ট্রাম্পের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সাংস্কৃতিক যুদ্ধের রাজনীতি, পশ্চিম গোলার্ধের প্রাধান্য এবং আমেরিকার বৈশ্বিক ভূমিকার সঙ্কীর্ণ ধারণার দিকে একটি নির্ণায়ক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
৫ ডিসেম্বর প্রায় এক বছর ক্ষমতায় থাকার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবশেষে তাদের বহু প্রত্যাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি বা এনএসএস) প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে জারি করা প্রথম মেয়াদের এনএসএস-এর তুলনায় নতুন নথিটি লক্ষ্যণীয় ভাবে ছোট (৫৫ পৃষ্ঠার তুলনায় ২৯ পৃষ্ঠা) এবং এমএজিএ-ভিত্তিক ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অগ্রাধিকারের উপর অনেক বেশি মনোযোগী। এই আমেরিকা ফার্স্ট নীতি উল্লেখযোগ্য রকম ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় স্বার্থকে সংজ্ঞায়িত করে এ হেন সম্ভাবনাকে সঙ্কুচিত করে। ট্রাম্প এবং তাঁর দল তাঁদের নিজস্ব এবং পূর্ববর্তী প্রশাসন দ্বারা জারি করা আগেকার এনএসএস নথিগুলির বিস্তৃত পরিধি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। পরিবর্তে, তাঁরা মূল স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত একগুচ্ছ সঙ্কীর্ণ মনোভাবকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত এগুলিই ‘আমেরিকা মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সফল দেশ হওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীতে আমেরিকাকে স্বাধীনচেতা মানুষদের আবাসস্থল করে তুলবে।’ নিচে উল্লেখযোগ্য অংশগুলি তুলে ধরা হল:
সংযমের দিকে বাঁকবদল?
এনএসএস যুক্তি দিয়েছে যে, ঠান্ডা লড়াইয়ের সমাপ্তির পর থেকে ‘আমেরিকান বিদেশনীতির অভিজাতরা নিজেদেরকে বিশ্বাস করিয়েছে যে, সমগ্র বিশ্বের উপর স্থায়ী মার্কিন আধিপত্য আমাদের দেশের স্বার্থের জন্য সর্বোত্তম।’ সর্বোপরি, ‘অভিজাতরা আমেরিকার চিরকালের জন্য বিশ্বব্যাপী বোঝা বহন করার সদিচ্ছাকে ভুল ভাবে গ্রহণ করেছিল, যার সঙ্গে মার্কিন জনগণ জাতীয় স্বার্থের কোনও সম্পর্ক দেখতে পায়নি।’ নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, এটি ‘বাস্তববাদী না হয়ে বাস্তববাদী’ এবং ‘শুধু শান্তির পথে না হেঁটে’ সংযত থাকতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের সংজ্ঞা সঙ্কুচিত করতে হবে… এ হেন স্বীকৃতি সংযম-ভিত্তিক বিদেশনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। যাইহোক, ক্যারিবীয় অঞ্চলে তথাকথিত মাদকপূর্ণ নৌবহরের উপর মার্কিন হামলা এবং ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে বোমা হামলার মতো সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, সংযমের নীতি এবং এখনও পর্যন্ত বাস্তব নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে ব্যবধান থাকতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তা হিসেবে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ
এই এনএসএস এবং ট্রাম্পের প্রথম এনএসএসের মধ্যে একটি মূল পার্থক্য হল, তথাকথিত সাংস্কৃতিক যুদ্ধের উত্থান এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ‘চিরাচরিত’ মার্কিন মূল্যবোধের অনুভূত ক্ষয়। এই এনএসএস আমেরিকার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক স্বাস্থ্যকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ ও ‘পুনঃস্থাপন’ করা এবং ‘সুস্থ শিশুদের লালন-পালনকারী চিরাচরিত পরিবারগুলি’কে সমর্থন করার গুরুত্ব তুলে ধরে। ঐতিহ্যবাদের উপর এই মনোযোগ - যা এমএজিএ আন্দোলনের তরুণ ভ্যান্সবাদী নব্য-দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে ক্রমশ কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে - এখন বৃহত্তর এমএজিএ কর্মসূচি জুড়ে স্পষ্ট ভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। ‘ধ্বংসাত্মক প্রচারণা’, ‘প্রভাব অভিযান’ এবং ‘ডিইআই’-এর মতো হুমকির উল্লেখ স্পষ্ট ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট না হলেও পরোক্ষভাবে এই বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে যে, আমেরিকার সাংস্কৃতিক ভিত্তির অবক্ষয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবদান অনস্বীকার্য।
এশিয়ার ভারসাম্য রক্ষা প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বাইডেনের সময়কালের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকে কিছুটা হলেও সংজ্ঞায়িত করলেও পশ্চিম গোলার্ধের ভারসাম্য রক্ষা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকেও আকার দেবে।
এশিয়ার ভারসাম্য রক্ষা প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বাইডেনের সময়কালের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকে কিছুটা হলেও সংজ্ঞায়িত করলেও পশ্চিম গোলার্ধের ভারসাম্য রক্ষা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকেও আকার দেবে। এনএসএস-এ পশ্চিম গোলার্ধ শীর্ষ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার হিসেবে আবির্ভূত হিয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের প্রথম এনএসএস-এ এটি ছ’টির মধ্যে পাঁচ নম্বরে ছিল। এনএসএস-এ বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনরো মতবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ করবে এবং পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রাধান্যকে পুনরুদ্ধার করবে। যাঁরা অবগত নন তাঁদের জন্য বলা জরুরি যে, মনরো মতবাদ ১৮২৩ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে পশ্চিম গোলার্ধের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। এই এনএসএস মনরো মতবাদের প্রেক্ষিতে ‘ট্রাম্প করোলারি’কে (বা ট্রাম্পীয় সংশোধন) বোঝায় এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মাদক প্রবাহ বন্ধ ও বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে সশক্ত করার পাশাপাশি নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের জন্য এই অঞ্চলে বন্ধু দেশগুলিকে তালিকাভুক্ত করার উপর মনোযোগ দেয়। এমনকি পশ্চিম গোলার্ধে জরুরি হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক উপস্থিতির তথাকথিত পুনর্গঠনের বিষয়টিও এনএসএস-এ তুলে ধরা হয়েছে। এটি এমন একটি ঘোষণা, যা পূর্ববর্তী এনএসএস পুনরাবৃত্তিগুলিতে প্রায় অকল্পনীয় ছিল। অভিবাসন ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপর বেশিরভাগ মনোযোগ থাকলেও ২০২৫ সালের ট্রাম্প করোলারির সঙ্গে চিনের সম্পর্ক ঠিক তেমনই, যেমনটা আদি মনরো মতবাদের সঙ্গে ইউরোপের ছিল। এই অর্থে দেখতে গেলে, আমেরিকা সমগ্র অঞ্চলে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার চেষ্টা করবে, যাতে আমেরিকা ‘প্রথম পছন্দ’-এর অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য অগ্রাধিকার
এনএসএসের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হওয়ায়, এনএসএস বেজিংয়ের সস্তা পণ্য রফতানি এবং পারস্পরিকতা ও ন্যায্যতার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা গ্রহণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এটি রাষ্ট্র-নির্দেশিত ভর্তুকি, অন্যায্য বাণিজ্যিক অনুশীলন, বৌদ্ধিক সম্পত্তি চুরি, সরবরাহ শৃঙ্খলের হুমকি, ফেন্টানাইল সংক্রান্ত রফতানি এবং প্রভাব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বকেও তুলে ধরে। এনএসএস ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৃহৎ আকারের সামরিক সংঘাত প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেয়। এটি এই অঞ্চলের অংশীদারদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি বোঝা বহন করার গুরুত্বকে দর্শায় এবং ফার্স্ট আইল্যান্ড চেন অংশীদারদের বন্দর ও অন্য সুযোগ-সুবিধাগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তালিকায় নৌচলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টিও রয়েছে। পরিশেষে, এনএসএস দর্শিয়েছে যে, ট্রাম্প তাইওয়ান প্রণালীর স্থিতাবস্থায় কোনও একতরফা পরিবর্তন সমর্থন করেন না এবং তাইওয়ানের উপর আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী ‘ঘোষণামূলক নীতি’ বজায় রেখে চলেন। চিনের হুমকির মুখে ট্রাম্প তাইওয়ানকে ত্যাগ করতে পারেন, এ বিষয় নিয়ে যাঁরা চিন্তিত ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি স্বস্তির বিষয়।
ইউরোপ বিভাগে ন্যাটোর একমাত্র উল্লেখ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে সম্পর্কিত নয়; সেগুলি এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত যে, বেশ কিছু ন্যাটো সদস্য দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাবে অ-ইউরোপীয় হয়ে উঠছে। এনএসএস যুক্তি দিয়েছে যে, এই দেশগুলিকে ন্যাটো সনদকে সেই চোখে না-ও দেখতে পারে, যেমনটা ভেবে তারা ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
ইউরোপকেই নিজের দায়িত্ব নিতে হবে
এনএসএস-এর ইউরোপ বিভাগে দু’টি প্রধান বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, গণ অভিবাসনের দরুন ইউরোপ ‘সভ্যতার বিপরীতে হাঁটছে’ এবং ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব’-এর নামে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা সভ্যতার ধারণা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে… ট্রাম্প এই দুই ভাবনার মধ্যে সরাসরি সাদৃশ্য টেনেছেন। উপরন্তু, ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ‘বাকস্বাধীনতার উপর কাঁচি চালানো’, ‘রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন’ এবং ‘জাতীয় পরিচয় এবং আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি’ আসলে এমন এক ইউরোপ গড়ে তুলবে, যা ২০ বছরের মধ্যে ‘অচেনা’ হয়ে উঠবে। এনএসএস যুক্তি দেয় যে, আত্মবিশ্বাসের এই অনুমিত অভাব রাশিয়ার তুলনায় ইউরোপের কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। আবার, এনএসএস কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বরং ইউরোপেও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে সাংস্কৃতিক বিষয়গুলিকে নির্দেশ করেছে। দ্বিতীয়ত, ইউরোপ বিভাগে ন্যাটোর একমাত্র উল্লেখ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে সম্পর্কিত নয়; সেগুলি এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত যে, বেশ কিছু ন্যাটো সদস্য দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাবে অ-ইউরোপীয় হয়ে উঠছে। এনএসএস যুক্তি দিয়েছে যে, এই দেশগুলিকে ন্যাটো সনদকে সেই চোখে না-ও দেখতে পারে, যেমনটা ভেবে তারা ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এর পাশাপাশি একটি ক্রমবর্ধমান জোট হিসেবে ন্যাটোর ধারণার অবসান ঘটেছে এবং ন্যাটোর তরফে ‘বাস্তবতাকে রোধ’ করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই সব কিছুই আগামী দিনে ‘ক্লোজড ডোর’ ন্যাটো নীতির (যেখানে ন্যাটোকে নিজের সমস্যা নিজেকেই মেটাতে হবে) প্রতি সমর্থন প্রকাশ করবে।
ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কৃতিত্বের দাবি করেছেন, যেমনটা তিনি আগেও করেছেন এবং এটিই মে মাসে ভারত-পাকিস্তান অচলাবস্থার পর থেকে তাঁর ও মোদীর মধ্যে উত্তেজনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের অবস্থান
ভারতের উল্লেখ এনএসএস-এ কয়েক বার উঠে এসেছে, যদিও সাধারণত বৃহত্তর কৌশলগত অগ্রাধিকারের অংশ হয়েই থেকেছে ভারত। ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কৃতিত্বের দাবি করেছেন, যেমনটা তিনি আগেও করেছেন এবং এটিই মে মাসে ভারত-পাকিস্তান অচলাবস্থার পর থেকে তাঁর ও মোদীর মধ্যে উত্তেজনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনএসএস পশ্চিম গোলার্ধে এবং আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে ভারতকে একটি সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করেছে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও দর্শিয়েছে, যাতে কোয়াড কাঠামোর মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় অবদান রাখতে ভারত উৎসাহিত হয়। যাঁরা কোয়াডের নিজ অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক সঙ্কেত হতে পারে। তবুও, ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোয়াডকে কৌশলগত গুরুত্বের স্তরে উন্নীত করতে চায়, তা হলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও বাকি আছে।
রাচেল রিজো অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Rachel Rizzo is a Senior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her work focuses on US foreign and defence policy, the transatlantic partnership, and US-Europe-India ...
Read More +