দ্রুত নগরায়ণ ভারতের জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে চরম সঙ্কটে ফেলছে, যার ফলে জলের ন্যায্য প্রাপ্যতা আরও বুদ্ধিদীপ্ত, অন্তর্মুখী ও পরিবেশ-সচেতন নগর উন্নয়নের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
কমপ্লেক্সিটি সায়েন্স হাব (সিএসএইচ) এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে যে, অনিয়ন্ত্রিত নগর বিস্তার বা শহরগুলির অপরিকল্পিত বহির্মুখী সম্প্রসারণের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে গ্লোবাল সাউথের ২২ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার ১০০টিরও বেশি শহরের ১৮৩ মিলিয়ন ভবনের নকশা, ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি পরিবারের সমীক্ষা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সূচকের সমন্বয়ে করা এই সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে যে, কম ঘনত্বের নগর বিস্তার খরচ বাড়ায় এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের সম্ভাব্যতা কমিয়ে দেয়। সংহত, স্থায়ী এবং আনুভূমিক বিস্তারের মতো তিনটি বিকল্প পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সমীক্ষাটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সংহত বৃদ্ধির ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলির তুলনায় কম ঘনত্বের শহরগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নৈকট্য ৪০ শতাংশ কম, পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পাওয়ার সুযোগ ৫০ শতাংশ কম এবং জলের শুল্ক ৭৫ শতাংশ বেশি।
এই ফলাফলগুলি ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে ব্যাপক বিনিয়োগ সত্ত্বেও দ্রুত সম্প্রসারণশীল শহরগুলি ইতিমধ্যেই তীব্র জল সঙ্কট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধানের সম্মুখীন হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রজা ফাউন্ডেশনের মুম্বইয়ের জল সরবরাহ সংক্রান্ত বার্ষিক মূল্যায়নে দৈনিক ১৫ শতাংশ ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। কারণ শহরটি তার মোট ৪,৬৬৪ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ৩,৯৭৫ মিলিয়ন লিটার জল পাচ্ছিল। শহরের ২৪টি পৌর ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটিতে ২৪/৭ জল সরবরাহ ছিল আর বাকি ২৩টি ওয়ার্ডে দৈনিক গড়ে ৫.৩৭ ঘণ্টা জল সরবরাহ পাওয়া যেত।
ভারতের মেগাসিটিগুলি একটি দ্বৈত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে: ঘন, উল্লম্ব ভাবে ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রগুলি পরিধি বরাবর দ্রুত, এলোমেলো বৃদ্ধির সঙ্গে সহাবস্থান করে, যা পরিষেবার ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে সমীক্ষায় উঠে আসা কম ঘনত্বের বহির্মুখী সম্প্রসারণের ঝুঁকির বিপরীতে ভারতের মেগাসিটিগুলি একটি দ্বৈত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে: ঘন, উল্লম্ব ভাবে ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রগুলি পরিধি বরাবর দ্রুত, এলোমেলো বৃদ্ধির সঙ্গে সহাবস্থান করে, যা পরিষেবার ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই দ্বৈততা অর্থাৎ নগর কেন্দ্রের অতি-ঘনত্ব এবং বিক্ষিপ্ত পরিধিগত বিস্তার, আপাতদৃষ্টিতে উচ্চ সামগ্রিক ঘনত্ব থাকা সত্ত্বেও একটি দুর্বল পরিষেবা কাঠামো তৈরি করে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা - যার মধ্যে রয়েছে চেন্নাইয়ের ২০১৯ সালের জল সঙ্কট, বেঙ্গালুরুর আন্তঃসংযুক্ত হ্রদ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়, যা কিনা শহরের চিরাচরিত জল-সংরক্ষণ পদ্ধতির একটি মূল্যবান সংযোগ, মুম্বইয়ের সঙ্কুচিত ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র এবং দিল্লিতে ক্রমবর্ধমান ভূগর্ভস্থ জল দূষণ — এই ঘটনাটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কেন নগর পরিধিগুলিই আসল সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
এই বিন্যাসটি একটি অসামঞ্জস্য নির্দেশ করে, যেখানে পুরনো পরিকাঠামো ও ক্রমবর্ধমান চাপ থাকা সত্ত্বেও ঘন জনবিশিষ্ট কেন্দ্রগুলি তুলনামূলক ভাবে ভাল পরিষেবা পায়, অথচ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি সম্প্রসারিত উপকণ্ঠে পরিষেবা দিতে হিমশিম খায়। ব্যবস্থাগত অদক্ষতা ও বিপুল পরিমাণ হিসেব বহির্ভূত জলের (ইউএফডব্লিউ) কারণে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়, যা বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ব্যক্তিগত ট্যাঙ্কার বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক উৎসের উপর নির্ভর করতে বাধ্য করে।
দিল্লির ক্রমবর্ধমান নগর কাঠামো এই চিত্রটিই তুলে ধরে। দিল্লি জল বোর্ড (ডিজেবি) থেকে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ না পেয়ে, জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের নতুন এলাকাগুলো ভূগর্ভস্থ জল অতিরিক্ত উত্তোলন করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে দূষণ আরও বেড়েছে। সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড-এর (সিজিডব্লিউবি) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, দিল্লি জুড়ে ৮০টিরও বেশি স্থান থেকে সংগৃহীত ভূগর্ভস্থ জলের নমুনার ১৫.৬৬ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিতে দূষিত হয়েছে, যার মাত্রা প্রতি বিলিয়নে ৩০ অংশের (পিপিবি) অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক, অননুমোদিত কলোনিগুলিতে। সমগ্র শহুরে ভারত জুড়ে অমদাবাদ, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, জয়পুর এবং রাঁচির মতো শহরগুলিতে এই সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। আনুষ্ঠানিক পাইপলাইন শৃঙ্খলের সীমিত পরিসর বা অনির্ভরযোগ্যতার কারণে, শহরের উপকণ্ঠ এবং শহর-সংলগ্ন বসতিগুলি বোরওয়েল এবং অনানুষ্ঠানিক ট্যাঙ্কার বাজারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল। কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা প্রয়োগযোগ্য উত্তোলন সীমার অভাবে, এই অঞ্চলগুলির অনেকগুলিতেই ভূগর্ভস্থ জলের তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
সিজিডব্লিউবি-র সাম্প্রতিক আর একটি মূল্যায়নে বেঙ্গালুরু আরবান জেলাকে কর্ণাটকের শীর্ষস্থানীয় জেলাগুলির মধ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্থিতিশীল পুনঃভরণের ১৮৬.৭ শতাংশ হারে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করা হচ্ছে, যা মারাত্মক অতিরিক্ত ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। একই ভাবে জলাভূমি, জলাশয় এবং পুনঃভরণ জলাধারগুলিতে চেন্নাইয়ের অবৈধ দখল শহরের ২০১৯ সালের ‘ডে জিরো’ সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল, যখন শহরের চারটি পৌর জলাধারই শুকিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, মহানগরী চেন্নাইয়ের প্রাকৃতিক জলাভূমি ১৮৯৩ সালের ১২.৬ বর্গ কিমি থেকে কমে ২০১৭ সালে প্রায় ৩ বর্গ কিমি-তে দাঁড়িয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে এর ভূগর্ভস্থ জলের ৬০ শতাংশ দূষিত হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং এমনকি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের বছরগুলোতেও খরার প্রতি শহরটির ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আনুষ্ঠানিক পাইপলাইন শৃঙ্খলের সীমিত পরিসর বা অনির্ভরযোগ্যতার কারণে, শহরের উপকণ্ঠ এবং শহর-সংলগ্ন বসতিগুলি বোরওয়েল এবং অনানুষ্ঠানিক ট্যাঙ্কার বাজারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল। কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা প্রয়োগযোগ্য উত্তোলন সীমার অভাবে, এই অঞ্চলগুলির অনেকগুলিতেই ভূগর্ভস্থ জলের তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
একই ভাবে, পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের সম্প্রসারিত শহরতলিতে জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা স্থানীয় পরিষেবা সংস্থাগুলিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে জানা গিয়েছে, যার ফলে নতুন জলের সংযোগ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা-সহ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। হায়দ্রাবাদেও পরিস্থিতি একই রকম, যেখানে শহরতলির বাইরের দিকে বৃদ্ধির কারণে ভূপৃষ্ঠের জলের উপর চাপ বেড়েছে, যার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
সুতরাং, ভারতের নগর সঙ্কট অপরিকল্পিত বিস্তার এবং অপ্রতিসম সম্প্রসারণের দ্বৈত বোঝা বহন করে, যা এক দিকে ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্র তৈরি করে এবং অন্য দিকে শহরতলির প্রান্তে অপরিকল্পিত বৃদ্ধি ঘটায়। নগর পরিধির এই সম্প্রসারণে সাধারণত এমন ক্রমবর্ধমান এবং অপরিকল্পিত বিন্যাস দেখা যায়, যা জল, পয়ঃনিষ্কাশন, জল নিষ্কাশন এবং গণপরিবহণ পরিকাঠামোর সরবরাহকে ছাড়িয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, প্রধানত অপরিকল্পিত বসতি এবং শহরতলির গ্রাম নিয়ে একটি খণ্ডিত ভূদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা মূলত ভূগর্ভস্থ জল, ব্যক্তিগত ট্যাঙ্কার ও অপ্রতুল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে বাসিন্দারা বর্ধিত পরিবেশগত এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন। যে কোনও নীতিগত পদক্ষেপে এই বিভাজনের উভয় দিককেই বিবেচনা করতে হবে এবং শহরতলির বাইরের প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের বিশেষ চাহিদা এবং জল ও স্যানিটেশনের অপ্রতুলতার কারণে তাঁরা কী ভাবে ভিন্নভাবে প্রভাবিত হন, তা যথাযথ ভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এর ফলস্বরূপ, প্রধানত অপরিকল্পিত বসতি এবং শহরতলির গ্রাম নিয়ে একটি খণ্ডিত ভূদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা মূলত ভূগর্ভস্থ জল, ব্যক্তিগত ট্যাঙ্কার ও অপ্রতুল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে বাসিন্দারা বর্ধিত পরিবেশগত এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
ভারতকে ভূমি-ব্যবহার এবং মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়েই জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভবন নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে জল ও পয়ঃনিষ্কাশন শৃঙ্খলের মূলধন এবং জীবনচক্র পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবসম্মত মূল্যায়নকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং শৃঙ্খল সংযোগ, উৎসস্থলে পরিশোধন ও পুনঃব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রাজ্যগুলিকে বাইরের দিকে নতুন জমি সম্প্রসারণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ নগর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পুরনো পৌর এলাকার মধ্যে অব্যবহৃত বিশাল ভূখণ্ড, যেমন শিল্পাঞ্চল, নিচু বাণিজ্যিক এলাকা এবং জরাজীর্ণ আবাসিক ব্লকগুলিকে প্রণোদনার মাধ্যমে পুনরুন্নয়ন করলে, নতুন জল পরিকাঠামোর বিপুল মূলধনী বোঝা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ নগর বৃদ্ধিকে সহায়তা করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, বেঙ্গালুরুতে বিদ্যমান এলাকাগুলিকে ঘনবসতিপূর্ণ করার পাশাপাশি অবশিষ্ট হ্রদ ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও একীভূত করলে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের লাগামছাড়া প্রবণতা কমানো যেতে পারে, যা বর্তমানে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তৃতীয়ত, নগর পরিকল্পনাবিদদের অবশ্যই পরিবেশগত সম্পদকে নগর জল পরিকাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। চেন্নাইয়ের জলাভূমি, বেঙ্গালুরুর হ্রদ এবং মুম্বইয়ের জলাভূমি ও ম্যানগ্রোভ ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ, বন্যা প্রশমন এবং স্থানীয় জলের প্রাপ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থাগুলিকে সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধার করলে খরচ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি উভয়ই হ্রাস পায়।
পুরনো পৌর এলাকার মধ্যে অব্যবহৃত বিশাল ভূখণ্ড, যেমন শিল্পাঞ্চল, নিচু বাণিজ্যিক এলাকা এবং জরাজীর্ণ আবাসিক ব্লকগুলিকে প্রণোদনার মাধ্যমে পুনরুন্নয়ন করলে, নতুন জল পরিকাঠামোর বিপুল মূলধনী বোঝা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ নগর বৃদ্ধিকে সহায়তা করা সম্ভব।
চতুর্থত, বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাগুলিকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় পরিকাঠামোর পরিপূরক হতে হবে। গোষ্ঠীভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং স্থানীয়ভাবে পুনঃব্যবহার কেন্দ্রীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাতে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে। বিকেন্দ্রীভূত পাড়াভিত্তিক বৃষ্টির জল সংগ্রহের উদ্যোগ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর স্থিতিশীল করতে এবং হ্রদগুলি পুনর্ভরণ করতে সাহায্য করেছে।
পঞ্চমত, সুশাসন এবং সমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দরিদ্রতম পরিবারগুলি ইতিমধ্যেই কম জলের জন্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে বেশি মূল্য পরিশোধ করে। মুম্বইতে বস্তি এলাকার পরিবারগুলি প্রাতিষ্ঠানিক সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিদিন মাত্র ৪৫ লিটার জল পায়, যেখানে বস্তি-বহির্ভূত এলাকায় এই পরিমাণ প্রতিদিন ১৩৫ লিটার। এ ছাড়া, পৌরসভার মিটারযুক্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের চেয়ে ট্যাঙ্কার সরবরাহকারীদের অনেক বেশি অর্থ প্রদান করতে হয়। শহরগুলির প্রান্তিক অঞ্চলে স্থানিক সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়ার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত সরবরাহ, স্বচ্ছ মিটারিং ব্যবস্থা, পদ্ধতিগতভাবে জলের ছিদ্র বন্ধ করা এবং শুল্ক সংস্কার সুনিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহার
ভারত এখন যে সিদ্ধান্তগুলি নেবে, তা-ই তার নগর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। যদি মেগাসিটিগুলি অবকাঠামোগত অর্থনীতির কথা সামান্যও বিবেচনা না করে বাইরের দিকে প্রসারিত হতে থাকে, তবে লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্যাঙ্কার, বোরওয়েল এবং অনানুষ্ঠানিক সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু শহরগুলি যদি সুসংহত, সুপরিকল্পিত ও পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল বৃদ্ধি বেছে নেয়, তবে জলবায়ুগত চাপ এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সত্ত্বেও বিশুদ্ধ জলের সার্বজনীন প্রাপ্যতা অনেক বেশি অর্জনযোগ্য হয়ে ওঠে। সিএসএইচ-বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই সমীক্ষাটি সতর্কবার্তা ও পথনির্দেশনা উভয়ই প্রদান করে। জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে নগর বৃদ্ধির ভারসাম্য রক্ষা করা এমন একটি ভবিষ্যৎকে প্রতিরোধ করতে পারে, যেখানে বিশুদ্ধ জল সকলের জন্য একটি অপরিহার্য পণ্য না হয়ে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বিশেষাধিকার হয়ে দাঁড়াবে। নগর বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবা ভারতকে গ্লোবাল সাউথের শহরগুলির জন্য এমন একটি মডেল তৈরি করতে সক্ষম করবে, যা সবচেয়ে মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলি সুরক্ষিত রেখেই তাদের বৃদ্ধিকে সম্ভব করে তুলবে।
ধবল দেশাই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dhaval is a Vice President - Platforms and Communities at Observer Research Foundation, Mumbai. His spectrum of work covers diverse topics ranging from urban renewal ...
Read More +