-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিরোধ, নিরাপত্তা চাপ এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মিত্রদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক-সহ বিকল্পগুলি অন্বেষণ করতে বাধ্য করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তার পূর্বসূরির কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর ছ’মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, যা মার্কিন মিত্রদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিত্ররা বর্তমান প্রশাসনের অধীনে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে এবং আরও লেনদেনমূলক পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্যের উপর শুল্ক, নিরাপত্তা জোট, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাজধানীগুলিকে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির দিকে পরিচালিত করেছে। এই প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মিত্রদের আস্থা এবং এর নির্ভরযোগ্যতা ক্রমশ বিতর্কিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্পর্ক চাপের মধ্যে
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল তাঁর মানসিকতা থেকে সরে গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে, ট্রান্স-প্যাসিফিক সম্পর্ক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং পরিবর্তনশীল শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার দ্বারা আটকে গিয়েছে, যা এখনও বহাল রয়েছে। সমসাময়িক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি আঞ্চলিক মিত্রদের সময় নষ্ট করেছে, বাণিজ্য আলোচনার প্রাথমিক সমাপ্তি পিছিয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে নষ্ট করেছে।
সর্বোপরি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অ্যাজেন্ডা মিত্রদের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিবাসন, রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলি আরও গুরুতর বিরোধ তৈরি করেছে। ক্ষুদ্র ও বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রশাসনের অবজ্ঞা সম্পর্কের আরও টানাপড়েন তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করে, মিত্রদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা আরও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যা নির্ভরযোগ্যতা এবং আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। এটি অসাবধানতাবশত এই অঞ্চলে চিনের অবস্থানকে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসাবে উন্নত করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে, ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের কারণে ওয়াশিংটনের মিত্রদের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ক টানাপড়েনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোর (আইপিইএফ) মতো বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক কাঠামোর অবসান এই অঞ্চলে মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস করেছে। এই পদক্ষেপগুলি অসাবধানতাবশত অনেক মার্কিন মিত্রকে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেজিংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে, যা ঝুঁকিমুক্তির প্রবণতাকে বিপরীত করেছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই রকম চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, অস্বীকৃতি প্রতিরক্ষার উপর মনোনিবেশ (ধূসর অঞ্চলের পরিস্থিতি অতিক্রম করে), কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শন এবং তাইওয়ানের আকস্মিক পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করার দাবি করছে। প্রশাসনের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ পদ্ধতির অংশ হিসাবেই এমনটা ঘটছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে চিনের সঙ্গে তার লেনদেনের বিষয়ে প্রশাসনের দ্বিমুখী বক্তব্য। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পেন্টাগনের সর্বশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল চিনকে মোকাবিলা করার চেয়ে স্বদেশের হুমকির উপর বেশি মনোনিবেশ করেছে, মিত্রদের মার্কিন কৌশলগত উদ্দেশ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিস্মিত করেছে।
যদিও এই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে পরিবর্তিত ধারণাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছিল, তবুও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক সামগ্রিক সম্পর্ককে সুরক্ষিত করার জন্য একটি বলয় হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করে, মিত্রদের মধ্যে মার্কিন ধারণা আরও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যা নির্ভরযোগ্যতা এবং আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। এটি অসাবধানতাবশত এই অঞ্চলে চিনের অবস্থানকে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসাবে উন্নত করেছে।
বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ
বেসলাইন ছাড়াও দেশগুলিকে বিভিন্ন শুল্কের শিকার হতে হয়েছে। মিত্রদের কোনও সুরক্ষা বা স্পষ্টতা ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করার ট্রাম্পের দাবি তাদের একটি কঠিন অবস্থানে ফেলেছে। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, মুদ্রা বিনিময় ছাড়াই সিওলকে ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার জন্য ওয়াশিংটনের দাবি ১৯৯৭ সালের আর্থিক সঙ্কটের মতো পরিস্থিতির দিকে পরিচালিত করবে। একই ভাবে জাপানি কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ বিচক্ষণতার বিষয়ে মার্কিন দাবির বিরোধিতা করেছেন। আলোচনায় মিত্রদের চাপ দেওয়ার জন্য শুল্ক ব্যবহারমুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অতএব, একটি চুক্তিতে পৌঁছনো সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। অর্ধপরিবাহী এবং ওষুধ খাতের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মার্কিন মিত্রদের জন্য আর একটি উদ্বেগের কারণ, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ উগ্র-দক্ষিণপন্থী আন্দোলন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন (এমএজিএ) আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সংযোগের মুখে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মার্কিন মিত্রদের জন্য আর একটি উদ্বেগের কারণ, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ উগ্র-দক্ষিণপন্থী আন্দোলন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন (এমএজিএ) আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সংযোগের মুখে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান কেস স্টাডি হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে এমএজিএ আন্দোলনের প্রভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যাংলোস্ফিয়ারের বাইরে উগ্র-দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের এই বিস্তার সরাসরি অভিবাসন, লিঙ্গ অধিকার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলিকে ঘিরে এই দেশগুলিতে রাজনৈতিক আলোচনার উপর প্রভাব ফেলছে। এই আন্দোলনগুলি সরাসরি এই দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সমীকরণগুলিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে বিদ্যমান সরকারগুলির পক্ষে নীতিগত সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্বারা জর্জিয়ার একটি হুন্ডাই বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যাটারি প্ল্যান্টে নিযুক্ত ৩১৭ জন দক্ষিণ কোরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করা ট্রাম্পের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডার মধ্যে সংঘর্ষের একটি উদাহরণ। এটি ট্রাম্পের অ্যাজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করে, যা উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং যার ফলে হুন্ডাইয়ের ব্যাটারি উৎপাদন কমপক্ষে দু’মাস বিলম্বিত হয়।
এমএজিএ রাজনীতি এবং এর প্রভাব ছাড়াও গাজা এবং ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন অবস্থান ইন্দো-প্যাসিফিক মিত্রদের সঙ্গে আর একটি বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো দেশগুলি এখন দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং ইউক্রেনীয় নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র ভাবে ভিন্নমত পোষণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউক্রেন প্রসঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন কূটনৈতিক লেনদেন তার মিত্রদের সমর্থন উপভোগ করে না। এটি অনেক ইন্দো-প্যাসিফিক মিত্রকে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তাদের প্রত্যাশা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে, বিশেষ করে তাইওয়ানের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে। ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি একটি ‘ভয়ঙ্কর’ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন… এটি সেই পার্থক্যকেই দর্শায়।
অ্যাংলোস্ফিয়ারের বাইরে উগ্র-দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের এই বিস্তার সরাসরি অভিবাসন, লিঙ্গ অধিকার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলিকে ঘিরে এই দেশগুলিতে রাজনৈতিক আলোচনার উপর প্রভাব ফেলছে।
সর্বোপরি, এক দিকে আমরা আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন অঙ্গীকারকে নড়বড়ে অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, অন্য দিকে এই অঞ্চলের মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মিত্রদের তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করতে এবং তাইওয়ানের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে ভূমিকা পালনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে বলা হয়েছে, যা অনেককে অস্বস্তিতে ফেলেছে (সম্ভবত জাপান বাদে)। একই ভাবে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বিদেশনীতিও তার পূর্বসূরির নিরাপত্তা অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক থেকেছে। উদাহরণস্বরূপ, পেন্টাগনের অউকাস পর্যালোচনা সন্দেহবাদীদের উৎসাহিত করেছে এবং অস্ট্রেলিয়াকে চুক্তিটি পর্যালোচনা করার জন্য সতর্ক করেছে।
ক্রমবর্ধমান ভাবে এই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি মিত্রদের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ট্রাম্পের শত্রুতা মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, এই দেশগুলিতে মার্কিন বিরোধী কণ্ঠস্বর আরও জোরদার করেছে। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ট্রাম্পের ইচ্ছা এবং কল্পনা ওয়াশিংটনের দশকব্যাপী বিদেশনীতির অবস্থানকে বিপরীতমুখী করেছে। অতএব, যদি ট্রাম্প প্রশাসন মিত্রদের সঙ্গে তার লেনদেনমূলক এবং বৈরী সম্পর্ক অব্যাহত রাখে, তা হলে এটি মার্কিন বিরোধী মনোভাবকে আরও ইন্ধন জোগাতে ও সংহত করার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং একটি বৃহৎ শক্তি হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করবে।
অভিষেক শর্মা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Abhishek Sharma is a Junior Fellow with the ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the Indo-Pacific regional security and geopolitical developments with a ...
Read More +