জলবায়ু-সহনশীল ও উচ্চ মূল্যের জৈবসম্পদ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক শৈবালের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত তার নীল অর্থনীতি, পুষ্টি সুরক্ষা ও জলবায়ু কৌশলের সঙ্গে সামুদ্রিক শৈবাল চাষকে একীভূত করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সম্মুখীন হয়েছে।
সিউইড বা সামুদ্রিক শৈবাল - যা ব্লু ইকোনমির জন্য একটি জলবায়ু-সহনশীল, পুষ্টি-সমৃদ্ধ এবং উচ্চ-মূল্যের জৈব-সম্পদ - তার উৎপাদন ২০০০ সাল থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে ৩২.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যার মূল্য ১৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদনের ৯৭ শতাংশই এশিয়ায় উৎপাদিত হয়, যার প্রধান চালিকাশক্তি হল চিনের উপকূলীয় চাষ, যান্ত্রিক প্রক্রিয়াকরণ এবং শিল্প-স্তরের চাষাবাদ। সামুদ্রিক শৈবালের একটি অনন্য সুবিধা হল: সার, অ্যান্টিবায়োটিক, মিষ্টি জল বা বিশাল ভূখণ্ড ছাড়াই এর দ্রুত বৃদ্ধি, যা স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে হয় এবং দশ ভাগের এক ভাগেরও কম জমিতে তুলনীয় বায়োমাস উৎপাদন সম্ভব করে তোলে। এটি জলের গুণমানকে উন্নত করে, কার্বন শোষণ বৃদ্ধি করে, সমুদ্রের অম্লতা হ্রাস করে এবং পুষ্টি গ্রহণকে উৎসাহিত করে।
পুষ্টিগত ভাবে সামুদ্রিক শৈবাল জীবাণু-প্রতিরোধী, ভাইরাস-প্রতিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, টিউমার-প্রতিরোধী, প্রদাহ-প্রতিরোধী এবং ডায়াবেটিস-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জৈব-সক্রিয় যৌগে সমৃদ্ধ। এটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ৫৪টিরও বেশি জৈবিক ভাবে শোষণযোগ্য ট্রেস মিনারেল এবং উচ্চ প্রোটিন সরবরাহ করে, যা এটিকে খাদ্য, পশুখাদ্য, ঔষধশিল্প এবং প্রসাধনী শিল্পে উপযোগী করে তোলে। এ ছাড়াও এটি জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে মধ্যাহ্নভোজন কর্মসূচি, বায়োফর্টিফিকেশন এবং নারী ও শিশুদের জন্য পুষ্টির সম্পূরক সরবরাহ। খাদ্য ছাড়াও, সামুদ্রিক শৈবাল জলজ চাষে খাদ্যের সংযোজনী, আশ্রয় এবং জলের গুণমান বৃদ্ধিকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিন ও জাপানের পর ইউরোপে সামুদ্রিক শৈবালের উৎপাদন প্রসারিত হচ্ছে, যার মধ্যে নরওয়ে উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নরওয়ে ২০২৩ সালে এই শিল্পকে ‘নরওয়েজিয়ান ফিশ এক্সপোর্ট অ্যাক্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে উপকূলীয় কার্বন ক্যাপচার বৃদ্ধি করা হয়েছে ও সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য লাইসেন্স বা শংসাপত্র চালু করা হয়েছে।
সামুদ্রিক শৈবালের একটি অনন্য সুবিধা হল: সার, অ্যান্টিবায়োটিক, মিষ্টি জল বা বিশাল ভূখণ্ড ছাড়াই এর দ্রুত বৃদ্ধি, যা স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে হয় এবং দশ ভাগের এক ভাগেরও কম জমিতে তুলনীয় বায়োমাস উৎপাদন সম্ভব করে তোলে। এটি জলের গুণমানকে উন্নত করে, কার্বন শোষণ বৃদ্ধি করে, সমুদ্রের অম্লতা হ্রাস করে এবং পুষ্টি গ্রহণকে উৎসাহিত করে।
দীর্ঘ উপকূলরেখা ও সমৃদ্ধ সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও খণ্ডিত শাসনব্যবস্থা, অস্থিতিশীল বাজার এবং দুর্বল পরিকাঠামোর মতো প্রতিবন্ধকতার কারণে ভারত বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদনে ১ শতাংশেরও কম অবদান রাখে। তবে এই বিশ্বব্যাপী অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে ভারত এখন এই প্রতিবন্ধকতাগুলি মোকাবিলা করতে এবং সামুদ্রিক শৈবাল চাষকে তার অর্থনীতি ও পুষ্টির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে একীভূত করার জন্য একটি ব্যাপক নীতি কাঠামো তৈরি করছে।
ভারতের অগ্রগতি এবং মূল্য শৃঙ্খলের সম্ভাবনা
একটি শক্তিশালী নীতি কাঠামোর অধীনে ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল অর্থনীতির দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০০-৫০০ কোটি টাকা মূল্যের এই খাতটিকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প দ্বারা সমর্থিত, যেমন—প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (পিএমএমএসওয়াই ২০২০), যেখানে সামুদ্রিক শৈবাল ভ্যালু চেনের জন্য ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে; টেকনোলজি ইনফরমেশন, ফোরকাস্টিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট কাউন্সিল (টিআইএফএসি) (২০২১)-এর সিউইড মিশন; এবং বিভিন্ন রাজ্য মৎস্য বিভাগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ, যার মধ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজিও (এনআইওটি) অন্তর্ভুক্ত। এই খাতটি শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক সম্ভাবনা প্রদর্শন করে, যার আনুমানিক টার্নওভার ২ বিলিয়ন ভারতীয় টাকা এবং ৭৬৫,০০০ দিনের কর্মসংস্থান রয়েছে, যা ৪০,০০০ উপকূলীয় পরিবারকে সহায়তা করে। প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক মূল্যায়ন(১) ইঙ্গিত দেয় যে, ১২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল (ক্যাপাফাইকাস) চাষের সম্ভাবনা ২৬,০০০ হেক্টর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে, যা ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব এবং ১০৮,৩০০ পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। সামুদ্রিক শৈবাল চাষ প্রচলিত জলজ চাষের তুলনায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অর্থনৈতিক আয় প্রদান করতে পারে, যা প্রায় ১৭ শতাংশ আয় দেয়। সংশোধিত জাতীয় জৈবজ্বালানি নীতি (২০১৮) একটি কার্যকর কাঁচামাল হিসাবে এর সম্ভাবনার উপর আলোকপাত করে: ১০ মিলিয়ন হেক্টর সামুদ্রিক শৈবাল চাষ থেকে ৪৬০ মিলিয়ন টন বায়োমাস এবং ৬.৭ বিলিয়ন লিটার বায়োইথানল উৎপাদন করা যেতে পারে।
প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে, ১২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল (ক্যাপাফাইকাস) চাষের সম্ভাবনা ২৬,০০০ হেক্টর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে, যা ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব এবং ১০৮,৩০০ পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
তা ছাড়া, বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক শৈবাল খাতের একটি উচ্চ বাজার মূল্য রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামুদ্রিক শৈবাল-ভিত্তিক খাদ্য শিল্প, সামুদ্রিক শৈবাল থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোকলয়েডে ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অ্যাগারে ১৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ক্যারাজিননে ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউনিলিভার, সিপলা, দ্য বডি শপ, বিএএসএফ এবং গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল, কৃষি-ব্যবসায়ী এবং প্রসাধনী সংস্থাগুলো এই যৌগগুলিকে ক্ষত ড্রেসিং, ট্যাবলেট, জেলি, টুথপেস্ট, জেল, শ্যাম্পু, স্টেবিলাইজার এবং ঘন করার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে। জিরোসার্কেল-এর মতো ভারতীয় স্টার্টআপগুলি তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের উপকূলীয় রাজ্যগুলি থেকে সংগৃহীত সামুদ্রিক শৈবাল থেকে বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক তৈরি করছে।
তবে এই সম্ভাবনাময় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল শিল্প এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি।
ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ: প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
ভারত যদি দুর্বল বাজার সংযোগ, কৃষকদের জন্য সীমিত আয়ের উৎস, একটি খণ্ডিত মূল্য শৃঙ্খল এবং একটি সংগঠিত শাসন কাঠামোর অনুপস্থিতির মতো একাধিক আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সমাধান না করে, তবে ৯৭ লক্ষ টন সামুদ্রিক শৈবাল অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কেবল একটি আকাঙ্ক্ষা হয়েই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। বর্তমানে সামুদ্রিক শৈবাল একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে, যার প্রত্যেকটির নিজস্ব নিয়মকানুন ও অগ্রাধিকার রয়েছে।
ভারতের কাপাফাইকাস সামুদ্রিক শৈবাল চাষের একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হল, বৈচিত্র্যময় পণ্য সম্ভার বজায় রাখার পরিবর্তে ক্যারাজিনান বা জৈবজ্বালানির মতো একটিমাত্র পণ্যের উপর মনোযোগ দেওয়া, যা আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগে একই প্রবণতা দেখা যায়। অ্যালজিয়া (সংস্থা) এবং উতারি সিউইড কো-অপারেটিভের মতো একটি অধিক স্থিতিস্থাপক মডেল অনুসরণ করা হয়, যা জৈবজ্বালানি, খাদ্য, পশুখাদ্য, ঔষধ এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসের মতো উপজাত পণ্যকে লক্ষ্য করে রাজস্বে বৈচিত্র্য আনে। এই ধরনের বৈচিত্র্যায়নের প্রসারের জন্য একটি নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন, যা সমন্বিত শাসন, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল বাজারের উপর জোর দেবে।
ভারত যদি দুর্বল বাজার সংযোগ, কৃষকদের জন্য সীমিত আয়ের উৎস, একটি খণ্ডিত মূল্য শৃঙ্খল এবং একটি সংগঠিত শাসন কাঠামোর অনুপস্থিতির মতো একাধিক আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সমাধান না করে, তবে ৯৭ লক্ষ টন সামুদ্রিক শৈবাল অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কেবল একটি আকাঙ্ক্ষা হয়েই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে:
১. একটি সুসংহত নীতি কাঠামোর প্রতিষ্ঠা: ভারতের সামুদ্রিক শৈবাল খাতের জন্য এমন একটি শাসন কাঠামো প্রয়োজন যা পরিকাঠামো, উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নকে একীভূত করবে এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় দ্বারা সমর্থিত হবে। ওড়িশার সফল প্রচেষ্টা থেকে শিক্ষা নিয়ে ৩৮৪টি উপকূলীয় স্থানে সামুদ্রিক শৈবাল চাষের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার জন্য রাজ্য-নির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন, যা সামাজিক ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে; চাষের অঞ্চল ও স্থায়ী নোঙর ব্যবস্থার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশিকা এবং স্থানীয় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য উপযোগী একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করবে। এই নীতিগুলিতে অবশ্যই একটি বহু-অংশীজনভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যেখানে শিল্প, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সরকার জড়িত থাকবে। যেহেতু শৈবালজাত খাদ্য এবং জৈব-সক্রিয় উপাদান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, তাই একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে এর গঠন, গুণমান, ফলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজার সংক্রান্ত নিয়মকানুনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শক্তিশালী আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় অপরিহার্য।
২. কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণ: ২০৩০ সালের মধ্যে ৯৭ লক্ষ টন উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য, জলবায়ু-সহনশীল নকশা, উন্নত ফসল-পরবর্তী প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং বিকেন্দ্রীভূত কোল্ড চেন সুবিধাসহ উপকূলীয় ও বৃহৎ পরিসরের স্থাপনায় সামুদ্রিক শৈবাল চাষের সম্প্রসারণ করতে হবে। সামুদ্রিক শৈবালের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার জন্য নির্দিষ্ট চাষ অঞ্চল, উন্নত মানের বীজের জন্য বিকেন্দ্রীভূত নার্সারি, জলবায়ু-সহনশীল জাত, সংগ্রহ কেন্দ্র, কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং খামার থেকে কারখানায় পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন হবে। উন্নত সামুদ্রিক শৈবালের জাত এবং মূল্য সংযোজন প্রযুক্তির উন্নয়নে উৎসাহিত করার জন্য সিএসআইআর-সিএসএমসিআরআই, এনআইওটি এবং আইসিএআর-সিএমএফআরআই-এর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্থিতিশীল অর্থায়ন করতে হবে। এর পাশাপাশি বর্জ্য নিষ্কাশন প্রোটোকল এবং জীবনচক্র মূল্যায়ন (এলসিএ) সহ পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের, বাঁশ, জাল এবং দড়ির মতো উপযুক্ত ও সাশ্রয়ী সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।
৩. একটি স্থিতিশীল বাজার তৈরি করা: প্রমিত মূল্যের অভাব, অস্থিতিশীল বাজার, আমদানি মূল্যের উপর নির্ভরতা এবং পুনঃক্রয় ব্যবস্থা সামুদ্রিক শৈবাল খাতে মূল্যের ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যা কৃষকদের আয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। একটি ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য (এমপিপি) প্রতিষ্ঠা, শিথিল রফতানি বিধিনিষেধ, স্থিতিশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা, জৈব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জলবায়ু অভিযোজন কাঠামো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং বাজারের ওঠানামা কমাবে। সামুদ্রিক শৈবালের গুণমান ও পরিমাণ পর্যবেক্ষণ এবং তহবিল সুরক্ষিত করার জন্য একটি প্রমিত পরিমাপ, প্রতিবেদন এবং যাচাইকরণ (এমআরভি) কাঠামো তৈরি করা অত্যাবশ্যক। একটি স্থিতিশীল বাজার পরিবেশের জন্য উপকূলীয় মূল্য সংযোজন ক্লাস্টার, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং স্টার্টআপগুলিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।
৪. অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ: জৈব-পণ্য নিষ্কাশন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশুদ্ধকরণের জন্য পরিকাঠামোর সীমিত সুযোগের কারণে ভারতে উচ্চ-মূল্যের সামুদ্রিক শৈবাল-ভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, যা উন্নত প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করে এমন নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ২৫,০০০-৩০,০০০ ভারতীয় টাকার একটি স্থিতিশীল আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই নীতিমালায় অবশ্যই প্রতিকূল পরিস্থিতি সহনশীল সামুদ্রিক শৈবালের জাত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালিত ও জলবায়ু-সহনশীল খামার নকশার উন্নয়নকে সমর্থন করতে হবে, যা ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত। হাইড্রোডাইনামিক মডেলিং এবং পরিবহণ সমীক্ষার মতো পরিকল্পনা সরঞ্জাম জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে পারে। অন্য দিকে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ উদ্ভাবনী তহবিল, গবেষণা অনুদান এবং শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতা অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ করতে পারে, যা একটি প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, একটি তথ্য-ভিত্তিক পদ্ধতি - যা সামুদ্রিক শৈবাল চাষের স্থানগুলির জিওট্যাগ করে এবং খামার থেকে কারখানা পর্যন্ত বায়োমাসকে ভূ-স্থানিকভাবে ট্র্যাক করে - তা কার্যকরভাবে সামুদ্রিক শৈবাল চাষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
৫. সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা জোরদার করা: একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক সামুদ্রিক শৈবাল খাত গড়ে তোলার জন্য উপকূলীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা জোরদার করা অপরিহার্য। উপকূলীয় সম্প্রদায়গুলিকে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ এবং মূল্য সংযোজন কার্যক্রমে সক্রিয় ভাবে জড়িত করা উচিত এবং বিশেষ করে উপকূলীয় যুবক ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ওড়িশার চিলিকা হ্রদে ১০০ জন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি - যাঁদের অধিকাংশই নারী - ১০ একর জমি থেকে সামুদ্রিক শৈবাল চাষের সাথে জড়িত এবং প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি), সমবায় এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক উদ্যোগের মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে তা স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে সহায়তা করার জন্য সম্প্রদায়-মালিকানাধীন মূল্য সংযোজন কেন্দ্রগুলিকে উৎসাহিত করতে পারে।
উপসংহার
পিএমএমএসওয়াই এবং আমদানি নির্দেশিকার মতো উদ্যোগগুলি আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং গুণমান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ। সঠিক নীতি এবং সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত তার সামুদ্রিক শৈবাল শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। এই খাতের অগ্রগতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চালিত করবে, পুষ্টি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং নীল অর্থনীতির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে।
পূর্ণিমা ভি বি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট।
[১] টিইএ হল এমন একটি নতুন পণ্য, যা প্রক্রিয়া বা প্রযুক্তির প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করার জন্য একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন। এ ক্ষেত্রে যেমন প্রয়োজনীয় মোট মূলধন বিনিয়োগ এবং লাভজনকতার কথা বলা যেতে পারে।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.