অউকাসের পুনরুজ্জীবন ইন্দো-প্যাসিফিকের ভঙ্গুর সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা আনার জন্য ওয়াশিংটনের সংকল্পের একটি পরীক্ষা।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের সূচনা বিশ্ব নিরাপত্তা কাঠামোতে একটি নতুন সমন্বয় প্রক্রিয়া নিয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন সংঘাতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত ভূমিকা ক্ষমতার খেলায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিভিন্ন বৈশ্বিক অংশীদারের কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে এটি এখনও একটি অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহত্তর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অঞ্চলের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিন্যাসের উপর মনোযোগ দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা গঠিত একটি ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি অউকাসের লক্ষ্য হল চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মধ্যে এই অঞ্চলে ক্ষমতার সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করা।
এই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। কারণ তিনটি প্রধান ক্ষুদ্র-বহুপাক্ষিক গোষ্ঠী, যা ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ধারণ করে — অউকাস (অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), কোয়াড এবং দ্য স্কোয়াড — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। ২০২৪ সালে গঠিত স্কোয়াড গোষ্ঠীটিতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ফিলিপিন্স। দক্ষিণ চিন সাগর (এসসিএস) অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব এবং সংঘাতপূর্ণ আচরণের মধ্যে এটি কোনও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্রুত অবনতিশীল সম্পর্কের কারণে কোয়াডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা শীর্ষ সম্মেলনের উপর সংশয়ের ছায়া ফেলেছে। উপরন্তু, অউকাসও একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, যখন হোয়াইট হাউস ২০২৫ সালের জুনের শুরুতে ঘোষণা করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অগ্রাধিকার এবং বৃহত্তর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য মূল্যায়ন করার জন্য গোষ্ঠীটিকে পর্যালোচনার অধীনে আনা হচ্ছে।
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা গঠিত একটি ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি অউকাসের লক্ষ্য হল চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মধ্যে এই অঞ্চলে ক্ষমতার সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করা। ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কাঠামোতে অউকাসের অবদানের মূলে দু’টি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর জন্য প্রচলিত অস্ত্রে সজ্জিত পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ অধিগ্রহণ এবং দ্বিতীয়ত, তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে সক্ষমতার অগ্রগতি। এই অঞ্চলে চিন কর্তৃক সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে অউকাসের মতাদেশের প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অউকাসের মাধ্যমে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের পক্ষে সমর্থনকারী সমমনস্ক দেশগুলি এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-উপস্থিতির মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চেয়েছিল।
কোয়াড এবং স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গোষ্ঠীটিকে পর্যালোচনার অধীনে আনার মার্কিন সিদ্ধান্তটি এসেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাইম মিনিস্টার অ্যান্থনি আলবানিজের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতার অবসান ঘটিয়েছে। অউকাসের এই পুনরুজ্জীবন ইন্দো-প্যাসিফিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্র হিসাবে দেখার জন্য ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির একটি পুনঃনিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করে।
কোয়াড এবং স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গোষ্ঠীটিকে পর্যালোচনার অধীনে আনার মার্কিন সিদ্ধান্তটি এসেছিল।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের চালিকাশক্তি হিসেবে দ্রুত বিকশিত হলেও এটি একটি বিতর্কিত ভূখণ্ডও বটে, যেখানে চিন জবরদস্তির মাধ্যমে তার উপস্থিতি সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণ চিন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালী-সহ ইন্দো-প্যাসিফিক সামুদ্রিক অঞ্চলের বেশ কয়েকটি অংশে চিনা আগ্রাসনের ঝুঁকি রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক এবং এই উপ-অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা চিরাচরিত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এই অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশই মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য তাদের কৌশলগুলি পুনঃমূল্যায়ন এবং নতুন করে সাজাতে উৎসাহিত করেছে। তাই অউকাস-এর পুনরুজ্জীবনকে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি সূচনা হিসেবে কাজ করতে হবে।
একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক মঞ্চের অনুপস্থিতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি হল জটিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা গোষ্ঠীগুলির বিস্তার। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক একটি জটিল সামুদ্রিক পরিসর, যার ভূখণ্ড জুড়ে কৌশলগত বাস্তবতা ব্যাপক ভাবে ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, যদিও চিন ইন্দো-প্যাসিফিকে একটি নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য একটি আসন্ন হুমকি, তবে ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরে এর কার্যকলাপের প্রকৃতি ও চরিত্র ভিন্ন। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা আগ্রাসনের দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেলেও, ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের কৌশল নির্ভর করে প্রভাবের অবিচলিত সম্প্রসারণ এবং ক্রমবর্ধমান নৌ-উপস্থিতির উপর। এই প্রেক্ষাপটে সমমনস্ক দেশগুলির একটি একক মঞ্চ বা ব্যবস্থা বেজিংয়ের কৌশল মোকাবিলায় একটি অর্থপূর্ণ প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হবে। এটিই ব্যাখ্যা করে যে, কেন ইন্দো-প্যাসিফিকে একাধিক ক্ষুদ্রপাক্ষিক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে, যাদের মতাদেশ হল ইন্দো-প্যাসিফিকের মধ্যকার নির্দিষ্ট উপ-অঞ্চলগুলির চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই অঞ্চলে সামগ্রিক কোনও সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো নেই। অনেক দিক থেকেই এই ক্ষুদ্রপাক্ষিক গোষ্ঠীগুলি একত্রিত হয়ে একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের সন্ধানে একটি বৃহত্তর কাঠামো গঠন করে।
অউকাস-এর পুনরুজ্জীবনের পর এখন কোয়াড এবং স্কোয়াডের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির পরিপ্রেক্ষিতে এই গোষ্ঠীগুলির গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা ভুল হবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা ও শাসনের একটি বিস্তৃত এবং বহুমুখী অ্যাজেন্ডা গঠনে কোয়াডের বিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতার চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করার জন্য একটি গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়েছিল, তবে বছরের পর বছর ধরে এটি স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সংযোগের মতো ক্ষেত্রে সামুদ্রিক শাসনের একটি বিস্তৃত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হয়েছে। এ ছাড়াও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতার উদীয়মান ক্ষেত্র যেমন সামুদ্রিক পরিসরের সচেতনতা, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (এইচএডিআর) এবং কোস্টগার্ড-স্তরের সহযোগিতার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জোরদার করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
অউকাস-এর পুনরুজ্জীবনের পর এখন কোয়াড এবং স্কোয়াডের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির পরিপ্রেক্ষিতে এই গোষ্ঠীগুলির গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা ভুল হবে।
অন্য দিকে, চিনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া এবং কোস্টগার্ড পরিষেবা মোতায়েনের ফলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সত্ত্বেও গঠিত হওয়া ‘স্কোয়াড’ খুব সামান্যই অগ্রগতি লাভ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, এই ‘স্কোয়াড’ বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের দ্বারা চিহ্নিত একটি অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সহায়তা করে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ অর্জনের জন্য দক্ষিণ চিন সাগরের মতো এলাকাগুলোকে অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে।
এই মঞ্চগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ণায়ক থাকবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণকে অবশ্যই এই অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা মাথায় রাখতে হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে অর্থপূর্ণ ভাবে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে অবশ্যই অউকাস-এর পুনরুজ্জীবনের ফলে সৃষ্ট গতিকে কাজে লাগাতে হবে এবং কোয়াড ও স্কোয়াডকে নতুন জীবন দিতে কৌশলগুলিকে সমন্বিত করতে হবে।
সায়ন্তন হালদার ওআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sayantan Haldar is an Associate Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. At ORF, Sayantan’s work is focused on Maritime Studies. He is interested in questions on ...
Read More +