জোটের রাজনীতি এবং বৃহৎ শক্তির স্বার্থ কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ককে আকার দিচ্ছে। তবে উভয় পক্ষই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বরফ ভেঙে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঐকমত্যের দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
লি জে-মিউং-এর নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন সিওলে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাশিয়া ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে অনেক পরিবর্তন এসেছে। উত্তর-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার উপর এর প্রভাবের কারণে, দক্ষিণ কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক বিশেষ ভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। উভয় পক্ষই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে রাজনৈতিক সঙ্কেত পাঠিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো অন্যান্য সম্পর্কের তুলনায় খুব কমই পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
রাশিয়ার বিশ্বদৃষ্টিতে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থান
শতাব্দীর শুরুতে রাশিয়ার বিদেশনীতিতে এশীয় প্রসঙ্গের প্রাধান্য একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় - নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সরে এসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপনের দিকে চালিত হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে এমনটা হয়। মস্কোর জন্য, ২০১০-এর দশকে পশ্চিমীদের সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা রাশিয়ার সমীকরণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাধান্য বৃদ্ধি করে। সর্বোপরি, রাশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে (ছয় পক্ষের আলোচনায় অংশ নিয়ে) কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একমত হয়েছে। আলোচনা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয়নি। তবে তা রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে অবদান রেখেছে।
মস্কোর হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার যুক্তির নেপথ্যে ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করতে চাওয়ার বিষয়টি। উপরন্তু, জাহাজ নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে প্রাধান্য দেশটির সঙ্গে যোগাযোগকে আরও আকর্ষক করে তুলেছিল। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রধান কোরিয়ান জাহাজ নির্মাণ সংস্থা দায়েউ (এখন হানওয়া ওশান নামে যা পরিচিত) রাশিয়ার জন্য বিশ্বের প্রথম আইস-ক্লাস এলএনজি ক্যারিয়ার তৈরি করেছিল। তবে ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার পর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকলেও রাজনৈতিক ঐক্য হ্রাস পেতে শুরু করে। উল্লেখযোগ্য চাপ সত্ত্বেও হুন্ডাই, স্যামসাং, এলজি এবং লোটের মতো প্রধান কোরিয়ান সংস্থাগুলি রাশিয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
মস্কোর হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার যুক্তির নেপথ্যে ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করতে চাওয়ার বিষয়টি।
তবে দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের মিলন কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। সিওলের জন্য রাশিয়া লোহা, ইস্পাত ও এলএনজি-র মতো জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সর্বোপরি, রাশিয়া ও অন্যান্য ইউরেশিয়ান দেশের - যেমন মঙ্গোলিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলি – সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা একটি অগ্রাধিকার হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়নের উন্নয়নের মাধ্যমে ইউরেশিয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলকে একীভূত করার বর্ধিত প্রচেষ্টা দক্ষিণ কোরিয়ার এই অঞ্চলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা জোরদার করার প্রেরণা জুগিয়েছে।
এই আগ্রহগুলি দক্ষিণ কোরিয়ার ২০১৩ সালের ইউরেশিয়ান ইনিশিয়েটিভে স্পষ্টতই দেখা গিয়েছে এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের ২০১৭ সালের ‘নতুন উত্তরমুখী নীতি’তে (নিউ নর্থওয়ার্ড পলিসি) আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বছরের পর বছর বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এক সময়ে ধীর থাকা বিনিয়োগও বাড়তে শুরু করে। ২০১৯ সালে রাশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ মোট ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণের ফলে রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে মন্দা দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ রাশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার মোট বিনিয়োগ ৪.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে ইউক্রেন প্রসঙ্গ
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর সিওল মস্কোর পদক্ষেপের নিন্দা করে এবং নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যোগ দেয়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হ্রাস পেতে শুরু করে। ২০২২ সালে এই পরিমাণ ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে আসে (দ্রষ্টব্য চিত্র ১)। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত ছিল, যদিও তা চলছিল ধীর গতিতে। যুদ্ধের প্রথম বছরগুলিতে ইউরোপের মতো দক্ষিণ কোরিয়া রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোকার্বন আমদানি অব্যাহত রেখেছিল। তবে ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার দরুন এটিও হ্রাস পেতে শুরু করে।
এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করার আর একটি কারণ ছিল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার গভীর সম্পর্ক। ২০২২ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আর্টিলারি শেল, স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাঙ্ক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র। পুতিনের পিয়ংইয়ং সফর ও ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমাপ্তি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সারিবদ্ধতা নিশ্চিত করেছে, পূর্ব এশিয়ায় হুমকির ধারণার ভারসাম্য বৃদ্ধি করেছে এবং রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের উপর আরও প্রভাব ফেলেছে।
চিত্র ১: রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য (২০১৪-২০২৪)
উৎস: লেখক কর্তৃক সঙ্কলিত, রসস্ট্যাট, ওইসি এবং অন্যান্য রাশিয়ান সরকারি ওয়েবসাইট থেকে। (বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিলিয়ন মার্কিন ডলারে)
ইউক্রেন-পরবর্তী সময়ে সিওল-মস্কো সম্পর্ক
ইউক্রেন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য মস্কো ও সিওল ইতিমধ্যেই একটি সাধারণ কাঠামোর অন্বেষণ করছে। লি প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার অধীনে সিওল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে তার গভীরতর সামরিক অংশীদারিত্ব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সংলাপ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রক্রিয়াগুলিও অন্বেষণ করছে। এটি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের আগে বিদ্যমান স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার উভয় পক্ষের অভিপ্রায়কেই দর্শায়।
উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আলোচনা - যেমন উড়ান পুনরায় শুরু করা, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রচার করা - এখনও বিবেচনাধীন। এই ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে রাশিয়ায় কোরিয়ান ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য। হুন্ডাই, সাংইয়ং, স্যামসাং এবং এলজি-র মতো কোরিয়ান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করছে। রুজায় অবস্থিত এলজি ইলেকট্রনিক্স কারখানাটি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। একই ভাবে হুন্ডাই সম্প্রতি তাদের ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেছে, যা রাশিয়ায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছে। অন্যান্য ব্র্যান্ডও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্যামসাং তাদের বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বৃদ্ধি করলেও পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেনি; কিয়ার মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাজার থেকে দূরে থাকার ফলে কিয়া, হুন্ডাই এবং স্যামসাং-এর মতো অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সংস্থাগুলির বিশাল ক্ষতি হয়েছে। এই সংস্থাগুলি আগে রাশিয়ার অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স বাজারে আধিপত্য বিস্তার করলেও চিনা সংস্থাগুলি এখন তাদের ছাড়িয়ে গেছে, যারা এখন অটোমোবাইল বাজারের ৬২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাত্রা কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অবস্থার উপর নির্ভর করে। কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্কেও এ কথা বলা যেতে পারে।
স্বাভাবিকতা ফিরে না আসা পর্যন্ত (রাশিয়ার পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক-সহ), দক্ষিণ কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরে আসা প্রতিবন্ধকতাময় হবে।
বর্তমানে সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির (কোরিয়া ও রাশিয়া) স্বার্থ এবং তারা নিজেদের কোথায় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিবিরে, চিন শিবিরে অথবা স্বাধীন হিসেবে) দেখে, তার উপর। এই দু’টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সম্পর্কের অগ্রগতি তিনটি স্তরে একত্রিত হওয়ার মাত্রার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, আঞ্চলিক (উত্তর-পূর্ব এশিয়া) নিরাপত্তা গণনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, জাতীয় স্তর (সম্পর্কিত দেশগুলির দ্বিপাক্ষিক জোট/আধা-জোট বিবেচনা)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আঞ্চলিক সম্পর্কগুলিকে ব্লকে বিভক্ত করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়া বিপরীত শিবিরে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে উভয় দেশই কৌশলগত কৌশলের জন্য কম জায়গা পেয়েছে। এটি সহযোগিতার সুযোগকে সীমিত করে এবং প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। আঞ্চলিক স্তরে, উভয়ের মধ্যে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমবর্ধমান। এই সমন্বয় আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন সাধারণ বোঝাপড়া থেকেও উদ্ভূত হয়।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জাতীয় রাজনীতি; মস্কো ও সিওলের বিদ্যমান সম্পর্ক (বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে) কী ভাবে তাদের নিজ নিজ কৌশলগত গণনাকে প্রভাবিত করে। চিরাচরিত ভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া একত্রে কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উভয় দেশই তাদের স্বার্থের ক্ষেত্রে ক্রমশ ভিন্ন হয়ে উঠেছে। মূল বিষয়গুলিতে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। একই ভাবে, দক্ষিণ কোরিয়াও একটি কৌশলগত দ্বিধাগ্রস্ততার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ ইউরোপ ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসাবে তাদের সম্প্রসারিত সম্পর্ক উভয় দিকেই প্রসারিত করার সুযোগ নেই। একই ভাবে, কোরিয়ান উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়ার খানিকটা হলেও দূরত্ব বজায় রেখে সম্পর্ক ধরে রাখার কৌশল দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছে। সুতরাং এই জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় এবং ইন্দো-প্যাসিফিক সংক্রান্ত বিবেচনাগুলি এই দেশগুলিকে বিভিন্ন দিকে চালিত করবে, বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক স্বার্থ তাদের আরও কাছে ঠেলে দেবে।
এগিয়ে যাওয়ার পথ
স্বাভাবিকতা ফিরে না আসা পর্যন্ত (রাশিয়ার পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক-সহ), দক্ষিণ কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরে আসা প্রতিবন্ধকতাময় হবে। তবে মনে হচ্ছে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার আগে উভয় পক্ষই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বরফ ভেঙে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে।
এখন জোট রাজনীতি ও অঞ্চলে বৃহৎ শক্তির স্বার্থের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষিতে, রাশিয়াকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, সিওলের পদক্ষেপের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে না কি হিসেব-নিকেশ করে তীব্রতর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে তার নিজের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সুরক্ষিত করে এমন একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়া না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষই বাহ্যিক কারণগুলিকে উপেক্ষা করবে… এমন আশা করা কঠিন হবে। এর জন্য সিওল ও মস্কোকে সমস্ত বিতর্কিত বিষয়গুলিতে ঐকমত্যে পৌঁছনোর জন্য রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। যদি তেমনটা না হয়, তা হলে তারা পরবর্তী বৃহৎ শক্তির সমীকরণে দ্বিতীয় স্থানে অংশগ্রহণ করার ঝুঁকি নেবে।
অভিষেক শর্মা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
রাজোলি সিদ্ধার্থ জয়প্রকাশ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Abhishek Sharma is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the Indo-Pacific regional security and geopolitical developments with a special ...
Read More +
Rajoli Siddharth Jayaprakash is a Junior Fellow with the ORF Strategic Studies programme, focusing on Russia’s foreign policy and economy, and India-Russia relations. Siddharth is a ...
Read More +