-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের দু’টি জলবায়ু-সহনশীল, জিন-সম্পাদিত ধানের জাত চালু করার বিষয়টি স্থিতিশীল কৃষির জন্য একটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। তবে এটি জৈব নিরাপত্তা, নীতিশাস্ত্র, নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ককেও উস্কে দিয়েছে।
ভারতের কৃষি-জৈবপ্রযুক্তি খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর) দু’টি জিন-সম্পাদিত ধানের জাত উদ্ভাবনের ঘোষণা করেছে, যা জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা ও বর্ধিত উৎপাদনশীলতা প্রদর্শন করে এবং যা কোনও বিদেশি জিন সংক্রান্ত প্রবর্তন ছাড়াই অর্জন করা হয়েছে। স্থিতিশীল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার অভিমুখে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকাশ জৈব নিরাপত্তা, নীতিশাস্ত্র এবং ভোক্তা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনসাধারণের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার ফলে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে জিন-সম্পাদিত খাদ্য ফসলের একটি সূক্ষ্ম মূল্যায়ন প্রয়োজন।
খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন
ভারত বিশ্বব্যাপী ধানের বৃহত্তম উৎপাদক এবং খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষার জন্য ধানের উপর নির্ভর করে। তবে কম ফলন, খরা এবং মাটির লবণাক্ততা দ্বারা ধান চাষ ব্যাহত হয়, যা ভারতীয় কৃষি অঞ্চলে সর্বব্যাপী হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও বেড়ে যায়। ভারতের কৃষি উৎপাদনের ৫০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এমন ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির রাজ্যগুলি অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের ধরন ও খরা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, যা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চাল উৎপাদন হ্রাসের ফলে ভারত ২০২২ ও ২০২৩ সালে তার চাল রফতানি কমাতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য চাল, গম ও বাজরার স্থিতিস্থাপক জাত উদ্ভাবনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।
জাপানের সানাতেক সিডের জিএবিএ-সমৃদ্ধ টোম্যাটো (জিএবিএ বা গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড হল একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যার স্বাস্থ্য-উন্নয়নকারী প্রভাব রয়েছে)। এটি রক্তচাপ কমায় এবং বাজারে প্রবেশ করা প্রথম সিআরআইএসপিআর-সম্পাদিত খাদ্যদ্রব্য।
প্রচলিত প্রজনন সময়সাপেক্ষ। আবার অন্য দিকে জিনগত ভাবে পরিবর্তিত (জিএম) কৌশলগুলি তীব্র নিয়ন্ত্রক ও সুরক্ষা যাচাইয়ের বিষয়ও বটে। বিপরীতে, জিন-সম্পাদনা (জিই) প্রযুক্তি উদ্ভিদ প্রজননকারীদের জন্য একটি ত্বরান্বিত, সুনির্দিষ্ট এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পদ্ধতি সক্ষম করে। বেশ কয়েকটি জিই ফসল পরীক্ষাগারে অধ্যয়ন, সরেজমিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে অথবা তা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক চাষের জন্য অনুমোদিত। জাপানের সানাতেক সিডের জিএবিএ-সমৃদ্ধ টোম্যাটো (জিএবিএ বা গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড হল একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যার স্বাস্থ্য-উন্নয়নকারী প্রভাব রয়েছে)। এটি রক্তচাপ কমায় এবং বাজারে প্রবেশ করা প্রথম সিআরআইএসপিআর-সম্পাদিত খাদ্যদ্রব্য। বেয়ার, দক্ষিণ কোরিয়ার বায়োটেক সংস্থা জি+এফএলএএস-এর সঙ্গে মিলে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন ডি৩-সুরক্ষিত টোম্যাটো উৎপাদনে কাজ করছে। অন্যদিকে কর্টেভা খাদ্য উৎপাদন শিল্পের জন্য ওয়্যাক্সি কর্ন বা বিশেষ ধরনের ভুট্টা তৈরি করছে।
বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি
২০২৫ সালের মে মাসে আইসিএআর কর্তৃক দু’টি জিই ধানের জাত – আরআর রাইস ১০০ (কমলা) এবং পুসা ডিএসটি রাইস ১ - উদ্ভাবনের ঘোষণা করা হয়েছিল। সিআরআইএসপিআর/সিএএস৯ জিন-সম্পাদনা মঞ্চ ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা সাইট-ডাইরেক্টেড নিউক্লিয়াস-১-এর (এসডিএন-১) মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট জিন সম্পাদনা করেছেন, ফলন বৃদ্ধি করেছেন এবং লবণ, খরা ও জলবায়ু চাপের সঙ্গে অভিযোজন উন্নত করেছেন। জিএম ফসলের বিপরীতে জিন সম্পাদনা বিদেশি ডিএনএ প্রবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং একটি জীবের নিজস্ব ডিএনএ-তে ছোট পরিবর্তনগুলিকে লক্ষ্য করে।
আইসিএআর-আইআইআরআর দ্বারা উদ্ভাবিত ডিআরআর রাইস ১০০ (কমলা) জাতটি জনপ্রিয় সাম্বা মসুরির (বিপিটি ৫২০৪) উপর ভিত্তি করে তৈরি। সাইটোকিনিন অক্সিডেসের (ওএসসিকেএক্স২) জিন-সম্পাদনা। এটি এমন একটি এনজাইম বা উৎসেচক, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে এমন একটি জাত তৈরি হয়েছে, যা বেশি ফলন, তাড়াতাড়ি পরিপক্বতা এবং সারের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে। আইসিএআর-আইএআরআই দ্বারা উদ্ভাবিত পুসা ডিএসটি রাইস ১ জাতটি এমটিইউ১০১০-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং স্ট্রেস প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনের জন্য দায়ী জিনকে (ডিএসটি) ধ্বংস করে তৈরি করা হয়েছে। সম্পাদিত ফসলটি লবণাক্ততা ও খরা সহনশীলতা প্রদর্শন করে, যার ফলন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকরা ইতিমধ্যে গম, ডাল, তৈলবীজ, তুলা, তামাক, টোম্যাটো, কলা ও চা-সহ অন্যান্য ফসলে জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তির প্রয়োগ তদন্ত করছেন।
জিএম ফসলের বিপরীতে জিন সম্পাদনা বিদেশি ডিএনএ প্রবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং একটি জীবের নিজস্ব ডিএনএ-তে ছোট পরিবর্তনগুলিকে লক্ষ্য করে।
ভারতের জিএমও উত্তরাধিকার এবং জনসাধারণের সংশয়
ভারতে জিই ধানের জাতগুলির উন্নয়ন উদ্ভাবন এবং নীতির মধ্যে ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে এই ঘোষণাটি জৈব নিরাপত্তা, নীতিশাস্ত্র, কৃষকদের প্রবেশাধিকার ও বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার (আইপিআর) নিয়ে উদ্বেগ-সহ জনসাধারণের বিতর্ক এবং প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। ভোক্তাদের দ্বারা এই ফসলগুলি গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জনের জন্য জিএমওগুলির সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতাকে জটিল করে তুলেছে। এমন বিষয়গুলি সমাধান করার জন্য নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
জিএম ফসলের সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে বেশিরভাগ সন্দেহের উদ্ভব হয়। ২০০২ সালে বিটি তুলা প্রকাশের পর থেকে ভারতের কৃষি-জৈবপ্রযুক্তি খাত বিতর্ক এবং নীতিগত অনিশ্চয়তায় ভুগছে। বিটি তুলার ব্যাপক চাষ, ২০১০ সালে বিটি বেগুনের উপর স্থগিতাদেশ, জিএম সরিষার বাণিজ্যিক চাষে বিলম্ব এবং একটি বিস্তৃত জাতীয় জিএম ফসল নীতির অনুপস্থিতি জনসাধারণের অবিশ্বাস তৈরি করেছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ হ্রাস, সরকারি খাতের গতি হ্রাস ও কৃষকদের - বিশেষ করে ক্ষুদ্র চাষীদের - সর্বশেষ প্রযুক্তির লব্ধতা ছাড়াই জলবায়ু ও পোকামাকড়ের আক্রমণের অস্থিরতার মুখোমুখি হতে বাধ্য করার বিষয়টি এই অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে।
বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রক পরিসর
বিশ্বব্যাপী কৃষিতে জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রক পরিসর অত্যন্ত দ্বিধাবিভক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ব্রাজিল, কেনিয়া ও ইকুয়েডরের মতো দেশগুলি এসডিএন-১ এবং এসডিএন-২-এর মাধ্যমে পরিবর্তিত ফসলগুলিকে কঠোর জিএম নিয়মের বাইরে রাখে। এর কারণ হল আণবিক ভাবে এসডিএন-১ এবং এসডিএন-২ দ্বারা সংঘটিত জিন সম্পাদনাগুলি প্রাকৃতিক ভাবে বা প্রচলিত মিউটেজেনেসিসের মাধ্যমে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন থেকে আলাদা করা যায় না। জিই খাদ্যপণ্যের পথিকৃৎ জাপানও একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করে, কিন্তু কোনও সুরক্ষা বা পরিবেশগত পরীক্ষা ছাড়াই গ্রাহকদের কাছে জিই খাবার বিক্রি করার অনুমতি দেয়।
বিশ্বব্যাপী কৃষিতে জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রক পরিসর অত্যন্ত দ্বিধাবিভক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ব্রাজিল, কেনিয়া ও ইকুয়েডরের মতো দেশগুলি এসডিএন-১ এবং এসডিএন-২-এর মাধ্যমে পরিবর্তিত ফসলগুলিকে কঠোর জিএম নিয়মের বাইরে রাখে।
জিন-সম্পাদনার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারতের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ (ডিবিটি) ২০২২ সালে নির্দেশিকা জারি করে যা, এসডিএন-১ এবং এসডিএন-২ সম্পাদনাগুলিকে জিএমও থেকে আলাদা করে এবং এগুলিকে একটি ত্বরান্বিত নিয়ন্ত্রক পথে রাখে। সর্বোপরি, এসডিএন-১ এবং এসডিএন-২ ব্যবহার করে বিকশিত জিই-ফসলগুলি ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) দ্বারা প্রণীত কঠোর জিএম অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এ ভাবে ভারতের জিই ধানের জাতগুলি এখন সারা দেশে একাধিক মরসুমে ব্যাপক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে এবং অবশেষে বাণিজ্যিকীকরণ করা হবে। বিপরীতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড জিএম ও জিই ফসলগুলিকে কঠোর জিএমও নিয়মের অধীনে রাখা অব্যাহত রেখেছে। তবে ইউরোপ ও নিউজিল্যান্ডে জিই ফসলের উপর নিয়ন্ত্রক তদারকি হ্রাস করার তীব্র গতিবেগের দরুন সম্ভাব্য ভাবে দ্রুত-ট্র্যাক চাষকে সক্ষম করে এই অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।
জিই ফসলের উপর খণ্ডিত বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ভারত কেবল বিটি-তুলা চাষের অনুমতি দেয় এবং কঠোর নিয়মকানুন জিএমও আমদানির অনুমতি দেয় না। তবে জিএম সয়বিন ও ভুট্টার আমদানি ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এই সব কিছুই দর্শায় যে, কৃষি-জৈবপ্রযুক্তি বিধিগুলি কী ভাবে বিশ্ব বাণিজ্যকে আকার দেয় এবং জিই ফসল দ্রুতই বাণিজ্য আলোচনার অংশ হতে পারে। ভারতের বাইরে চিন খাদ্য সুরক্ষার জন্য জিই সাধনী গ্রহণে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এবং সম্প্রতি জিই ফসলের জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা গ্রহণ করেছে। অন্য দিকে যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালের জুন মাসে জিই ফসলের মুক্তি এবং বিপণনের অনুমতি দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে।
ভারতে নীতিগত সমন্বয়
ভারতে জিই ফসলের উপর একটি সর্বাত্মক ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক নীতির জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও দুর্বল বিজ্ঞান যোগাযোগ জনসাধারণের অবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তোলে এবং প্রায়শই কৃষি-জৈবপ্রযুক্তিকে সুযোগের পরিবর্তে হুমকি হিসাবে উপস্থাপন করে। জিই ফসলের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনের জন্য বিজ্ঞানী, সরকারি নিয়ন্ত্রক, কৃষক, নাগরিক সমাজ, বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (আইপিআর) বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ-সহ অংশীদারদের জিই ফসলের বিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রক দিকগুলির সঙ্গে দায়িত্ব সহকারে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। ঝুঁকি মূল্যায়ন তথ্য, সরেজমিন পরীক্ষার ফলাফল ও জৈব নিরাপত্তা বিবেচনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভুল তথ্যের সুযোগ কমানো যায়। একই সঙ্গে জৈবপ্রযুক্তি শাসনের উপর জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত বিবেচনা
কৃষক ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, জিই ফসল স্থানীয় প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে, জীববৈচিত্র্য হ্রাস করতে পারে অথবা অন্যান্য পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থাগুলির জন্য প্রজনন ক্ষমতা, বিস্তার এবং স্থানীয় প্রজাতি ও পোকামাকড়ের উপর প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের জন্য বাজার-পরবর্তী পরিবেশগত পর্যবেক্ষণও পরিচালনা করতে হবে।
লক্ষ্যবস্তুর বাইরের সম্ভাবনা কমানোর জন্য গণনামূলক সাধনীগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে বিকশিত হচ্ছে, যখন প্রতিষ্ঠিত প্রজনন ও নির্বাচন পদ্ধতিগুলি লক্ষ্যবস্তুর বাইরের সমস্যাগুলিকে নির্মূল করা নিশ্চিত করে।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জিন-সম্পাদিত ফসল জিএমও-র তুলনায় কম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে বলে মনে করা হয়। তবে লক্ষ্যবস্তুর বাইরে বা অনিচ্ছাকৃত সম্পাদনা করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে এবং বাণিজ্যিক মুক্তির আগে একাধিক প্রজন্ম ধরে বিশদ আণবিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ ও স্ক্রিনিং প্রয়োজন। লক্ষ্যবস্তুর বাইরের সম্ভাবনা কমানোর জন্য গণনামূলক সাধনীগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে বিকশিত হচ্ছে, যখন প্রতিষ্ঠিত প্রজনন ও নির্বাচন পদ্ধতিগুলি লক্ষ্যবস্তুর বাইরের সমস্যাগুলিকে নির্মূল করা নিশ্চিত করে। সর্বোপরি, বিশ্লেষণগুলিতে ফসল কাটার পরবর্তী পর্যায়ও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ উচ্চ-তাপমাত্রায় রান্নার মতো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের অনিচ্ছাকৃত প্রভাব থাকতে পারে।
বৌদ্ধিক সম্পত্তি এবং কৃষকের প্রবেশাধিকার
জিই খাদ্য ফসলের প্রবেশাধিকার গঠনে বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার (আইপিআর) আর একটি নির্ধারক কারণ হবে। বিশ্বব্যাপী পেটেন্টের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বিস্তৃত পেটেন্ট সুরক্ষা রয়েছে। অন্য দিকে ইইউ বীজ সার্বভৌমত্ব বা কৃষক সম্প্রদায়ের তাদের বীজ নিয়ন্ত্রণের সম্মিলিত অধিকার নিশ্চিত করার উপায় হিসাবে জিই ফসলের পেটেন্ট নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে।
সর্বোপরি, সিআরআইএসপিআর-এর মূল উদ্ভাবকরা পেটেন্ট বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন এবং এটি লাইসেন্সিং ব্যয়বহুল ও খণ্ডিত করে রেখেছে। ভারতে পেটেন্ট অফিস ২০২২ সালে শুধুমাত্র গবেষণা-ব্যবহারের জন্য ইআরএস জিনোমিক্সকে অধিকার প্রদান করে। বাণিজ্যিক ভাবে স্থাপনের জন্য পৃথক ও ব্যয়বহুল অনুমতির প্রয়োজন হবে, যার ফলে জিই ফসলের খামার-প্রস্তুত ফসলে রূপান্তর অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে একটি পেটেন্ট-কেন্দ্রিক পদ্ধতির ভারসাম্য বজায় রাখা, যা গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) আকর্ষণ করতে পারে। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যা তার উদ্ভিদ জাত সুরক্ষা ও কৃষক অধিকার কাঠামোকে (পিপিভিএফআর) সমর্থন করে, যা প্রবেশাধিকারকে প্রাধান্য দেয়। ভারতীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য যদি উচ্চ লাইসেন্সিং খরচ বীজ মূল্য শৃঙ্খলে স্থানান্তরিত হয়, তা হলে কৃষকদের বাদ দেওয়া হতে পারে এবং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তির খরচ বহন করে অথচ সুবিধা পায় না। পুল লাইসেন্সিং, বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং অথবা দেশীয় সিআরআইএসপিআর মঞ্চ তৈরিতে বিনিয়োগের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সুবিধা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতের পথ
পরিবর্তিত জলবায়ু বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য স্থিতিস্থাপক খাদ্য ফসলের অবিরাম চাহিদা মোকাবিলায় জিই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি অসাধারণ সুযোগ প্রদান করে। ২০২২ সালে ডিবিটি কর্তৃক জারি করা সম্প্রতি গৃহীত কাঠামো - যা জিএমও থেকে এসডিএন-১ এবং এসএনডি-২ সম্পাদনাকে আলাদা করে - জিই খাদ্য ফসলের জন্য দ্রুত অনুমোদনের পথ তৈরি করে। সুতরাং ভারতের জিন-সম্পাদিত ধানের জাতগুলি নীতির সঙ্গে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মিলনকে নির্দেশ করে। সুরক্ষা ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত গণনামূলক কৌশল ও ফসল কাটার পরবর্তী বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে জিই ফসলের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রতিষ্ঠা করা আইপিআর-এর বিশ্বব্যাপী অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি নিশ্চিত করতে পারে যে, দায়িত্বশীল বিজ্ঞান যোগাযোগ এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, পরিবেশগত তত্ত্বাবধান ও খাদ্য নিরাপত্তা সহাবস্থান করবে।
লক্ষ্মী রামকৃষ্ণন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের অ্যাসোসিয়ে্ট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Lakshmy is an Associate Fellow with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. Her work focuses on the intersection of biotechnology, health, and international relations, with a ...
Read More +