Author : Soma Sarkar

Published on Jul 23, 2025 Updated 0 Hours ago

মুম্বইয়ের ৫,০০০ কোটি টাকার গারগাই বাঁধ আর কটি প্রকৌশলগত সমাধানকেই দর্শায়, যা নিষ্কাশনযোগ্য, রৈখিক, এবং বৃত্তাকার জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক জল সমাধানের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

মুম্বইয়ের গারগাই বাঁধ এবং নগরের জলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা

মহারাষ্ট্র সরকার কর্তৃক ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত মুম্বইয়ের দীর্ঘ বিলম্বিত গারগাই বাঁধ প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দূরবর্তী জলের উৎসের উপর শহরের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার আর কটি অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী মুম্বইয়ের সাতটি প্রাথমিক জলের উৎসের মধ্যে মাত্র দুটি (তুলসী এবং বিহার হ্রদ) শহরের পরিধির মধ্যে অবস্থিতবাকিগুলি প্রতিবেশী জেলা থানে, পালঘর নাসিকে এবং প্রায় ১০০ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এগুলি ৫,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত পাইপলাইন শৃঙ্খলের মাধ্যমে সংযুক্ত। মুম্বই বর্তমানে প্রতিদিন ৩,৮৫০ মিলিয়ন লিটার জল (এমএলডি) পেলেও ২০৪১ সালের মধ্যে জলের চাহিদা ৫,৯৪০ এমএলডিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পালঘর জেলায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে ৪৪০ এমএলডি সরবরাহের জন্য পরিকল্পিত গারগাই বাঁধ প্রকল্পটি একাধিক ভারতীয় শহরে দেখা একটি বৃহত্তর প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে এবং তা হল স্থিতিশীল ও স্থানীয় বিকল্প সমাধানে বিনিয়োগের পরিবর্তে দূরবর্তী সম্পদের সন্ধান করা।

চাহিদা-সদৃশ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় স্থিতিশীল অনুশীলন (জলাশয়  পুনরুজ্জীবন, বৃষ্টির জল সংগ্রহ, বর্জ্য জল পুনঃব্যবহার) এবং একটি বৃত্তাকার নগর-জলব্যবস্থার দিকে পরিবর্তন না করলে মুম্বই নির্ভরতা, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত ও জলবায়ু ঝুঁকির একটি অস্থিতিশীল চক্রে নিজেকে আটকে রাখার ঝুঁকির সামনে অরক্ষিত হয়ে পড়বে।

শহরটিতে সরবরাহভিত্তিক প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা ১৮৬০ সাল থেকে শুরু হয়, যখন বিহার জলাধার থেকে ৩২ এমএলডি জল উত্তোলন করে শহরের প্রথম পাইপযুক্ত জল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল (যা বর্তমানে ৯০ এমএলডি সরবরাহ করে)। শহরটির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াসঙ্গে সঙ্গে ১৮৭৯ সালে নির্মিত তুলসির (১৮ এমএলডি) মতো নতুন জলাধার এবং ১৮৯২ সালে নির্মিত তানসা প্রকল্পের (৪৫৫ এমএলডি) মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলি মুম্বইয়ের জল-পরিসরে দূরবর্তী জলাশয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। স্বাধীনতার পরেও এই পদ্ধতি অব্যাহত ছিল এবং শহরের জলের চাহিদা মেটাতে নিম্ন বৈতর্ণা (৪৫৫ এমএলডি), উচ্চ বৈতর্ণা (৬৪০ এমএলডি), ভাতসা (২০২০ এমএলডি) মধ্য বৈতর্ণা-সহ (৪৫৫ এমএলডি) প্রধান বাঁধগুলি নির্মিত হয়েছিল। যাই হোক, এই মডেলটি একটি রৈখিক সম্প্রসারণ নিষ্কাশন চক্রকে শক্তিশালী করে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: এই দ্রুত সমাধানগুলি আর কত দিন চলতে পারে? আমরা কি সত্যিই স্থিতিস্থাপকতার পথে হাঁটছি না কি পরিবেশগত ঝুঁকি বৃদ্ধি করছি, বৈষম্য গভীরতর করছি এবং শহরগুলির জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল, বৃত্তাকার জল ব্যবস্থা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছি?

চাহিদা-সদৃশ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় স্থিতিশীল অনুশীলন (জলাশয় পুনরুজ্জীবন, বৃষ্টির জল সংগ্রহ, বর্জ্য জল পুনঃব্যবহার) এবং একটি বৃত্তাকার নগর-জলব্যবস্থার দিকে পরিবর্তন না করলে মুম্বই নির্ভরতা, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত ও জলবায়ু ঝুঁকির একটি অস্থিতিশীল চক্রে নিজেকে আটকে রাখার ঝুঁকির সামনে অরক্ষিত হয়ে পড়বে।

গারগাই বাঁধের মতো বৃহৎ জল অবকাঠামো প্রকল্পগুলি প্রায়শই শহরের ক্রমবর্ধমান জল সঙ্কটের উপর ভিত্তি করে ন্যায্য বলে প্রমাণিত হয়, যা চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান দ্বারা আকার পায় এবং যা কেবলমাত্র নতুন দূরবর্তী উৎসগুলি ব্যবহার করে পূরণ করা যেতে পারে। মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা এই আখ্যানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং এই যুক্তি দিয়েছেন যে, ২০৪১ সালের অনুমান অনুযায়ী শহরের জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ অ-বসতি, পরিকল্পিত বসতিতে বাস করবে এবং গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ২৪০ লিটার মাথাপিছু (এলপিসিডি) ব্যবহার করবে। এই অনুমানটি আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্র (এমওএইচইউএ) দ্বারা প্রস্তাবিত মেট্রো শহরগুলির জন্য ১৫০ এলপিসিডি মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। বাকি শতাংশ বাসিন্দা - যারা বস্তিতে বাস করে বলে ধরে নেওয়া হয় - তাদের ১৫০ এলপিসিডি প্রয়োজন হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। মুম্বইয়ের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা বস্তিতে বাস করেতাই উপরোক্ত অনুমানটি বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সর্বোপরি, বস্তিগুলিতে প্রায়শই মৌলিক সুযোগ-সুবিধা - যেমন অভ্যন্তরীণ শৌচাগার বা জল সংরক্ষণের সুবিধার অভাব থাকে, যার ফলে চাহিদার অনুমান প্রতি দিন ১৫০ লিটার - যুক্তিসঙ্গত ভাবে অতিরঞ্জিত করা হয়।

এই ধরনের অত্যধিক বর্ধিত অনুমান ব্যয়বহুল পরিবেশগত ভাবে বিঘ্নিত জল প্রকল্পগুলিকে ন্যায্যতা দেয় এবং অন্য দিকে ছিদ্রবিশিষ্ট পুরনো পাইপলাইন মেরামত, বণ্টন ক্ষতি হ্রাস শহরের মধ্যে সুষম জল বণ্টসুনিশ্চিত করার মতো জরুরি সংস্কারগুলিকে এড়িয়ে যায়। বর্তমানে বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি শহর শহর থেকে দূরে অবস্থিত ভূপৃষ্ঠের জলাশয়ের উপর নির্ভর করে। এই দীর্ঘ দূরত্বের জল স্থানান্তরের জন্য উচ্চ সামাজিক, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ব্যয় হয়। এগুলি শক্তি-নিবিড় এবং রাজস্ব কার্বন খরচে অবদান রাখে, যা প্রায়শই মূলধারার জনসাধারণের আলোচনায় উঠে আসে না। উপরন্তু, এই ক্ষেত্রে উৎস অঞ্চল অর্থাৎ পালঘর জেলা বিশেষ করে শুষ্ক মরসুমে প্রায়শই জল সঙ্কটে ভোগে। অতএব অনিয়মিত প্রবাহ ব্যবস্থা-সহ দূরবর্তী উৎসের উপর নির্ভরতা ভবিষ্যতের জল নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শহরের এমন স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা উচিত, যা এই ধরনের জলবিদ্যুৎ নির্ভরতা বৃদ্ধি না করে, বরং তা হ্রাস করে। গারগাইয়ের মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলি শহরগুলিকে উচ্চ-রক্ষণাবেক্ষণ শক্তি-ভারী ব্যবস্থায় আটকে রাখে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

নগর জলের চক্র: একটি অনুপস্থিত কাঠামো

তর্কাতীত ভাবে মুম্বইয়ের জল ব্যবস্থায় নগর জলের চক্রের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো মূলত অনুপস্থিত। বৃত্তাকার জল ব্যবস্থার লক্ষ্য অপচয় কমানো, সম্পদের পুনঃব্যবহার করা এবং স্থানীয় স্থায়িত্বকে উৎসাহিত করা উদাহরণস্বরূপ, বর্জ্য জলের পুনর্ব্যবহার, ঝড়ের জল এবং বৃষ্টির জল সংগ্রহ, জলাধার পুনর্ব্যবহার এবং স্থানীয় জলাশয়ের পুনর্জীবন প্রদানের মাধ্যমে এমনটা হয়

শহরটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২১৯০ এনএলডি পয়ঃনিষ্কাশন উৎপন্ন করে, যার মধ্যে ২২.৬৫ এমএলডি পুনর্ব্যবহৃত করা হয় এবং অ-পানীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এর বেশির ভাগই অপ্রতুলভাবে শোধন করা হয় এবং একটি রৈখিক উৎস থেকে সমুদ্রপ্রবাহ অনুসরণ করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা য়, যা স্থিতিস্থাপকতার চিন্তাভাবনার বিপরীত। যাই হোক, মুম্বই স্যুয়েজ ডিসপোজাল প্রজেক্ট টু-র অধীনে, ওরলি, বান্দ্রা, ধারাভি, ভারসোভা, মালাড, ঘাটকোপর এবং ভান্ডুপে ২৬,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন ২৪৬৪ এমএলডি পয়ঃনিষ্কাশন ক্ষমতা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে, শহরটি ইতিমধ্যেই জলের উদ্বৃত্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশ্নটি রয়েই যায়: গারগাই বাঁধ প্রকল্পের মতো দূরবর্তী জল সরবরাহ বৃদ্ধির যুক্তি কী হতে পারে?

এনআরডব্লিউ হ্রাস করলে শহরের জল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ছিদ্রের শনাক্তকরণের জন্য বণ্টন শৃঙ্খলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পুরনো পাইপের প্রতিস্থাপন, প্রবাহ এবং বহির্গমন পরিমাপের জন্য ব্যাপক পরিমাণে মিটারিং এবং বণ্টন ব্যবস্থা বরাবর চাপ পরিচালনা করা দরকার

নগর জলের চক্রের জন্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল শহরের অ-রাজস্ব জল (এনআরডব্লিউ) ব্যবস্থাপনা, যা অঞ্চলের অপরিমিত জল, ব্যবস্থার মধ্যে থাকা ছিদ্র সংক্রান্ত সমস্যা, জল চুরি, অননুমোদিত ব্যবহার এবং ভর্তুকিযুক্ত জল সরবরাহের কারণে বণ্টন সংক্রান্ত ক্ষতিকেই দর্শায়। মুম্বইয়ের বিদ্যমান জল সরবরাহের প্রায় ৩৪ শতাংশ - যা পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ১৩৪৩ মিলিয়ন লিটার পাইপলাইনে ছিদ্র, জল চুরি এবং ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণে নষ্ট হয়। এনআরডব্লিউ হ্রাস করলে শহরের জল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ছিদ্রের শনাক্তকরণের জন্য বণ্টন শৃঙ্খলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পুরনো পাইপের প্রতিস্থাপন, প্রবাহ এবং বহির্গমন পরিমাপের জন্য ব্যাপক পরিমাণে মিটারিং এবং বণ্টন ব্যবস্থা বরাবর চাপ পরিচালনা করা দরকার

মুম্বইয়ের কাওসজি প্যাটেল ট্যাঙ্ক, ফ্রেমজি কাওসজি ট্যাঙ্ক, বনগঙ্গা ট্যাঙ্ক এবং ভিকাজি বেহরাম ট্যাঙ্কের মতো জলের ট্যাঙ্ক কূপের শৃঙ্খলের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা ১৮৬০ সালের ভিরার হ্রদ প্রকল্পের আগে শহরের জন্য পানীয় জলের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে কাজ করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে স্যানিটাইজেশন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বেশির ভাগই ভরাট করা হয়েছিল অথবা পাইপযুক্ত জলের অবকাঠামো অগ্রাধিকার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অবহেলিত হয়েছিল। এই ট্যাঙ্ক কূপগুলির পরিমাণ হ্রাস আসলে মুম্বইয়ের সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন জলের উৎসের বিকেন্দ্রীভূত জলের ঐতিহ্যের ক্ষতিকে দর্শায়। নগর জলের স্থিতিস্থাপকতার জন্য বর্তমান কৌশলগুলিতে এগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সমন্বিত করা স্থিতিশীল ও এই চক্রাকার পদ্ধতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

কার স্থিতিস্থাপকতা? ণ্টন ও শাসন ব্যবস্থার মাঝে সমতা

গারগাই প্রকল্পটি এই ধরনের বর্ধিতকরণ কৌশল থেকে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশী অংশীদার এবং ব্যয় বহনকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগকেই দর্শায়। এই ক্ষেত্রে প্রকল্পটি মূলত পালঘর জেলার ওয়াদা তালুকের দুটি গ্রাম অর্থাৎ ওগদা এবং খোদাদেকে প্রভাবিত করবে। এর ফলে প্রায় ২,৫০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন এবং ২.১ লক্ষ গাছ কেটে ফেলা হবে। আশ্চর্যজনক ভাবে একটি জল-সঙ্কটপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় পালঘর এই ধরনের প্রকল্পগুলির অসম  লেনদেনকেই প্রতিফলিত করে। এই উন্নয়নের প্রেক্ষিতে, আধা-শহুরে এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলি প্রায়শই নগর কেন্দ্রগুলির জন্য সম্পদ উপনিবেশেরূপান্তরিত হয়, যেখানে জমি, জল বন উত্তোলন করা হয় নগর উন্নয়নের জন্য এবং এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক বা কোনও ট্রিকল ডাউন’ (স্তরের উপর পর্যায় থেকে নীচের দিকে যে পদ্ধতি বণ্টন করা হয়) সুবিধার খেয়াল রাখা হয় না। এটি আমাদের একটি বৃহত্তর অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য করে: শহরগুলি কি বর্তমান বৃদ্ধির পথ অনুসরণ করতে পারে এবং এখনও এগুলিকে স্থিতিশীল বলে দাবি করতে পারে? অতএব অন্তত ধারণাগত ভাবে শহরগুলি কি আদৌ স্থিতিশীল?

এই উন্নয়নের প্রেক্ষিতে, আধা-শহুরে এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলি প্রায়শই নগর কেন্দ্রগুলির জন্য সম্পদ উপনিবেশেরূপান্তরিত হয়, যেখানে জমি, জল বন উত্তোলন করা হয় নগর উন্নয়নের জন্য এবং এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক বা কোনও ট্রিকল ডাউন’ (স্তরের উপর পর্যায় থেকে নীচের দিকে যে পদ্ধতি বণ্টন করা হয়) সুবিধার খেয়াল রাখা হয় না

নগর ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে শহুরে জল সরবরাহের ক্ষেত্রে সমতাও রয়েছে। ২০২২ সালে শহরের অপ্রয়োজনীয় বস্তি অঞ্চলগুলিতে জল সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে - যেখানে প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবার অভাব ছিল - বৃহন্নুম্বই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) তাদের সকলের জন্য জলনীতি বাস্তবায়ন করে। যাই হোক, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রান্তিক সম্প্রদায় এবং অ-বিজ্ঞাপিত বসতিগুলির বাসিন্দারা নিম্ন মানের জল পাওয়ার দরুন অসামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং প্রায়শই প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছেন।

সুতরাং, কেন্দ্রীভূত অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা ছাড়া সমতা লভ্যতার উপর মনোযোগ গারগাই বাঁধের মতো প্রকল্পগুলি বিদ্যমান বৈষম্যগুলিকে সমাধানের পরিবর্তে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এটি ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের উপর বোঝা চাপিয়ে দেয় এবং তা বাস্তুচ্যুতি, পরিবেশগত ক্ষতি বা পরিষেবা সরবরাহে অব্যাহত প্রান্তিকীকরণ, যে মাধ্যমেই হোক না কেন।

উপসংহার

শহুরে জল নিরাপত্তা অর্জনের জন্য সরবরাহ-ভিত্তিক বর্ধন পদ্ধতি চাহিদা-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, বিকেন্দ্রীভূত জল ব্যবস্থা এবং নগর জলাশয়ের পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়… এ হেন চক্রাকার, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তাকে খর্ব করে। জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সুনিশ্চিত করার জন্য শহরটিকে নিষ্কাশনমূলক থেকে পুনর্ব্যবহারমূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক জল কৌশলে রূপান্তর করতে হবে। এর জন্য বিদ্যমান জল-পরিসর এবং আমাদের নগর ভবিষ্যতে জলের উৎস, বণ্টন পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতিমালার পুনর্গঠন প্রয়োজন।

 


সোমা সরকার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আর্বান স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.