Published on Nov 10, 2025 Updated 20 Hours ago

ড্রোন, সাইবার আক্রমণ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সমন্বিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জ্বালানি গ্রিড বহুমাত্রিক হুমকির সম্মুখে অরক্ষিত।

সামনের সারিতে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা

২০২৫ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো সামরিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুর ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন আকার দিয়েছে। এটি জ্বালানিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে প্রকাশ করেছে। এক সময় সামরিক ক্ষেত্রের মূল আওতায় না থাকলেও এখন বন্দর, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি সামনের সারিতে উঠে এসেছে

নজরদারি সশস্ত্র ড্রোন মোতায়েনের পাশাপাশি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে সাইবার আক্রমণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা স্থিতিস্থাপকতার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। ভারত যখন সীমান্তে তার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে, তখন তাকে জ্বালানি অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার বিষয়টিও অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা তার অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সমাজকে টিকিয়ে রাখে।

এক সময় সামরিক ক্ষেত্রের মূল আওতায় না থাকলেও এখন বন্দর, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি সামনের সারিতে উঠে এসেছে

জ্বালানি অবকাঠামোর দুর্বলতা সম্প্রসারণ

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো পছন্দের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। হুমকির কারণগুলি ক্রমশ বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে এবং হুমকির পরিসরও প্রসারিত হচ্ছে কথা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এই ধরনের ঘটনার প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত।

ড্রোন মোতায়েনের ফলে জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য হুমকির দৃশ্যপট জটিল হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলে তিনটি তেলক্ষেত্রকে বিস্ফোরক ড্রোন দ্বারা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। একই ভাবে বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনগুলি নিয়মিত ভাবে রুশ তেল ডিপো সামরিক জ্বালানি অবকাঠামো উপর নির্ভুল হামলা চালিয়ে সেগুলিকে অক্ষম করে তুলেছে। এই বছরের শুরুতে ইরান-ইরায়েল যুদ্ধ ড্রোন বিনিময়ের সময়, রায়েল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় এবং ইরান ইরায়েলের হাইফা শোধনাগারের উপর আক্রমণ করে প্রতিশোধ নেয়, যার ফলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি ব্যারেল দাম ৭৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়। এ ছাড়াও, হরমুজ প্রণালীতে ব্যাঘাতের আশঙ্কা জরুরি মজুত হ্রাসের কারণ হয়ে  দাঁড়িয়েছে। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ব সৌদি আরবের আবকাইক এবং খুরাইসে সৌদি আরামকোর তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এই উদাহরণগুলি বোঝায় যে, কী ভাবে মানবহীন সিস্টেমগুলি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্রগুলিকে অক্ষম এবং ব্যাহত করতে  পারে।

একই ভাবে বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনগুলি নিয়মিত ভাবে রুশ তেল ডিপো সামরিক জ্বালানি অবকাঠামো উপর নির্ভুল হামলা চালিয়ে সেগুলিকে অক্ষম করে তুলেছে।

এই ঘটনাগুলি আরও স্পষ্ট করে দর্শায় যে, কী ভাবে জ্বালানি ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন রিয়েল-টাইম ডিটারেন্স সিগন্যালিং-এর সঙ্গে জড়িত। তেল আমদানিকারক দেশগুলির জন্য এমনকি স্বল্পমেয়াদি ব্যাঘাত জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মতো বিশাল অর্থনৈতিক পরিণতি বহন করে। এই ধরনের অস্থিরতা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিচালিত জ্বালানি সংস্থাগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং বিমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিকে জটিল করে তোলে।

সাইবার হুমকি এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সাইবার আক্রমণ, বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবস্থার উপর র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ, শিল্পে ক্ষেত্রে একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ কারণ এগুলির ফলে কার্যক্রম ব্যাহত করার সম্ভাবনা শুধু নয়, বরং ব্যাপক ক্ষতিও হতে পারে। আমেরিকান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সোফোসের মতে, ২০২৪ সালে ৬৭ শতাংশ জ্বালানি, তেল/গ্যাস এবং ইউটিলিটি সংস্থা র‍্যানসমওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। ২০২১ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক পাইপলাইনে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে এই  ধরনের আক্রমণের প্রভাব প্রদর্শিত হয়েছিল, যা দেশের পূর্ব উপকূলে ব্যবহৃত সমস্ত জ্বালানির প্রায় ৪৫ শতাংশ বহন করে। এই হামলার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং গ্যাসের দাম সাময়িক ভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ভার ভোক্তাদের উপর পড়ে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের কৌশলগত দুর্বলতা

ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান একটি ভঙ্গুর জ্বালানি ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। ৮৮ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ৫০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হয় তাই জ্বালানি দেশের জন্য একটি কৌশলগত ঝুঁকি। জামনগর রিফাইনারি এবং মুন্দ্রা ও কান্দলা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিপজ্জনক ভাবে কাছাকাছি অবস্থিত এবং তাই পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সামনে অরক্ষিত। প্রকৃতপক্ষে, অপারেশন সিঁদুরের সময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ৬০০টিরও বেশি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র আটকেছিল, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ গুজরা রাজস্থানকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল এবং যা আমাদের শত্রুর  দূরপাল্লার আঘাতের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল। এ ছাড়াও পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সাইবার গতিশীল আক্রমণ থেকে জ্বালানি পাইপলাইন ট্রান্সমিশন লাইনগুলিকে রক্ষা করার জন্য ব্ল্যাকআউট ছিল। এগুলি মহড়া ছিল না; এগুলি ছিল বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রতি বাস্তব-সময়ের প্রতিক্রিয়া। অতএব, ভারতের ঝুঁকি আর তাত্ত্বিক নয়। ২০২১ সালে জম্মু বিমান বাহিনী স্টেশনে ড্রোন হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে রুশ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইউক্রেনের অপারেশন স্পাইডারওয়েবদর্শিয়েছে যে, আধুনিক হুমকি কী ভাবে চিরাচরিত প্রতিরক্ষাকে উপেক্ষা করে।

৮৮ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ৫০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হয়

তা ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল আমদানি করে ভারত সেখানে বিঘ্নগুলি ভৌত হুমকির চেয়ে অনেক মারাত্মক, যা সরাসরি অর্থনৈতিক চাপে রূপান্তরিত হয়সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলি দেখায় যে, রায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় জাহাজের জন্য যুদ্ধ-ঝুঁকিপূর্ণ বিমা প্রিমিয়াম প্রায় ০.২-০.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়েছে এবং যা প্রতি যাত্রায় কয়েক হাজার ডলার যোগ করে।

জ্বালানি অবকাঠামোর উপর ক্রমবর্ধমান সাইবার আক্রমণ ভয়ঙ্কর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১০ কোটি সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। আর কটি পরিসংখ্যানে ভারতের বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিস আক্রমণের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ করা গিয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশই সরকার এবং জ্বালানি নেটওয়ার্কগুলিকে লক্ষ্য করে হয়েছিলজানা গিয়েছে, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে হ্যাকিং এবং তা বিকৃত করার চেষ্টাও করা হয়েছে। উপরন্তু, শুধুমাত্র ২০২২ সালে পেট্রোলিয়াম শোধনাগারগুলি ৩২০,০০০-এরও বেশি সাইবার আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে। সর্বোপরি, ২০২০ ২০২২ সালে মুম্বই লাদাখের পাওয়ার গ্রিডগুলিতে চিন সম্পর্কিত হুমকিদাতাদের দ্বারা বেশ কয়েকটি ম্যালওয়্যার অনুপ্রবেশ দেখা গিয়েছেপ্রায় দেড় দশক আগে স্টাক্সনেট ভাইরাস গুজরা হরিয়ানার পাওয়ার গ্রিড এবং একটি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশনের অফশোর তেল রিগকেও প্রভাবিত করেছিল।

যুদ্ধ যত বেশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে, ভারতকে সামরিক-গ্রেড প্রতিরক্ষা, অতিরিক্ত শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতার মাধ্যমে তার জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষিত করতে হবে।

জ্বালানি ধাক্কার বিরুদ্ধে ভারতের অসম্পূর্ণ ঢাল

ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) এই ধরনের ভৌত সাইবার আক্রমণের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা মাত্র ৯.৫ দিনের নেট আমদানি কভার করে, যা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে ৫.৩৩ মিলিয়ন টন ছিল। আইওসি, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল-এর মতো সরকারি তেল শোধনকারী সংস্থার মজু-সহ কভারেজ ৭৪ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় তবে শুধুমাত্র এসপিআর জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েন করলেই এমনটা করা সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা অভ্যন্তরীণ মজুত, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং শক্তিশালী পাইপলাইন সংযোগের উপর জোর দেন। এই ধরনের সংস্কার ছাড়া এসপিআর একটি ভঙ্গুর বাফার এবং স্থিতিস্থাপক ঢাল নয়।

ভারত আইইএ-র ৯০ দিনের মান পূরণ করলেও আইনি স্পষ্টতা, দ্রুত প্রবেশাধিকার সমন্বিত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এসপিআর সম্প্রসারণের জন্য ২০২৪-২৫ বাজেটে ৫,৫৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, বিশেষ করে লোহিত সাগরের উত্তেজনা এবং ইরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে।

একটি জটিল বিষয় হল যে ভারতের এসপিআর বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালুরু এবং পাদুরের মতো উপকূলীয় স্থানে কেন্দ্রীভূত, যার ফলে এগুলি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা অভ্যন্তরীণ মজুত, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং শক্তিশালী পাইপলাইন সংযোগের উপর জোর দেন। এই ধরনের সংস্কার ছাড়া এসপিআর একটি ভঙ্গুর বাফার এবং স্থিতিস্থাপক ঢাল নয়।

শক্তির স্থিতিস্থাপকতাকে কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা

ভারতকে জাতীয় প্রতিরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং তা ঙ্কট-পরবর্তী উদ্বেগের বিষয় নয়। এর অর্থ হল প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ থেকে একটি ভবিষ্যৎমুখী স্থিতিস্থাপকতা কৌশলের দিকে অগ্রসর হওয়া।

মূল অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিতরণযোগ্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থা এবং মাইক্রোগ্রিডে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিড বিকেন্দ্রীকরণ, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে। এই ব্যবস্থাগুলি কেন্দ্রীভূত সম্পদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে, সংঘাতের পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সত্যিকারের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন তৈরি করে।

হাইব্রিড হুমকির মুখে ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্তরযুক্ত, অভিযোজিত নিরাপত্তা কৌশল অপরিহার্য হবে।

সাইবার হুমকি থেকে জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত করার জন্য ভারত ২০২৪ সালে কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম - পাওয়ার (সিএসআইআরটি-পাওয়ার) প্রতিষ্ঠা-সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে। তবে সাইবার হুমকির ক্রমবর্ধমান বিকশিত প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিকে রেড-টিম সিমুলেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত হুমকি সনাক্তকরণ ব্যবহার এবং একটি শূন্য-বিশ্বাসের কাঠামো বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়ে একটি সক্রিয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আর কটি লক্ষ্যের ক্ষেত্র হল পাওয়ার গ্রিড-সহ জ্বালানি অবকাঠামোতে লিগ্যাসি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল এবং ডেটা অ্যাকুইজিশন  সিস্টেমের সংস্কার ত্বরান্বিত করা। হাইব্রিড হুমকির মুখে ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্তরযুক্ত, অভিযোজিত নিরাপত্তা কৌশল অপরিহার্য হবে।

উপসংহার

ড্রোন, সাইবার আক্রমণ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতের জ্বালানি গ্রিড বহুমাত্রিক হুমকির সামনে দাঁড়িয়েউপকূলীয় মজু বা বিচ্ছিন্ন সংস্কারের মতো অস্থায়ী সমাধান যথেষ্ট হবে না। ভারতকে তার জাতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা সমন্বিত করতে হবে, সাইবার শক্তিবৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীভূত গ্রিড এবং অভ্যন্তরীণ ভাণ্ডারকে সামরিক-গ্রেড নজরদারির সঙ্গে একত্রিত করতে হবে। স্থিতিস্থাপকতা আর ঐচ্ছিক নয়; এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি। ভারতের সামনে একটি কঠিন বিকল্প রয়েছে: হয় সক্রিয় ভাবে বৃদ্ধির ধমনীগুলিকে সুরক্ষিত করা, নয়তো আগামী দিনের যুদ্ধের কুয়াশায় সেগুলি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া।

 


সমীর পাটিল অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজি- ডিরেক্টর।

মনীশ বৈদ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Sameer Patil

Sameer Patil

Sameer Patil is Director, Centre for Security, Strategy and Technology at the Observer Research Foundation. Based out of ORF’s Mumbai centre, his work focuses on ...

Read More +
Manish Vaid

Manish Vaid

Manish Vaid is a Junior Fellow at ORF. His research focuses on energy issues, geopolitics, crossborder energy and regional trade (including FTAs), climate change, migration, ...

Read More +