Author : Aleksei Zakharov

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 16, 2026 Updated 0 Hours ago

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভারতের চাবাহার পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে, কিন্তু বন্দরটি আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইউরেশীয় অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে টিকে আছে।

কৌশলগত ধারাবাহিকতা: কেন ভারত চাবাহার নিয়ে তার অবস্থানে অবিচল রয়েছে

ইরানি শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের পুনর্গঠন সহায়তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালে ইরান ফ্রিডম অ্যান্ড কাউন্টার-প্রলিফারেশন অ্যাক্ট (আইএফসিএ)-এর অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রমী সুবিধাটি বাতিল করেছে, যা ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।মার্কিন বিদেশ দপ্তরের এই ঘোষণাটি প্রত্যাশিতভাবেই ভারতীয় গণমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী সেই পদক্ষেপগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যেগুলি ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি করেছে। যদিও এই ছাড় প্রত্যাহার নিঃসন্দেহে অপ্রীতিকর, তবুও এই পদক্ষেপকেভারতের জন্য একটি কৌশলগত আঘাতবলে দাবি করাটা বাড়াবাড়ি। প্রকৃতপক্ষে, ছাড় থাকুক বা না থাকুক, চাবাহারকে ঘিরে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।



ওমান উপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এবং আরব সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকায়, এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ পথটির বাইরে অবস্থিত, যা জাহাজ চলাচলের জন্য সহজতর।


বন্দর এবং এর বিশেষত্ব

চাবাহারে দুটি টার্মিনাল রয়েছে: শহিদ কালান্তারি এবং শহিদ বেহেশতি। প্রথমটি একটি পুরনো বন্দর, যার জলসীমা সীমিত এবং ফিডার জাহাজ ভেড়ানোর জন্য - মিটার গভীরতা রয়েছে। দ্বিতীয়টি একটি গভীর সমুদ্রবন্দর (১৬. মিটার গভীরতার কারণে বড় ধারণক্ষমতার জাহাজের জন্য উপযুক্ত), যা চারটি ধাপে উন্নত করা হয়েছে এবং এর ভৌগোলিক সুবিধাও রয়েছে। ওমান সাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এবং আরব সাগরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায়, বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ পথ থেকে বাইরে অবস্থিত, যা জাহাজ চলাচলের জন্য সহজতর। বন্দর আব্বাসের মতো যানজটপূর্ণ বন্দরের বিপরীতে, চাবাহারে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। এছাড়াও, চাবাহার একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ, যা শুল্ক কর সংক্রান্ত পদ্ধতিকে সহজ করে তোলে।


প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হওয়ায় শহিদ বেহেশতি টার্মিনালের ধারণক্ষমতা প্রায় মিলিয়ন টন, এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে এটিকে আরও বাড়িয়ে ১৮ মিলিয়ন টন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এই বন্দরটি ৪৫০টিরও বেশি জাহাজ এবং লক্ষ ৩৪ হাজারেরও বেশি টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কন্টেনারজাত পণ্য, এবং . মিলিয়ন টনেরও বেশি বাল্ক সাধারণ পণ্য পরিবহণ করেছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ,১২৬ টিইইউ-এর তুলনায় ৬০,০৫৯ টিইইউ পণ্য স্থানান্তরিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ,৯৭৩ টিইইউ পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, এবং এর ফলে বন্দরে কন্টেনার কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়েব্যাপক পণ্য পরিবহণে  অনুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি, এবং গত তিন বছর ধরে এটি -. মিলিয়ন টনের আশেপাশে ওঠানামা করছে।


ব্যতিক্রমের দ্বৈততা


ভারত ২০১৫ সালের মে মাসে চাবাহার বন্দর নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার এক বছর পর ইরান আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই সময়ে ভারত-ইরান বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছিল, কারণ জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর অংশ হিসেবে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির উপর কঠোর সীমাবদ্ধতার বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। তবে, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-বিরোধী সর্বোচ্চ চাপ নীতির কারণে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। এর মধ্যে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিপিওএ থেকে বেরিয়ে আসানিষেধাজ্ঞা পুনঃআরোপ এবং ইরানি তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা, যার সবকটিরই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী অন্যান্য দেশের উপর প্রভাব পড়েছিল। এই পদক্ষেপ ভারতীয় স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে নয়াদিল্লিকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর ইরানি তেল আমদানি শূন্যে নামিয়ে আনতে বাধ্য হতে হয়।



যদিও সদিচ্ছা নিয়েই এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তবে এটি ছিল কিছুটা অসম্পূর্ণ, এতে পর্যাপ্ত দালিলনির্ভর প্রমাণের অভাব ছিল, এবং এটি বন্দরটির উন্নয়ন ও রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়।



ভারতের জন্য ইতিবাচক দিকটি ছিল যে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে চাবাহারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছিল। নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ‘‌ব্যাপক বিবেচনার’‌ পর, ওয়াশিংটন আইএফসিএ থেকে ‘‌একটি ব্যতিক্রমী ছাড়’‌ মঞ্জুর করে, যা "চাবাহার বন্দরের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি আফগানিস্তানের ব্যবহারের জন্য বন্দরটির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা-বহির্ভূত পণ্য পরিবহণের" ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। যদিও সদিচ্ছা নিয়েই এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তবে এটি ছিল কিছুটা অসম্পূর্ণ, এতে পর্যাপ্ত দালিলনির্ভর প্রমাণের অভাব ছিল, এবং এটি বন্দরটির উন্নয়ন রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়। প্রাক্তন ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে,[] যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত নথিটি ছিল ভারত সরকারকে প্রশংসা করে লেখা একটি চিঠি, যেখানে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের জন্য চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছিল। অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সাধারণ লাইসেন্স না থাকায়, এই চিঠিটি ব্যাঙ্ক বা বিদেশি বিক্রেতাদের দ্বারা নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের প্রমাণ হিসাবে কখনও গৃহীত হয়নি।


ছাড়ের বিষয়ে অস্পষ্টতার কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা চাবাহার-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করা অসম্ভব করে তুলেছিল এবং বন্দরের সরঞ্জাম সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ভারত কন্টেনার লোডিং আনলোডিংয়ের জন্য অপরিহার্য শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন সংগ্রহ করতে পারেনি এবং তাই মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) দিয়েই কাজ চালাতে বাধ্য হয়েছিল। যদিও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে এমএইচসি-‌গুলি অধিক নমনীয়, তবে এগুলো বড় আকারের কন্টেনার পরিচালনার জন্য কম উপযুক্ত। এমনকি এমএইচসি-‌গুলির সরবরাহ প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়েছে; ভারত বাধ্য হয়ে মূল বিদেশি প্রস্তুতকারকের মাধ্যমে ক্রেনগুলি মুম্বইতে খালাস করিয়েছিল এবং তারপর নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত একটি ছোট শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে সেগুলিকে চাবাহারে পাঠিয়েছিল।


ছাড় থাকা সত্ত্বেও, ভারতকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়েছিল। প্রথমত, শুধুমাত্র অনুমোদিত পণ্যই শহিদ বেহেশতি টার্মিনালের মাধ্যমে পাঠানো হত, যার মধ্যে ছিল মানবিক সহায়তা সামগ্রী, গম, ভুট্টা, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা প্রধানত আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হত। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি চাবাহার-‌সহ ইরানের বন্দরগুলিতে যাওয়া এড়িয়ে চলত, কারণ বাণিজ্য কার্যক্রম প্রধানত উন্মুক্ত নিবন্ধনভুক্ত দেশের পতাকাবাহী জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত হত।

সম্ভাব্য অগ্রগতি

চাবাহারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা প্রত্যাহার করার মার্কিন সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বন্দরটিতে কার্যক্রম আবার গতি পেতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে শহিদ বেহেশতি টার্মিনালকে সজ্জিত পরিচালনা করার জন্য একটি দশ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে, ভারত সরঞ্জাম বাবদ খরচ মেটানোর জন্য ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং বন্দর উন্নয়নের জন্য রুপি সমতুল্য ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণরেখা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন বন্দর উন্নয়নের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। তবে, এটি শহিদ বেহেশতি টার্মিনালের পতনের কারণ হবে এমন সম্ভাবনা কম।


যেহেতু ইউরেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য পাকিস্তানের উপর নির্ভরতা এড়ানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হল চাবাহারের মাধ্যমে নৌপরিবহণ, তাই নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্ত্বেও ভারত বন্দরটির উপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আগ্রহী হবে।



ভারত এই প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইতিবাচক গতি অর্জন করেছে। আফগানিস্তানের জন্য একটি জীবনরেখা হওয়ার পাশাপাশি, এই বন্দরটি সর্বদা ভারতকে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ ছিল। যদিও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের পরিধির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের মতো মধ্য এশিয়ার দেশগুলিতে চাবাহারকে ভারত মহাসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল চাবাহার ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর অধীনে ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপ এবং ভারত-ইরান-উজবেকিস্তান ত্রিপক্ষীয় আলোচনা, যা এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের জন্য বন্দরটি ব্যবহারের উপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগের বিষয়টি প্রমাণ করে।


দ্বিতীয়ত, প্রকল্পটি পরিত্যাগ করলে চিন-এর মতো বহিরাগত শক্তিগুলির জন্য আঞ্চলিক ক্ষেত্র তৈরি হবে। যেহেতু ইউরেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য পাকিস্তানের উপর নির্ভরতা এড়ানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হল চাবাহারের মাধ্যমে নৌপরিবহণ, তাই নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্ত্বেও ভারত বন্দরটির উপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আগ্রহী হবে। এক অর্থে, যেহেতু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ভারতীয় অংশীদারদের জন্য সর্বদা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তাই নিষেধাজ্ঞার ছাড় বাতিল কোনও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। যারা ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদেরঘনিষ্ঠ বৃত্তেরবাইরের ব্যাঙ্ক, শিপিং কোম্পানি এবং বিমাকারীরা যে কোনও কার্যক্রমে জড়িত হতে অনিচ্ছুক থাকবে, যা ভারতকে গতানুগতিকতার বাইরের সমাধান উদ্ভাবন করতে বাধ্য করবে।

যখন নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর হবে তখন চাবাহার বন্দরের কার্যক্রম, যা ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক জনসমীক্ষা এড়িয়ে গেছে, তা আরও একটি ধূসর অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে। ভারত হয়তো রাশিয়াকে অনুসরণ করে দরপত্র এবং সংগ্রহ সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যান তথ্য গোপন করার প্রলোভন অনুভব করতে পারে। তবে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া ছাড়া, রাশিয়া চাবাহারের উন্নয়নে ভারতকে সহায়তা করার মতো অবস্থানে নেই। রুশ কোম্পানিগুলি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যেমন এসটিএস বা এমএইচসি ক্রেন সরবরাহ করতে অক্ষম, কারণ রাশিয়ার বৃহত্তম বন্দরগুলি নিজেরাই ইউরোপীয় এবং চিনা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।


চাবাহারের সঙ্গে রেল সংযোগের ‌কাজ শীঘ্রই শেষ হবে, যা এটিকে আইএনএসটিসি-র পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সঙ্গে একীভূত করার একটি সুযোগ তৈরি করবে, এবং তার ফলে পণ্য পরিবহণ মসৃণ হবে।



রাজনৈতিকভাবে, মস্কো আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডোরের (আইএনএসটিসি) মূল কেন্দ্রগুলির সঙ্গে চাবাহারকে সংযুক্ত করার জন্য ভারতের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে তবে, বন্দরটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইএনএসটিসি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়নি এবং এর রুট বরাবর সরবরাহ মূলত বন্দর আব্বাসের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। উপরন্তু, ইরানে রাশিয়ার বিনিয়োগ রেলওয়ের আধুনিকীকরণের উপর কেন্দ্রীভূত, যার মধ্যে আস্তারা-রেশত রেল সংযোগ নির্মাণ এবং আস্তারা থেকে বন্দর আব্বাস পর্যন্ত একটি নতুন ব্রড-গেজ রেল করিডোরের পরিকল্পিত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত, যার উদ্দেশ্য অপ্রয়োজনীয় পণ্য স্থানান্তর এড়ানো। এই পরিকল্পনাগুলি কার্যকরভাবে আইএনএসটিসি- জন্য রাশিয়ার নকশা থেকে চাবাহারকে বাদ দিয়েছে।


ভারত স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম বলে মনে হচ্ছে, এবং দেশটি বন্দর সরঞ্জাম অধিগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যদি বন্দরটি তার পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং সঠিকভাবে এর বিপণন করা হয়, তবে ব্যবসায়ীরা এটিকে তাদের সরবরাহ রুটে অন্তর্ভুক্ত করার উপায় খুঁজে নেবে। চাবাহারের সঙ্গে রেল সংযোগেরকাজ শীঘ্রই শেষ হবে, যা এটিকে আইএনএসটিসি- পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সঙ্গে একীভূত করার একটি সুযোগ তৈরি করবে, এবং তার ফলে পণ্য পরিবহণ মসৃণ হবে।


যদিও ভূ-কৌশলগত বাধ্যবাধকতা এবং কার্যক্ষেত্র পর্যায়ের ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্যে প্রায়শই একটি ব্যবধান থাকে, চাবাহারের ক্ষেত্রে ভারতের পছন্দ স্পষ্ট। নয়াদিল্লি এই প্রকল্প থেকে পিছু হটবে না, কারণ কৌশলগত মাত্রা ছাড়াও এটি ইউরেশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক প্রসারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা নিষেধাজ্ঞা-মুক্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার মধ্যে ভারত সম্ভবত প্রথমটিকেই বেছে নেবে।


আলেক্সেই জাখারভ  অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো – রাশিয়া ও ইউরেশিয়া।

[] একজন ভারতীয় কর্মকর্তার সঙ্গে লেখকের বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার, মার্চ ২০২৩।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.