২০২১ সালে উপসাগরীয় সংকট সমাধানের পর থেকে তুর্কিয়ে ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। আল-উলা চুক্তির পরে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াগুলি গভীর সহযোগিতার জন্য একটি উর্বর ভূমি তৈরি করেছে; উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক অব্যবহৃত সুযোগ রয়েছে, যা এই অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে পারে। অধিকন্তু, ট্রাম্প ২.০ যুগ বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অংশীদারিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে, পুরনো জোটের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার মাধ্যমে, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে মূল অগ্রাধিকারে পরিণত করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে জিসিসি-তুর্কিয়ে সম্পর্কের জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল-বহির্ভূত অর্থনীতি তুর্কিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য সু-অবস্থিত।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল-বহির্ভূত অর্থনীতি তুর্কিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য সু-অবস্থিত। এর শক্তিশালী উৎপাদন ভিত্তি, বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনীতি এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান এটিকে একটি অনন্য সুবিধা প্রদান করে। অন্যদিকে, বৃহত্তম আরব অর্থনীতি সৌদি আরব (কেএসএ)-এর নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলি তেলের উপর তাদের নির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ উদ্যোগে কাজ করছে। বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যকরণের এই সাধারণ আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই উভয় পক্ষের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে চালিত করবে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং ভূ-রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে, তাদের যৌথ অর্থনৈতিক সক্ষমতার তুলনায় সীমিত। ২০২৩ সালে, সৌদি আরব ও তুরস্ক বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উপর চুক্তি স্বাক্ষর করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের চালিকাশক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, কারণ আঙ্কারা এবং রিয়াদ বর্তমানে ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সৌদি আরবের কান নামে পরিচিত একটি যুদ্ধবিমান তৈরির কর্মসূচিতে যোগদানও অন্তর্ভুক্ত।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আশাব্যঞ্জক, যার পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তুর্কি রপ্তানির জন্য ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নবম বৃহত্তম গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছে। উভয় দেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করছে। ২০২৪ সালে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত বাধাগুলি এখনও রয়ে গিয়েছে। ছয়টি জিসিসি দেশের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছনোই চ্যালেঞ্জ, তবে সম্ভাব্য সুবিধাগুলি অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের চুক্তির পক্ষে কথা বলে আসা তুর্কিয়ে বোঝে যে এটি উভয় পক্ষের জন্য যথেষ্ট অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্য চুক্তির বাইরেও, ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও তরল রয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন বিদেশ নীতির অপ্রত্যাশিত প্রকৃতির কারণে। মার্কিন তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাসহ ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিগুলি পরোক্ষভাবে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি, যারা তাদের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীল তেলের দামের উপর নির্ভর করে, মার্কিন তেল কৌশলগুলির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। তেলের কম দাম তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে জিসিসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টা সহ ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিগুলি পরোক্ষভাবে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
তা ছাড়া, জিসিসি দেশগুলো, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব ব্রিকস গ্রুপে (শুরুতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত) যোগদানের আগ্রহ দেখিয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাব বিস্তার করে, বৈশ্বিক ক্ষমতার গতিশীলতা পরিবর্তন করে এবং এক-মেরুত্ব থেকে উত্তরণ ঘটায়। এই পদক্ষেপটি এই অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির সময়, যখন আমেরিকা দেশ বিদেশে মার্কিন প্রতিশ্রুতি হ্রাস এবং ইজরায়েল ও জিসিসি রাষ্ট্রগুলির মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এই দেশগুলি ব্রিকস সদস্যপদে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিলে, তারা ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিতে পারে, এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুঁজতে পারে। স্বার্থের এই বিশৃঙ্খলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক চাপের দিকে চালিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি জিসিসি দেশগুলি ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়।
আরেকটি উদ্বেগ হল ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রচারণা আবার নিয়ে এসেছে, এবং সম্ভাব্যভাবে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ সমর্থন করছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইজরায়েলকে আহ্বান জানানো। এর ফলে কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে যথেষ্ট উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে চিনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্থাপনের আলোকে, যা উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করেছে এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ধারাবাহিকতা মসৃণ নয়, কারণ ২০১৭ সালে ইরানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একগুঁয়ে নীতি সম্পর্কে উপসাগরীয় দেশগুলি এখন খুব কম উৎসাহী। মার্কিন-ইরান সংঘর্ষ ওয়াশিংটনের সঙ্গে জিসিসি দেশগুলির কৌশলগত জোট এবং তেহরানের সঙ্গে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ধারাবাহিকতা মসৃণ নয়, কারণ ২০১৭ সালে ইরানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একগুঁয়ে নীতি সম্পর্কে উপসাগরীয় দেশগুলি এখন খুব কম উৎসাহী।
অন্যদিকে, তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজস্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি, ট্রাম্প ২.০ যুগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় আঙ্কারা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, বিশেষ করে তুরস্কের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভঙ্গুরতা দেখিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকি সম্পর্কে তুরস্ক পুরোপুরি অবগত, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লোহা রপ্তানির উপর শুল্ক আরোপের কারণে, যা তার অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তা সত্ত্বেও, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশায় তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, মার্কিন-তুরস্ক সম্পর্কের রাজনৈতিক অস্থিরতা বর্তমানে একটি উদ্বেগের বিষয়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
তুর্কিয়ে এবং জিসিসি রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই, এই বাহ্যিক চ্যালেঞ্জগুলি শেষ পর্যন্ত তাদের অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে। কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ এবং এই অঞ্চলে চলতি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপের সম্ভাবনার পাশাপাশি, উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আরও উৎসাহ দেখতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তুর্কিয়ে ও জিসিসি দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও, বৃদ্ধির জন্য এখনও অনেক জায়গা রয়েছে। উভয় পক্ষেরই তাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী লক্ষ্য রয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন নীতি পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার মতো বাইরের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে। তুর্কিয়ে ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে এফটিএ এই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে কাজ করতে পারে, যা শুধু আঙ্কারা ও জিসিসি নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলকেও উপকৃত করবে। যাই হোক, চ্যালেঞ্জটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপট উভয়ের মধ্যে পথ করে চলার মধ্যে নিহিত, যার জন্য আগামী বছরগুলিতে সতর্ক আলোচনা এবং কৌশলগত সারিবদ্ধকরণ প্রয়োজন।
এই ভাষ্যটি প্রথম ওআরএফ মিডল ইস্ট-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Gamze Coskun Bakir is a researcher and consultant on the MENA region, focusing on the Gulf, Levant, and Turkiye. She has previously worked at think ...
Read More +
Nesibe Hicret Battaloglu (Qatar University) is a researcher in the Gulf Studies Center at Qatar University. Currently, she is also a PhD Candidate at the ...
Read More +