Published on Dec 04, 2025 Updated 0 Hours ago

দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজ জেগে উঠছে: নেতৃত্বহীন, ডিজিটাল এবং প্রাচীন অভিজাতদের প্রতি অবাধ্য, অর্থনৈতিক হতাশা পদ্ধতিগত অবক্ষয়ের মধ্যে রাজনীতি পুনর্গঠন করছে

দক্ষিণ এশিয়ার যুব বিদ্রোহ: প্রবণতা, কারণ এবং প্রভাব

২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার আরাগালায়া, ২০২৪ সালের বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা এবং নেপালে সাম্প্রতিক জেন-জেড বিক্ষোভ এই সবই দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার উপর জোর দেয় যে, বসন্ত এসে গেছেএই বিক্ষোভগুলি এমন ঘটনা প্রদর্শন করে, যেখানে তরুণ প্রজন্ম বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রচার, উন্নত জীবন গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অভিযোগগুলি সমাধানের জন্য সরকারগুলিকে উৎখাত করছে। এটি প্রাচীন অভিজাত এবং ফাঁপা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি বৃহত্তর অসন্তোষকে তুলে ধরে। তবে, এই বসন্ত’/তরঙ্গের প্রভাব প্রত্যাশার চেয়েও তীব্র হতে পারে। অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অস্থিতিশীলতা এই অঞ্চলকে তাড়া করে বেড়াতে পারে।

প্রাচীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের দখল

স্বাধীনতার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি মূলত একই চিরাচরিত অভিজাতদের দ্বারা প্রভাবিত। উদাহরণস্বরূপ, দুটি দল - ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) এবং শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) ২০০০ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যখন অবশেষে তাদের জায়গায় আসেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে এবং তাঁর পরিবার আরও ১৫ বছর ধরে দেশ শাসন করেনবাংলাদেশে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া দুজনেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কন্যা - রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অন্য দিকে, গত দশকে নেপালে নেপালি কংগ্রেসের এসবি দেউবা, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) কেপি ওলি এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) প্রচণ্ডের মধ্যে সাতটিরও বেশি সরকার উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে।

নেপালে মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা অব্যাহত ছিল, যেখানে দল নেতারা সরকারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পেরে, নতুন সরকার গঠন এবং বিদ্যমান সরকারগুলিকে উৎখাত করার জন্য আলগা জোট গঠন করেছিল।

তৎকালীন সরকারগুলির ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজস্ব কৌশল ছিল। বর্ণবাদী রাজনীতি জাতিগত বিভাজন প্রায়শই শ্রীলঙ্কার সরকারগুলিকে সিংহলী জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল। বাংলাদেশে নির্বাচন প্রায়শই সহিংস এবং কারচুপির মধ্যে দিয়ে কেটেছেনেপালে মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা অব্যাহত ছিল, যেখানে দল নেতারা সরকারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পেরে, নতুন সরকার গঠন এবং বিদ্যমান সরকারগুলিকে উৎখাত করার জন্য আলগা জোট গঠন করেছিল। ক্ষমতার উপর এই দখল নতুন দল এবং সক্রিয় নাগরিকদের অংশগ্রহণের জন্য, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনও পরিসরই তৈরি করেনি।

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতমএর গড় বয়স ২৮ বছর এবং বিশ্বের মোট কিশোর-কিশোরীদের ৩০ শতাংশ। যুবসমাজ এই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রাজনীতি, চাকরির বাজার, অর্থনীতি এবং উন্নয়নের সুযোগগুলিতে তাঁদের অংশগ্রহণ এই অঞ্চলের দেশগুলির জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা বহন করে। ২০২৩ সালের হিসাব (দ্রষ্টব্য সারণি ১) অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার ২৯ শতাংশেরও বেশি এবং বাংলাদেশ ও নেপালের জনসংখ্যার ৩৬ শতাংশ ছিল তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক (১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি)এই দেশগুলির মোট কর্মীবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশও তাঁরা গঠন করে, শ্রীলঙ্কায় ৩৯ শতাংশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ এবং নেপালে ৪৭ শতাংশ। নিচে রেখচিত্র ১-এ এই দেশগুলির জনসংখ্যার বিস্তারিত বিভাজন দেখানো হয়েছে।

সারণি ১. শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের জনসংখ্যা

জনসংখ্যার পরিসংখ্যান

শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশ

নেপাল

মোট জনসংখ্যা মিলিয়নে

২৩

১৭১

২৯.

জনসংখ্যা (১৫-৩৪) মিলিয়নে

.

৬১.

১০.

মোট জনসংখ্যার বয়স (১৫-৩৪) (শতাংশে)

২৯.%

৩৫.%

৩৬%

বয়স (১৫-৩৪) মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার শতাংশ

৩৯.%

৪৫.%

৪৭%

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও); বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে লেখকদের সঙ্কলন

রেখচিত্র ১. শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের জনসংখ্যা (লক্ষে)

South Asia S Youth Uprisings Trends Causes And Implications

রেখচিত্র: ডব্লিউএইচও

অর্থনৈতিক অভিযোগ

তবুও এই তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা অব্যবহৃত রয়ে গিয়েছেপরবর্তী সরকারগুলি কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং যুবদের আকাঙ্ক্ষা আগ্রহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে না। প্রকৃতপক্ষে, নিচের সারণি ২ দেখায় যে, এই তিনটি দেশে যুব বেকারত্ব কী ভাবে সামগ্রিক বেকারত্বের চেয়ে উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি। যুব বেকারত্বের এই সঙ্কট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে নেপাল থেকে ৮.৬ মিলিয়নেরও বেশি, শ্রীলঙ্কা থেকে ৫.১ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশ থেকে ৪৮.৮ মিলিয়ন (০-১৪ বছর বয়সি) নিকট ভবিষ্যতে চাকরি অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজছেন (দ্রষ্টব্য রেখচিত্র ১)

সারণি ২. শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালে বেকারত্ব

দেশ

মোট বেকারত্বের হার

যুব বেকারত্বের হার

শ্রীলঙ্কা

%

২২.%

বাংলাদেশ

.%

১৬.%

নেপাল

১০.%

২০.%

উৎস: বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে লেখকদের সঙ্কলন

দুর্নীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতাও এই অসন্তোষকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। নিচের রেখচিত্র - ২০১৮ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের দুর্নীতির ধারণার ক্রমাঙ্ক তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কিছু ওঠানামা সত্ত্বেও তিনটি দেশই ১৮০টি দেশের মধ্যে ১০০-এর উপরে অবস্থান করছে, যা দুর্নীতির স্থায়ী প্রকৃতিকেই দর্শায়। পৃষ্ঠপোষকতা মানুষকে বিদ্যমান সুযোগগুলি কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে বাধা দিয়েছে — বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে, যেখানে সংশ্লিষ্ট অস্থিরতার আগে ক্ষমতাসীন দলের পরিবার, সমর্থক এবং ভোটারদের সরকারি চাকরি এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল। উভয় দেশই তহবিলের অপব্যবহার বিচ্যুতি পাশাপাশি বৃহৎ আকারের অস্বচ্ছ টেন্ডারিং এবং ক্রয় প্রক্রিয়াও প্রত্যক্ষ করেছে। বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে যুক্ত পুঁজিপতিরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে থাকে, যার ফলে অবশেষে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

রেখচিত্র ২. শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল সম্পর্কে দুর্নীতির ধারণা

South Asia S Youth Uprisings Trends Causes And Implications

সূত্র: স্বচ্ছতা দুর্নীতি সূচক (২০১৮-২০২৪) ব্যবহার করে লেখকদের সঙ্কলন

সর্বোপরি, তিনটি দেশই সরকারি চাকরির প্রতি সামাজিক পক্ষপাত মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে। বেসরকারি খাত এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। শিক্ষায় খুব একটা সংস্কার হয়নি এবং প্রয়োজনীয় অর্জিত দক্ষতার মধ্যে ব্যবধান – এবং একই সঙ্গে যুবসমাজের প্রত্যাশা উচ্চাকাঙ্ক্ষা - ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী জনপ্রিয় নীতিগুলি - যার মধ্যে তিনটি দেশেই সীমিত অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, শ্রীলঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিরোধ নেপালে অস্থিতিশীলতা - বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে মূলত ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণগুলি ব্যাপক ভাবে দেশত্যাগে অবদান রেখেছে গত তিন দশকে ৭০ লক্ষেরও বেশি নেপালি নাগরিক কাজের জন্য (ভারত বাদে) অন্যত্র পাড়ি জমান। সর্বোপরি, মাত্র ২০২২ (এখানে) এবং ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ শ্রীলঙ্কাবাসী কাজের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন।

ভাঙন এবং পরবর্তী ঘটনা

রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্র চাকরির সুযোগে তরুণ প্রজন্ম ক্রমবর্ধমান ভাবে উপেক্ষিত বোধ করায় এই দেশগুলি ভাঙনের প্রায় দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাতের ফলে সৃষ্ট বহিরাগত ধাক্কা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ-সহ অস্থিরতার জন্য ভূমিকে আরও উর্বর করে তুলেছিল। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে রাজাপক্ষের ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের (পড়ুন: আওয়ামী লীগ) জন্য চাকরির কোটা বৃদ্ধি এবং নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা অবশেষে কফিনে শেষ পেরেক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন দাবি করা, অভিজাত এবং সরকারগুলিকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা এবং উন্নত জীবনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করা।

এই তিনটি বিক্ষোভ একই রকম প্রবণতা প্রদর্শন করেছিল। নাগরিক সমাজ, ছাত্র, কর্মী এবং ট্রেড ইউনিয়ন দ্বারা পরিচালিত বিকেন্দ্রীভূত এবং নেতৃত্বহীন বিক্ষোভ। সামগ্রিক ভাবে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের অসন্তোষকে বোঝানোর জন্য বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক দলগুলি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন দাবি করা, অভিজাত এবং সরকারগুলিকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা এবং উন্নত জীবনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করা। তবুও সেগুলি সংস্কার বৃদ্ধির উপায় এবং দেশের ভবিষ্য দিকনির্দেশনা সম্পর্কে খুব কম স্পষ্টতা প্রদান করেছিল। জনতাকে একত্রিত করতে এবং সরকারবিরোধী অভিজাতদের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রচার করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার/অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিতু সরকারগুলি সহিংসতা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা আরও সহানুভূতি অর্জন করেছিল এবং ক্ষুব্ধ জনতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় অফিস পুড়িয়ে দেয়, রাজনৈতিক দলের নেতাদের আক্রমণ করে এবং সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।

সরকার দুর্বল হয়ে পড়ার দরুন একটি শূন্যতা তৈরি হওয়া সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলগুলি বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে, বাগাড়ম্বরে ভাগ বসায় এবং তাদের মূলধারার (কখনও কখনও প্রান্তিক) রাজনীতি আদর্শের বৈধতা খোঁজে। শ্রীলঙ্কায় বর্তমান ক্ষমতাসীন এবং একসময়ের মার্কসবাদী জঙ্গি সংগঠন - জনতা বিমুক্তি পেরামুনা-সহ (জেভিপি) বামপন্থী উপাদানগুলি আরাগালায় জড়িত ছিল বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে বাংলাদেশ জাতীয় দল (বিএনপি) জামাত--ইসলামী (জেইআই) এবং নেপালে রাজতন্ত্রপন্থী উপাদানগুলির কাছ থেকে একই রকম অনুপ্রবেশ দৃশ্যমান ছিল।

প্রকৃতপক্ষে, শ্রীলঙ্কায় জেভিপি-নেতৃত্বাধীন বাম জোটের রাষ্ট্রপতি অনুরা দিসানায়েকে নিজেকে অভিজাত-অধ্যুষিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরের ব্যক্তি হিসাবে চিত্রিত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। সংস্কার আনার জন্য জনগণের মতাদেশ উপভোগ করার সময় প্রতিশোধের রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ ব্যাপক ভাবে রয়ে গিয়েছেবাংলাদেশে আরও বিরক্তিকর পরিণতি দেখা গিয়েছেসংসদ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলি সামান্য ঐমত্য বৈধতা সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থক, নেতা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে জেইআই-সমর্থিত একটি সংস্থার সাম্প্রতিক জয় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতাকেও তুলে ধরেছে, যেখানে কট্টরপন্থীরা রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করছে। অবশেষে নেপালে সংসদ ভেঙে দেওয়ায় সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিকে।

সংসদ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলি সামান্য ঐমত্য বৈধতা সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বোপরি, তিনটি দেশের সেনাবাহিনীই এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালানোর সময় অত্যন্ত সংযম প্রদর্শন করেছে এবং নেতাদের পদত্যাগ করতে রাজি করিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে রক্তপাত এড়িয়ে গিয়েছে। সুসংবাদ হল, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে তাঁদের আগ্রহ কম; তবুও প্রতিষ্ঠানটি আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ক্ষমতায়িত রয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং নেপালে, যেখানে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিক ভাবে, এই অঞ্চলের নতুন সরকারগুলির এখন সংস্কার প্রচার এবং উন্নত জীবন ও শাসন ব্যবস্থা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। যদিও বিক্ষোভগুলি প্রাচীন রাজনীতিবিদ তাঁদের ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে গণতন্ত্র এবং জীবনযাত্রার মান সমৃদ্ধ করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, তবে রাজনৈতিক শূন্যতা অনির্বাচিত নেতা এবং মূলধারার নয় এমন দল মতাদর্শ দ্বারা পূরণ করা হচ্ছে। মূলত, এই অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বসন্ত তাই যে কোনও একটি দিকে তরতরিয়ে এগিয়ে যেতে পারে হয় এটি গণতন্ত্র সমৃদ্ধির হাত ধরে ত্বরান্বিত হতে পারে অথবা অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, সহিংসতা গণতন্ত্রের ক্ষয়ের নতুন তরঙ্গে পরিণত হতে পারে।

 


আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.