Author : Lavanya Mani

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 23, 2026 Updated 0 Hours ago

স্মার্ট ক্লাইমেট গভর্নেন্স স্থাপন করা প্রয়োজন, যা জলবায়ু অর্থায়নের ঝুঁকি কমাতে, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা উন্মুক্ত করতে এবং মাত্রাযোগ্য সমাধান প্রদানের জন্য প্রণোদনা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে একত্রিত করে।

স্মার্ট ক্লাইমেট গভর্নেন্স: ‘গরম-ঠান্ডা’ পদ্ধতির ঊর্ধ্বে

জাতীয় ভাবে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতির (এনডিসি) উপর ভিত্তি করে বর্তমান প্যারিস চুক্তির জলবায়ু শাসন মডেল ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন মাত্র ১৫ শতাংশ কমাতে পারবে, যা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৫-৬০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের বিষয়ে কপ২৯-এর লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও, এমন বেশ কয়েকটি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা কেবল প্রতিশ্রুতি ঘোষণার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য স্মার্ট সিস্টেমের পরিকল্পনা করাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে আবার বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহারের মতো রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং যা ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬ শতাংশ। ‘গরম-ঠান্ডা’ পদ্ধতির (হট অ্যান্ড কোল্ড অ্যাপ্রোচ) ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য জলবায়ু শাসনকে কী ভাবে স্মার্ট মোড়কে পুনর্গঠন করা যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করার সময় এ বার এসেছে।

আবার বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহারের মতো রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং যা ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬ শতাংশ।

ইউএনএফসিসিসি এবং প্যারিস চুক্তির কাঠামো কেন ব্যর্থ হয়েছে?

মূল সমস্যাগুলি হল – কার্বনমুক্তকরণের বৈজ্ঞানিক ভুল বোঝাবুঝি, এই কাঠামোর নকশায় সমন্বিত ব্যবস্থা সংক্রান্ত চিন্তাভাবনার অভাব এবং এর ভিত্তি তৈরির অনুমান, কী ভাবে কার্বনমুক্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য দেশগুলিকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং জলবায়ু শাসন মঞ্চগুলিতে প্রাসঙ্গিক শক্তিগুলির অসম প্রতিনিধিত্ব।

জাতীয় ভাবে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলি একটি কাঠামোগত ত্রুটিকেই দর্শায়

এনডিসিগুলিকে নিচের স্তর থেকে উপরের স্তর পর্যন্ত একটি পদ্ধতি (বটম আপ অ্যাপ্রোচ) হিসেবে চালু করা হয়েছিল – যা কিয়োতো প্রোটোকলের উপরে থেকে নিচের স্তরের পদ্ধতির (টপ ডাউন অ্যাপ্রোচ) ঠিক উলটো। আশা করা হয়েছিল যে, এটি আরও বেশি পরিমাণ জলবায়ু অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে। এটি সেই সময়ে সম্ভব একমাত্র রাজনৈতিক ঐকমত্যও ছিল। তবে তাদের বিবেচনামূলক প্রকৃতি, বাধ্যতামূলক সীমাবদ্ধতা এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির বিশ্বব্যাপী সাধারণ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্নিহিত অসুবিধার কারণে, কাঠামোগত ভাবে এনডিসিগুলির ভুল পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এনডিসিগুলি পদ্ধতিগত ভাবে কার্বনমুক্তকরণকে উৎসাহিত করে না। উদাহরণস্বরূপ, প্যারিস চুক্তির ধারা ৬.২-এর অধীনে কার্বন ক্রেডিট সিস্টেম এবং নবায়নযোগ্য এনার্জি সার্টিফিকেট ক্রয়, দেশগুলিকে অফসেটের উপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করে, যা প্রকৃত কার্বন হ্রাসের দিকে পরিচালিত করে না। এনডিসিগুলি আসলে পুরো শক্তি গ্রিড সিস্টেমকে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে ক্ষেত্রভিত্তিক ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বনমুক্তকরণকে উৎসাহিত করে, যা একটি দেশের জন্য সর্বোত্তম নেট-জিরো পথ হবে। সর্বোপরি, প্যারিস চুক্তির ধারা ৪.২-এর অধীনে পাঁচ বছরের র‍্যাচেট প্রক্রিয়া-সহ (প্রগতিশীল জলবায়ু প্রতিশ্রুতি) এনডিসিগুলি মজুতের (সঞ্চিত কার্বন) পরিবর্তে প্রবাহের (কার্বন নির্গমন) উপর মনোনিবেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও দেশ ১০ টন কার্বন (প্রবাহ) নির্গমন করে, কিন্তু ১০ টন ‘অ্যাভয়েডেড ডিফরেস্টেশন’-এর জন্য ক্রেডিট কেনে, তবে তারা কাগজ-কলমে ‘নেট জিরো’ দাবি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বায়ুমণ্ডলে মজুত ১০ টন বৃদ্ধিই পাবে। এই র‍্যাচেট পদ্ধতি (প্রকৃত কার্বন হ্রাস ছাড়াই) সময়গত সংঘাত তৈরি করে, পাঁচ বছরের নীতি চক্রকে শক্তিশালী করে এবং দেশটি জলবায়ু লক্ষ্য নয়, কেবল সংখ্যাজনিত লক্ষ্য পূরণ করা সত্ত্বেও নেট শূন্যের দিকে অগ্রগতির বিভ্রম তৈরি করে।

এনডিসিগুলি আসলে পুরো শক্তি গ্রিড সিস্টেমকে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে ক্ষেত্রভিত্তিক ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বনমুক্তকরণকে উৎসাহিত করে, যা একটি দেশের জন্য সর্বোত্তম নেট-জিরো পথ হবে। সর্বোপরি, প্যারিস চুক্তির ধারা ৪.২-এর অধীনে পাঁচ বছরের র‍্যাচেট প্রক্রিয়া-সহ (প্রগতিশীল জলবায়ু প্রতিশ্রুতি) এনডিসিগুলি মজুতের (সঞ্চিত কার্বন) পরিবর্তে প্রবাহের (কার্বন নির্গমন) উপর মনোনিবেশ করে।

প্যারিস চুক্তির ধারণার সময় আশা করা হয়েছিল যে, প্রবাহ হ্রাস কার্বন ঘনত্বের বক্ররেখাকে নিম্নমুখী করবে। দশ বছর পরে তা ঘটেনি। কপ থেকে উদ্ভূত ফলাফলগুলি কেবল ঘোষণাই দর্শায় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থার অভাবকে স্পষ্ট করেছে, বিশেষ করে যেখানে কোনও সংশ্লিষ্ট দেশীয় আইন নেই।

পার্শ্বিক ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় বাজার সংক্রান্ত ব্যর্থতাকে চালিত করেছে

জলবায়ু অর্থায়নে স্থায়ী ব্যবধান বলতে মূলত একটি গভীর কাঠামোগত অসঙ্গতির কারণে বাজার ব্যর্থতাকে দর্শানো যায়, যেখানে প্রযুক্তিগত ভাবে কার্যকর জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পগুলি পুরনো আর্থিক পরামিতি দ্বারা অবরুদ্ধ। ক্রয়-পার্শ্বের (মূলধন বরাদ্দ) একটি প্রাথমিক সমস্যা হল যে লাভের অঙ্ক চিরাচরিত ঝুঁকি-সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে মূল্যায়ন করা হয়, যা লাভ-ক্ষতির অ্যাকাউন্ট এবং প্রক্ষেপিত নগদ প্রবাহ থেকে জলবায়ু বহিরাগত প্রসঙ্গ ও প্রত্যাশিত জলবায়ু প্রভাবকে খারিজ করে। এটি ডিকার্বনাইজেশনকে আর্থিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করে, যখন জীবাশ্ম জ্বালানি বিনিয়োগের জন্য অভ্যন্তরীণ লাভের হার (আইআরআর) দূষণহীন শক্তি বিনিয়োগের তুলনায় অতিরঞ্জিত। এই ব্যবধানের কারণে ব্যক্তিগত মূলধন জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে প্রবাহিত হতে থাকে, যা আর্থিক ভাবে আরও আকর্ষণীয় বলে মনে করা হয়। শুধুমাত্র ইএসজি প্রকাশ বিনিয়োগ আচরণে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে না; বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনার সামঞ্জস্যের জন্য নগদ প্রবাহ ও মূল্য নির্ধারণের উপরেও প্রভাব ফেলতে হবে।

উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির (ইএমডিই) ক্ষেত্রে দ্রুত প্রবৃদ্ধি, পরিচালনাযোগ্য ঋণ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক মৌলিক নীতি সত্ত্বেও, ঋণ খরচ প্রায়শই উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি হয়।

বিক্রয়ের দিক থেকে (মূলধন সরবরাহ এবং ঝুঁকি মূল্য নির্ধারণ) দেখলে, এই সমস্যাটি পক্ষপাতদুষ্ট সার্বভৌম ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ঋণ স্থায়িত্ব কাঠামোর দ্বারা আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য ঋণ খরচ বাড়িয়ে দেয়। উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির (ইএমডিই) ক্ষেত্রে দ্রুত প্রবৃদ্ধি, পরিচালনাযোগ্য ঋণ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক মৌলিক নীতি সত্ত্বেও, ঋণ খরচ প্রায়শই উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি হয়। এই কাঠামোগুলি স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি ঋণ ও তারল্য সূচকের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং এর উৎপাদনশীল ব্যবহার নির্বিশেষে, অতিরিক্ত ঋণকে একটি আর্থিক ঝুঁকি বলে বিবেচনা করে। এগুলি জলবায়ু বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা, স্থিতিস্থাপকতা এবং রাজস্ব-উৎপাদনকারী সম্ভাবনার জন্য সম্পূর্ণ রূপে হিসেব করতে ব্যর্থ হয় (এবং প্রয়োজনীয় অগ্রিম মূলধনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে)। ফলস্বরূপ, ইএমডিই-র উপর প্রতিকূল অর্থায়নের শর্তাবলি, উচ্চ ছাড়ের হার, স্বল্পমেয়াদি মেয়াদ এবং পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি আরোপ করা হয়। এটি এমনকি ‘যুক্তিসঙ্গত’ প্রকৌশল প্রকল্পগুলিকে - যেমন কম-কার্বন গ্রিডগুলিকে - আর্থিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে। কারণ জলবায়ু অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি ছাড়মূলক কাঠামোর পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয়। এমনকি ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলিও (এসআইডিএস) একই ধরনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার শিকার।

এর পাশাপাশি জলবায়ু (এবং ঋণ) শাসন সংক্রান্ত মঞ্চগুলি দ্বিধাবিভক্ত (ইউএনএফসিসিসি, জি২০, এমডিবি ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংস্থা ইত্যাদি), যা দেশগুলির জন্য অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি করে। গ্লোবাল নর্থ আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণের পরিবর্তে শক্তিশালী এনডিসি প্রত্যাশা করার ফলে কেবল চিন থেকে দ্বিপাক্ষিক ঋণ, বিভিন্ন ধরনের এসডিআর ইত্যাদির মতো অ-প্রথাগত অর্থায়নের আরও বৃদ্ধি ঘটবে। কারণ তারা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগগুলি প্রদান করে।

জলবায়ু নিষ্ক্রিয়তা মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থতার পরিবর্তে বাস্তবায়ন ব্যর্থতাকে দর্শায়।

এনডিসির নকশায় সর্বনিম্ন সাধারণ হর উচ্চাকাঙ্ক্ষা চক্রকে পারস্পরিক ভাবে শক্তিশালী করার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, উচ্চাকাঙ্ক্ষা মূলত দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিপক্বতা (সৌর পিভি, বায়ু, ব্যাটারি স্টোরেজ) এবং ডিকার্বনাইজেশন পথগুলি প্রায় প্রতিটি প্রধান ক্ষেত্রের জন্য কার্যকর হয়ে ওঠার কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দূষণহীন শক্তিকে নতুন শক্তি উৎপাদনের সবচেয়ে সস্তা এবং বাণিজ্যিক ভাবে আকর্ষণীয় রূপগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত করেছে। এ ভাবে অনুভূত বাণিজ্যের ধারণা আটকে থাকা ব্যবস্থা এবং নিষ্ক্রিয় ভোক্তাদের অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণিত করে। ফলস্বরূপ, প্রাকৃতিক বাজার সাযুজ্যপূর্ণ হওয়া উচিত ছিল। কারণ এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলি ‘ভাল বিনিয়োগ’কে প্রতিনিধিত্ব করে, বিশেষ করে উদীয়মান বাজারগুলিতে। তবুও, বাজার বিভাজন ও ভুল ভাবে প্রণোদনার কারণে এটি সবচেয়ে বড় বাজার ব্যর্থতার মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু নিষ্ক্রিয়তা মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থতার পরিবর্তে বাস্তবায়ন ব্যর্থতাকে দর্শায়। দেশগুলি বারবার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করলেও এটিকে মাত্রাযোগ্য এবং পূর্বাভাসযোগ্য অর্থায়নে পরিণত করার জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া বিদ্যমান নেই।

জলবায়ু শাসন পুনর্নবীকরণের জন্য পরামর্শ

একটি বৈজ্ঞানিক সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা:

  • এনডিসি-র কেন্দ্রিকতার প্রতিস্থাপন: প্যারিস চুক্তির ৪.১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে পাঁচ বছরের এনডিসি চক্রকে দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন নির্গমন উন্নয়ন পরিস্থিতি (এলটি-এলইডিএস) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা দরকার। এগুলি কেবলমাত্র ক্ষেত্রভিত্তিক নির্গমন লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে অর্থনীতি-ব্যাপী প্রযুক্তিগত মডেলিংকে বিবেচনা করে এমন দেশগুলির জন্য ৩০-৫০ বছরের বিনিয়োগমূলক পথনির্দেশিকা হওয়া উচিত। 

  • ‘প্রবাহ’ থেকে ‘স্টক’-এর পদ্ধতি পরিবর্তন করা: জলবায়ু শাসনকে কেবল বার্ষিক নির্গমন ‘প্রবাহ’র (যা অফসেট করার অনুমতি দেয়) উপর মনোনিবেশ করা বন্ধ করতে হবে এবং পরিবর্তে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (সিডিআর) প্রক্রিয়ার জন্য প্যারিস চুক্তিতে একটি কাঠামোগত পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসের মোট বায়ুমণ্ডলীয় ‘স্টক’ (কারণ এটিই তাপমাত্রা বৃদ্ধি নির্ধারণ করে) মোকাবিলা করার উপর মনোনিবেশ করতে হবে। বর্তমানে প্যারিস চুক্তিতে কার্বন নিষ্কাশনের বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

  • শাসনব্যবস্থার সরলীকরণ এবং সমন্বয় সাধন: স্বল্পোন্নত দেশগুলি (এলডিসিএস) এবং এসআইডিএস-এর সময়োপযোগী প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সবুজ জলবায়ু তহবিল এবং আরইডিডি+-এর মতো বর্তমান প্রক্রিয়াগুলিতে চরম জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা হ্রাস করা দরকার। জলবায়ু ও ঋণ সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনিক ফোরাম এবং প্রতিষ্ঠানগুলির (ইউএনএফসিসিসি, জি২০, এমডিবি ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংস্থা ইত্যাদি) আরও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।

  • বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার করা: বেসরকারি খাতের জলবায়ু প্রভাব অসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমনের ৭০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে সমর্থন করার জন্য বেসরকারি মূলধনের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও জলবায়ু আলোচনায় তাদের নিজস্ব নেতৃত্বের পরিবর্তে সরকারি খাতের আমলারা প্রতিনিধিত্ব করেন। আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগের জলবায়ু শাসনের লক্ষ্যে জড়িত হওয়ার জন্য সরাসরি উৎসাহের অভাব রয়েছে।

বাজার ব্যর্থতার মোকাবিলা:

  • বেসরকারি অর্থায়নের সুবিধা চালু করতে সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করা: একটি পরিপূরক দ্বিমুখী পদ্ধতি ব্যবহার করা দরকার, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মূলধন বিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ না করে একসঙ্গে কাজ করে। কারণ তারা পারস্পরিক ভাবে একে অপরকে শক্তিশালী করে। ফলে এ হেন পদ্ধতি কার্যকর বলে প্রমাণিত হবে। উদীয়মান বাজারে বেসরকারি মূলধন প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলিকে সরকারি অর্থায়নকে ‘বাজার চিহ্নিতকারী’ হিসেবে ব্যবহার করে সমাধান করা যেতে পারে - আর্থিক স্থান সম্প্রসারণ করে এবং বৃহৎ দূষণহীন শক্তি অবকাঠামো প্রকল্পগুলিকে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ছাড়মূলক ঋণ প্রদান করে এবং বেসরকারি খাতের জন্য সেগুলিকে ‘বিনিয়োগযোগ্য’ করে তোলে। সর্বোপরি, নির্দিষ্ট গ্যারান্টি তহবিল, তারল্য সংক্রান্ত সুবিধে ইত্যাদির মতো ঝুঁকিমুক্ত ব্যবস্থার বর্ধিত ব্যবহার, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইএমডিই-র এই অনুভূত ঝুঁকি কমাতে পারে।

  • ঋণ স্থায়িত্ব কাঠামো এবং ঋণের শর্তাবলির সংস্কার করা: ‘উৎপাদনশীল’ ঋণ (যেমন দূষণহীন শক্তি অবকাঠামো) এবং ‘অ-উৎপাদনশীল’ ভোগভিত্তিক ঋণের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য আন্তর্জাতিক ঋণ কাঠামোর সংস্কার করা দরকার। এমডিবিগুলিকে স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ছাড়মূলক ঋণে রূপান্তর করতে হবে, যা জলবায়ু অবকাঠামোর আয়ুষ্কালের সঙ্গে মেলে এবং পরিপক্বতার অমিল মোকাবিলা করে।

  • বিশ্বব্যাপী আর্থিক মানের সংস্কার করা: ইন্টারন্যাশনাল সাস্টেনেবেলিটি স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড (আইএসএসবি) দ্বারা জারি করা আইআরএফএস সাস্টেনেবিলিটি ডিসক্লোজার স্ট্যান্ডার্ডের মতো বিশ্বব্যাপী মান জলবায়ু-সম্পর্কিত আর্থিক প্রকাশকে বাধ্যতামূলক করে, যা বিনিয়োগকারীদের জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে এবং ঝুঁকি-সমন্বিত মূল্যায়ন মডেলগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম করে। এই অ্যাকাউন্টিং মানগুলির জন্য তাদের লাভ এবং ক্ষতির হিসাব বা নগদ প্রবাহে জলবায়ু প্রভাবের আর্থিক স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। ভবিষ্যতের জলবায়ু-সম্পর্কিত খরচকে (সম্পদ অবমূল্যায়ন, প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রক খরচ ইত্যাদি) আজকের জন্য একটি ধারণাগত ব্যয় ('অভ্যন্তরীণ কার্বন মূল্য নির্ধারণ') হিসেবে সরবরাহ করতে হবে, যাতে তারা প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহে প্রতিফলিত হয়। এই ব্যবধান পূরণ করলে জীবাশ্ম জ্বালানি বিনিয়োগের তুলনায় দূষণহীন শক্তি বিনিয়োগের জন্য বিকৃত আইআরআর সংশোধন করে অংশীদারদের কাছে ডিকার্বনাইজেশন কম শাস্তিমূলক বলে মনে হবে।

উপসংহার

স্মার্ট জলবায়ু শাসনের মূল চাবিকাঠি হল দেশ এবং বেসরকারি খাত উভয়ের জন্য প্রণোদনার পরিকল্পনা করা, জলবায়ু অর্থায়নের সন্ধানকারী দেশগুলির জন্য কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকিমুক্ত পথ মোকাবিলা করা, সরকারি ও বেসরকারি উভয় অর্থায়ন (পারস্পরিক ভাবে সশক্তকারী শক্তি হিসেবে) উন্মুক্ত করা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান এবং নীতিগত সাধনীগুলিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সেগুলির সমন্বয় সাধন করা এবং পরিশেষে, মডেল ও সমাধানগুলিকে সহজ অথচ কার্যকর ও মাত্রাযোগ্য রাখা।

 


লাবণ্য মণি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো।


এই বিশ্লেষণটি জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ধ্রুব পুরকায়স্থ (উপদেষ্টা, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ভারত), লিসা স্যাক্স (ডিরেক্টর, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন সাসটেনেবল ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট) এবং অলিভিয়ের কোলোম-এর (প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি-র প্রাক্তন সিনিয়র কূটনৈতিক উপদেষ্টা) সঙ্গে আলোচনার মূল অন্তর্দৃষ্টির উপর ভিত্তি করে লিখিত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.