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় টাটা ট্রাস্টস-এর সহায়তায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সংস্কার প্রকল্পটি আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে দুর্যোগ সহনশীল করে তুললে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০-এর প্রচেষ্টা জোরদার হবে, যার ফলে স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে অগ্রগতি হবে।
পল্লী উন্নয়ন, নগর বিষয়ক, নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এবং এনডিএমএ-কে জড়িত করে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা ব্যাপক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা (এআরপি) বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকাজুড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা যেতে পারে, যেখানে দুর্যোগ সহনশীলতা পরিকল্পনার জন্য অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কর্ণাটকের মতো কিছু রাজ্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করেছে। এই তথ্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলি — যেমন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা, ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে অবস্থিত, বা বন্যাপ্রবণ এলাকার কেন্দ্রগুলি — শনাক্ত করতে এবং সেই অনুযায়ী হস্তক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়তা করবে। শহর জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার মতো স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করলে তা সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি উদ্যোগের উদ্দেশ্যগুলিকে পরিপূরণ করবে, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে, এবং তাদের দুর্যোগ সহনশীলতা গড়ে তুলবে। এনডিএমএ, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সেস (এসডিআরএফ), স্বেচ্ছাসেবক, রাষ্ট্রপুঞ্জ সংস্থা এবং সুশীল সমাজ সংগঠনগুলির মতো অংশীদারদেরকে সরিয়ে আনার মহড়া, সচেতনতামূলক প্রচার, পুষ্টি শিক্ষা এবং জরুরি প্রোটোকলের মতো কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রস্তুতি জোরদার করা যেতে পারে।
এছাড়াও শিশু, পিতামাতা এবং কিশোরী মেয়েসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের শিক্ষিত করার মাধ্যমে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, কিশোরী মেয়েরা, যারা ইতিমধ্যেই স্কুল এবং সমাজে অনুরূপ উদ্যোগের সঙ্গে পরিচিত, তারা এই কর্মসূচি প্রচারে পরিবর্তনকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে দুর্যোগ সহনশীল করে তুললে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০-এর প্রচেষ্টা শক্তিশালী হবে, যার ফলে স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে অগ্রগতি হবে।
দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামো জোটের (সিডিআরআই) সচিবালয় হিসেবে ভারতের ভূমিকা দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো তৈরিতে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে কাজে লাগানোর একটি সুযোগ করে দিয়েছে। ১৩.৯৬ লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে সহনশীল করে তোলার সাফল্য ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ (এসআইডিএস) এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির (এলএমআইসি) জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, যারা একই ধরনের জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন। এআরপি বাস্তবায়ন জরুরি পরিস্থিতিতে শারীরিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (এডব্লিউডব্লিউ) ও সহায়কসহ (এডব্লিউএইচ) কর্মীদের সক্রিয় পদক্ষেপ করতে ক্ষমতায়িত করবে। উদাহরণস্বরূপ, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সুবিধাভোগীদের তাপপ্রবাহ এবং হিট স্ট্রোক এড়াতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষিত করতে পারেন, পাশাপাশি অসুস্থতা থেকে রক্ষা করার জন্য পুষ্টি এবং সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন। তারা বর্ষাকালে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মরসুমি রোগ সম্পর্কেও জনসম্প্রদায়কে সচেতন করতে পারেন। জনহিতকর সংস্থা এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) উদ্যোগগুলি সহনশীল অঙ্গনওয়াড়ি পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কার মুখেও পরিষেবা অব্যাহত রেখে শিশু, মা এবং কিশোরী মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্থিতিস্থাপক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অপরিহার্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কার মুখেও পরিষেবা অব্যাহত রেখে শিশু, মা এবং কিশোরী মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্থিতিস্থাপক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অপরিহার্য। সহযোগিতামূলক পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ করে ভারত স্থিতিস্থাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অন্য দেশগুলির জন্য একটি মডেল উপস্থাপন করতে পারে। সরকারি নেতৃত্বের পাশাপাশি জনহিতকর কাজ এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর)-র সহায়তায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা ও সুস্থতার স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
মনীশ ঠাকরে জলবায়ু কার্যক্রম, স্থিতিস্থাপকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা। তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) থেকে সিটিজ বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
মতামত ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Manish Thakre is a consultant specialising in Climate Action, Resilience, and Inclusive Urban Development. Executive MSc in Cities, London School of Economics and Political Science ...
Read More +