২০২৫ সালে যে সব উদ্বেগ ও যুক্তিতর্ক জনস্বাস্থ্যকে ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল, তাই নিয়ে একটি পর্যালোচনা।
ছবিসূত্র: গেটি ইমেজেস
প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন অন্যের নানাবিধ তথ্যে ভরে ওঠে: স্পটিফাইয়ের সবচেয়ে বেশি শোনা ট্র্যাক, ইউটিউবের রিওয়াইন্ড ফিচার কিংবা ব্যবহারকারীর জন্য রেডিটের বার্ষিক আত্মপ্রতিকৃতি বা সেলফ-পোর্ট্রেট সংক্রান্ত তথ্য। এই প্রতিবেদনে এর মধ্যেই একটি কেজো বিষয়কে আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে। গুগলের নিউজ ট্যাবকে মোটের উপর নির্ভরযোগ্য প্রতিফলক ধরে নিয়ে এখানে ২০২৫ সালের প্রতিটি ১৫ দিনের পর্বে ‘ভারত’ + ‘স্বাস্থ্য’… এই দু’টি কিওয়ার্ডের জন্য প্রায় ৩০ পৃষ্ঠার ফলাফলের পর্যালোচনা করা হয়েছে (প্রতি পৃষ্ঠায় ১০টি নিবন্ধ)। অ্যালগরিদমকে কোনও ভাবেই নিরপেক্ষ আর্কিভিস্ট বা সংরক্ষক বলা চলে না। কারণ সংবাদ অবস্থান, ভাষা, অতীতের ক্লিক এবং প্ল্যাটফর্মগুলির নিজস্ব বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ কথা মাথায় রেখেও বলা যায়, যে সমস্যাগুলি বারবার সামনে উঠে আসছে, তা নেহাতই সামান্য বিষয় নয়। বরং যা প্রকাশ্যে আসছে, তা হল সেই পুনরাবৃত্ত মুহূর্তগুলিরই একটি রিওয়াইন্ড, যা ২০২৫ সাল জুড়ে ভারতের পর্দায় বারবার ফিরে আসা জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগগুলিকে চিহ্নিত করার একটি প্রচেষ্টা।
জানুয়ারি-মার্চের স্মৃতিচারণ ভারতের স্বাস্থ্য উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার (ইউপিএফ) এবং এইচএফএসএস (উচ্চ চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত) পণ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নতুন করে যে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, তা থেকে এই বিষয়টিই উঠে এসেছে যে, জীবনযাত্রা ব্যক্তিগত পরিসর থেকে বেরিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির জগতে প্রবেশ করেছে। তবুও এর পরবর্তী কেন্দ্রীয় বাজেট এই অন্তর্দৃষ্টিকে পরিচিত পথেই চালিত করেছে; যেমন— মেডিক্যালে আসন বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমের প্রতি নতুন করে মনোযোগ। এর পাশাপাশি মহাকুম্ভ জাতীয় সক্ষমতা সম্পর্কে এক ভিন্ন ধরনের বিবৃতি হয়ে উঠেছে: এটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে পবিত্র জলের মধ্য দিয়ে পার করার জন্য আধুনিক জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন এবং নজরদারির এক বিশাল মহড়া প্রদর্শন করে। যদিও এই আয়োজনের আড়ালে জলের গুণমান নিয়ে উদ্বেগ এক অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করেছিল।
চিত্র ১: ২০২৫ সালের শুরুর দিকের সূচনা পর্বের রূপরেখা

উৎস: লেখক কর্তৃক (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭) থেকে সঙ্কলিত
চিত্র ১-এর নানাবিধ প্রসঙ্গ এই প্রশ্নের উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, আসলে কারা সেবা প্রদান করবে এবং কার শর্তে করবে। অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ব্লিঙ্কিটের প্রবেশ শেষ-পর্যায়ের লজিস্টিকসকে মুদিখানার সামগ্রী সরবরাহ থেকে জরুরি পরিবহণে প্রসারিত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরীক্ষা, যা অ্যাম্বুলেন্সকে কেবল আর একটি অন-ডিমান্ড প্রোডাক্ট বা চাহিদাভিত্তিক পণ্যে পরিণত করে। বিপদটি হল, এর ফলে জরুরি সেবা একটি নিয়ন্ত্রক ধূসর অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে প্রতিক্রিয়ার সময় ও ভৌগোলিক অবস্থান জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনের পরিবর্তে অর্থপ্রদানকারী চাহিদার ধরন অনুসরণ করতে পারে।
বিপদটি হল, জরুরি সেবা একটি নিয়ন্ত্রক ধূসর অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে প্রতিক্রিয়ার সময় ও ভৌগোলিক অবস্থান জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনের পরিবর্তে অর্থপ্রদানকারী চাহিদার ধরন অনুসরণ করতে পারে।
এপ্রিল-জুনের স্মৃতিচারণ স্বাস্থ্যখাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মঞ্চে নিয়ে এল
এলি লিলির মুঞ্জারোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য নোভো নরডিস্কের ওয়েগোভাই অবশেষে বাজারে আসায় এবং এর পরপরই এর কুইকপেন ফরম্যাট অনুমোদন পাওয়ায়, এই দু’টি বহুজাতিক সংস্থা স্থূলতা ও ডায়াবেটিস চিকিৎসার একটি উচ্চ-মুনাফার বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করছে। এই ক্ষেত্রটিতে মাসিক কোর্সগুলির মূল্য সাধারণত ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ ভারতীয় টাকার মধ্যে থাকে, যা কেবল অল্প সংখ্যক বিত্তশালী ভারতীয়র পক্ষেই বহন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি, আদানি গ্রুপ মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আদানি হেলথ সিটির ঘোষণা করেছে, যেখানে ৬,০০০ কোটি ভারতীয় টাকা বিনিয়োগে মুম্বই এবং আমদাবাদে দু’টি ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই বৈপরীত্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এক দিকে বিশ্বব্যাপী ওষুধ সংস্থাগুলি সাপ্তাহিক ইনজেকশন বিক্রি করছে, যা ওজন কমানোর জৈব-বিলাসিতাকে মূর্ত করে; অন্য দিকে, একটি বহুজাতিক সংস্থা দেশের নিজ অংশে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ এবং রেফারেল পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করার জন্য বড় বড় শিক্ষাদানকারী হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ তৈরি করছে। মধ্য-বছরের এই ঘটনাগুলির একটি সময়রেখা চিত্র ২-এ দেওয়া হয়েছে।
চিত্র ২: মধ্য-২০২৫ নতুন ক্ষমতাধরদের প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে

উৎস: লেখক কর্তৃক (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮) থেকে সঙ্কলিত
জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যালোচনা: ভারত কী খায় এবং কাকে বিশ্বাস করে
ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য (এফটিএ) চুক্তি খাদ্য নীতি এবং জনস্বাস্থ্যকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছে। এফটিএ নিয়ে করা মন্তব্যে সতর্ক করা হয়েছে যে, ব্রিটিশ চকোলেট, সফট ড্রিঙ্কস এবং অন্যান্য এইচএফএসএস পণ্যের শুল্কমুক্ত বা সস্তা প্রবেশাধিকার ভারতীয় শিশুদের জন্য ইতিমধ্যেই বিদ্যমান আগ্রাসী ইউপিএফ পরিবেশকে আরও গভীর করবে। এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাবে মেক্সিকোর নাফটা-পরবর্তী (উত্তর আমেরিকান এফটিএ) অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে চিনিযুক্ত পণ্যের আমদানির প্রবাহ স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের তীব্র বৃদ্ধির কারণ হয়েছিল, যা বহু বছর পরে কর এবং সতর্কতামূলক লেবেল আরোপ করার পর নিয়ন্ত্রণে আসে। একই ত্রৈমাসিকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) স্কুলগুলিকে ‘সুগার বোর্ড’ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে দৈনিক চিনি গ্রহণের প্রস্তাবিত পরিমাণ এবং পরিচিত জলখাবার ও পানীয়তে চিনির পরিমাণ তালিকাভুক্ত থাকবে। ভারতীয় এবং বিদেশি সংস্থাগুলির এইচএফএসএস পণ্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক ভাবে উপলব্ধ; এই এফটিএ আমদানি করা আরও একগুচ্ছ ব্র্যান্ডের জন্য প্রবেশাধিকার সহজ করে দেবে। একই সময়ে রাষ্ট্রের আর একটি শাখা স্কুলগুলিকে তাদের করিডোরে বোর্ড প্রদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কী ভাবে এই ধরনের পণ্যগুলি স্থূলতার সমস্যায় অবদান রাখে। বছরের মাঝামাঝি সময়ের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র চিত্র ৩-এ তুলে ধরা হয়েছে।
চিত্র ৩: ২০২৫-এর মাঝামাঝি সময়ে জনদৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে খাদ্য ও বিশ্বাস

উৎস: লেখক কর্তৃক (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (৯), (১০), (১১), (১২) থেকে সঙ্কলিত
বছরের শুরুতে আদানি গ্রুপ ‘হেলথ সিটি’র ঘোষণা করেছিল। সম্প্রতি আর একটি বেসরকারি সংস্থার ঘোষিত একটি বৃহৎ প্রকল্প একই ধরনের একটি রূপকল্প তুলে ধরেছে: মুম্বইতে ২,০০০ শয্যার একটি ‘মেডিকেল সিটি’, যা নিজস্ব মেডিকেল কলেজ-সহ বিশ্বমানের কর্মী দ্বারা পরিচালিত একটি কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপিত হবে। এই পদক্ষেপগুলি কর্পোরেট-শিক্ষার পূর্ববর্তী ধারাকে একটি বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের দিকে প্রসারিত করছে: শিক্ষাদান ব্যবস্থা এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে এবং যে প্রকল্পগুলিকে সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হয়, সেগুলিই স্বাস্থ্যসেবা বাজারে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। প্রায় একই সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কী ভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রাইভেট ইক্যুইটি/ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (পিই-ভিসি) স্বাস্থ্যসেবা বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছে এবং বিদেশি তহবিলগুলি এখন বেশ কয়েকটি বড় শৃঙ্খলের প্রধান অংশীদার হয়ে উঠেছে। এরপর ছিন্দওয়াড়ায় (মধ্যপ্রদেশ) বিষাক্ত কাশির সিরাপ নিয়ে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা এই বড়সড় চুক্তিগুলির এক নির্মম বিপরীত চিত্র তুলে ধরে: স্থানীয় ভাবে বিক্রি হওয়া ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল মেশানো সিরাপ খেয়ে শিশুদের মৃত্যু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সতর্কতা, রাজ্যব্যাপী নিষেধাজ্ঞা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান, যা ভেজাল কাঁচামাল ও পরিদর্শনে ব্যর্থতার বিষয়টিকে আরও প্রকাশ্যে এনে দেয়।
সাধারণ মানুষের স্তরে যুক্তিগুলি হয়তো খুব ভিন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের বিষয় ঘিরেই আবর্তিত হয়। অগস্ট মাসে পথকুকুর নিয়ে দিল্লির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিবাদ একটি জাতীয় আলোচনার জন্ম দেয় যে, এতে কার ঝুঁকি বেশি: রাজধানীতে প্রতিদিন কুকুরের কামড়ের ঘটনা এবং জলাতঙ্কের রোগী শনাক্ত করা বাসিন্দাদের ঝুঁকি বেশি না কি গণহারে আটক ও হত্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাণী-কল্যাণ গোষ্ঠীগুলির ঝুঁকি? এর ফলে আদালতকে শেষ পর্যন্ত তার আগের নির্দেশনা শিথিল করতে হয়েছিল।
অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যায়ের স্মৃতিচারণ ভারতের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জালকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে
দিল্লির শীতকালীন ধোঁয়াশা সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ যে, কী ভাবে ভারতের সুরক্ষা জালগুলি এখনও বিপরীত কাজ করে। প্রতি অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে, শহরটি আদালতের আদেশ, বাজি পোড়ানোর উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা, জরুরি ব্যবস্থা এবং তীব্র বায়ুমান সূচকের দিনগুলির একই চক্রের মধ্যে দিয়ে যায়। তবুও এর প্রতিক্রিয়া কাঠামোটি এখনও বছরব্যাপী বিনিয়োগের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সঙ্কট ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করেই নির্মিত। সূক্ষ্ম বিষয়টি হল এই যে, দিল্লির বাসিন্দারা এই আখ্যানের নিষ্ক্রিয় চরিত্র মোটেও নন। শহুরে ভোটার বা কৃষক কাউকেই দূরে সরিয়ে না দেওয়ার রাজনৈতিক অনীহার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে ইটভাটা এবং ফসল পোড়ানোর মতো কাঠামোগত সমস্যাও বিদ্যমান। এর ফলস্বরূপ একটি পুনরাবৃত্ত জরুরি অবস্থা তৈরি হয়, যা আনুষ্ঠানিক ভাবে কারও দোষ নয়, কিন্তু সমস্যা নিঃসন্দেহে সকলেরই।
এটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যকে একটি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা ব্যবস্থার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় হিসেবে দেখানোর যুক্তির সঙ্গে খাপ খায়; যদি টেলিমেডিসিনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মানবিক দক্ষতাকে পদ্ধতিগত ভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়, তবে এই মডেলটি পেশাদারদের কাছ থেকে সময় আদায়ের আর একটি উপায় হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে, অ্যাপোলো টেলিহেলথের পারিশ্রমিক বিতর্কটি দেখিয়ে দেয় যে, কর্মীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল হতে পারে। যোগ্য ডাক্তারদের প্রতিটি টেলি-পরামর্শের জন্য একটি হালকা খাবারের দাম দেওয়ার প্রস্তাব এবং তার সঙ্গে কল ধরতে না পারা বা অন্য কলে স্থানান্তরিত করার জন্য জরিমানার ব্যবস্থা… এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কিছু প্ল্যাটফর্ম মডেল তাদের প্রবৃদ্ধির কৌশলে ক্লিনিক্যাল শ্রমকে সবচেয়ে সস্তা পরিবর্তনযোগ্য উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যকে একটি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা ব্যবস্থার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় হিসেবে দেখানোর যুক্তির সঙ্গে খাপ খায়; যদি টেলিমেডিসিনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মানবিক দক্ষতাকে পদ্ধতিগত ভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়, তবে এই মডেলটি পেশাদারদের কাছ থেকে সময় আদায়ের আর একটি উপায় হয়ে ওঠে। বছরের শেষের দিকে আইনি ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার’ নিয়ে বিতর্কটিও এই ক্রমবর্ধমান উপলব্ধির ইঙ্গিত দেয় যে, সুরক্ষা ব্যবস্থা আসলে সময় এবং মনোযোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত। কর্মঘণ্টার বাইরে কাজের যোগাযোগের উপর আনুষ্ঠানিক সীমা প্রস্তাবকারী একটি বিল রাতারাতি ভারতীয় শ্রম আইন পরিবর্তন করবে না এবং নার্স, রেসিডেন্ট ডাক্তার বা চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবর্তে বেতনভুক্ত, হোয়াইট-কলার কর্মীদের একটি সঙ্কীর্ণ অংশের জন্য এই ধরনের সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে— এমনটা কল্পনা করাই সবচেয়ে সহজ। তা সত্ত্বেও, সংসদে এর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা এখন আইনগত ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। বছরের শেষের দিকের এই ঘটনাগুলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র চিত্র ৪-এ তুলে ধরা হয়েছে।
চিত্র ৪: ২০২৫ সালের শেষভাগ এবং ভারতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা জাল

উৎস: লেখক কর্তৃক (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (৯), (১০), (১১), (১২), (১৩), (১৪), (১৫) থেকে সঙ্কলিত
২০২৬ সালটি আসলে কোন কোন বিষয়কে পরীক্ষার মুখে ফেলছে
সারা বছর ধরে একই উদ্বেগগুলি বিভিন্ন রূপে বারবার ফিরে এসেছে: মানুষ যে বাতাসে শ্বাস নেয়, যে খাবার কেনে এবং তাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় লুকিয়ে থাকা বিপদ। ভারতীয়দের এমন এক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বলা হচ্ছিল, যেখানে ঝুঁকি পরিবেষ্টিত ও বিক্ষিপ্ত, এবং দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাবা-মা ও ভোক্তাদের উপর। এর পাশাপাশি, যারা এই ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখে, সেই মানুষদের নিয়েও একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছিল। কর্মশক্তিকে দুষ্প্রাপ্য এবং ব্যয়যোগ্য— উভয় হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছিল। তৃতীয় একটি সূত্র বছরটিকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছিল: স্বাস্থ্য এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে পুঁজি, প্রযুক্তি এবং কূটনীতি দ্রুত এগিয়েছে। ২০২৫ সালের এই পরস্পর সংযুক্ত বিষয়গুলির একটি পরিকল্পিত রূপরেখা চিত্র ৫-এ উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিত্র ৫: ২০২৫ সালে ভারতের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনায় উঠে আসা প্রতিনিধিত্বমূলক বিষয়সমূহ

তাই ২০২৬ সালটিতে ভারত নতুন কোনও স্বাস্থ্য উদ্যোগ যোগ করবে কি না… এটি নয়, বরং প্রশ্নটি হল, ভারত সেই শূন্যস্থানগুলি পূরণ করতে পারবে কি না, যার কারণে এই ঘটনাপ্রবাহের অনেকগুলিকেই পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়। বায়ুর গুণমান পরিকল্পনা, এইচএফএসএস প্রবিধান, চিকিৎসা শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য পাইলট প্রকল্প ইতিমধ্যেই বিদ্যমান। তাই ২০২৬ সালের জন্য পরীক্ষা হল, এগুলি বার্ষিক আলোচনার বিষয়বস্তু না হয়ে সত্যিকারের সুরক্ষাজাল হিসেবে কাজ করতে শুরু করে কি না। যদি কোনও মঞ্চ জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ‘রিওয়াইন্ড ২০২৬’ করে, তবে সেই আশাব্যঞ্জক সংস্করণে পুনরাবৃত্ত পথের সংখ্যা কম দেখা যাবে এবং এমন একটি ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রযুক্তি ও পুঁজির উপর করা বড় বাজিগুলো আস্থা, প্রবিধান এবং দৈনন্দিন সুরক্ষার এক মজবুত ভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
কে এস উপলব্ধ গোপাল অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. K. S. Uplabdh Gopal is an Associate Fellow with the Health Initiative at the Observer Research Foundation. He writes and researches on how India’s ...
Read More +