Author : Oommen C. Kurian

Published on Jan 03, 2026 Updated 0 Hours ago

স্বাস্থ্য কূটনীতি এখন আর প্রান্তিক বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক আলোচনার একটি মূল ক্ষেত্র, যেখানে থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি গ্লোবাল সাউথকে কেবল প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বার ফলাফল নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

গ্লোবাল সাউথে স্বাস্থ্য কূটনীতিকে শক্তিশালী করা: থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ভূমিকা

দেশগুলি প্রায়শই বৈরিতার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার সময়েও তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল থাকে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় আমদানির পর নতুন শুল্ক আরোপ করে। তবে জেনেরিক ওষুধগুলিকে এই নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল সম্ভবত এই কারণে যে, ভারতীয় সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের জেনেরিক ওষুধের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতরণ করা সমস্ত প্রেসক্রিপশনের প্রায় ৯০ শতাংশই হল জেনেরিক ওষুধ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই আমদানির উপর শুল্ক আরোপ করলে সরকারি অর্থ প্রদানকারীদের খরচ বাড়তে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের তীব্র সঙ্কট দেখা দিতে পারে। সম্ভবত এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের স্বার্থে আপাতত জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যদিও অন্যান্য খাতের পর ভারী শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

গ্লোবাল সাউথের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাস্থ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের পারস্পরিক নির্ভরতার অবসান ঘটায় না। ঠিক যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহজে ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে না, তেমনি ভারতও চিনা উপকরণ ছাড়া সেই ফতানি টিকিয়ে রাখতে পারে না।

চি ভারতের সম্পর্ক একই সঙ্গে সংঘাত নির্ভরতা দ্বারা চিহ্নিত। গত দশকের বেশির ভাগ সময় ধরে সীমান্তে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ এবং একটি উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেশগুলি মধ্যে বাণিজ্যের উপর উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাব ফেলেনি। প্রকৃতপক্ষে সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানির কারণে ২০২৪-২৫ সালে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ৯৯. বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকরা তাদের প্রয়োজনীয় সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানগুলি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চি থেকে সংগ্রহ করে চলেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য চিনে উপর ভারতের আমদানি নির্ভরতা একটি নির্দেশক উদাহরণ: ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এর মূল্যমান ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে বিস্ময়কর ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে (দ্রষ্টব্য রেখচিত্র )

গ্লোবাল সাউথের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাস্থ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের পারস্পরিক নির্ভরতার অবসান ঘটায় না। ঠিক যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহজে ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে না, তেমনি ভারতও চিনা উপকরণ ছাড়া সেই ফতানি টিকিয়ে রাখতে পারে না। এটি আলোচনার জন্য একটি ধারাবাহিক প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, এমনকি যখন অন্য পথগুলি সঙ্কুচিত হয়ে আসে। তাই স্বাস্থ্য কূটনীতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল হাতিয়ার। গ্লোবাল সাউথের বেশির ভাগ দেশের জন্য মূল প্রশ্নটি এই নয় যে, স্বাস্থ্য কূটনীতিতে যোগদানকরা হবে কি না। তারা ইতিমধ্যেই এর উল্লেখযোগ্য অংশ। তাই প্রধান প্রশ্ন হল, তারা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে কি না এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে যে, থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি কী ভাবে সেই সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তাদের ভূমিকা চারটি সংযুক্ত ক্ষেত্রে বোঝা যেতে পারে: কর্মসূচি নির্ধারণ, আলোচনার উপযোগী প্রমাণ সরবরাহ, সমাবেশ অন্তর্ভুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধি।

দক্ষিণের বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে কর্মসূচি নির্ধারণ

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতিকে বহু-স্তরীয়, বহু-পাক্ষিক আলোচনা প্রক্রিয়ার একটি ক্ষেত্র হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র অন্য পক্ষগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বৈশ্বিক নীতি পরিবেশকে রূপ দেয়। এই প্রক্রিয়াগুলি শুধু স্বাস্থ্য ফোরামে নয়, ক্রমবর্ধমান ভাবে বাণিজ্য, অর্থায়ন, পররাষ্ট্রনীতি পাশাপাশি প্রযুক্তি নিরাপত্তা ফোরামেও ব্যবহৃত হচ্ছে কিন্তু অনেক আলোচনার প্রাথমিক প্রশ্নটি এখনও দক্ষিণের বাইরের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলি প্রতিনিধিদলকে প্রায়শই দেরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, বিশেষ করে যখন প্রথম খসড়াটি মূলত চূড়ান্ত হয়ে যায়। সেই পর্যায়ে তাদের মতামত দিতে বলা হয়, সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে দেওয়া হয় না

ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকরা তাদের প্রয়োজনীয় সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানগুলি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চি থেকে সংগ্রহ করে চলেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য চিনে উপর ভারতের আমদানি নির্ভরতা একটি নির্দেশক উদাহরণ: ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এর মূল্যমান ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে বিস্ময়কর ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকারগুলিকে প্রক্রিয়ার শুরুতে স্থানান্তর করতে পারে। এর জন্য স্বাস্থ্য, অর্থ, বাণিজ্য এবং বিদেশমন্ত্রকের পাশাপাশি ওষুধ নিয়ন্ত্রক, ক্রয় সংস্থা, জাতীয় বিমা প্রকল্প, নির্মাতা, নাগরিক সমাজ এবং রোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাঠামোগত সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। প্রধান কাজ হল, এই ব্যবস্থাগুলি যে চাপের সম্মুখীন হয়, তা নথিভুক্ত করা মধ্যে রয়েছে সক্রিয় ওষুধ উপাদানের দাম এবং প্রাপ্যতার অস্থিরতা, একতরফা ফতানি নিয়ন্ত্রণের সংস্পর্শ, প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি, কর্মী নিয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ কর্মসূচির আর্থিক চাপ।

এই চাপগুলিকে তখন প্রথম-ক্রমের আলোচনার প্রশ্নগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যখন এগুলিকে উচ্চ-মূল্যবান জীববিজ্ঞানের জন্য বৌদ্ধিক সম্পত্তির উপর কেন্দ্রীভূত একটি পাঠ্যে দেরিতে সংযোজনের পরিবর্তে শুরুর অবস্থান হিসাবে তৈরি করা হয়, তখন কর্মসূচিতেও গ্লোবাল সাউথের চাহিদা প্রতিফলিত হয় এই অর্থে দেখতে গেলে, কর্মসূচি নির্ধারণ নিজেই বিশ্বব্যাপী সিদ্ধান্ত গ্রহণের গণতন্ত্রীকরণের একটি রূপ।

আলোচনা সংক্রান্ত প্রমাণের সরবরাহ

প্রায়শই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং বাস্তব সময়ে আলোচনাকারীদের সংক্ষিপ্ত উপাদানের প্রয়োজন হয়। অ্যাকাডেমিক প্রকাশনাগুলির গভীরতা থাকে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তারা প্রায়শই প্রতিফলিত বিশ্লেষণ প্রদান করে। অ্যাডভোকেসি বা সওয়াল প্রদানকারী বার্তাগুলি মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু লাইনভিত্তিক খসড়া তৈরিতে তা খুব কমই কার্যকর। মাঝখানের পরিসরটি প্রায়শই খালি থাকে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপুঞ্জের অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রাজনৈতিক ঘোষণার অভিজ্ঞতা দেখায় যে, কেন এই ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ। ঘোষণার লক্ষ্য ছিল হৃদরোগ, ক্যানসা, ডায়াবেটিস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ জোরদার করা। এই অবস্থার কারণে বছরে আনুমানিক ৪৩ মিলিয়ন মৃত্যু হয়, যার বেশির ভাগই ঘটে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে। প্রাথমিক খসড়াগুলিতে তামাক, অ্যালকোহল এবং চিনি বা মিষ্টি পণ্যের উপর উচ্চ কর লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব করা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল সাউথের অনেক অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থাগুলিকে জনস্বাস্থ্যের হাতিয়ার এবং দেশীয় রাজস্ব উৎস উভয় হিসাবেই দেখে।

তবে ধারাবাহিক আলোচনার পরপর নির্দিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার উল্লেখগুলিকে দুর্বল ভাবে দেখা হয়েছিল বা তেমন আমল দেওয়া হয়নি এবং এমনটা করা হয়েছিল সম্ভবত অ্যালকোহল, খাদ্য এবং তামাক লবি থেকে তদবিরের ফলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টিকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলে যে এতে ধ্বংসাত্মক লিঙ্গ আদর্শএবং গর্ভপাতের অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন সমর্থন ছাড়া ঐকমত্য ব্যর্থ হয়ে যায়

গ্লোবাল সাউথের থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি কেবল সমালোচনার মাধ্যমেই নয়, বরং ব্যবহারযোগ্য তথ্য দিয়েও এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কর নকশার অধীনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য রাজস্ব অনুমান, কে অর্থ প্রদান করে এবং কে লাভবান হয় তার বিতরণমূলক বিশ্লেষণ এবং কখন কী ভাবে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলি তুলে ধরা হয়েছিল, তার একটি স্পষ্ট রেকর্ড। এটি গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিদের এমন উপাদান দেয়, যাতে তারা সরাসরি আলোচনায় প্রবেশ করতে পারে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং জি২০-তে ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি সংরক্ষণাগারও তৈরি করে। সংক্ষেপে বললে, আলোচনা সংক্রান্ত প্রমাণ তৈরি করা - যা নিছক বিশ্লেষণ নয় - আসলেই এক ধরনের কূটনৈতিক কাজ।

অংশগ্রহণ এবং নানা পক্ষের অন্তর্ভুক্তি

স্বাস্থ্য কূটনীতি কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয় না এবং বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তবে এই শক্তিগুলির অনেকেই আলোচনা শুরু হওয়ার আগে একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত হয় না। থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি কাঠামোগত সংলাপ আহ্বান করতে পারে, যা এই গোষ্ঠীগুলিকে প্রথম দিকে একত্রিত করে এবং তাদের বিভিন্ন অগ্রাধিকারগুলি তুলে ধরতে পারে।

এই রনে রম্যাটগুলি সুরক্ষা এবং বাণিজ্যে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলি স্বাস্থ্যের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। এই পরিস্থিতিতে একজন নিয়ন্ত্রক স্পষ্ট ভাবে বলতে পারেন যে, একটি নজরদারি ধারা বাস্তবায়নের জন্য কোন পরিদর্শন ক্ষমতা প্রয়োজন। একজন দেশীয় উৎপাদক সতর্ক করতে পারেন যে, ক্রয়ের পরিমাণ নিশ্চিত না করে কঠোর মূল্যসীমা নির্ধারণের ফলে উৎপাদন শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হবে এবং ঘাটতি দেখা দেবে। একটি সুশীল সমাজের দল একটি খসড়া তথ্য ভাগাভাগির বিধানে রোগীর সুরক্ষার ফাঁকগুলি চিহ্নিত করতে পারে। এই বিবরণগুলি খুব কমই আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে সেগুলি নির্ধারণ করে যে কোনও চুক্তি বাস্তবে কাজ করতে পারে কি না।

এই আহ্বায়ক ভূমিকা বাস্তব দক্ষিণ-দক্ষিণ জোট গঠনকেও সমর্থন করে। জোটগুলি যখন পরিপূরক শক্তির উপর নির্মিত হয়, তখন তা সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য হয় একটি দেশের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক পরিদর্শন ব্যবস্থা থাকতে পারে। অন্যটি বৃহত্তর পরিসরে টিকা এবং জেনেরিক তৈরি করতে পারে। তৃতীয় একটি দেশে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো থাকতে পারে, যা এনটাইটেলমেন্ট পরিচালনা করতে পারে এবং ডেলিভারি ট্র্যাক করতে পারে। চতুর্থটির একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার থাকতে পারে। এই সম্পদগুলির আগে থেকে ম্যাপিং দেশগুলিকে একটি যৌথ সংযোগ উপস্থাপন করতে এবং অভিন্ন সাধারণ বাস্তবায়ন ব্যবস্থা প্রস্তাব করার অনুমতি দেয়।

মানব মূলধন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বিকাশ

স্বাস্থ্য কূটনীতি এখন মিশ্র দক্ষতার দাবি করে। বিদেশ মন্ত্রণালয়গুলির এমন কর্মী প্রয়োজন, যাঁরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খল বোঝেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়গুলির এমন কর্মী প্রয়োজন, যাঁরা বাণিজ্য আইন, অর্থায়ন, ক্রয় এবং তথ্য শাসন নিয়ে কাজ করতে পারেন। অর্থ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়গুলির এমন কর্মী প্রয়োজন, যাঁরা ঘাটতি এবং মূল্যের ধাক্কার জনস্বাস্থ্যের পরিণতি বোঝেন।

কিছু ভিত্তি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান। ভারতের সুষমা স্বরাজ ইনস্টিটিউট অফ ফরেন সার্ভিস কূটনৈতিক অ্যাকাডেমি ভারত গ্লোবাল সাউথের অংশীদার দেশগুলি কূটনীতিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। ইনস্টিটিউটটি এই কোর্সগুলিকে আলোচনা অনুশীলন, সঙ্কট মোকাবিলা, বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া এবং অতিমারি প্রস্তুতি স্বাস্থ্য কূটনীতির মতো বর্তমান বিষয়ভিত্তিক বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করে এটি দক্ষিণের দেশগুলি কর্মকর্তাদের একটি প্রাথমিক কর্মজীবনের শৃঙ্খল তৈরি করে, যাঁরা একই পরিভাষা ব্যবহার করেন, একে অপরের সীমাবদ্ধতা বোঝেন এবং পরবর্তীতে সমন্বয় করতে পারেন।

ডিজিটাল স্বাস্থ্য হল স্বাস্থ্য কূটনীতির আর কটি উদীয়মান ক্ষেত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারত সরকার ২০২৩ সালে ভারতের জি২০ সভাপতিত্বকালে ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ক বৈশ্বিক উদ্যোগ ঘোষণা করে। এই উদ্যোগটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-পরিচালিত একটি শৃঙ্খল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল বিশেষ করে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং মানকে সারিবদ্ধ করা। এটি স্বাস্থ্যসেবাকে তথ্যের শাসন, নিরাপত্তা, অর্থায়ন সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং এর জন্য এমন আলোচকদের প্রয়োজন, যাঁরা এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করতে পারেন।

অতিমারি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, স্বাস্থ্য কী ভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এবং এর ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন অনেক বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বায়িত বিশ্ব এমন কাঠামোগত আন্তঃনির্ভরশীলতা তৈরি করেছে, যা আপাত সংঘাতের সময়েও দূর হয় না এবং যা আলোচনা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধানের বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচন করে।

থিংক ট্যাঙ্কগুলি কূটনৈতিক অ্যাকাডেমি, মন্ত্রণালয় এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলির সঙ্গে কাজ করে ফেলোশিপ, স্বল্পমেয়াদি ডেপুটেশন এবং সিমুলেশন অনুশীলনের নকশা তৈরি করতে পারে। সক্রিয় আলোচনার সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিদেশ মন্ত্রণালয়, সম্মিলিত সংগ্রহ প্রক্রিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগী কেন্দ্র এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগের মধ্যে বিশ্লেষক তরুণ আলোচকদের পদায়ন করলে একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতিসম্পন্ন কর্মীদল গড়ে ওঠে।

উপসংহার

অতিমারি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, স্বাস্থ্য কী ভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এবং এর ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন অনেক বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বায়িত বিশ্ব এমন কাঠামোগত আন্তঃনির্ভরশীলতা তৈরি করেছে, যা আপাত সংঘাতের সময়েও দূর হয় না এবং যা আলোচনা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধানের বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচন করে। গ্লোবাল সাউথ স্বাস্থ্য কূটনীতিতে প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার ঝুঁকি নিতে পারে না। স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশীদারদের একটি জনকল্যাণমূলক লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার জন্য, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি উপস্থাপন করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে একত্রিত করা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা তৈরিতে বিভিন্ন দেশের থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলি নিঃসন্দেহে অপরিহার্য।

 


ওমেন সি কুরিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড এসডিজি প্রোগ্রামের হেলথ ইনিশিয়েটিভের প্রধান এবং সিনিয়র ফেলো।

এই নিবন্ধটি ক্ষিণ - আরআইএস-এর গ্লোবাল সাউথ সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং এনআইএমএস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি পরামর্শ সভায় লেখকের দেওয়া উপস্থাপনার উপর ভিত্তি করে রচিত।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.