Author : Ramanath Jha

Expert Speak Urban Futures
Published on Apr 30, 2026 Updated 0 Hours ago

একসময় সৌদি আরবের নিওম ভিশনের প্রধান আকর্ষণদ্য লাইনএখন অতি-উচ্চাভিলাষী নগর পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব, ক্রমবর্ধমান খরচ এবং প্রতিবন্ধকতাগুলিকে তুলে ধরে।

সৌদি আরবের ‘দ্য লাইন’: উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়নের মাঝে

প্রায় এক দশক আগে, ২০১৭ সালে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের প্রথম ভবিষ্যৎমুখী, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প ‘নিওম’-এর পরিকল্পনা চালু করেন। এই উচ্চ-প্রযুক্তি উদ্যোগটির জন্য প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৫.৫ লক্ষ কোটি ভারতীয় রুপি)। সৌদি আরবের কঠোর জলবায়ুর কথা বিবেচনা করে, নিওম-এর অবস্থান তাবুক প্রদেশে নির্বাচন করা হয়েছিল সেখানকার অপেক্ষাকৃত সহনীয় তাপমাত্রার জন্য, যেখানে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৪° সেলসিয়াস থেকে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৯° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।

এই প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ব্যয় এর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সৌদি প্রশাসন হয়তো ইরানের সঙ্গে চলতি মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত, যা পরবর্তীকালে উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে, পুরোপুরি অনুমান করতে পারেনি। এই সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং তেল সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে, এবং একই সঙ্গে দুবাই ও দোহা-র মতো আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলিকেও প্রভাবিত করেছে, যা নিওম-এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের উপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলবে।

‘দ্য লাইন’-এর পেছনের রূপকল্প

প্রকল্পটির সবচেয়ে আলোচিত উপাদান ছিল এর কেন্দ্রবিন্দু ‘দ্য লাইন’ ’। এটি একটি অপ্রচলিত ধরনের শূন্য-কার্বন শহর, যা ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং মাত্র ২০০ মিটার চওড়া একটি রৈখিক বসতি হিসেবে পরিকল্পিত। এখানে নব্বই লক্ষ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। প্রকল্পটি একটি উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন শহুরে পরিবেশের কল্পনা করেছিল, যেখানে থাকবে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো এবং বিশ্বমানের জীবনযাত্রা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনোদনমূলক সুবিধা, পাশাপাশি একটি সতর্কভাবে পরিকল্পিত পরিবেশগত কাঠামো। পুরো উন্নয়ন প্রকল্পটি একটি “ব্যক্তিগত যানবাহন নিষিদ্ধ” অঞ্চল হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল, যেখানে থাকবে একটি মুক্ত-বাণিজ্য ব্যবস্থা, একটি স্বতন্ত্র কর কাঠামো, এবং এমন একটি শাসন মডেল যা আন্তর্জাতিক, বহু-‌সাংস্কৃতিক এবং উদারপন্থী জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে তৈরি।

প্রকল্পটির সবচেয়ে আলোচিত উপাদান ছিল এর কেন্দ্রবিন্দু ‘দ্য লাইন’। এটি একটি অপ্রচলিত ধরনের শূন্য-কার্বন শহর, যা ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং মাত্র ২০০ মিটার চওড়া একটি রৈখিক বসতি হিসেবে পরিকল্পিত। এখানে নব্বই লক্ষ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করার কথা ছিল।



‘দ্য লাইন’-এর পরিকাঠামো তিনটি স্তরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল: উপরের স্তরটি পথচারী স্তর হিসেবে, প্রথম ভূগর্ভস্থ স্তরটি পরিকাঠামো স্তর হিসেবে, এবং সর্বনিম্ন স্তরটি পরিবহণ স্তর হিসেবে, যেখানে শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থা থাকবে। এই পরিবহণ ব্যবস্থাটি ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে এর দৈর্ঘ্য বরাবর চলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, যা বাসিন্দাদের প্রায় বিশ মিনিটের মধ্যে শহরের যে কোনও স্থানে পৌঁছে দেবে। প্রকল্পটির বৃহত্তর উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরবের তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে অন্যান্য খাতে বৈচিত্র্যময় করা, যেখানে রিয়েল এস্টেট-চালিত বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পিত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসহ এমন একটি ভবিষ্যৎমুখী বসতির জন্য বিপুল আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তা ছাড়া, প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান চালু করার সময়, এর কোনও প্রতিষ্ঠিত বাস্তবভিত্তিক কার্যকারিতার প্রমাণ ছিল না। তাই, প্রকল্পটি শুধু উচ্চাভিলাষীই ছিল না, বরং অত্যন্ত দুঃসাহসিকও ছিল।

বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

বৃহৎ আকারের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে যেমনটা প্রায়শই ঘটে, ‘দ্য লাইন’ প্রকল্পটিও মাঝপথে গতি হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে ,এবং এর বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব ঘটেছে। এছাড়াও, প্রকল্পটি এখন উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রথম পর্যায়টি ২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ,  যা মোট পরিকল্পিত দৈর্ঘ্যের মাত্র ১.৫ শতাংশ। এমনকি এই সীমিত অংশটিকেও ছোট ছোট, স্বাধীনভাবে বাস্তবায়নযোগ্য খণ্ডে বিভক্ত করা হচ্ছে। সরকার প্রকল্পটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, এবং সম্ভাব্য সুনামগত উদ্বেগের কারণে এমন কোনও ঘোষণা প্রত্যাশিতও নয়। তবে, বিক্ষিপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, প্রকল্পটির অগ্রাধিকার ধীরে ধীরে ডেটা সেন্টারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রগুলির দিকে সরে যেতে পারে। তাই ২০২৬ সালের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, বিশেষ করে যেহেতু এই বছরটিকে প্রকল্পটির জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


বৃহৎ আকারের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে যেমনটা প্রায়শই ঘটে, ‘দ্য লাইন’ প্রকল্পটিও মাঝপথে গতি হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে ,এবং এর বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব ঘটেছে। এছাড়াও, প্রকল্পটি এখন উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।



যদিও এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছিল, ‘দ্য লাইন’ এবং বৃহত্তর নিওম উদ্যোগের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে, এবং কিছু হিসাব অনুযায়ী এর মোট পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে যে সৌদি নীতি নির্ধারকেরা এর একটি উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট সংস্করণ বিবেচনা করছেন, কারণ পরামর্শ ফি এবং নির্মাণ ব্যয় তীব্রভাবে বেড়েছে। পশ্চিমী দেশগুলি থেকে নিয়োগ করা অনেক শীর্ষস্থানীয় পরামর্শদাতা এবং স্থপতি বেশ কিছু পরীক্ষা না-‌করা বৈশিষ্ট্যের নির্মাণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি বলে জানা গিয়েছে। প্রকল্পের আর্থিক উপদেষ্টারাও প্রস্তাবিত এই বিশাল পরিকল্পনাগুলির আর্থিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে তেমন খোলামেলা ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

যেহেতু প্রকল্পটি দৃশ্যমান, বাস্তবভিত্তিক অগ্রগতি এবং বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ধারাবাহিক সমর্থনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই বাস্তবায়নে বিলম্ব এই গিগা-‌প্রকল্পের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। সৌদি আরবের পূর্ববর্তী মেগাপ্রকল্পগুলি, যেগুলো হয় ছোট করা হয়েছিল অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া যেত। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৭ সালে দেশটি ২০০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল; তবে, এটি প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত আকারে বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল, আবরাজ কুদাই, নির্মাণেরও প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু প্রকল্পটি আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং একটি নির্মাণ দুর্ঘটনাসহ উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়, যে দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর এর অগ্রগতি থেমে যায় এবং এর চূড়ান্ত রূপ এখনও অনিশ্চিত। ২০০৮ সাল বরাবর, সৌদি আরব জেড্ডা টাওয়ারের ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করে। এটি তৎকালীন সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার চেয়ে প্রায় ১৮০ মিটার উঁচু হওয়ার কথা ছিল, এবং প্রাথমিকভাবে ২০১৬ সালের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল; তবে, এর নির্মাণকাজ এখনও চলছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই আর্থিক সীমাবদ্ধতা একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয়। এই প্রকল্পগুলি, এবং আরও বেশ কয়েকটি, ‘দ্য লাইন’-এর তুলনায় আকারে উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট এবং নকশা অনুযায়ী আরও প্রচলিত ধরনের ছিল, তবুও এগুলি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল।

গিগা-‌প্রকল্প নকশার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা

এই ফলাফলগুলির প্রেক্ষাপটে, ‘দ্য লাইন’-এর ধীর অগ্রগতি এবং এর আপাত সংকোচন হয়তো পুরোপুরি আশ্চর্যজনক নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই মাপের ও এত উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, কারণ সেখানে নির্বাচনী দায়বদ্ধতার পাশাপাশি একাধিক অংশীদার, ব্যাপক নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রায়শই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে। এর বিপরীতে, অধিক কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সক্ষম করে তুলতে পারে, যদিও তা নিজস্ব উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বা সীমাবদ্ধতা ছাড়া হয় না।


যদিও এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছিল, ‘দ্য লাইন’ এবং বৃহত্তর নিওম উদ্যোগের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে, এবং কিছু হিসাব অনুযায়ী এর মোট পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।



বৃহৎ আকারের গিগা-‌প্রকল্পগুলি প্রায়শই অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর অন্তর্নিহিত গতিপ্রকৃতি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট: কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ স্তরে কেন্দ্রীভূত থাকে, যা দ্রুত অনুমোদন এবং সুসংহত বাস্তবায়ন সক্ষম করে। এই ধরনের প্রেক্ষাপটে, ব্যাপক হারে আর্থিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা কাজে লাগানো যেতে পারে, যার ফলে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ চালিত হয়, যা কখনও কখনও অর্থনৈতিক বিবেচনার পাশাপাশি কৌশলগত সংকেত এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যকেও প্রতিফলিত করে। গিগা-‌প্রকল্পগুলি জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক অবস্থানের প্রকাশ হিসাবেও কাজ করতে পারে। বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী ভবনগুলি এর একটি উপযুক্ত উদাহরণ। উদাহরণস্বরূপ, বুর্জ খলিফা বিদ্যমান বৈশ্বিক মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য নির্মিত হয়েছিল, যা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কাঠামো তৈরির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর উপরের ২৪৪ মিটার—যা এর মোট উচ্চতার প্রায় ২৯ শতাংশ —প্রধানত একটি চূড়া হিসাবে কাজ করে এবং সীমিত কার্যকরী স্থান প্রদান করে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে, বৃহৎ আকারের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন — যার মধ্যে ভৌত সম্ভাব্যতা, আর্থিক সম্ভাব্যতা এবং কাঠামোগত জন বা প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শের মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত — সত্ত্বেও সব সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা একই তীব্রতার সঙ্গে পরিচালিত নাও হতে পারে। ফলস্বরূপ, ঝুঁকি, সুবিধা-অসুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে পদ্ধতিগত বিতর্কগুলি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্থান না-‌ও পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, সম্ভাব্যতা নিয়ে উদ্বেগগুলি প্রকাশ্যে উত্থাপন করা হয় না, বিশেষ করে যেখানে পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই পরিস্থিতি এমন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ করে দিতে পারে যা পরীক্ষিত নয় বা আংশিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। এই ধরনের প্রকল্পের কিছু উপাদান অত্যন্ত অনুমাননির্ভর বা কল্পবিজ্ঞানের মতো কল্পনার উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে হয়, বিশেষ করে নিওম এবং দ্য লাইন-এর ক্ষেত্রে।

প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি এবং সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধির কঠোর পর্যালোচনার অভাবে মেগা-উদ্যোগগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলি সময়ের সাথে সাথে আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। স্বাধীন মূল্যায়নের সীমিত সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন এবং পুনর্বিন্যাসকে জটিল করে তুলতে পারে, যেমনটি সৌদি আরবের নিওম প্রকল্পের ক্রমবিকাশমান গতিপথে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই কাঠামোগত কারণগুলিকে আরও জটিল করে তুলেছে বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে চলতি সংঘাত, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং ঝুঁকি সম্পর্কে বাহ্যিক ধারণাকে আরও প্রভাবিত করতে পারে। সম্পদশালী ব্যক্তিরা, যাঁরা উদীয়মান নগর ও বিনিয়োগ বাস্তুতন্ত্রে অংশগ্রহণের কথা ভেবেছিলেন, তাঁরা বর্ধিত অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। এই ঘটনাপ্রবাহ সৌদি নীতি নির্ধারকদের নিওম-এর বিভিন্ন দিক, যেমন এর পরিধি, পর্যায়ক্রম এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকারগুলি পুনর্বিবেচনা করতে উৎসাহিত করতে পারে, যদিও প্রকল্পটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে, একটি সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।



রামনাথ ঝা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিংগুইশড ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.