Author : Anika Chhillar

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 29, 2026 Updated 0 Hours ago

নীতিগত গতি সঞ্চারিত হলেও নকশার শক্তিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য পেটেন্ট এবং গবেষণার ফলাফলের ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের অর্ধপরিবাহী গবেষণা বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করা

ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় চিপ বিক্রম-৩২-এর উন্মোচন দেশটির অর্ধপরিবাহী যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এই প্রযুক্তি এখনও বিশ্বব্যাপী অত্যাধুনিক মানের সমকক্ষ না- হতে পারেএটি দেশীয় গবেষণা নকশার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়। তবে ভারত যখন বিশ্বব্যাপী অর্ধপরিবাহীর পরিসরে একটি প্রধান খেলোয়াড় হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেতখন আরও গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। কম পেটেন্ট মঞ্জুরির হার২০২২ সাল থেকে পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যা হ্রাস এবং উন্নত চিপ ডিজাইন ফ্যাব্রিকেশনে সীমিত গবেষণা ফলাফল অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। অর্ধপরিবাহী উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইলে ভারতকে অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতে হবে।

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর আইপি পরিস্থিতি

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের (আইসি) লেআউট সুরক্ষার জন্য ভারত ২০০০ সালে সেমিকন্ডাক্টর ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস লেআউট ডিজাইন আইন (এসআইসিএলডি) পাস করে। জ্ঞান সৃজনশীলতার বাণিজ্যের সুবিধার্থে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অধীনে গৃহীত বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধা সম্পত্তি অধিকার চুক্তির (ট্রিপস) সম্প্রসারিত বিধানগুলির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই আইনটি পাস করা হয়েছিল। ট্রিপস প্রথম ১৯৮৯ সালে আইসি- জন্য সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করেলেআউট ডিজাইন বা টপোগ্রাফিকে মেধা সম্পত্তির একটি রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল কারণ কম্পিউটার প্রযুক্তির অগ্রগতি প্রক্রিয়াকরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য একটি একক লেআউটে অসংখ্য ট্রানজিস্টর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছিলযা লেআউট ডিজাইনকে পার্থক্য এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি মূল ক্ষেত্রে পরিণত করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধপরিবাহী শিল্পের মেধা সম্পত্তির পরিস্থিতি লেআউট সুরক্ষা থেকে সরে এসে সফটওয়্যার এবং উৎপাদন ক্ষমতার উদ্ভাবনের দিকে ধাবিত হয়েছে।

২০২৩ সালে ভারতীয় অর্ধপরিবাহী সংক্রান্ত আবেদনগুলির মধ্যে মাত্র ৩৭.৭% অনুমোদিত হয়েছিল। তুলনামূলক ভাবে, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫৬.৭% এবং ৭০.৫%।

সর্বাধিক উদ্ধৃত গবেষণাপত্রগুলির শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ভারতের অবদান .%, যেখানে শীর্ষস্থানীয় দেশ চিন  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদান যথাক্রমে ২৪.% এবং ২২.%

এটি এসআইসিএলডি-এর অধীনে নিবন্ধনের স্বল্প সংখ্যা থেকে স্পষ্টযেখানে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতটি নিবন্ধন মঞ্জুর করা হয়েছেযার সবগুলিই দুটি সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে: ভারত ইলেকট্রনিক্স এবং ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন। যদিও এসআইসিএলডি এবং ট্রিপস আইসি-এর লেআউট ডিজাইনকে সুরক্ষা দেয়তবে একটি আইসি-এর কার্যকারিতা ডিজাইনের চেয়ে বেশি মূল্যবান বলে প্রমাণিত হয়েছে। মাইক্রোচিপগুলির অত্যন্ত জটিল লেআউট ডিজাইন রয়েছেযা নকল করা কঠিন ফলে সেগুলির সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। উপরন্তুকার্যকারিতা নষ্ট না করেই লেআউট ডিজাইন সহজেই পরিবর্তন করা যায় এবং একবার পরিবর্তন করা হলে ডিজাইনটি আর আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকে না। ফলস্বরূপলেআউট ডিজাইন নিবন্ধন ভারতের অর্ধপরিবাহী খাতের জন্য মেধা সম্পত্তি সুরক্ষার একটি অর্থপূর্ণ রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়নি।

অন্য দিকে, অর্ধপরিবাহী পেটেন্ট শিল্পের বিভিন্ন দিকের উপর সুরক্ষা প্রদান করে। শিল্পটি সফটওয়্যার এবং উৎপাদনের উদ্ভাবনের উপর নির্ভর করে আরও বেশি আন্তঃসংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার সংস্থাফাউন্ড্রি এবং ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারার (আইডিএম) দ্বারা ক্রমবর্ধমান সংখ্যক পেটেন্ট আবেদন করা হচ্ছে। ভারতে কোয়ালকমস্যামসাংহুয়াওয়েআইবিএমটিএসএমসি এবং গ্লোবালফাউন্ড্রিজের মতো বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলি পেটেন্টের ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে। কোয়ালকম ভারতে পেটেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিদেশি অবদানকারী এবং ২০২৩-২৪ সালে এটি ৩০১৭টি পেটেন্ট আবেদন জমা দিয়েছে।

দেশীয় পেটেন্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে মঞ্জুর করা পেটেন্টের সংখ্যা ২০১৯ সালের ৩৩ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ১২৮- পৌঁছেছেযা ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। তবে দুটি কাঠামোগত সমস্যা বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয়:

১. কম মঞ্জুরির হার: পেটেন্ট আবেদন এবং মঞ্জুরির মধ্যে ব্যবধান পেটেন্টযোগ্যতার মানদণ্ড এবং প্রক্রিয়াকরণে সময় বিলম্বের কারণে হতে পারেযা পেটেন্ট ফাইলিং প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক। তবে ২০২৩ সালে ভারতীয় অর্ধপরিবাহী সংক্রান্ত আবেদনগুলির মধ্যে মাত্র ৩৭. শতাংশ মঞ্জুর করা হয়েছিল। তুলনার জন্য সারণি - দেখানো হয়েছে যেচিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৬. শতাংশ এবং ৭০. শতাংশ। এটি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে হতে পারে কারণ ভারত তার সমস্ত কার্যালয় মিলিয়ে মাত্র ৮৫৮ জন পেটেন্ট পরীক্ষক নিয়োগ করে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ,০০০ এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত চিনে ১৬,০০০-এর তুলনায় এই সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্য রকমের কম।

সারণি ১: ২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশের জন্য মঞ্জুরীকৃত অর্ধপরিবাহীর পেটেন্ট এবং আবেদনসমূহ

দেশ

মঞ্জুরীকৃত পেটেন্ট

আবেদনকৃত পেটেন্ট

পেটেন্ট মঞ্জুরের হার

চিন

১৫৪১৩

২৭১৭৮

৫৬.%

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

৮০৯৬

১১৪৮৪

৭০.%

জাপান

১৫১৮৮

১৮৫২৯

৮২%

নেদারল্যান্ডস

৪৮৮

৮৮০

৫৫.%

ইতালি

১২৭

৩০২

৪২.%

ভারত 

১২৮

৩৪০

৩৭.%

উৎস: ডব্লিউআইপিও আইপি পরিসংখ্যান ডেটা সেন্টার

দ্রষ্টব্য: পেটেন্ট মঞ্জুরির হার আবেদন সংখ্যার অনুপাতে গণনা করা হয়

২. আবেদন হ্রাস: ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পেটেন্ট আবেদন ২৮ শতাংশ কমেছেযা ভারতে বেসরকারি গবেষণা উন্নয়নে কম বিনিয়োগ এবং ২০২২ সালের পর বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদায় মন্দার প্রতিফলন।

গবেষণার ফলাফল এবং প্রভাব

ভারতে উচ্চ মানের অর্ধপরিবাহীর গবেষণা হয়বিশেষ করে উন্নত ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং ফ্যাব্রিকেশনের ক্ষেত্রে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গবেষণা উদ্ধৃতির প্রভাব পরিমাপক এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে ভারত বিশ্বব্যাপী তৃতীয় স্থানে ছিল।

তবে সর্বাধিক উদ্ধৃত প্রকাশনার অংশের দিক থেকে ভারত শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। সর্বাধিক উদ্ধৃত ১০ শতাংশ গবেষণাপত্রের মধ্যে ভারতের অবদান . শতাংশযেখানে শীর্ষস্থানীয় দেশ চুন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদান যথাক্রমে ২৪. শতাংশ এবং ২২. শতাংশ। ভারতে গবেষণার মান উচ্চ হলেও পরিমাণ বেশ সীমিত। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত উন্নত আইসি এবং ফ্যাব্রিকেশন বিষয়ে ৭১৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেযেখানে চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে ,১৯২  ,২৬১টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

নীতিগত সুপারিশ

ভারতে নীতিগত আকাঙ্ক্ষা  বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান অনেক বড়। অর্ধপরিবাহী শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করতে হলে পেটেন্ট এবং গবেষণার ফলাফলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষণা অংশীদারিত্বের জন্য ভারত সরকার, শিল্প এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করতে পারে, যার মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, সেগুলির বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা এবং পাঠ্যক্রমকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই খাতে অবদান রাখতে উৎসাহিত করে এবং গবেষণার জন্য অংশীদারিত্ব বিনিয়োগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করানিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সহজ করাআর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতামূলক মডেল অন্বেষণ করা হল কিছু কার্যকর বিকল্প। গবেষণা অংশীদারিত্বের জন্য ভারত সরকার, শিল্প এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা গভীর করার মাধ্যমে উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করতে পারেযার মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করাসেগুলির বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা এবং পাঠ্যক্রমকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে। এই ধরনের সহযোগিতা শিক্ষাগত উদ্যোগগুলোকে কার্যকর বাণিজ্যিক বিকল্পে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং সরকার-শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা উদ্ভাবনকে চালিত করে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পকে শক্তিশালী করবে।

ভারতের পেটেন্ট বাস্তুতন্ত্র একটি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার সম্মুখীনযার ফলে পেটেন্ট আবেদনে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছে। পেটেন্ট আবেদন থেকে মঞ্জুরি পর্যন্ত সময় কমাতে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেটেন্ট পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২১ সালে ভারত দেশীয় অর্ধপরিবাহী সংস্থাগুলিকে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (ডিএলআই) প্রকল্প চালু করে। তবে এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধা গ্রহণ এবং অর্থ বণ্টন কম হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থায়নকে সমর্থন করার জন্য ডিএলআই তহবিলগুলোকে বাণিজ্যিক মাইলফলকের সঙ্গে সংযুক্ত না করে ছোট ছোট কিস্তিতে বিতরণ করা যেতে পারে। ছাড়াও গবেষণা গোষ্ঠী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-শিল্প সহযোগিতাকে সমর্থন করার জন্য ডিএলআই-এর যোগ্যতার পরিধি বাড়ানো যেতে পারে।

দেশের অর্ধপরিবাহীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সংযোগস্থলে অবস্থিত। যদিও নীতিগত গতি তৈরি হচ্ছে, তবে ভারতের নকশার শক্তিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন এবং উদ্ভাবন কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য পেটেন্ট এবং গবেষণার ফলাফলের ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 


অনিকা চিল্লার সেন্টার ফর ইকোনমি অ্যান্ড গ্রোথ-এর রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.