Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 09, 2026 Updated 0 Hours ago

কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের (এসআইডি) একটি সূক্ষ্ম প্রয়োগ উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করতে পারে। তবুও ভারতে এটি বিচ্ছিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। একটি সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে না হয়ে, বরং সঙ্কটের সময়ে আংশিক ভাবে এর ব্যবহার করা হয়েছে।

কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ এবং ভারত: ভবিষ্যৎ পথ

২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে জার্মান বিমানবাহিনীলুফৎওয়াফের ঊর্ধ্বতন সহকর্মীদের সঙ্গে যখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক গ্র্যাফে মধ্যরাতের ওয়েবেক্স কলে যোগদান করেনতখন তাঁর চিন্তিত হওয়ার তেমন কোনও কারণ ছিল না। সর্বোপরিএটি ছিল একটি সুরক্ষিত লাইনযা বিদেশি হুমকিদাতাদের জন্য অভেদ্য। অথচ মাত্র দুসপ্তাহ পরেই ইউরোপ এই ধাক্কা খেয়ে জেগে ওঠে যেরাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি ইউক্রেনে জার্মানির আসন্ন টরাস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত ৩৮ মিনিটের সেই কলের সম্পূর্ণ অডিয়ো রেকর্ডিংতার সমস্ত খুঁটিনাটি বিবরণ-সহ সম্প্রচার করেছে। জার্মান কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তাদের পরবর্তী তদন্তে জানা যায় যে, রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা হোটেলের অরক্ষিত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কলটি আড়ি পেতেছিলেন। কিন্তু এই গোয়েন্দা তথ্যকে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য গোপন রাখার পরিবর্তে রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের আগে যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিমী দেশগুলির কৌশল অনুসরণ করেআড়ি পেতে জেনে নেওয়া সংযোগগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স ডিসক্লোজার (এসআইডি) ব্যবহারের মাধ্যমে তার প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একটি প্রচারণাগত বিজয় অর্জন করে।

তবুও ভারতে কৌশলগত তথ্য প্রকাশ বিচ্ছিন্ন রয়ে গিয়েছে, যা একটি সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে নয়, বরং সঙ্কটের সময়ে আংশিক ভাবে ও সীমিত প্রভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ডিজিটাল মিডিয়ার কার্যকর ব্যবহার এবং রিয়েল-টাইম কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণকে কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি হিসেবে সর্বসম্মত ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কৌশলগত তথ্য প্রকাশের (এসআইডিপ্রতি একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর প্রয়োগ এই লক্ষ্যে কর্মরত যে কোনও সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করতে পারে। তবুও ভারতে কৌশলগত তথ্য প্রকাশ বিচ্ছিন্ন রয়ে গিয়েছেযা একটি সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে নয়বরং সঙ্কটের সময়ে আংশিক ভাবে  সীমিত প্রভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই নিবন্ধটিতে কৌশলগত তথ্য প্রকাশের সুবিধা ঝুঁকিগুলি তুলে ধরতেবিশ্ব শক্তিগুলি দ্বারা এর সাম্প্রতিক ব্যবহারের ঘটনাগুলি তুলে ধরতে এবং ভারতের বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এর ব্যবহারকে প্রাসঙ্গিক করার লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়েছে

প্রেক্ষাপট এবং সূক্ষ্মতা

বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব স্বীকার করে আসছে। একবার গোয়েন্দা তথ্য বেছে বেছে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে এবং একটি বৃহত্তর তথ্য কৌশলের অংশ হিসেবে একীভূত করা হলেএটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োগকারীর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রভাবকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি বেশ কয়েকটি আন্তঃসম্পর্কিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা অর্জনের জন্য প্রতিপক্ষকে জনসমক্ষে বিব্রত করা অথবা অন্যের বিবৃতির বিরুদ্ধে নিজের বিবৃতির পক্ষে বিশ্ব জনমত এবং কূটনৈতিক সমর্থনকে একত্রিত করা। 

এই যুক্তিই সরকারগুলি দ্বারা কৌশলগত তথ্য প্রকাশের ব্যবহারকে যৌক্তিকতা দিয়েছে। ১৯৬২ সালের প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কটের সময় নিজেদের পক্ষে বিশ্ব জনমতকে একত্রিত করার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা চিত্রভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য (আইএমআইএনটিপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি — বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের সংস্থাগুলিইউক্রেনীয় নিরাপত্তা পরিষেবাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কৌশলগত তথ্য প্রকাশের একটি কৌশল গ্রহণ করে। প্রথমে তারা আসন্ন সামরিক অভিযান বিলম্বিত করার জন্য ইউক্রেনীয় সীমান্ত বরাবর রুশ সেনাদের গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করে এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতিপক্ষের মনোবল ক্ষুণ্ণ করার জন্য রুশ সৈন্য ফিল্ড কম্যান্ডারদের মধ্যকার যোগাযোগ জানতে পারে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করেযার কিছু অংশ পরে বেসরকারি শিল্পীদের দ্বারা তথ্যচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং যা ব্যাপক জনমত তৈরিতে সাহায্য করে।

সতর্কতা ছাড়া ব্যবহার করলে এসআইডি মানব এজেন্ট বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তিগত উৎসের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

তবে এসআইডি কোনও অব্যর্থ সমাধান নয় এবং এটি বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। এসআইডি নামক সাধারণ পরিভাষার আড়ালে মিথ্যা বা বিকৃত গোয়েন্দা তথ্য প্রচার করা দীর্ঘমেয়াদি সুনামগত কৌশলগত ঝুঁকি বহন করেযা ২০০৩ সালে ইরাকের কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপিত এবং পরে ভুল প্রমাণিত হওয়া স্ল্যাম ডাঙ্ক প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে। ছাড়াওসতর্কতা ছাড়া ব্যবহার করলে এসআইডি মানব এজেন্ট বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তিগত উৎসের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তবে সরকারগুলি প্রাথমিক তথ্যের পরিবর্তে গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রকাশ্য প্রকাশের উপর নির্ভর করে এই চ্যালেঞ্জগুলি এড়াতে চেয়েছেঅথবা যদি তারা  ডেটা বা প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়তবে এর উৎস গোপনের ব্যবস্থা করার পরেই তা করেছে। এই ধরনের কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকারগুলি কখনও কখনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এসআইডি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে – যেমনটা ২০১৮ সালে দেখা গিয়েছেযখন তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি রাষ্ট্রের জড়িত থাকার অডিয়ো এবং ভিডিয়ো প্রমাণ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যদিও এই প্রক্রিয়ায় যে দূতাবাসে ঘটনাটি ঘটেছিলসেখানে তাদের আড়ি পাতার বিষয়টিও প্রকাশ হয়ে যায়।

ছাড়াও এসআইডি-তে কেবল প্রকাশ্য ঘোষণা জড়িত থাকতে হবেএমন কোনও কথা নেই বরং এটি আরও গোপন পদ্ধতির সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারেযাতে উক্ত তথ্যের উৎস গোপন রাখা যায় এবং সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ফাঁস করার কৌশলের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য অস্বীকারের সুযোগ বজায় রাখা যায়। ইজরায়েল অতীতে এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে প্রথমে ২০১৭ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র থাকার বিষয়ে আরব এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে বেছে বেছে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করে তাদের প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করেছিল এবং এর মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছিল। জেসিপিওএ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের চলমান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল।

ভারত এবং এসআইডি: একটি মিশ্র ইতিহাস 

ভারত এসআইডি- সঙ্গে অপরিচিত নয়। একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে এর সাফল্যের সবচেয়ে ভাল ভাবে নথিভুক্ত উদাহরণগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সেই ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়যখন ভারতীয় গোয়েন্দারা পারভেজ মোশাররফ এবং চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল আজিজ খানের মধ্যে একটি টেলিফোন কথোপকথন জানতে পারে এবং তা প্রকাশ্যে সম্প্রচার করতে সাহায্য করে। পাকিস্তান মুজাহিদ যোদ্ধাদের সমর্থন করার কথা অস্বীকার করেছিল এবং তাদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণই দেয়নিবরং নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি সামরিক বাহিনীর অবাধ্যতারও প্রমাণ দিয়েছিল। -এর প্রাক্তন প্রধান বিক্রম সুদের মতেএই গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হওয়াটি নওয়াজ শরিফের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং ফলস্বরূপ যুদ্ধের অবসানেও অবদান রেখেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সাধারণত পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সঙ্কট  সংঘাতের সময় গোয়েন্দা তথ্য না হলেও অন্যান্য তথ্য প্রকাশের চেষ্টা করেছে। ২০১৯ সালে বালাকোটে সন্ত্রাসী শিবিরে বিমান হামলার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী গণমাধ্যমকে স্যাটেলাইট চিত্র দেখিয়েছিলযা প্রমাণ দেয় যেপাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে স্পাইস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সন্ত্রাসী শিবির এবং সামরিক ঘাঁটিগুলির ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিতকারী উচ্চ-মানের স্যাটেলাইট চিত্র বিদেশসচিব এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের দ্বারা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছিল। 

ভারতের আমলাতন্ত্রের মধ্যে গোপনীয়তার সংস্কৃতি গোয়েন্দা সম্প্রদায়কে তাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক করে তুলেছে, যা উৎস এবং পদ্ধতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে বৈধ উদ্বেগ দ্বারা প্রভাবিত।

তবুও কিছু প্রধান কারণ ভারতের এসআইডি ব্যবহারের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রথমতএসআইডিকে একটি সমন্বিত শান্তিকালীন কৌশলের অংশ হিসেবে শত্রুর মনোবল নষ্ট করতে বা জনসমক্ষে বিব্রত করতে আগাম ব্যবহার না করেবরং সঙ্কটের সময়ে নিজেদের সাফল্য পরিমাপ বা প্রমাণ করার জন্য একটি ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবেই প্রধানত ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয়তকারগিল যুদ্ধ ছাড়াপ্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্যে প্রধানত স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়েছেযা ৩০ সেকেন্ডেরঅডিয়ো-ভিজ্যুয়াল-কেন্দ্রিক ইনস্টাগ্রাম রিল বা ইউটিউব শর্ট দ্বারা প্রভাবিত গণসম্প্রচারের এই যুগের জন্য অনুপযুক্ত। তৃতীয়তভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে এসআইডি সম্পর্কিত বিতর্কগুলি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকরণের কারণে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছেযা ভারতের শত্রুদের দ্বারা শোষণের সুযোগ করে দিয়েছেযেমনটি ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বাস্তব প্রমাণ চাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে। পরিশেষেভারতের আমলাতন্ত্রের মধ্যে গোপনীয়তার সংস্কৃতি গোয়েন্দা সম্প্রদায়কে তাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক করে তুলেছেযা উৎস এবং পদ্ধতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে বৈধ উদ্বেগ দ্বারা প্রভাবিত। শেষোক্ত উদ্বেগের বৈধতা থাকা সত্ত্বেওভারত অবশ্যই গোপনীয়তার কারণে একটি স্বচ্ছতর যুগে এসআইডি সম্পর্কে স্পষ্ট কৌশল এবং মতবাদের সুবিধা থেকে নিজেদের বঞ্চিত হতে দেবে নাযখন সেই গোয়েন্দা তথ্য সঠিক ভাবে পরিমার্জন এবং নির্বাচিতভাবে শ্রেণিবিন্যাসমুক্ত করা হবে।

সুপারিশ এবং ভবিষ্যৎ পথ 

ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এসআইডি- ভবিষ্যৎ কেমন হবেপ্রথমতএসআইডি-কে কেবল ন্যায্যতা প্রমাণের একটি ঘটনা-পরবর্তী কৌশল হিসেবে নয়বরং একটি আধা-সামরিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবেযা শান্তিকালীন এবং সঙ্কট/সংঘাত উভয় সময়েই প্রতিপক্ষকে বিশ্বব্যাপী বিব্রত করে এবং তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলিকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাদের কৌশলগত পছন্দগুলোকে সীমিত করে চাপ প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হবে। এই ধরনের কৌশলের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব হবে অপরিসীমযা প্রতিপক্ষকে বেশির ভাগ সময়ই অপ্রস্তুত রাখবে।

অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল সমৃদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য, যা সোশ্যাল মিডিয়ার সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো কন্টেন্ট, চলচ্চিত্র/তথ্যচিত্র, পডকাস্ট এবং এই জাতীয় মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যযুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে একীভূত করার জন্য আরও উপযুক্ত, সেটিকে এসআইডি-র প্রতি একটি সম্ভাব্য কৌশলের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয়তএই কৌশলের অংশ হিসেবে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্যকে কেবল স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহারের বাইরেও বিকশিত হতে হবে। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযান এবং ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের সময় এই ধরনের চিত্র ব্যবহার করার পেছনে কিছু বোধগম্য কারণ ছিলম্যাক্সারের মতো বাণিজ্যিক মঞ্চগুলি দ্বারা সহজেই শনাক্ত করা যায় এমন স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে ভারত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উৎস এবং পদ্ধতি প্রকাশ করা এড়িয়ে চলে। তবুও কারগিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে উচ্চ-পর্যায়ের ফোন কলের আরএঅ্যান্ডডব্লিউ-এর আড়ি পাতা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার ঘটনা যেমনটা দেখিয়েছিলভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অডিয়ো এবং এমনকি দৃশ্যসমৃদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের এবং তা বিধ্বংসী প্রভাব সহকারে জনসমক্ষে প্রকাশ করার সক্ষমতা রয়েছে। অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল সমৃদ্ধ গোয়েন্দা তথ্যযা সোশ্যাল মিডিয়ার সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো কন্টেন্টচলচ্চিত্র/তথ্যচিত্রপডকাস্ট এবং এই জাতীয় মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যযুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে একীভূত করার জন্য আরও উপযুক্তসেটিকে এসআইডি- প্রতি একটি সম্ভাব্য কৌশলের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

তৃতীয়তএসআইডি এবং তথ্যযুদ্ধকে একই জিনিস হিসেবে দেখতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য কেবল তখনই প্রকাশ করা যেতে পারেযখন এটি নিশ্চিত হয় যেএর প্রকাশের ফলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এমন একটি প্রতিক্রিয়া আসবেযা শেষ পর্যন্ত কোনও না কোনও ভাবে তাদের কৌশলগত গতিশীলতাকে সীমিত করবে। এটিকে প্রতিপক্ষের রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেকার সামাজিকধর্মীয়নাগরিক বা আমলাতান্ত্রিক ফাটলের একেবারে মূলে আঘাত করে একটি প্রতিক্রিয়া উস্কে দেওয়ার জন্য তৈরি করতে হবে।

গোয়েন্দা কার্যক্রম স্বভাবতই গোপনীয়তায় আবৃত থাকেএবং তা থাকাই উচিত। তবুও এমন একটি যুগে যেখানে ডিজিটাল যোগাযোগ এবং জনসাধারণের সম্প্রচারে সহজপ্রায় সর্বত্রব্যাপী প্রবেশাধিকার তথ্যের পরিদৃশ্যকে নতুন রূপ দিয়েছেসেখানে ভারতের গোয়েন্দা পরিদৃশ্যকেও মানিয়ে নিতে হবে। এসআইডি হয়তো কোনও সর্বরোগের মহৌষধ নয়কিন্তু এটি অবশ্যই আমাদের কৌশলগত শক্তি এবং কার্যকারিতা বাড়াতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।

 


অর্চিষ্মান রায় গোস্বামী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনাবাসিক জুনিয়র ফেলো।

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.