Published on Aug 04, 2025 Updated 14 Hours ago

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমর্থক হিসাবে রাশিয়ার ভূমিকা পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েক দশকের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ার ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার অংশীদারিত্ব: পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে উদ্বেগ বৃদ্ধি

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া (ডিপিআরকে বা উত্তর কোরিয়া) ও রাশিয়া একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন স্তরের উচ্চতার প্রতিনিধিত্ব করে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী উভয় পক্ষ তাদের অংশীদারদের একজনের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা প্রদান করবে। চুক্তিটি পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধের ব্যবস্থাও করে।

২০২৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা রিপোর্ট করেছেন যে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে
বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, যার লক্ষ্য পিয়ংইয়ংয়ের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। তার উপর, তাদের সৈন্যদের জন্য তেল এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মস্কো ডিপিআরকে-‌কে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করছে বলেও রিপোর্ট এসেছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশগ্রহণের সময় ডিপিআরকে-‌কে রাশিয়ার সমর্থন নিউ স্টার্ট চুক্তির মতো আলোচনার বৈধতা এবং বিশ্বব্যাপী নিরস্ত্রীকরণের বৃহত্তর অ্যাজেন্ডাকে ক্ষুণ্ণ  করে। এটি  চ্যালেঞ্জ করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সংহতিকে, যেখানে একজন প্রধান স্বাক্ষরকারীর প্রমাণিত অপব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়।


অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশগ্রহণের সময় ডিপিআরকে-‌কে রাশিয়ার সমর্থন নিউ স্টার্ট চুক্তির মতো আলোচনার বৈধতা এবং বিশ্বব্যাপী  নিরস্ত্রীকরণের বৃহত্তর অ্যাজেন্ডাকে ক্ষুণ্ণ করে।



রাশিয়ার মতো আরেকটি পারমাণবিক দেশের সমর্থন পেয়ে
পারমাণবিক উত্তর কোরিয়া আরও শক্তিশালী হলে আশেপাশের সমস্ত দেশ এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলির জন্য, বিশেষ করে পিয়ংইয়ং থেকে হুমকির মুখে থাকা দেশগুলির জন্য, প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর একটি ফলাফল হতে পারে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার (যারা বর্তমানে মার্কিন পারমাণবিক ছাতার নিচে সুরক্ষিত) পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ইচ্ছা, যার ফলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

একটি কৌশলগত মিলন

যদিও সোভিয়েত ইউনিয়ন এক সময় উত্তর কোরিয়ার উপর যথেষ্ট প্রভাব বজায় রেখেছিল, ঠান্ডা যুদ্ধের পরে সম্পর্ক ঠান্ডা হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি  সংযোগগুলির পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যখন রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমী চাপ এবং নিষেধাজ্ঞাগুলি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।

উত্তর কোরিয়া তার পক্ষ থেকে একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে দেশটি তার অস্ত্রাগারগুলিকে ক্রমাগত উন্নত করেছে, এবং
মার্কিন ভূখণ্ডে পৌঁছতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং এগিয়ে চলেছে, আর এখন কিছুটা হলেও মস্কোর ক্রমবর্ধমান সমর্থনমূলক অবস্থানের দ্বারা উৎসাহিত হয়েছে।

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু বিস্তারের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমী শক্তির তুলনায় নরম নীতি গ্রহণ করেছে। প্রায়শই তারা আরও নিষেধাজ্ঞা জারির পরিবর্তে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের উপর নির্ভর করে, যার ফলে পিয়ংইয়ং তার অস্ত্র উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। যদিও পিয়ংইয়ং কী মাত্রায় অস্ত্র তৈরি করছে তা সম্পূর্ণরূপে যাচাই করা হয়নি,
প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায় যে, উল্লেখযোগ্যভাবে এবং বারবার তারা রাশিয়ার সমর্থন পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার কেএন-২৩ স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা সোভিয়েত যুগের আর-১৭ এলব্রাস ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ডেরিভেটিভ, বেশ কয়েকটি রুশ প্রযুক্তি এবং উপকরণকে একীভূত করে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রুজ ইঞ্জিনে রাশিয়ান রোটারি হুড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য হল বৃত্তাকার খাঁজ। এর উপাদান চিহ্নগুলিও রাশিয়ার মান মেনে চলে, বিশেষ করে "ইউনিফাইড সিস্টেম অফ ডিজাইন ডকুমেন্টেশন" এবং জিওএসটি ২.১১৩-৭৫, যা রাশিয়ার নকশা প্রোটোকল নির্দেশ করে। ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের রাসায়নিক গঠন রাশিয়ায় উৎপত্তির ইঙ্গিত দেয়। জ্বালানি ট্যাঙ্কটি রাশিয়ান স্টিল গ্রেড (১২X২এনভিএফএ, ১৯X২এনভিএফএ, ২১X২এনভিএফএ, এবং ২৩X২এনভিএফএ) দিয়ে তৈরি, যখন গ্যাস-গতিশীল নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠগুলি রাশিয়ান গ্রেড ৯ টাংস্টেন অ্যালয় (রাশিয়ার মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত) দিয়ে তৈরি।

এই প্রযুক্তি ও উপকরণগুলির স্থানান্তর সম্ভবত ২০২৩ সালের আগে ঘটেছিল, কারণ কেএন-২৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়া প্রথম ২০১৯ সালের মে মাসে পরীক্ষা করেছিল, যা গত পাঁচ বছরে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়।


রাশিয়া ১৯৬৮ সালে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং এনপিটির আওতায় থাকা পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হিসাবে এর নীতিমালা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে।



অস্ত্রপ্রসার-‌রোধ ব্যবস্থার ক্ষয়

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক বিশ্বব্যাপী অস্ত্রপ্রসার-‌রোধ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত করে, বিশেষ করে
পারমাণবিক অস্ত্রপ্রসার-‌রোধ চুক্তিকে (এনপিটি), যা ১৯৬৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিপ্রস্তর। রাশিয়া  ১৯৬৮ সালে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং এনপিটির আওতায় থাকা পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হিসাবে এর নীতিমালা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে, ২০০৩ সালে এনপিটি থেকে সরে যাওয়া এবং এর নীতিমালা লঙ্ঘনকারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে দেশটি চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইঙ্গিত দেয় যে এমনকি প্রধান পারমাণবিক শক্তিগুলিও ভূ-রাজনৈতিক লাভের জন্য অস্ত্রপ্রসার-‌রোধ মান ইচ্ছামতো প্রয়োগ করতে পারে। এটি কূটনৈতিক ঐকমত্যকে জটিল করে তোলে এবং ইরানের মতো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন অন্যান্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি লঙ্ঘন করতে উৎসাহিত করে।

পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার, বিশেষ করে একটি বৈশ্বিক শক্তির অন্তর্নিহিত মদতে, কোরিয়ার বাইরেও অনেক অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দেয়। এটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, যার প্রয়োগ বা পরিণতি অপ্রতুল।

বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির গতিশীলতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শুধু উত্তর কোরিয়ার প্রতি রাশিয়ার সমর্থনই নয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সমর্থনে ডিপিআরকে তাদের
সৈন্য ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। এই সংযোগ উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হিতৈষী চিনের সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তর সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান সারিবদ্ধতাকে শক্তিশালী করে। এই তিনটি শক্তি একসঙ্গে পূর্ব এশিয়ায় পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমী নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টার জন্য একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে, যা ঐক্যবদ্ধ কূটনীতি, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন বা পিয়ংইয়ংয়ের উপর ঐক্যবদ্ধ চাপ প্রয়োগকে আরও কঠিন করে তোলে।


পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে অবস্থিত ভারতের একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসাবে কাজ করার সুযোগ আছে, কারণ ভারত পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা সমর্থন করে।


এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলিও এই গভীরতর জোটের দ্বারা প্রভাবিত। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা বা রাজনৈতিক সহায়তা দ্বারা সম্ভাব্যভাবে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বিপদের আশঙ্কা তৈরি করছে। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও চিনের পদক্ষেপগুলি বিশ্বব্যবস্থাকে খণ্ডিত করায় অবদান রাখে, যা আবার সাধারণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জ করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, ভারতও রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে একটি জটিল কৌশলগত ভারসাম্যমূলক খেলায় জড়িত, যেমনটি কুড়নকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে দেখা গিয়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক পারমাণবিক হুমকি, বিশেষ করে রাশিয়া-সমর্থিত উত্তর কোরিয়া থেকে উদ্ভূত বিপদ, নিয়েও ভারত উদ্বিগ্ন। সেইসঙ্গে ভারত নিরস্ত্রীকরণ আলোচনাতেও সক্রিয়ভাবে জড়িত, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের পারমাণবিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনা

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অংশীদারি একটি কৌশলগত সমন্বয় এবং বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রপ্রসার-‌রোধ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমর্থক হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দিকে কয়েক দশকের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার ঝুঁকি তৈরি করে। ভারতের জন্য, এই ক্রমবর্ধমান গতিশীলতা উদীয়মান বৈশ্বিক দায়িত্বের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী জোটের ভারসাম্য বজায় রাখার অসুবিধাকে তুলে ধরে। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে অবস্থিত ভারতের একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসাবে কাজ করার সুযোগ আছে, কারণ ভারত পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা সমর্থন করে। তবে, কাজটি করার জন্য সতর্ক কূটনীতি এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রতি অটল দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।



শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Shravishtha Ajaykumar

Shravishtha Ajaykumar

Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...

Read More +