ইউরোপ কূটনৈতিক ভাবে বেজিংকে আকর্ষণ করলেও বাণিজ্য দ্বন্দ্ব, নিয়ন্ত্রক প্রতিক্রিয়া এবং কৌশলগত অবিশ্বাস চিন-ইইউ সম্পর্ককে নতুন রূপ দিচ্ছে, যা ভারতের জন্যও শিক্ষাসম।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে ‘চিনের সাফল্য’ এবং চিন-জাপান সংঘর্ষ বিশ্বব্যাপী শিরোনামে প্রাধান্য পেলেও চিন-ইউরোপ সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে, যা আরও মনোযোগের দাবি রাখে।
এক দিকে, মার্কিন অনির্দেশ্যতা, ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং ইউরোপীয় অর্থনীতির উপর নিম্নমুখী চাপের মুখে ইউরোপীয় নেতারা চিনে উচ্চ পর্যায়ের সফরের জন্য প্রায় লাইন দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, স্পেনের রাজা, জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক চিন সফরের প্রায় একটি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রান্সে আসন্ন জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য চিনকে আমন্ত্রণ জানানোর লক্ষ্যে এবং ২০২৬ সালের এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের চিনের আয়োজনের প্রতি সদিচ্ছা প্রদর্শন এবং সমর্থন বৃদ্ধি করার জন্য এই সফরগুলি হয়েছে।
উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। কারণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তীব্রতর হচ্ছে।
তবে উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। কারণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তীব্রতর হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপে শিন এবং তেমু-সহ চিনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে সম্প্রতি কিছু ইউরোপীয় দেশে সামাজিক এবং জনমতের ঝড় উঠেছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের মতো বাজারে এই প্ল্যাটফর্মগুলি অত্যন্ত কম দামে পণ্য বিক্রি করে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নিম্ন-মধ্যম আয়ক্ষম গ্রাহকদের আকর্ষণ করছে। শিন-এর ক্ষেত্রে দেখলে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ইইউ-তে এর গড় মাসিক অনন্য ভিউয়ারের সংখ্যা ১৪৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা বছরভিত্তিক ১১.৬ শতাংশ বৃদ্ধিকে দর্শায়। ফ্রান্সে ২৭.৩ মিলিয়নেরও বেশি ইউজার রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ১১৬ মিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ইউজার নিয়ে তার পরেই রয়েছে তেমু। এই চিনা ই-কমার্স ব্র্যান্ডগুলির আগ্রাসী কম মূল্যের কৌশল প্যারিস ও মিলানের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ড রাজধানীতে চিরাচরিত খুচরো ব্র্যান্ডগুলির মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে দ্রুত ধাক্কা দিচ্ছে।
ফরাসি রাজনীতিবিদ এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি এই চিনা প্ল্যাটফর্মগুলির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। ফরাসি পার্লামেন্টে আলোচিত ‘পার্সেল ট্যাক্স’-এর লক্ষ্য হল ১৫০ ইউরোর কম দামের আমদানিকৃত পণ্যের জন্য শুল্ক ছাড় বাতিল করা, ‘সমান সুযোগ পুনরুদ্ধার করা’ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগের মধ্যে লক্ষ লক্ষ স্থানীয় হস্তশিল্প এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
ইইউ স্তরে নিয়ন্ত্রক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ত্বরান্বিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সরাসরি ইউরোপীয় কমিশনকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, শিন, তেমু এবং আলি এক্সপ্রেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি কি ‘নিয়ন্ত্রক শূন্যতা’ ব্যবহার করে বাজারকে ‘অবৈধ, অ-অনুগত এবং পরিবেশগত ভাবে ক্ষতিকারক পণ্য’ দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ইইউ-এর ব্যবসার জন্য ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে? ইউরোপীয় টেক্সটাইল ফেডারেশন (ইউরাটেক্স) এবং বেশ কয়েকটি জাতীয় খুচরো শিল্প সমিতি দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পার্সেলের জন্য শুল্ক ছাড় অপসারণ এবং প্রতি পার্সেল প্রতি দুই ইউরো করে হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করা। ফলস্বরূপ, ইউরোপীয় কমিশন ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে পূর্বপরিকল্পিত শুল্ক ছাড় অপসারণের পরিবর্তে ২০২৬ সালে শুল্ক ছাড় অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্যও একই রকম চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে বোহো-র মতো স্থানীয় ই-কমার্স ব্র্যান্ডগুলি প্রকাশ্যে অভিযোগ করছে যে, তেমু এবং শিন বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব হ্রাস করছে।
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বাইরেও ইউরোপ জুড়ে বিভিন্ন শিল্পে চিনা বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, নতুন শক্তির যানবাহন (এনইভি) এবং ব্যাটারির ক্ষেত্রে, ২০২৫ সালে ইউরোপে বিওয়াইডি-র বিক্রি ৮০,৮০০ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ব্র্যান্ডটি বর্তমানে হাঙ্গেরিতে তার প্রথম ইউরোপীয় কারখানা তৈরি করছে, একই সঙ্গে স্পেন অথবা তুর্কিয়েতে দ্বিতীয় কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করছে। বৃহৎ ব্যাটারি সংস্থা কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজি কোং লিমিটেড (সিএটিএল) স্পেনে স্টেলান্টিসের সঙ্গে মিলে একটি যৌথ উদ্যোগও চালু করেছে, যাতে ৫০জিডব্লিউএইচ বার্ষিক ক্ষমতার সুপার কারখানা তৈরি করা যায়, যেখানে ৪,০০০ স্থানীয় কর্মী নিযুক্ত থাকবে। আর একটি যৌথ উদ্যোগ অর্থাৎ এনভিশন এইএসসি ফ্রান্সের ডুয়াইতে তার কারখানায় রেনল্ট-নিসান গ্রুপকে ব্যাটারি সরবরাহ করবে।
ইউরোপীয় বাজারে ‘চিনা সুনামি’ নিয়ে ইইউ সত্যিই ‘আতঙ্কিত’ বলে মনে হচ্ছে।
ডিজিটাল চ্যানেলের ক্ষেত্রে, জেডি ডট কম নীরবে ফরাসি হোম অ্যাপ্লায়েন্স খুচরো সংস্থা এফন্যাক ডার্টি-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে এবং ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জয়বাই প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার লক্ষ্য হল অ্যামাজন-কে চ্যালেঞ্জ করা। এই পদক্ষেপ ফ্রান্সে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কারণ এফন্যাক ডার্টি-র কাছে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক তথ্য ও একটি লজিস্টিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। কিছু মিডিয়া আউটলেট দাবি করছে যে, ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে, তেমু-র লা পোস্টের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি - যা লাস্ট মাইল ডেলিভারির (অর্থাৎ ওয়্যারহাউস বা গুদাম থেকে কোনও জিনিস ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ) জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডাক ব্যবস্থা ব্যবহার করে - স্থানীয় সেই খুচরো ব্র্যান্ডগুলির তরফে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে, যারা এটিকে ‘ট্রোজান হর্স’ বলে অভিহিত করেছে। ইউরোপীয় বাজারে ‘চিনা সুনামি’ নিয়ে ইইউ সত্যিই ‘আতঙ্কিত’ বলে মনে হচ্ছে।
এ দিকে চিনে নেক্সপেরিয়ার ঘটনা নিয়ে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে, যাকে স্থানীয় ভাবে ওয়াশিংটনের নির্দেশে চিনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেমন হাই-প্রোফাইল মেং ওয়ানঝোর ঘটনা। চিনের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ঘটনাটি এখনও শেষ হয়নি এবং এখনও পর্যন্ত এর অগ্রগতি চিনের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যদিও পশ্চিমি গণমাধ্যম উল্টোটাই দাবি করছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বলতে গেলে, চিন এবং ইইউর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের প্রথম দিকে, যখন ইইউ তার নতুন জ্বালানি যানবাহন খাতকে রক্ষা করার জন্য ভর্তুকি-বিরোধী শুল্ক আরোপ করে। আর অন্য দিকে চিন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে এবং কিছু ইউরোপীয় আমদানির তদন্ত শুরু করে। এর ফলে চিন শুল্ক এড়াতে ইউরোপে কারখানা স্থাপনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করে এবং অন্য দিকে আবার ইইউ চিনা বিনিয়োগের জন্য ‘শর্ত নির্ধারণ’ করার প্রস্তাব দেয়।
ইইউ শুল্ক বাধা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের প্রথম ন’মাসে ইউরোপে চিনের নতুন জ্বালানি যানবাহন রফতানি ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২.৩২ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। এ দিকে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে চিনে ইউরোপীয় গাড়ির রফতানি ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রেয়ার আর্থ নিয়ন্ত্রণের উপর চিনের তথাকথিত একচেটিয়া অধিকার এবং নেক্সপেরিয়ার ঘটনার ফলে সৃষ্ট চিপ সরবরাহ সঙ্কট অবশেষে জার্মানিকেও দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে।
২০২৪ সালে ইইউ-চিন নতুন জ্বালানি যানবাহন বিরোধে জার্মানি প্রাথমিক ভাবে চিনের প্রতি সমঝোতামূলক অবস্থান নিয়েছিল। কারণ চিনের বাজারে তার গাড়ি প্রস্তুতকারকদের যথেষ্ট স্বার্থ ছিল। তবে এখন তারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে। রেয়ার আর্থ নিয়ন্ত্রণের উপর চিনের তথাকথিত একচেটিয়া অধিকার এবং নেক্সপেরিয়ার ঘটনার ফলে সৃষ্ট চিপ সরবরাহ সঙ্কট অবশেষে জার্মানিকেও দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। এখন জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারকরা উৎপাদনের দিক থেকে চিপ সরবরাহ সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে, চিনে বিক্রয় হ্রাস পাচ্ছে এবং নতুন শক্তি প্রযুক্তিতে চিনা গাড়ি প্রস্তুতকারকদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তাই জার্মানিও চিনের উপর ‘শুল্ক’ আরোপের কথা বিবেচনা করছে।
চিনা সংবাদপত্রগুলিতে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে, ইইউ কী ভাবে ‘চিনের সঙ্গে বাণিজ্য বিকল্পের সন্ধানে রয়েছে এবং এমনকি একটি প্রতিশোধমূলক তালিকাও তৈরি করছে’, কী ভাবে কিছু চিনা রফতানিকারককে ইইউতে নির্দিষ্ট পণ্য রফতানি করার সময় ইইউ মজুতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ করতে বাধ্য করার জন্য নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, কী ভাবে ইউরোপীয় কমিশন চিনা পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে তার আসন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বনাইজেশন অ্যাক্সিলারেটর অ্যাক্ট-এ (আইডিএএ) অটোমোবাইলের মতো পণ্যের জন্য ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ‘ইউরোপে তৈরি’ (মেক ইন ইউরোপ) লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বিবেচনা করছে এবং কী ভাবে ইইউ ‘চিনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পারমাণবিক অস্ত্র - বলপ্রয়োগ বিরোধী যন্ত্র আইন’ ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করতে পারে। আর এই সব কিছুই হতে পারে যদি তার বর্তমান কর্মসূচি (অর্থাৎ রিসোর্স-ইইউ) চিনের উপর ইইউ-র অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ব্যর্থ হয়।
চিনে যেমনটা অনুমান করা হচ্ছে তা হল, ইউরোপে চিনা সংস্থাগুলির বিনিয়োগ আর নিরাপদ নয়। আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, ‘যদি চিন ইউরোপীয় বাজার হারায়, তা হলে আমেরিকান পক্ষের ক্ষতি কোথায় পূরণ করবে?... কী ভাবেই বা এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অর্জন চালিয়ে যেতে পারে?’ ইইউ পর্বের ফলে চিনে এই বিষয়ে ক্রমবর্ধমান গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, ‘কী ভাবে চিনের অতি-শক্তিশালী উৎপাদনশীলতা - যা তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল - বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নীরবে তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠছে’, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ বা ভারত… বৃহৎ বাজারের দেশগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে চিনকেই সবচেয়ে বড় হুমকি হিসাবে দেখছে’, ‘টিকটক, ভিভো বা নেক্সপেরিয়া… যা-ই হোক না কেন - বিদেশি বাজারে চিনা বিনিয়োগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বাজারে লড়াই করার জন্য চিনের পাশেও সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই।’
একটি দৃষ্টিভঙ্গি হল এই যে, চিনকে ইইউ-র সঙ্গে যথেষ্ট শক্তি সহকারেই মোকাবিলা করতে হবে এবং যুক্তি ও প্ররোচনার আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে, চিনের স্বার্থের ক্ষতি করার পরিণতিগুলি কর্মের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে হবে।
ইইউ-এর সঙ্গে কী ভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা চিনে একটি বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। একটি দৃষ্টিভঙ্গি হল এই যে, চিনকে ইইউ-র সঙ্গে যথেষ্ট শক্তি সহকারেই মোকাবিলা করতে হবে এবং যুক্তি ও প্ররোচনার আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে, চিনের স্বার্থের ক্ষতি করার পরিণতিগুলি কর্মের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায়, নেক্সপেরিয়ার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আর একটি দৃষ্টিভঙ্গি হল এই যে, চিনকে সকল ক্ষেত্রে আক্রমণ করা উচিত নয়। পরিবর্তে, তাকে বৃহৎ অথচ ‘দুর্বল’ ইউরোপীয় নির্মাতাদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, পাওয়ার ব্যাটারি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য ইইউ-র প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের বিষয়ে ইইউ-এর সঙ্গে কিছু সাধারণ ভিত্তি স্থাপন করতে হবে, যা কেবল আটলান্টিক জোটকেই দুর্বল করবে না, বরং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চিনা উদ্যোগগুলির জন্য আরও অনুকূল বহিরাগত ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করবে।
তা সত্ত্বেও, বৃহত্তর ঐকমত্য হল এই যে, চিনের উচিত তার ‘স্মার্ট পাওয়ার’কে উন্নত করতে এবং বিদেশি বাজারে তার নিজস্ব স্বার্থ ও চিনা উদ্যোগের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রচলিত (একটি বিদেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা, নিষেধাজ্ঞা, হস্তক্ষেপ এবং ‘দীর্ঘ হাতের এক্তিয়ারের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করা, বৈদেশিক বিষয় সম্পর্কিত আইনি ব্যবস্থা ও ক্ষমতার বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মধ্যস্থতা, সালিশ ও মামলা মোকদ্দমার জন্য ব্যবস্থা উন্নত করা) এবং অপ্রচলিত পদ্ধতির (যেমন ইইউ-র ক্ষেত্রে একটি ইইউ দেশকে অন্যের বিরুদ্ধে চালিত করা এবং কাজে লাগানো) সমন্বয় ঘটানো।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভোগ বাজার হওয়ার পথে ভারতকে অবশ্যই চিন-ইউরোপ সম্পর্কের উন্নয়নগুলি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই উন্নয়নগুলি কেবল ভারতের জন্য মূল্যবান শিক্ষাই দিতে পারে না, বরং ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতার জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
অন্তরা ঘোষাল সিং অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Antara Ghosal Singh is a Fellow at the Strategic Studies Programme at Observer Research Foundation, New Delhi. Her area of research includes China-India relations, China-India-US ...
Read More +