এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দি ইকোনমিক টাইমস-এ।
ভারত তার সামুদ্রিক উপস্থিতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগকে শক্তিশালী করছে। নতুন উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল জাহাজ নির্মাণ ও নৌপরিবহণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ভারত তার বন্দরগুলির ক্ষেত্রে স্থিতিশীল অনুশীলন ও ডিজিটাল রূপান্তরের উপরও মনোযোগ দিচ্ছে। এই প্রচেষ্টাগুলি ভারতকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় একটি প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং বহু দেশের জন্য সহযোগিতামূলক প্রবৃদ্ধি ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে উৎসাহিত করছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের পাঁচ ভাগের মধ্যে চার ভাগেরও বেশি এখনও সমুদ্রপথেই সম্পন্ন হয়। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন সামুদ্রিক পথগুলিকে প্রভাবিত করছে, তখন বৈশ্বিক সাধারণ সম্পদ রক্ষায় ভারতের ভূমিকা আরও বেশি কৌশলগত হয়ে উঠছে। ‘সাগর’ (সিকিওরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিয়ন বা অঞ্চলের সকলের জন্য নিরাপত্তা এবং প্রবৃদ্ধি) থেকে ‘মহাসাগর’ (মিউচুয়াল অ্যান্ড হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস রিজিয়নস বা অঞ্চল জুড়ে নিরাপত্তা ও বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক এবং সামগ্রিক অগ্রগতি) কর্মসূচিতে উত্তরণ, এবং এর পাশাপাশি মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সংযোগ উভয়কেই সুসংহত করার ক্ষেত্রে ভারতের উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।
সাগরমালা উদ্যোগের অধীনে ভারত রেকর্ড গতিতে বন্দর অবকাঠামো, জাহাজ নির্মাণ এবং বন্দর-সংযুক্ত শিল্পায়নের প্রসার ঘটিয়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতের ১২টি প্রধান বন্দর অভূতপূর্ব ৮৫৫ মিলিয়ন টন পণ্য পরিচালনা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৩% বৃদ্ধিকেই দর্শায়। কন্টেনার দেখভাল ১০%, সার পরিবহণ ১৩% এবং পেট্রোলিয়াম পরিবহণ ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম বারের মতো পারাদ্বীপ এবং দীনদয়াল বন্দর ১৫০ মিলিয়ন টনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা ভারতের পরিচালনগত পরিপক্বতাকেই তুলে ধরে।
তবে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল বাণিজ্য লজিস্টিকসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপর ব্যাপক নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও—পরিমাণের দিক থেকে ৯৫% এবং মূল্যের দিক থেকে ৭০% — বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় ১%-এর মতো সামান্যই রয়ে গিয়েছে এবং বিশ্বের মোট জাহাজের মাত্র ০.৮% ভারতের শিপিং রেজিস্ট্রির অধীনে রয়েছে। এই কৌশলগত ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত সরকার জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থায়ন প্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের লক্ষ্যে ৬৯,৭২৫ কোটি টাকার একটি কর্মসূচির সূচনা করেছে।
এই পদক্ষেপগুলি ৪.৫ মিলিয়ন গ্রস টন সক্ষমতা যোগ করবে এবং ৩ মিলিয়নেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সাগরমালার ২.০ সংস্করণ, যা ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাণ ও শিপিং দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টা। লক্ষ্যটি স্পষ্ট: আগামী দশকে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ ও মালিকানার অন্তত ১০% অংশীদারিত্ব অর্জন করা, ভারতকে বাহ্যিক দুর্বলতা থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক অর্থনীতিতে তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করা।
তবে সামুদ্রিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎকেও অবশ্যই স্থিতিশীল হতে হবে। কান্দলা, পারাদ্বীপ এবং তুতিকোরিনে সবুজ হাইড্রোজেন হাব বন্দর স্থাপনের ভারতের পরিকল্পনাটি কার্বনমুক্ত শিপিং এবং শিল্প বাস্তুতন্ত্রের লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ। এই হাবগুলি দেশের বিশাল পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দূষণহীন সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তি জোগাবে, সবুজ হাইড্রোজেন রফতানিকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন শিল্পগুচ্ছকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সামুদ্রিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎকেও অবশ্যই স্থিতিশীল হতে হবে। কান্দলা, পারাদ্বীপ এবং তুতিকোরিনে সবুজ হাইড্রোজেন হাব বন্দর স্থাপনের ভারতের পরিকল্পনাটি কার্বনমুক্ত শিপিং এবং শিল্প বাস্তুতন্ত্রের লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে সাগর সেতু এবং ন্যাশনাল লজিস্টিকস পোর্টাল-মেরিনের মতো ডিজিটাল মঞ্চগুলি একটি স্মার্ট বা ঝকঝকে, কাগজপত্রের ঝক্কিবিহীন এবং স্বচ্ছ বাস্তুতন্ত্রের লক্ষ্যে পরিবর্তনে সহায়তা করছে, যা রিয়েল-টাইম কার্গো ট্র্যাকিং এবং নিরবচ্ছিন্ন বৈশ্বিক সংহতিকে সম্ভব করে তুলছে।
ভারতের বন্দর-ভিত্তিক উন্নয়ন আর কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি এখন সহযোগিতামূলক প্রবৃদ্ধির একটি মডেলে পরিণত হচ্ছে। মহাসাগর কাঠামোটি নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে তুলে ধরে, যা সমমনস্ক দেশগুলিকে সম্মিলিত সামুদ্রিক স্থিতিস্থাপকতার দিকে আকৃষ্ট করে। ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর (আইএমইসি) থেকে শুরু করে চাবাহার বন্দর উদ্যোগ পর্যন্ত… নানাবিধ কৌশলগত করিডোরগুলিতে ভারতের অংশগ্রহণ দর্শায় যে, দেশটি কী ভাবে বৈশ্বিক সংযোগের ভূ-প্রকৃতিকে নতুন আকার দিচ্ছে।
সুতরাং, ভারতের সামুদ্রিক উত্থান কোনও একাকী যাত্রা নয়। এটি একটি সম্মিলিত আরোহণ। এটি সরবরাহ শৃঙ্খলকে নোঙর করে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে এবং অস্থির সময়ে বিশ্বকে নির্ভরযোগ্যতার একটি নতুন কেন্দ্র প্রদান করে। যখন সমুদ্র অনিশ্চয়তায় উত্তাল, তখন ভারতের দৃঢ় নেতৃত্ব নিশ্চিত করে যে, আরও অনেক দেশ আত্মবিশ্বাসের হাত ধরেই এগিয়ে যেতে পারবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দি ইকোনমিক টাইমস-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Samir Saran is the President of the Observer Research Foundation (ORF), India’s premier think tank, headquartered in New Delhi with affiliates in North America and ...
Read More +