Author : Gurjit Singh

Published on Dec 18, 2025 Updated 0 Hours ago

ভারত-আসিয়ান সম্পর্ক একটি ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন, কিন্তু ২০২৫ সালের পর্যালোচনাটি একটি গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ করার একটি সুযোগ করে দিচ্ছে।

২০২৫ সালে ভারত-আসিয়ান বাণিজ্যের পুনর্গঠন

আগস্ট মাসে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়রের পাঁচ দিনের ভারত সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (এইপি)-র ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গভীরতাকে তুলে ধরে। এটি ভারত-আসিয়ান সম্পর্ককে প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অভিমুখ থেকে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি, দক্ষিণ চিন সাগরে যৌথ নৌ-মহড়া এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনার মতো বিষয়গু‌লি ফিলিপিন্সের সঙ্গে ভারতের এই বিকশিত অংশীদারিত্বকে প্রমাণ করে।

২০২৪ সালে যখন ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ তার দশম বার্ষিকী উদযাপন করেছে এবং ২০২২ সালে ভারত-আসিয়ান সংলাপ অংশীদারিত্ব ৩০ বছরে পদার্পণ করেছে, তখন থেকে এই সম্পর্কটি এখন একটি  ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে, ভারত যখন যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের চেষ্টা করছে, তখন এই বছর নির্ধারিত আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তি (আইটিগা) পর্যালোচনার ধীর অগ্রগতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কিছু আসিয়ান দেশ চিনের পণ্য পুনঃরপ্তানির মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে বলে যে সন্দেহ রয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

২০০৯ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তি (আইটিগা)-‌কে দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলের মধ্যে গভীরতর অর্থনৈতিক একীকরণের অনুঘটক হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল। তবুও, এক দশকেরও বেশি সময় পরে, এর ফলাফল ক্রমবর্ধমান সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বৈষম্যের কারণে যা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আসিয়ান অঞ্চলকে সুবিধা দিচ্ছে।


২০০৯ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তি (আইটিগা)-‌কে দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলের মধ্যে গভীরতর অর্থনৈতিক একীকরণের অনুঘটক হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল।



২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে, আসিয়ান থেকে ভারতের আমদানি
২৩৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন এই জোটে ভারতের রপ্তানি মাত্র ১৩০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ, আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০১১ সালের ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি একটি ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্যকে তুলে ধরে যা অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধির মূল প্রতিশ্রুতিকে চ্যালেঞ্জ করে। ভারত ও আসিয়ান ২০২৫ সালে আইটিগা-র পর্যালোচনা চালিয়ে যাওয়ায়, এর প্রবণতা, উদ্বেগ এবং উদীয়মান সুযোগগুলোর একটি নিবিড় পরীক্ষা সময়োপযোগী এবং অপরিহার্য।

বাণিজ্য বৈষম্য বোঝা

মূলত, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এই বিষয়টিকেই প্রতিফলিত করে যে, আসিয়ানে ভারতীয় উৎপাদকরা তাদের আসিয়ান প্রতিপক্ষের তুলনায় সীমিত বাজার সুবিধা পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো ভারতের বিশাল এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা ভিত্তিকে কাজে লাগিয়েছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, পাম তেল, রাবার, রাসায়নিক এবং যন্ত্রপাতির মতো ক্ষেত্রগুলিতে।

অন্যদিকে, ভারতের রপ্তানি, যা প্রধানত পেট্রোলিয়াম পণ্য, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য দ্বারা গঠিত, আসিয়ান বাজারে একাধিক অ-‌শুল্ক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর মানদণ্ড, নিয়ন্ত্রক বাধা এবং শুল্ক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, যা সম্মিলিতভাবে ভারতের রপ্তানি সম্ভাবনাকে সীমিত করেছে।

 এছাড়াও, যদিও আইটিগা-র অধীনে শুল্ক উদারীকরণের ফলে বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস বা বিলুপ্ত করা হয়েছে, তবে এর সুবিধা সব খাতে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। বিশেষ করে ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি আসিয়ানের আরও সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক এবং দক্ষ লজিস্টিক পরিকাঠামোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতা ভারতীয় শিল্পের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে যে, আইটিগা-র বর্তমান কাঠামোটি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন

ঘরোয়া শিল্পের উপর প্রভাব এবং নীতিগত প্রতিক্রিয়া

ভারত সরকার দেশীয় অংশীদারদের, বিশেষ করে কৃষি, দুগ্ধ, বস্ত্র এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত উদ্বেগগুলো স্বীকার করেছে। এই শিল্পগুলি দাবি করে যে আসিয়ান থেকে উদারীকৃত আমদানি, বিশেষ করে সস্তা, ব্যাপক উৎপাদিত পণ্যগুলি স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত আরও সতর্ক বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছে। ২০১৯ সালে, ভারত আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে, বিশেষ করে চিনের সঙ্গে একই ধরনের বাণিজ্য ভারসাম্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। আইটিগা-র অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। যদিও আসিয়ান একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।


ভারত আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে, বিশেষ করে চিনের সঙ্গে একই ধরনের বাণিজ্য ভারসাম্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।



এরপর থেকে ভারত আইটিগা-র কিছু বিধান পুনর্মূল্যায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। লাও পিডিআর-এ ভারত-আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণে এই পর্যালোচনার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে, যেখানে তিনি অ-‌শুল্ক বাধাগুলির মোকাবিলা করা এবং পারস্পরিক বাজার সুবিধা অর্জনের গুরুত্বের উপর জোর দেন।

আসিয়ানের অবস্থান এবং কৌশলগত হিসাব-নিকাশ

আসিয়ানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভারত শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কৌশলগতভাবেও একটি মূল্যবান অংশীদার। তবে, আসিয়ানের অনেক সদস্য দেশের কাছে চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে ভারতের অবস্থান এখনও তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এর অর্থ হল, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সুস্পষ্ট সমন্বয় না ঘটলে আসিয়ান দেশগুলির চুক্তিটি সংশোধন করার আগ্রহ সীমিত থাকতে পারে। অধিকন্তু, আসিয়ান ইকনমিক কমিউনিটি (এইসি)-র মাধ্যমে আসিয়ানের নিজস্ব একত্রীকরণ তার সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যার ফলে কোনও একক বাহ্যিক অংশীদারের উপর তাদের নির্ভরতা হ্রাস পায়।

ভারতকে জোরালোভাবে প্রমাণ করতে হবে যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। এর মধ্যে উদীয়মান ক্ষেত্রগুলি যেমন ডিজিটাল বাণিজ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং শিক্ষা পরিষেবার ক্ষেত্রে পরিপূরক দিকগুলি তুলে ধরা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভারতের সক্ষমতা আসিয়ানের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় ভারতের শক্তিকে কাজে লাগানো

ভারতের জন্য, ২০২৫ সালের পর্যালোচনাটি তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করে আসিয়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ। কিছু প্রধান মনোযোগের ক্ষেত্র হতে পারে:

১। অ-শুল্ক বাধা (এনটিবি): ভারতকে অবশ্যই অ-শুল্ক বাধাগুলি মোকাবিলার জন্য একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থার জন্য চাপ দিতে হবে, বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষি পণ্যের মতো ক্ষেত্রগুলিতে। মান এবং সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি (এমআরএ) ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আসিয়ান বাজারে সহজে প্রবেশাধিকার পেতে সাহায্য করতে পারে।
২। উৎপত্তির নিয়ম (রোও): ভারত আসিয়ানের উৎপত্তির নিয়মের বিধানের অপব্যবহার নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে যেখানে অ-আসিয়ান দেশগুলির পণ্য কম শুল্কের সুবিধা নেওয়ার জন্য আসিয়ান সদস্য দেশগুলির মাধ্যমে পাঠানো হয়। আরও কঠোর এবং স্পষ্ট উৎপত্তির নিয়মের মানদণ্ড এই ফাঁকি রোধ করতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে যে প্রকৃত আসিয়ান-ভারত বাণিজ্য প্রবাহ উৎসাহিত হচ্ছে। অন্যদের সঙ্গে আসিয়ানের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে উৎপত্তির নিয়মগুলি প্রায়শই ভারতের সঙ্গে চুক্তির চেয়ে শিথিল হয়।
৩। পরিষেবা এবং বিনিয়োগ: ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিহিত রয়েছে পরিষেবা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আইটি, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায়। ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া ভারত-আসিয়ান পরিষেবা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ চুক্তিগুলো এখনও পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না। এই কাঠামোকে ডিজিটাল বাণিজ্য, ফিনটেক এবং দক্ষ পেশাদারদের চলাচলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রসারিত করলে উভয় অঞ্চলই উপকৃত হবে।
৪। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা: ভারত এবং আসিয়ান একক-দেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী, বিশেষ করে কোভিড-১৯ অতিমারির পরবর্তী সময়ে এবং চলতি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে স্থিতিস্থাপক ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতামূলক বিনিয়োগ উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে পারে।
৫। টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ বৃদ্ধি: সবুজ প্রযুক্তির উপর ভারতের ক্রমবর্ধমান মনোযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি আসিয়ানের ভঙ্গুরতা টেকসই উন্নয়নের উপর একটি যৌথ কর্মসূচির সুযোগ তৈরি করে। সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক গতিশীলতা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ এই অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে পারে।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে

ভারত যখন আইটিগা-র ২০২৫ সালের পর্যালোচনা শুরু করছে, তখন তাকে বাস্তববাদ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যদিও বর্তমান চুক্তিটি বৃহত্তর বাণিজ্য প্রবাহকে সহজতর করেছে, তবে এর সুবিধাগুলি অসমভাবে বণ্টিত হয়েছে। সম্পর্কের পরবর্তী ধাপে বাণিজ্যের পরিমাণের চেয়ে গুণমানের উপর জোর দিয়ে, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তৈরি করে এবং অর্থনৈতিক সংহতিকে কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার মাধ্যমে এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে হবে।

এই পর্যালোচনাকে শুধু একটি গতিপথ সংশোধন হিসেবে না দেখে, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন করে কল্পনা করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ইন্দো-প্যাসিফিকের দুটি সবচেয়ে গতিশীল অঞ্চল হিসেবে, ভারত ও আসিয়ান একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বাণিজ্য অগ্রাধিকারগুলিকে সারিবদ্ধ করার মাধ্যমে অনেক বিষয়ে লাভবান হতে পারে: যেমন ডিজিটালাইজেশন, স্থায়িত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।

সম্পর্কের পরবর্তী ধাপে বাণিজ্যের পরিমাণের চেয়ে গুণমানের উপর জোর দিয়ে, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তৈরি করে এবং অর্থনৈতিক সংহতিকে কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার মাধ্যমে এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে হবে। 


এটা স্বীকার করতেই হবে যে, এর সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও গত দুই দশকে ভারত-আসিয়ান বাণিজ্য ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আসিয়ান ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং বিনিয়োগও প্রায় একই পর্যায়ের। এই জোটটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ভারতের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। এই প্রেক্ষাপটে, চলমান বাণিজ্য আলোচনার সময় আসিয়ানের সমালোচনা করা হিতে বিপরীত হতে পারে। জানা গিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে ঘন ঘন উচ্চ-পর্যায়ের বিবৃতির কারণে আসিয়ানের আলোচকদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি আলোচনার পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তি (আইটিগা) পর্যালোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং মালয়েশিয়ার অর্থনীতিমন্ত্রী জাফ্রুল আজিজের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকটি আলোচনাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে হচ্ছে
। আসিয়ানের ৩.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি ৬০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য বাজারের সুযোগ তৈরি করে। ফার্মাসিউটিক্যালস, অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো ভারতীয় পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলেও, সেগুলোকে অ-‌শুল্ক বাধা এবং অসম বাজার উন্মুক্ততার সম্মুখীন হতে হয়: উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়া মাত্র ৪৪ শতাংশ বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেয়। তাছাড়া, ভারত থেকে পরিচালিত জাপানি ও কোরীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের তুলনায় ভারতীয় শিল্পগুলির দ্বারা আইটিগা-র স্বল্প ব্যবহার, শুধুমাত্র আসিয়ানের ওপর দোষারোপ না করে বরং অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনের দিকেই ইঙ্গিত করে।

আসিয়ান অঞ্চলে ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মিবাহিনী রয়েছে, বিশেষ করে ডিজিটাল ও পরিষেবা খাতে, যা সাইবার অপরাধ-সম্পর্কিত আটকের মতো সংকটের মাধ্যমে তুলে ধরা না হলে প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। এছাড়াও, ভারতীয় সংস্থাগুলি সিঙ্গাপুরের বন্ড বাজারে সক্রিয়ভাবে পুঁজি সংগ্রহ করে এবং মালয়েশিয়ায় প্রচলিত ও ইসলামিক বন্ড উপকরণের মাধ্যমে স্বল্প খরচে অর্থায়ন পায়, যা অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে আরও গভীর করে।

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা থেকে কৌশলগত সমতা

আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা শুধু একটি পরিসংখ্যানগত উদ্বেগ নয়; এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর অসাম্যের প্রতীক, যার সমাধান প্রয়োজন। একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি ভারতকে তার অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চ-বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলিতে রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম করবে। আসিয়ানের জন্য, একটি শক্তিশালী ভারতীয় অর্থনীতি, যা তাদের নিজস্ব অর্থনীতির সাথে একীভূত হবে, তা বহু-মেরু এশিয়ায় একটি প্রতিভারসাম্য প্রদান করবে।

বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ভারত ও আসিয়ানের মতো দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারিত্বগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, সেগুলিকে দুর্বল হতে দেওয়া উচিত নয়।

পরিশেষে, ২০২৫ সালের এফটিএ পর্যালোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ লেনদেনভিত্তিক বাণিজ্য আলোচনা থেকে একটি রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে কি না তার উপর। এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ব্যবসায়িক আস্থা এবং একটি মুক্ত, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।



গুরজিৎ সিং জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, আসিয়ান এবং আফ্রিকান ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.