Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 29, 2026 Updated 0 Hours ago

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনলাইন পিটিশনের প্রবণতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা Change.org-এর মতো ওয়েবসাইটগুলিতে বিশ্বজুড়ে কোটি ৬৫ লক্ষ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এবং ২০১১ সাল থেকে ভারতে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন।

নজরদারির পদচিহ্ন

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনলাইন পিটিশনের প্রবণতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা Change.org-এর মতো ওয়েবসাইটগুলিতে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৬৫ লক্ষ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এবং ২০১১ সাল থেকে ভারতে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। এক দশক আগে এর হিন্দি সংস্করণ চালু হওয়ার পর থেকে এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে, প্ল্যাটফর্মটি প্রায় ৫ লক্ষ ২০ হাজার পিটিশন দাখিল করেছে বলে দাবি করেছে। একইভাবে, ভারতে নিবন্ধিত আরেকটি অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্মের ২০২৫ সালের শেষ নয় মাসে ১,৮০৫টি পিটিশনের তথ্য রয়েছে। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, Avaaz-এর এপ্রিল ২০২৫ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশে নয় কোটি সদস্য ছিল। এদের বেশিরভাগই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে অনলাইন প্রচারণা চালিয়েছে বলে দেখা গিয়েছে।

আজকের ডিজিটাল যুগে, অনলাইন পিটিশনগুলি নাগরিক অংশগ্রহণের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ব্যক্তিদের তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম করে। অনলাইন পিটিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ধরনের প্রচারণা চালানো ও সমর্থন করার এই অভ্যাসটিকে 'স্ল্যাকটিভিজম' নামেও অভিহিত করা হয়, যেখানে খুব কম প্রতিশ্রুতি বা প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। তবে, তাদের আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ইন্টারফেসের আড়ালে রয়েছে ডেটা সংগ্রহের জটিল এক জাল, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামাজিক সংহতির জন্য গুরুতর বিপদ তৈরি করে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মগুলি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পক্ষে কথা বলার দাবি করে, কিন্তু তারা প্রায়শই ব্যবহারকারী এবং আবেদনকারীদের অবহিত সম্মতি ছাড়াই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতাসহ সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।


অনলাইন পিটিশনগুলো নাগরিক অংশগ্রহণের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ব্যক্তিদের তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম করে।


পরবর্তীতে এই ডেটা ব্যবহার করে অ্যালগরিদমিক ফিড তৈরি করা হয়, যা সূক্ষ্মভাবে ব্যক্তিদের ধারণা ও আচরণকে প্রভাবিত করে। এই ধরনের কার্যকলাপ শুধু ডেটা গোপনীয়তাই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং এর জাতীয় নিরাপত্তার উপরও গভীর প্রভাব রয়েছে, যা সম্ভাব্যভাবে বিদ্বেষপূর্ণ গোষ্ঠীর দ্বারা উগ্রবাদ এবং নিয়োগকে সহজতর করতে পারে। ফলস্বরূপ, অনলাইন পিটিশন এবং স্ল্যাকটিভিজমের এই প্রবণতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করার আরেকটি বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রথম দৃষ্টিতে, অনলাইন পিটিশনগুলিকে ডিজিটাল গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক বলে মনে হয়। তারা কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর, কোনও নির্দিষ্ট কারণের পক্ষে একত্রিত হওয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, এবং সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহি করার একটি পদ্ধতির প্রতিশ্রুতি দেয়। এই প্রচেষ্টাটিকে নিরীহ, এমনকি মহৎ বলেই মনে হয়। তবে, একটি ক্লিকের আড়ালে একটি অন্ধকার দিক লুকিয়ে থাকে যা বেশিরভাগ মানুষ কখনওই দেখতে পায় না: এটি ডেটা মাইনিং, প্রোফাইলিং এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতারণার একটি জগৎ। যখন একজন ব্যক্তি একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেন, তখন তিনি শুধুই সমর্থনই জানান না।

এর ভৌত রূপের চেয়ে পৃথকভাবে, একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীরা স্বেচ্ছায় তাঁদের ব্যক্তিগত বিবরণ প্রদান করেন, যার মধ্যে নাম, ইমেল ঠিকানা, আধার নম্বর, প্যান কার্ড, ফোন নম্বর এবং অবস্থান অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রকৃতপক্ষে, বেশিরভাগ অনলাইন পিটিশন প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ডেটা সংগ্রহ করে। স্বাক্ষরের সুবিধা এবং নৈতিক আকর্ষণ এই সচেতন নাগরিকদের বেশিরভাগকেই পরবর্তী, আরও জটিল প্রশ্নটি সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে দেয়: সেই ডেটা কোথায় যায়, কে তা দেখতে পারে এবং তারা এটি দিয়ে কী করতে পারে? এমনকি সবচেয়ে স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মগুলিও এই সুস্পষ্ট বিষয়টি স্বীকার করে: একটি বিশ্বব্যাপী ওয়েবসাইট চালানোর জন্য বিশ্লেষণ, ইমেল প্রদানকারী, বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক এবং পেমেন্ট প্রসেসরসহ তৃতীয় পক্ষের পরিষেবাগুলির একটি জালের প্রয়োজন হয়। এই সহায়কদের কাছে ডেটা হস্তান্তর করাই সাইটটিকে অনলাইনে সচল রাখার একটি অংশ।

রাজনৈতিক কর্মীরা অতি-ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রচারণার সন্ধানে এমন কিছু খণ্ড তথ্যকে — যেমন একজন ব্যক্তি কোন বিষয়ে স্বাক্ষর করেছেন, তিনি কোন শহরে থাকেন এবং তিনি কী ধরনের মন্তব্য করেন — ব্যক্তির বিশ্বাস, ভয় এবং সম্ভাব্য কার্যকলাপের একটি অনুমানমূলক প্রোফাইলে পরিণত করার কৌশল শিখতে সময় ব্যয় করেন। মাইক্রোটার্গেটিং নামে পরিচিত এই কৌশলটি কোনও কাল্পনিক বিষয় নয়; এটি আধুনিক রাজনৈতিক প্ররোচনার ভিত্তি তৈরি করে। শিক্ষাবিদ এবং পর্যবেক্ষকেরা এর কার্যপ্রণালী নথিভুক্ত করেছেন: শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করা, অন্যান্য জনসংখ্যাগত বা আচরণগত সংকেত যুক্ত করা, এবং তারপর অতি-ব্যক্তিগত বার্তা তৈরি করা যা ব্যক্তির ইনবক্স বা সোশ্যাল ফিডের ব্যক্তিগত পরিসরে পৌঁছে যায়। স্বাক্ষরিত আবেদনটি একটি অ্যালগরিদমের জন্য কাঁচামাল হয়ে ওঠে, যা নির্ধারণ করতে পারে কে কখন কী শুনবেন।



রাজনৈতিক কর্মীরা অতি-ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রচারণার সন্ধানে এমন কিছু খণ্ড তথ্যকে — যেমন একজন ব্যক্তি কোন বিষয়ে স্বাক্ষর করেছেন, তিনি কোন শহরে থাকেন এবং তিনি কী ধরনের মন্তব্য করেন — ব্যক্তির বিশ্বাস, ভয় এবং সম্ভাব্য কার্যকলাপের একটি অনুমানমূলক প্রোফাইলে পরিণত করার কৌশল শিখতে সময় ব্যয় করেন।



এই ধরনের ডেটা কিন্তু সহজেই অপব্যবহার করে ফিশিং আক্রমণ চালানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে আসল বলে মনে হওয়া নকল ইমেল ব্যবহার করা হয়, যা ব্যক্তিদের একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে, তাঁদের ব্যাঙ্কের বিবরণ প্রবেশ করাতে বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করতে প্রলুব্ধ করার জন্য ডিজাইন করা হয়। যেহেতু আক্রমণকারীরা আগে থেকেই জানে যে কোন ব্যক্তি কোন বিষয়কে সমর্থন করেন, তাই তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই ইমেলগুলি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়: “আপনার সমর্থন নিশ্চিত করুন,” “এখনই দান করুন,” বা “আপনার স্বাক্ষর যাচাই করুন।” একটি অসতর্ক ক্লিকের ফলেই কম্পিউটার সংক্রমিত হতে পারে, পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে বা কোনও ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এটি উল্লেখযোগ্য যে ভারত ডেটা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের আইসিএমআর ডেটা লঙ্ঘন, যা ৮.১৫ কোটি ভারতীয় নাগরিককে প্রভাবিত করেছিল তাঁদের ডেটা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হওয়ার কারণে, এবং ২০২৪ সালের ঘটনা যা তিন কোটি স্টার হেল্থ ইনসিওরেন্স গ্রাহককে প্রভাবিত করেছে। একবার সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারলে, এটি ফাইল চুরি করতে পারে, মুক্তিপণের জন্য সিস্টেম লক করতে পারে, বা গোপনে লক্ষ্য ব্যক্তিদের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে। এর জন্য শুধু একজন দূষিত ব্যক্তির হাতে সঠিক পিটিশন তালিকা থাকাই যথেষ্ট।

এছাড়াও, অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ এবং এমনকি রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলিও ব্যক্তিদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করার সুযোগ নিতে পারে, তাঁদের সরলতাকে কাজে লাগাতে পারে, এবং তারপর সুসংগঠিত তথ্য ও অপতথ্য যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে। তারা এই ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার জন্য উৎসাহিত করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিজ দেশের বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচিত করে। হাইব্রিড যুদ্ধ এবং গ্রে-জোন কৌশলের এই যুগে, এটি নাগরিকদের প্রভাবিত করার অন্যতম শক্তিশালী উপায়। ডেটা ফাঁস এবং তা পুনরায় বিক্রি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পিটিশন প্ল্যাটফর্মগুলি দাবি করে যে তারা ব্যক্তিগত ডেটা 'বিক্রি' করে না, কিন্তু অনেকেই বিজ্ঞাপন বা বিশ্লেষণের জন্য তৃতীয় পক্ষের অংশীদারদের সঙ্গে তা শেয়ার করে।

বাস্তবে, এর অর্থ হল এই স্বাক্ষরগুলি এমন বৃহত্তর সিস্টেমে ব্যবহার করা যেতে পারে যা ব্যক্তিদের আচরণের ভবিষ্যদ্বাণী করে, তাদের কাছে প্রদর্শিত খবর এবং কাস্টমাইজড বিজ্ঞাপনের ধরন নির্ধারণ করে, এবং এই ব্যক্তিদের একটি বিতর্ক বা কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের দিকে ঠেলে দেয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ভারতীয় নাগরিকদের অনলাইন পিটিশনকে শুধুমাত্র নাগরিক সক্রিয়তা হিসেবে নয়, বরং ডেটা প্রকাশের অনুরোধ হিসেবেও দেখা উচিত। তাদের রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করতে হবে। এদিকে, পিটিশন প্ল্যাটফর্মগুলিকে অবশ্যই কঠোর ডেটা মিনিমাইজেশন নীতি গ্রহণ করতে হবে, এবং শুধুমাত্র নাম ও ইমেলের মতো অপরিহার্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাদের অবশ্যই সম্মতিকে সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট, এবং বিপণন বা রাজনৈতিক ব্যবহার থেকে আলাদা করতে হবে। ক্রমবর্ধমান হুমকির পরিস্থিতি এবং সাইবার নিরাপত্তার প্রভাব বিবেচনা করে, ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্মগুলিকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে বাধ্যতামূলক সীমিত গোপনীয়তা তথ্য এবং প্রমিত সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধানসহ ডেটা লঙ্ঘনের প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। পর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে, যা নিরীহ নাগরিক সক্রিয়তা বলে মনে হয়, তা প্রোফাইলিং, মেরুকরণ এবং এমনকি চরমপন্থী নেটওয়ার্কে নিয়োগের একটি মাধ্যমে পরিণত হতে পারে। ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন: আরও সচেতন নাগরিক, জবাবদিহিতামূলক প্ল্যাটফর্ম, শক্তিশালী নিয়মকানুন এবং ধারাবাহিক জনশিক্ষা।


এই ভাষ্যটি প্রথম দ্য স্টেটসম্যান -এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.