Author : Nimisha Chadha

Published on Sep 01, 2025 Updated 0 Hours ago

ভারতের সদাব্যস্ত রাস্তার খাদ্য সংস্কৃতি লক্ষ লক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করলেও দুর্বল প্রয়োগ এবং অপ্রতুল বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, যা ঐতিহ্য ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ব্যবধান পূরণের সময় এসে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ভারতের অনানুষ্ঠানিক ভেন্ডর অর্থনীতিতে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা

ভারতের খুচরা খাদ্য বিক্রেতা ক্ষেত্রটি সংগঠিত এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় ধরনের খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত। এটি সরবরাহ শৃঙ্খলে জড়িত অংশীদারদের একটি জটিল জালিকা দ্বারা সমর্থিত, যার মধ্যে রয়েছে উৎপাদক, ম্যানুফ্যাকচারার, প্রক্রিয়াকরণকারী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা, পৌর কর্তৃপক্ষ, ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) এবং ভোক্তা। ২০২৩ সাল পর্যন্ত, খাদ্য ও মুদির খুচরা বিক্রেতা ক্ষেত্রের মূল্য ছিল ৭১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৯৩ শতাংশ অসংগঠিত, ঐতিহ্যবাহী বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।  ১ কোটিরও বেশি রাস্তার বিক্রেতা, যা নগর কর্মীবাহিনীর ১১ শতাংশ, ভারতীয় অর্থনীতিতে একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের অর্থনৈতিক তাৎপর্যের বাইরে, রাস্তার খাবার বিক্রেতারা অনেকের জন্য পুষ্টির একটি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের উৎস, এবং একই সঙ্গে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর  অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তবুও, ভারতীয় খাদ্য শিল্পের বেশিরভাগের অনানুষ্ঠানিক প্রকৃতি নিয়ন্ত্রক তদারকির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। অ-‌নিরাপদ খাদ্যের কারণে ভারতে বার্ষিক আনুমানিক
১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়, যার ফলে প্রায় ১০০ মিলিয়ন খাদ্যবাহিত অসুস্থতা এবং ১২০,০০০ মৃত্যু ঘটে। খাদ্য প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে বিক্রি করা হয়, কোল্ড স্টোরেজ বা মান পরীক্ষা ছাড়াই। সংগঠিত ক্ষেত্রের খুচরা বিক্রেতাদের বিপরীতে, অনানুষ্ঠানিক খেলোয়াড়দের জন্য ঐতিহ্যবাহী টপ-ডাউন প্রয়োগ অপ্রতুল, এবং শিল্পকে সংরক্ষণের সময় খাদ্য সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা করা উচিত। এই অপ্রতুলতা বিক্রেতাদের গতিশীলতা, নগদ-ভিত্তিক লেনদেন এবং ন্যূনতম ডকুমেন্টেশনের মতো কারণগুলির জন্য ঘটে, যা সম্মিলিতভাবে কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে।

তবে,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সতর্ক করে দিয়েছে যে, শহুরে জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের খাদ্যে রাস্তার বিক্রেতাদের গুরুত্ব বিবেচনা করে বৈচিত্র্যময়, সস্তা ও পুষ্টিকর রাস্তার খাবারের সুবিধাগুলি সংরক্ষণের চেষ্টা করা উচিত। প্রচলিত বিধি এবং নিয়মকানুনগুলির কঠোর প্রয়োগ এই ধরনের ব্যবসার বিলুপ্তির দিকে চালিত করতে পারে। পরিবর্তে, হু এমন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বিকাশকে উৎসাহিত করে যা বিক্রেতাদের খাদ্য সুরক্ষার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে সক্ষম করবে।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ
 
খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন (এফএসএস) আইন ২০০৬-‌এর অধীনে ২০০৮ সালে  প্রতিষ্ঠিত
ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত সকল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এফএসএসএআই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়মকানুন নির্ধারণের জন্য কাজ করে, এবং একই সঙ্গে খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকারীদের (এফবিও) স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে।

বেশ কয়েকটি উদ্যোগের মধ্যে, এফএসএসএআই ২০১৭ সালে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য খাদ্য সুরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেশন (ফসট্যাক) প্রোগ্রাম চালু করে, যা স্বাস্থ্যবিধি এবং ভাল উৎপাদন অনুশীলনের উপর জোর দেয়।
২০২৪ সালে, ফসট্যাক এক লক্ষ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করেছিল, এবং তাদের নিবন্ধন ফি মকুব করেছিল। এই প্রোগ্রামটি তাদের সার্টিফিকেশন দিয়ে ক্ষমতায়নের জন্য একটি দ্রুত পরীক্ষার কিটও প্রদান করেছিল, যাতে উপভোক্তাদের আস্থা তৈরি করা যায়। ক্যাটারিং ক্ষেত্রে খাদ্য পরিচালনাকারীদের উপর ফসট্যাক-‌এর প্রভাব মূল্যায়ন করে ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় প্রশিক্ষণের পরে স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন জ্ঞানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে।


মৌলিক স্যানিটেশন ও স্টোরেজ সুবিধার অভাবে বেশিরভাগ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল দূষণের ঝুঁকিতে পড়েন, যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।



২০১৮ সালে এফএসএসএআই স্ট্রিট ফুড ক্লাস্টারে স্বাস্থ্যসুরক্ষার মান বাড়ানোর জন্য ক্লিন স্ট্রিট ফুড হাব (সিএসডিএইচআই) উদ্যোগটিও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। মৌলিক স্যানিটেশন ও স্টোরেজ সুবিধার অভাবে বেশিরভাগ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল দূষণের ঝুঁকিতে পড়েন, যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এফএসএসএআই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলিকে উন্নত করতে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটারি প্রয়োজনীয়তাগুলি মেনে চলার জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কাজ করতে চায়।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (এমওএইচএফডব্লিউ) এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক (এমওএইচইউএ)
২০২৩ সালে ‘ফুড স্ট্রিট প্রজেক্ট’ নামে একটি যৌথ উদ্যোগ শুরু করে, যার লক্ষ্য ১০০টি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত ফুড স্ট্রিট তৈরি করা, যেখানে নিরাপদ পানীয় জল, হাত ধোয়া এবং টয়লেট সুবিধা, বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট এবং বিশেষায়িত কার্টের ব্যবস্থা থাকবে। এফএসএসএআই দেশব্যাপী একটি “সঠিক খাদ্য খাও ভারত (‌ইট রাইট ইন্ডিয়া)‌” অভিযানও শুরু করেছে, যা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রচারণার মাধ্যমে সরবরাহ ও চাহিদা উভয় দিককে লক্ষ্য করে উদ্যোগগুলিকে একত্রিত করে। এই উদ্যোগটি শাস্তিমূলক প্রয়োগ থেকে অংশগ্রহণমূলক সম্পৃক্ততার দিকে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা খাদ্য সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে।

বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

খাদ্য নিরাপত্তা মান বজায় রাখার সঙ্গে রাস্তার বিক্রেতাদের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা একটি জটিল কাজ। যদিও এফএসএসএআই-এর সার্বিক কর্তৃত্ব রয়েছে, পরিদর্শনগুলি রাজ্য এবং স্থানীয় সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে, বাস্তবে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত,
বেশিরভাগ রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষার জন্য নিবেদিত কোনও বিভাগ ছিল না। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক বোঝাপড়া বা সমর্থন সহ  নানা কাজ করে চলেছিলেন। রাজ্যগুলিকে অসম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদান করতে দেখা গিয়েছে, এবং তাদের একটি অভিন্ন প্রত্যাহার ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।  এফএসএসএআই ২০২১ সালে ফুড সেফটি কমপ্লায়েন্স থ্রু রেগুলার ইনস্পেকশন অ্যান্ড স্যাম্পলিং (ফসকোরিস) ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে খাদ্য সুরক্ষা অনুবর্তিতা চালু করেছে। ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত, ফসকোরিস-এর মাধ্যমে ৩,৫৭,০৭২টি ব্যবসা মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা শিল্পে পরিচালিত মোট খাদ্য ব্যবসার একটি ভগ্নাংশ।


২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, আনুমানিক ১ কোটিরও বেশি রাস্তার বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে মাত্র ২,৫৩১ জন খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন। রাজ্যগুলি লক্ষ লক্ষ অনিবন্ধিত বিক্রেতার আনুষ্ঠানিক বিধিবিধানের বাইরে কাজ করার কথা জানিয়েছে, যে সংখ্যাটি বর্তমান পরিদর্শন ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।



২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, আনুমানিক
১ কোটিরও বেশি রাস্তার বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে মাত্র ২,৫৩১ জন খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন। রাজ্যগুলি লক্ষ লক্ষ অনিবন্ধিত বিক্রেতার আনুষ্ঠানিক বিধিবিধানের বাইরে কাজ করার কথা জানিয়েছে, যে সংখ্যাটি বর্তমান পরিদর্শন ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে, ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য মাত্র ২৬৬টি সরকারি ল্যাব ছিল, যার মধ্যে অনেকেরই বিষাক্ত পদার্থ বা রোগজীবাণু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিল। ৬২টি রাজ্য খাদ্য ল্যাবের মধ্যে মাত্র ১৩টি মানসম্মত হিসাবে স্বীকৃত।

বর্তমানে, পরীক্ষার ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৩৪টি মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য
৬১৩.৬৭ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাবরেটরিও স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪২৮টি কার্যকরী ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাবরেটরি ছিল।

২০২৩-২৪ সালে পরীক্ষার জন্য নেওয়া ১,৭৬,৩১৭টি র‌্যানডম স্যাম্পলের মধ্যে ৩৩,৮০৮টি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২২ সালে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলির একটি বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে, মূলত নমুনা সংগ্রহে পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং আইনি জটিলতার কারণে ভেজালের ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে প্রায় ১৯০০ নমুনা নিরাপত্তা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু মাত্র ১০টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ল্যাব জরিপে দেখা গিয়েছে যে ভেজালের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১২-১৩ সালের প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে ২০১৮-১৯ সালে ২৮.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলি তুলে ধরে যে এফএসএসএআই-এর নীতি ও নিয়মকানুন কার্যকর থাকলেও, এই ক্ষেত্রের অনানুষ্ঠানিকতার কারণে বাস্তবায়নের অভাব রয়ে গিয়েছে।

ভবিষ্যতের পথ

খাদ্যের নিরাপত্তা বিভিন্ন পরিবেশগত, পরিকাঠামোগত এবং সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাজ করার চেষ্টা করা বিভিন্ন পক্ষের
উপর নির্ভরশীল। যদিও এফএসএসএআই উদ্যোগগুলি এমন একটি দৃশ্যপট তৈরি করার লক্ষ্য রাখে যা খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে বিক্রেতাদের সহায়তা করতে পারে, এর জন্য টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা এবং পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।


২০১৯ সালে, এফএসএসএআই-এর জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট ছিল মাত্র ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ছিল ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, কানাডার ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাজ্য তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের জন্য ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছিল।



২০১৯ সালে, এফএসএসএআই-এর জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট ছিল মাত্র
২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ছিল ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, কানাডার ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাজ্য তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের জন্য ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছিল। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা প্রশাসন ঐতিহাসিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা এবং মূল্য স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যার ফলে নিয়ন্ত্রক পরিকাঠামোতে বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। গত দুই বছরে, বরাদ্দকৃত বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে:‌ ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য আনুমানিক বাজেট ৬২০ কোটি টাকা। তবুও, বাস্তবায়নের অভাবের মধ্যে সম্পদের ঘাটতি স্পষ্ট। খাদ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করে এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের জন্য এটিকে অগ্রাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে, কার্যকর নীতিগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করা যেতে পারে।

চিত্র ১: এফএসএসএআই বাজেট অর্থবর্ষ ২১-২৪ (১ কোটি আইএনআর)
Strengthening Food Safety In India S Informal Vendor Economy
সূত্র:
এফএসএসএআই

কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে। বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে, সিএসডিএইচআই-এর মতো বেশ কিছু প্রকল্প, যা এখন পর্যন্ত ২৫টি কেন্দ্রকে সার্টিফাই করেছে, এবং 'ফুড স্ট্রিট প্রজেক্ট' সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। এফএসএসএআই ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে পরিদর্শন রেকর্ড এবং নমুনা প্রতিবেদনগুলিকে ডিজিটাইজ করার জন্য ফসকোরিস ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাস্টারগুলি সনাক্ত করতে এবং বিক্রেতাদের পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকীকরণের জন্য, ফসকোরিস অন্তর্দৃষ্টিগুলিকে ফসট্যাক প্রশিক্ষণ রেকর্ডের সঙ্গে একীভূত করতে পারে। পৌরসভাগুলি বিক্রেতাদের সমষ্টি বা স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে পর্যবেক্ষণ নোড হিসাবে ব্যবহার করে এগুলি আরও বিস্তৃত করতে পারে। এই ধরনের কৌশলগুলি খাদ্য নিরাপত্তা শাসনকে শীর্ষ-থেকে-‌নিচে প্রয়োগ থেকে একটি অংশগ্রহণমূলক মডেলে স্থানান্তরিত করবে, যা স্বাস্থ্যবিধি-সংযুক্ত প্রণোদনা, সরলীকৃত পরিদর্শন এবং জনসাধারণের স্বীকৃতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে অনুবর্তিতা উৎসাহিত করবে, যা উচ্চ-অনানুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

২০২০ সালে চালু হওয়া
প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেন্ডর আত্মনির্ভর নিধি (পিএম স্বনিধি) প্রকল্প — যা ক্ষুদ্রঋণ এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাস্তার বিক্রেতাদের সমর্থন করার জন্য চালু হয়েছিল — খাদ্য সুরক্ষা প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি নীতিগত সুযোগ উপস্থাপন করে। স্বনিধি-র অধীনে ঋণ, ভেন্ডিং লাইসেন্স বা ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসের সুযোগের সঙ্গে ফসট্যাক সার্টিফিকেশনকে সংযুক্ত করা শাস্তিমূলক খরচ আরোপ না করে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিকীকরণকে উৎসাহিত করতে পারে।

এছাড়াও, রাস্তার খাবারের নিরাপত্তা এবং বিক্রেতাদের জীবিকা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলি অন্বেষণ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্য সনাক্তকরণের জন্য
ব্লকচেন প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা উন্নত করা হয়েছে। স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি প্রচারের জন্য স্টোরেজ সমাধান সহ সজ্জিত সৌরশক্তিচালিত খাদ্য কার্ট চালু করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ডিজিটাল পর্যালোচনা এবং প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমানভাবে উপভোক্তাদের সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করছে, যা উচ্চ মান বজায় রাখার জন্য বিক্রেতাদের উৎসাহিত করার একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। শহরগুলি আধুনিকীকরণ ও ভোক্তাদের প্রত্যাশা পরিবর্তনের সাথে সাথে, উদীয়মান উদ্ভাবনগুলি গ্রহণ করা ভারতের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নিরাপদ, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্ট্রিট ফুড অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

ভারতের প্রাণবন্ত স্ট্রিট ফুড ক্ষেত্রটি এমন একটি খাদ্য সুরক্ষা কাঠামোর অধীনে উন্নতি করতে পারে যা উদ্ভাবনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির মিশ্রণ করে। ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিকীকরণ, সর্বজনীন প্রয়োগের বিপরীতে, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ এবং সরলীকৃত সার্টিফিকেশন ও প্রণোদনা গ্রহণের মাধ্যমে সময় নিয়ে মান উন্নত করতে দেয়। বিক্রেতাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, ব্যবসাগুলিকে উন্নতি করতে সহায়তা করার সাথে সাথে খাদ্য সুরক্ষা ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে। বিক্রেতা-বান্ধব পরিকাঠামো, বিকেন্দ্রীভূত প্রশিক্ষণ এবং ডেটা-সমর্থিত প্রয়োগে বিনিয়োগ করে সরকার জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে আপস না করে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে। ভারতের অনানুষ্ঠানিক খাদ্য অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।



নিমিশা চাড্ডা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভ-‌এর একজন গবেষণা সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.