পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খল ভারত-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপাক্ষিক জোটকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি তাৎক্ষণিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।
একটি বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার উত্থান ধীরে ধীরে পরিবর্তনশীল জোট এবং নতুন অংশীদারিত্বের এক যুগের দিকে পরিচালিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে, তিনটি দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপাক্ষিক জোটের দিকে অগ্রসর হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। তবে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই ত্রিপাক্ষিক জোটকে একটি বিশেষ দিক থেকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং উপকারী করে তুলেছে: আর তা হল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্ধপরিবাহী বাস্তুতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।
বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের নিজ নিজ শক্তির পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতিটি তিনটি দেশের জন্যই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার উপযুক্ত মুহূর্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও ভারত-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপাক্ষিক নীতি পরিকল্পনা সংলাপের প্রথম বৈঠকটি ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তবে ত্রিপাক্ষিক জোটটি এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যেমনটা বলা হয়ে থাকে, অর্ধপরিবাহী সহযোগিতা এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের জন্য একটি ভিত্তি স্থাপন করতে পারে এবং প্রচলিত ও উদীয়মান উভয় প্রযুক্তিতে এর গুরুত্বের কারণে এই সহযোগিতাকে আরও গতি দিতে পারে।
ব্যক্তিগত শক্তি এবং উদ্যোগের রূপরেখা
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দ্বারা ক্রমবর্ধমান ভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে, অর্ধপরিবাহীগুলি একটি মৌলিক প্রযুক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলস্বরূপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ৬জি, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) ডিভাইস এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলিতে যে কোনও দেশের অগ্রগতি প্রচলিত এবং অত্যাধুনিক উভয় ধরনের অর্ধপরিবাহী চিপ তৈরি ও সংগ্রহ করার ক্ষমতার উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে, এআই চিপ - যা সম্ভবত ইদানীং সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি – সম্পূর্ণ রূপে উন্নত ধরনের অর্ধপরিবাহীর উপর নির্ভরশীল।
যদিও ভারত বর্তমানে প্রাথমিক ভাবে লিগ্যাসি চিপের উপর মনোযোগ দিচ্ছে, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া লিগ্যাসি এবং উন্নত নোড চিপ উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু করছে, যার মধ্যে প্রথমটির প্রতি তাদের আগ্রহ হল লিগ্যাসি চিপ উৎপাদনে চিনের আধিপত্য মোকাবিলা করা। এই উদ্যোগটি সময়সাপেক্ষ এবং পুঁজি-নিবিড় হওয়ায়, তিনটি দেশের জন্য প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতাই হবে আদর্শ কৌশল।
জাপান অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খলে, বিশেষ করে উৎপাদন এবং সমন্বয় বিভাগে, উৎপাদন, সরঞ্জাম বা উপকরণ… সব দিক থেকেই নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২২ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ বাজার অংশ জাপানি সংস্থাগুলির দখলে ছিল। এ ছাড়াও ২০২১ সালে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমইটিআই) তাদের ‘অর্ধপরিবাহী এবং ডিজিটাল শিল্পের জন্য কৌশল’ ঘোষণা করে, যেখানে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’কে অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমইটিআই-এর অর্ধপরিবাহী পুনরুজ্জীবন কৌশলটি সর্বব্যাপী, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি খণ্ডের উপর মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) প্রচার করছে।
অন্য দিকে, দক্ষিণ কোরিয়াও একই ভাবে একটি শিল্প নেতা হিসেবে নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করেছে, বিশেষ করে মেমরি চিপের ক্ষেত্রে, যেখানে স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্সের মতো চ্যায়বলগুলির (কোরীয় শব্দ, যার অর্থ বৃহৎ সংস্থা) কারণে তারা বৈশ্বিক বাজারের ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশীদারিত্বের অধিকারী (২০২২)। ২০২১ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়াও ‘জাতীয় কৌশলগত প্রযুক্তি লালন-পালনের বিশেষ আইন’ এবং ‘কে-সেমিকন্ডাক্টর বেল্ট কৌশল’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। শেষেরটি একটি ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হল অভ্যন্তরীণ চিপ উৎপাদনকে শক্তিশালী করা এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে পরবর্তী প্রজন্মের চিপ প্রযুক্তিতে একটি বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
যদিও জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, ভারত এখনও এই ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা ২০২১ সালে ঘোষিত সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে এমনটা করার লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে দেশে অর্ধপরিবাহী উৎপাদনের ভিত্তি তৈরির জন্য প্রাথমিক ভাবে ৭৬,০০০ কোটি ভারতীয় টাকা (প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আজ পর্যন্ত মোট দশটি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রেনেসাঁ এবং অ্যাপ্যাক্টের মতো জাপানি ও দক্ষিণ কোরীয় অংশীদারদের সঙ্গেও প্রকল্প রয়েছে। যদিও ভারত এখনও বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি প্রধান খেলোয়াড় নয়, তবে এর জনসংখ্যাগত সুবিধার কারণে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ কর্তৃক শুরু করা অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈশ্বিক পুনর্গঠন বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এর সাথে প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদের ক্রমবর্ধমান মনোভাবও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, তিনটি দেশই বর্তমানে অর্ধপরিবাহী উৎপাদন প্রক্রিয়ার তিনটি প্রধান বিভাগে — ডিজাইন, ফ্যাব্রিকেশন এবং অ্যাসেম্বলি — একটি নির্দিষ্ট স্তরের স্বাধীনতা অর্জনের পথে রয়েছে। যদিও ভারত বর্তমানে প্রাথমিক ভাবে লিগ্যাসি চিপের উপর মনোযোগ দিচ্ছে, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া লিগ্যাসি এবং উন্নত নোড চিপ উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু করছে, যার মধ্যে প্রথমটির প্রতি তাদের আগ্রহ হল লিগ্যাসি চিপ উৎপাদনে চিনের আধিপত্য মোকাবিলা করা। এই উদ্যোগটি সময়সাপেক্ষ এবং পুঁজি-নিবিড় হওয়ায়, তিনটি দেশের জন্য প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতাই হবে আদর্শ কৌশল।
সমন্বয় গড়ে তোলা এবং অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছনো
অর্ধপরিবাহী উৎপাদনে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই একটি সাধারণ সমস্যায় ভুগছে: শ্রমিকের অভাব এবং দক্ষ কর্মীর সংখ্যা হ্রাস। জন্মহার হ্রাস এবং জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়া উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগের প্রধান কারণ। অন্য দিকে, এই ক্ষেত্রে তুলনামূলক অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও ঠিক এখানেই ভারতের শক্তি নিহিত। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় (এমওএসপিআই) দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, ২০১১ সালে ভারতের কর্মক্ষম জনসংখ্যা (১৫-৫৯ বছর বয়সি) ছিল ৭৩৫ মিলিয়ন। ২০৩৬ সালের মধ্যে এটি প্রায় ১ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে বেকারত্বের হারও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। একটি ত্রিপাক্ষিক জোট গঠনের মাধ্যমে উন্নত শ্রম অভিবাসন এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে, যা তিনটি দেশকেই তাদের নিজ নিজ দুর্বলতা মোকাবিলায় সক্ষম করবে।
অর্ধপরিবাহী উৎপাদনে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই একটি সাধারণ সমস্যায় ভুগছে: শ্রমিকের অভাব এবং দক্ষ কর্মীর সংখ্যা হ্রাস। জন্মহার হ্রাস এবং জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়া উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগের প্রধান কারণ। অন্য দিকে, এই ক্ষেত্রে তুলনামূলক অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও ঠিক এখানেই ভারতের শক্তি নিহিত।
তা ছাড়া, উৎপাদনে তাদের সুস্পষ্ট দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়া কেউই অর্ধপরিবাহী ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তি নয়। যেহেতু ভারতের কাছে বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী ডিজাইন প্রতিভার প্রায় ২০ শতাংশ রয়েছে এবং এটি আরও ব্যাপক ভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ বিদ্যমান রয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করলে তিনটি দেশের জন্যই বিশাল সুফল বয়ে আনতে পারে। এ দিকে, অর্ধপরিবাহী ফ্যাব্রিকেশন এবং অ্যাসেম্বলিতে জাপানি ও দক্ষিণ কোরীয় দক্ষতা ভারতের উদীয়মান সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘাটতি পূরণে উল্লেখযোগ্য ভাবে সহায়তা করতে পারে। যেমন, যদি নির্দিষ্ট স্তরের সহযোগিতা এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা অর্জন করা যায়, তবে ভারত-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপাক্ষিক জোট তাৎক্ষণিক সুফল দিতে পারে। এটি শক্তিগুলিকে সমন্বিত করতে এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতাগুলি মোকাবিলা করতে সক্ষম করবে, যার ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া অর্জনে সহায়তা করবে।
উপসংহার: অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে
প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে চিন থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় চিনের পাল্টা পদক্ষেপ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ের জন্যই উদ্বেগের একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কারণে উভয় দেশের পক্ষেই চিনে চিপ তৈরি করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের ২৯ অগস্ট মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাং-এর অনুমোদন বাতিল করে দেয়, যার ফলে তারা চিনের চিপ উৎপাদন ইউনিটের জন্য মার্কিন অর্ধপরিবাহী উৎপাদন সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারেনি এবং এর ফলে উভয় দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি জায়ান্টের শেয়ারের দাম হ্রাস পায়। অন্য দিকে, উভয় দেশই রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে চিনা প্রতিশোধেরও শিকার হচ্ছে। এ ছাড়াও, মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওকিনাওয়ায় বিক্ষোভের মতো ঘটনাগুলি পশ্চিমা প্রভাবের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
উৎপাদনে তাদের সুস্পষ্ট দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়া কেউই অর্ধপরিবাহী ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তি নয়। যেহেতু ভারতের কাছে বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী ডিজাইন প্রতিভার প্রায় ২০ শতাংশ রয়েছে এবং এটি আরও ব্যাপক ভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ বিদ্যমান রয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করলে তিনটি দেশের জন্যই বিশাল সুফল বয়ে আনতে পারে।
ফলস্বরূপ, পরিবর্তনশীল অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খল এবং এর পাশাপাশি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি স্থানান্তরের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ের মধ্যেই এক ধরনের জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা ভারত-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপাক্ষিক জোট শুরু করার জন্য একটি তাৎক্ষণিক পথ খুলে দিয়েছে। এটি কেবল প্রতিটি দেশের স্বতন্ত্র শক্তিকে একত্রিত করবে তাই নয়, বরং তিনটি দেশকেই বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে এবং একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও প্রভাব অর্জন করতে সক্ষম করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের জন্য দ্রুত বর্ধনশীল বৈশ্বিক চাহিদা এবং প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক। সর্বোপরি, একটি সাধারণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী লক্ষ্য অনুসরণের মাধ্যমে আস্থা ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, সেই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে, যেগুলিকে তিনটি দেশের সরকারই জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতীক ত্রিপাঠী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির (সিএসএসটি) জুনিয়র ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Prateek Tripathi is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy and Technology. His work focuses on an emerging technologies and deep tech including quantum ...
Read More +