Published on Dec 01, 2025 Updated 1 Hours ago

কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলি যুব হতাশায় ফুঁসছে গর নীতিতে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে না হলে এই অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলিতে সঙ্কটের ঝুঁকি নিতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুব্ধ রাজধানী: নগরনীতি প্রণয়নে যুব অন্তর্ভুক্তি জরুরি

নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতা আবারও দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলিতে যুব অসন্তোষের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতাকে তুলে ধরে। কাঠমান্ডুতে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং সরকারের পদত্যাগের দিকে পরিচালিত হয়। এটি ২০২৪ সালে ঢাকায় আগের আন্দোলনের অনুসরণ করে, যেখানে কয়েক সপ্তাহের ছাত্র ও শ্রমিক বিক্ষোভ শহরটিকে অচল করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। বাংলাদেশ পর্বের দুবছর আগে, কলম্বোও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর নগর বিদ্রোহগুলির একটি প্রত্যক্ষ করেছিল কারণ ল ফেস গ্রিন বিক্ষোভ রাজাপক্ষের শাসনের পতনে সরাসরি অবদান রেখেছিল।

এই ঘটনাগুলির বেশির ভাগ ভাষ্য বোধগম্য ভাবে তাৎক্ষণিক কারণগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে - দুর্নীতি, মুদ্রাস্ফীতি, শাসন ব্যর্থতা এবং অভিজাতদের দায়মুক্তি। যদিও এগুলি আনুমানিক কারণ আরও গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানটি গভীর কাঠামোগত অবস্থার মধ্যে নিহিত: যুবসমাজ, সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং দ্রুত নগরায়ণের অসম প্রভাব।

নাগরিক অস্থিরতার নেপথ্যে কাঠামোগত চালিকাশক্তি

শহুরে যুব বেকারত্ব একটি মূল বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউএন)-হ্যাবিট্যাটের শহুরে যুব রাজ্য প্রতিবেদন (২০১২) উল্লেখ করেছে যে, উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা তরুণদের বয়স্কদের তুলনায় সহিংস বা অস্থিতিশীল কার্যকলাপে আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি আরও অনুমান করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শহুরে জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি ১৮ বছরের কম বয়সি হবে। ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্ট ২০২২-সহ পরবর্তী প্রতিবেদনগুলিতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, শহুরে অর্থনীতিতে যুবদের একীভূত করতে ব্যর্থতা সামাজিক সংহতি এবং স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব কেবল একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উদ্বেগগুলির অন্যতম

শ্রীলঙ্কার নগর জনসংখ্যার অর্ধেক কলম্বো মহানগর অঞ্চলে বাস করে এবং অন্য দিকে বাংলাদেশের নগর বাসিন্দাদের এক-তৃতীয়াংশ ঢাকায় বাস করে

দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চিত্র এই ঝুঁকির কথা তুলে ধরে। নেপালে জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। শ্রীলঙ্কায় এই সংখ্যা ১৯ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে এটি ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই জনসংখ্যা তাদের দেশের প্রধান মহানগর অঞ্চলে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে কেন্দ্রীভূত। কাঠমান্ডু উপত্যকায় নেপালের নগর জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি বাস করে। শ্রীলঙ্কার নগর জনসংখ্যার অর্ধেক কলম্বো মহানগর অঞ্চলে বাস করে এবং অন্য দিকে বাংলাদেশের নগর বাসিন্দাদের এক-তৃতীয়াংশ ঢাকায় বাস করেএগুলি অতি প্রধান শহর, তাদের আয়তনের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে। যখন অস্থিরতা শিকড় গেড়ে বসে, তখন এটি জাতীয় পর্যায়ে  প্রতিধ্বনিত হয়।

গুণক হিসেবে নাগরিক পরিস্থিতি

এই রাজধানীর নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অভিযোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কাঠমান্ডু যানজট, অপ্রতুল আবাসন অবকাঠামো এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুঝছে। ঢাকা শিল্প জেলাগুলিতে অনিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি অপ্রতুল ছাত্র আবাসন এবং অতিরিক্ত পরিষেবার ঘাটতি বিদ্যমানঅর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধের ঘাটতির মধ্যে কলম্বোর মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবিকা ধ্বংস প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল

নগর পরিবেশ বৈষম্যকে দৃশ্যমান করে তোলে। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট এবং অনিশ্চিত জীবিকার সংমিশ্রণ ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিবিড় জনসংখ্যা জনসমাগমকে সক্ষম করে, অন্য দিকে ডিজিটাল মঞ্চগুলি দ্রুত সমন্বয় সাধন করে। সিংহ দরবার, শাহবাগ স্কোয়্যা, ল ফেস গ্রিন - প্রতীকী নগর স্থানগুলি এমন এক মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে যুবসমাজের ভিন্নমত প্রতীকী শক্তি অর্জন করে। শহরগুলি কেবল অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসাবেই নয়, বরং প্রতিবাদের ভরকেন্দ্র হিসাবেও কাজ করে।

আঞ্চলিক শিক্ষা এবং তাৎপর্য

এই গতিশীলতার বিস্তৃত অনুরণন রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম তরুণ অঞ্চল এবং এর শহরগুলি অভূতপূর্ব হারে প্রসারিত হচ্ছে। যুব-নেতৃত্বাধীন নগর অস্থিরতার রাজনৈতিক প্রভাব নেপাল, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। পরিবর্তে, এই পর্বগুলিকে ভারত-সহ এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের প্রাথমিক সূচক হিসাবে দেখা উচিত। রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ভবিষ্য সম্পর্কে অভিন্ন সাধারণ উদ্বেগের কারণে যুবসমাজ অস্থিরতা  এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ।

বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার দেশ ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক এবং কাঠামোগত সুরক্ষা রয়েছে। এর আকার, বৈচিত্র্য, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক ভাবে গভীর গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য শহুরে প্রতিবাদের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় প্রদান করে। তবুও, দ্রুত জনসংখ্যাগত শহুরে রূপান্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত চাপ থেকে ভারত মুক্ত নয়।

যুব-নেতৃত্বাধীন নগর অস্থিরতার রাজনৈতিক প্রভাব নেপাল, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম।

রাষ্ট্রপুঞ্জের অনুমান অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের নগর জনসংখ্যা ৩২৮ মিলিয়ন বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে - যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এই পরিবর্তনের মাত্রা খুব কমই নজিরবিহীন। একই সঙ্গে ভারতে যুব সম্প্রদায়ের একটি বিশাল সংখ্যা রয়েছে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের ইয়ুথ ইন ইন্ডিয়া ২০২২ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালে ১৫-২৯ বছর বয়সি তরুণরা ভারতের জনসংখ্যার ২৭.২ শতাংশ ছিল। ২০৩৬ সালের মধ্যে এই অংশ ২২.৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হলেও সংখ্যাটি প্রায় ৩৪৫ মিলিয়নে উল্লেখযোগ্য থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই যুব জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শহরাঞ্চলে থাকবে। অতএব, দ্রুত নগরায়ণ একটি বিশাল, অস্থির যুব সম্প্রদায়ের সংযোগস্থল সুযোগ ঝুঁকি উভয়ই উপস্থাপন করে: শহরগুলি উদ্ভাবন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করতে পারে, কিন্তু তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এবং হতাশার প্রতি সাড়া দেয় এমন শাসন ব্যবস্থা ছাড়া, সেগুলি সহজেই দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষের আখড়া হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এই দুর্বলতাগুলিকে চিত্রিত করে। ২০২৪ সালের গস্ট মাসে এক তরুণী ডাক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার পর কলকাতায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন মিছিল দেখিয়েছিল যে, নাগরিক সমাজকে কতটা দ্রুত সংগঠিত করতে পারে। বেঙ্গালুরুতে যানজট অবনতিশীল অবকাঠামোর উপর হতাশা নিয়মিত ডিজিটাল মঞ্চে উঠে আসে, মাঝে মাঝে প্রতিবাদেও তা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই ঘটনাগুলি সরকারকে অস্থিতিশীল করেনি, তবে কাঠামোগত সমস্যাগুলি সমাধান না হলে তা অস্থিরতার সুপ্ত সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

নগর স্থিতিস্থাপকতার জন্য নীতিগত অগ্রাধিকার

দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্থান-পতন থেকে শিক্ষা স্পষ্ট: নগর শাসনে যুব সমস্যাগুলিকে গৌণ উদ্বেগ হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি তিনটি বিস্তৃত অগ্রাধিকারকে আলোকিত করে।

প্রথমত, যুব-কেন্দ্রিক নগর অর্থনৈতিক নীতি। অনিশ্চিত অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বাইরে সুযোগ সম্প্রসারণ অপরিহার্য। তরুণদের সবুজ শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সৃজনশীল ক্ষেত্রে কাঠামোগত প্রবেশপথ প্রয়োজন। এর জন্য নগর পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্যবস্তু উদ্যোক্তা সহায়তা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। যুব অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই একটি মূলধারার নগর নীতি লক্ষ্যে পরিণত হতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা প্রদান করে: কলম্বিয়ার একটি শহর মেডেলিন - যা একসময় দলবদ্ধ সহিংসতার দ্বারা চিহ্নিত ছিল ইচ্ছাকৃত ভাবে তার যুবসমাজে বিনিয়োগ করে তার নগর পথ পরিবর্তন করেছে। এটি দরিদ্র এলাকাগুলিতে লাইব্রেরি পার্ক ডিজিটাল উদ্ভাবনী কেন্দ্র তৈরি করেছে, যাতে তরুণদের সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। রুটা এন (একটি উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা কেন্দ্র) এবং মেডেলিন ডিজিটাল উদ্যোগের মতো কর্মসূচিগুলি প্রযুক্তি এবং সৃজনশীল শিল্পে পথ তৈরি করেছে।

কোনও শহর যদি বন্যা সহ্য করতে সক্ষম হয় কিন্তু অসন্তুষ্ট নাগরিকদের নিন্দার মুখে ভেঙে পড়ে, তা হলে তাকে স্থিতিস্থাপক হিসাবে বিবেচনা করা যায় না।

দ্বিতীয়ত, নগর স্থিতিস্থাপকতার পরিধি সম্প্রসারণ করা। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান নগর নীতি কাঠামো পরিবেশগত এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত ধাক্কার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতার উপর জোর দিয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়। প্রকৃত নগর স্থিতিস্থাপকতার জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মাত্রাও প্রয়োজন: বৈষম্য হ্রাস করা, যুব বেকারত্ব মোকাবিলা করা এবং নাগরিক অস্থিরতা প্রতিরোধ করা। কোনও শহর যদি বন্যা সহ্য করতে সক্ষম হয় কিন্তু অসন্তুষ্ট নাগরিকদের নিন্দার মুখে ভেঙে পড়ে, তা হলে তাকে স্থিতিস্থাপক হিসাবে বিবেচনা করা যায় না।  স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনায় যুব-কেন্দ্রিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা নিশ্চিত করবে যে, শহরগুলি কেবল পরিবেশগত নয়, বরং সামাজিক-রাজনৈতিক চাপও সহ্য করতে পারে। রকফেলার ফাউন্ডেশনের ১০০ স্থিতিস্থাপক শহর উদ্যোগের অধীনে তৈরি কেপ টাউনের স্থিতিস্থাপকতা কৌশল একটি কার্যকর উদাহরণ প্রদান করে। যুব বেকারত্ব সামাজিক দুর্বলতাকে তার স্থিতিস্থাপকতা কর্মসূচিতে একীভূত করে শহরটি দরিদ্র অঞ্চলগুলিতে চাকরি-প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ, সম্প্রদায় সুরক্ষা কর্মসূচি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ মঞ্চ চালু করেছে। এই বিস্তৃত পদ্ধতিটি দর্শায় যে, স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনায় যুব-কেন্দ্রিক উদ্যোগগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা কী ভাবে শহরগুলিকে কেবল পরিবেশগত ধাক্কাই নয়, বরং সামাজিক-রাজনৈতিক চাপও সহ্য করতে সহায়তা করতে পারে।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, অংশগ্রহণমূলক নগর শাসন বৈধতা বৃদ্ধি করে এবং বিচ্ছিন্নতা হ্রাস করে। সরকারকে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের জন্য অর্থবহ শৃঙ্খল তৈরি করতে হবে - কেবল নির্বাচনের মাধ্যমেই নয়, দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থায়ও। নগর স্থানীয় সংস্থাগুলিকে ওয়ার্ড কমিটিপ্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করে এবং যুবদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবস্থা করে এটি অর্জন করা যেতে পারে। ওয়ার্ড কমিটি হল পৌরসভা সরকারের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সভাপতিত্বে গঠিত পাড়ার সমাবেশ, যা নাগরিকদের আরও ভাল ভাবে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম করে। এটি একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে এবং তাদের প্রতিনিধিদের জবাবদিহি করতে দেয়। এই ধরনের চতুর্থ স্তরের শাসন সংস্থা স্থাপনের বিধান - বিশেষ করে তিন লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহরগুলিতে - ৭৪তম সংবিধান সংশোধনী আইনের (১৯৯২) ২৪৩এস ধারার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রাজ্যের পৌর আইনের অধীনে বিদ্যমান। তবে কেরল, বেঙ্গালুরু এবং আংশিক ভাবে চেন্নাই ছাড়া - যেখানে একটি কমিটি একাধিক ওয়ার্ডকে পরিবেশন করে - এটি এখনও জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি। এটি অবশ্যই পরিবর্তনের দাবি রাখে। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে সঠিক ভাবে কার্যকরী ওয়ার্ড কমিটিগুলি নগর যুবসমাজের জন্য কার্যকর মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে, যাতে তারা দৈনন্দিন নগর শাসনে তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা হ্রাস করতে পারে।

অসন্তুষ্ট যুবরা কোনও প্রান্তিক নির্বাচনী এলাকা নয়; তারা শাসন, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে।

আমাদের সময়ের একটি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

কাঠমান্ডু, ঢাকা কলম্বোর ঘটনাগুলি দেখায় যে, নগর কেন্দ্রগুলিতে যুবদের অসন্তোষ কত দ্রুত জাতীয় রাজনৈতিক সঙ্কটে পরিণত হতে পারে। প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলেও অন্তর্নিহিত কাঠামোগত ধরটি সামঞ্জস্যপূর্ণ: বৃহৎ যুব দল, সীমিত সুযোগ এবং ঘনীভূত নগর আধিপত্য একত্রিত হয়ে অস্থিরতা তৈরি করে।

দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কতাটি স্পষ্ট। অসন্তুষ্ট যুবরা কোনও প্রান্তিক নির্বাচনী এলাকা নয়; তারা শাসন, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে। শহরগুলিকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসাবেই নয়, বরং এমন পরিসর হিসাবেও দেখা উচিত, যেখানে সামাজিক চুক্তিগুলি ক্রমাগত পরীক্ষিত হয়। যদি না সরকারগুলি তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুবদের একীভূত করে, তা হলে বহুল আলোচিত জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ একটি জনসংখ্যাগত বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 


তথাগত চ্যাটার্জি ভুবনেশ্বরের এক্সআইএম ইউনিভার্সিটির আরবান ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের অধ্যাপক।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.