Author : Tomasz Lukaszuk

Published on Jan 05, 2026 Updated 0 Hours ago

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নিজেদের উপস্থিতি সম্প্রসারণের জন্য গ্লোবাল সাউথের বন্দরগুলির মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক, পারস্পরিক উপকারী দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দরগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবা: গ্লোবাল সাউথের জন্য ইউরোপের শিক্ষা

ইউরোপীয় সভ্যতায় বন্দরগুলি সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গ্রিসের নগর-বন্দরগুলিই রাষ্ট্রের ধারণার জন্মভূমি ছিল, যার মধ্যে সামুদ্রিক দিকটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যা রাষ্ট্রীয় মানবিক কার্যকলাপের ধারণাগত বাস্তব কাঠামোর সমস্ত ক্ষেত্রকে পরিবেষ্টন করেছিল। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বন্দরগুলি বিশ্বব্যাপী বন্দরে নোঙর ফেলার  মোট ২৩ শতাংশ পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ইইউ এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের বন্দরগুলিতে সংঘটিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ জাহাজ ইইউ-এর পতাকা বহন করত এবং ৯০ শতাংশের মালিকানা ছিল ইইউ-এর


ইউরোপীয় সভ্যতায় বন্দরগুলি সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গ্রিসের নগর-বন্দরগুলিই রাষ্ট্রের ধারণার জন্মভূমি ছিল, যার মধ্যে সামুদ্রিক দিকটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যা রাষ্ট্রীয় মানবিক কার্যকলাপের ধারণাগত বাস্তব কাঠামোর সমস্ত ক্ষেত্রকে পরিবেষ্টন করেছিল।



রাষ্ট্রপুঞ্জ সমুদ্র আইন কনভেনশন (ইউএনক্লস) ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়ার পর, এবং সমন্বিত মহাসাগর ব্যবস্থাপনা (আইওএম) ধারণাটি বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত সামুদ্রিক নীতি (আইএমপি) চালু করা হয়েছিল। এই নীতির অধীনে, ,২০০টি ছোট-বড় সমুদ্রবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এখানে ৪২,০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং ২০০টি বন্দর রয়েছে, যা সমুদ্রবন্দরগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। এছাড়াও, ,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি ইউরোপীয় ফেরি রুট রয়েছে, যার সূত্রে প্রতি বছর ইউরোপীয় বন্দরগুলিতে ৪০ কোটি যাত্রী আরোহণ অবতরণ করে। এই নৌপথ ব্যবস্থাটি ইউরোপের পরিবহণ পরিকাঠামোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার মধ্যে ,১৭,০০০ কিলোমিটার রেলপথ, ৭৭,০০০ কিলোমিটার মোটরওয়ে এবং ৩২৫টি বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত। এই বহুস্তরীয় এবং বহুমুখী পরিবহণ নেটওয়ার্কটি কেবল জাতীয় স্তরেই নয়, উপ-আঞ্চলিক এবং আঞ্চলিক স্তরেও বিকশিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তঃসীমান্ত আঞ্চলিকীকরণ এবং আন্তঃসীমান্ত সীমান্ত-পার্শ্ববর্তী সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নর্থ সি, বাল্টিক সাগর আটলান্টিক মহাসাগরের জন্য তৈরি করেছে ইউরোপীয় সমুদ্রবন্দর সংস্থা (এসপো), আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনা (টিএমএসপি), সমুদ্র অববাহিকা কৌশল এবং বৃহৎ-আঞ্চলিক কৌশল ২০০৯ সালে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের জন্য এবং ২০১৪ সালে অ্যাড্রিয়াটিক আইওনিয়ান অঞ্চলের জন্য) এসপো আবার পোর্টইনসাইটস  নামে একটি অনলাইন ডেটা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যা আরইএস থ্রুপুট ডেটা, বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত ডেটা এবং পরিবেশগত ডেটা সংগ্রহ করে ইউরোপীয় বন্দরগুলিকে পরিষেবা প্রদান করে এবং এর মাধ্যমে ইউরোপীয় বন্দরগুলির জন্য একটি জ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলে।

ইউরোপীয় কমিশন একটি বিশেষ ইন্টাররেজ কর্মসূচিও চালু করেছে, যা ইইউ-এর ২০২১-২০২৭ সালের কর্মকাঠামোর জন্য সামুদ্রিক সীমান্ত-পার্শ্ববর্তী অঞ্চল এবং আন্তঃদেশীয় উদ্যোগগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইন্টাররেজ-এর অধীনে, উদাহরণস্বরূপ, ইতালি ফ্রান্সের সামুদ্রিক অঞ্চলগুলির মধ্যে, বিশেষ করে উভয় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলির মধ্যে সহযোগিতা বিদ্যমান, যার লক্ষ্য হল তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং স্থায়িত্ব উন্নত করা। এই সহযোগিতা স্থিতিশীল বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নত প্রবেশগম্যতা, মানব পুঁজি উন্নয়ন এবং আন্তঃসীমান্ত সংহতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

আধুনিক ইন্টারমোডাল পরিবহণ নেটওয়ার্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্দরগুলিকে বিংশ শতাব্দীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। জমি সরবরাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের (যার মধ্যে গুদামজাতকরণ পণ্য স্থানান্তর সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত) মতো ঐতিহ্যবাহী কাজগুলি ছাড়াও, বন্দরগুলি এখন উপকূলীয় জনসম্প্রদায়কে সমর্থনকারী কেন্দ্র এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক পরিবহণ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। এই দায়িত্বগুলির মধ্যে এখন উৎপাদন বিতরণ সুবিধা, সেইসঙ্গে অফশোর বায়ু শক্তি এবং অনশোর সৌর শক্তি প্রকল্প পরিচালনাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, বন্দরগুলি টেকসই নীল অর্থনীতির কার্যক্রম এবং সমাধানের সহায়ক প্রবর্তকে রূপান্তরিত হচ্ছে। ব্লু অ্যাক্সিলারেটর হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে, বন্দরগুলি স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী নীল অর্থনীতির ব্যবসার জন্য গবেষণা কেন্দ্র পরীক্ষামূলক সুবিধাকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে নীল অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে একটি সমন্বিত শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলে। বন্দরের ভূমিকার মধ্যে শিপিং-‌সহ নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নতুন প্রযুক্তি বিকাশে অগ্রদূত উদ্ভাবক হওয়াও অন্তর্ভুক্ত। কিছু বন্দর কর্তৃপক্ষ নীল অর্থনীতির কার্যক্রমের পরিচালক হওয়ার লক্ষ্য রাখে। উপকূলীয় অঞ্চলের স্থিতিশীল উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং বন্দরগুলিকে তাদের নতুন ভূমিকায় আরও সক্ষম করে তুলতে, জুন, ২০২৫ তারিখে বিলিয়ন ইউরোর বাজেটসহ ইউরোপীয় ওশান প্যাক্ট গৃহীত হয়েছিল।


রাষ্ট্রপুঞ্জ সমুদ্র আইন কনভেনশন (ইউএনক্লস) ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়ার পর, এবং সমন্বিত মহাসাগর ব্যবস্থাপনা (আইওএম) ধারণাটি বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত সামুদ্রিক নীতি (আইএমপি) চালু করা হয়েছিল।



বন্দরগুলির নতুন কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলি ২০১৯ সালে খাদ্য কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক চালু করা ব্লু পোর্টস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির সরঞ্জামগুলিও ব্যবহার করে, যা তাদের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্থিতিশীল উন্নয়নকে উৎসাহিত করে। ইইউ-তে ১০০টি ব্লু পোর্ট রয়েছে, যেগুলো জলবায়ু-নিরপেক্ষ এবং স্মার্ট, এবং টেকসই জলবায়ু কার্যক্রম, বিশেষ করে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহারে দায়বদ্ধ তারা তথ্য জ্ঞান বিনিময় করে, এবং বাস্তুতন্ত্র নীল অর্থনীতি ক্ষেত্রের চাহিদা, বিশেষ করে পর্যটন সামুদ্রিক চাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগিতা করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশেষ বাঁধ তরঙ্গরোধী কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে উপকূল সুরক্ষা হল সহযোগিতার আরেকটি ক্ষেত্র।


বন্দরগুলির নতুন কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলি ২০১৯ সালে খাদ্য কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক চালু করা ব্লু পোর্টস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির সরঞ্জামগুলিও ব্যবহার করে, যা তাদের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্থিতিশীল উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।



একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রপথ সমুদ্রতলদেশের পাইপলাইনের কাছে নতুন সংঘাতগুলি বন্দরগুলির জন্য এক নতুন ধরনের নিরাপত্তা-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একটি প্রধান দায়িত্ব হল হাইব্রিড যুদ্ধের আক্রমণগুলি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং তা প্রতিরোধ করা। হাইব্রিড যুদ্ধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অবৈধ কার্যকলাপ, যেমন বন্দরগুলির কাছে আসার সময় জাহাজগুলির নেভিগেশন সিস্টেমে জ্যামিং স্পুফিং করা, মনুষ্যবাহী মনুষ্যবিহীন উভয় ধরনের পৃষ্ঠ ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে সমুদ্রতলদেশের টেলিযোগাযোগ এবং জ্বালানি পরিকাঠামো আক্রমণ করা, এবং গ্রে জোন নৌবহর দ্বারা চোরাচালানের পণ্য অবৈধভাবে স্থানান্তরের জন্য বন্দরগুলির সুরক্ষিত জায়গা ব্যবহার করা। আরেকটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ হল আধা-সামরিক নৌবহরের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। এই সমস্ত নিরাপত্তা উদ্বেগগুলির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ)'-এর অধীনে একটি নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন, যার মধ্যে কোস্টগার্ড নৌবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, মহাকাশ রাডার নজরদারি ব্যবহার, এবং নৌবাহিনীর জন্য কিছু বন্দর পরিকাঠামোকে দ্বৈত-ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অভিযোজিত করা অন্তর্ভুক্ত।

উপসংহার

গত ২০ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার বন্দরগুলির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বহুস্তরীয় স্থানীয়, জাতীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি প্রক্রিয়া তৈরি করেছে। সমন্বিত সামুদ্রিক নীতির অধীনে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক কৌশলটি বন্দরগুলির উন্নয়নের স্থায়িত্বরক্ষায় সাফল্য এনেছে এবং ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন কাজ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সহায়তা করেছে।

ভারতের মতো গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির নেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি সরঞ্জাম গ্রহণ করে, এবং সেইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকেও উপকৃত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় ভারত ধারণা কর্মসূচিসমূহের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্যোগে এগুলি বাস্তবায়িত করতে পারে, যার মধ্যে আছে সাগরমালা, উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এনইআইও) যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগর ত্রিভুজ অন্তর্ভুক্ত, সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তকারী এশিয়া-আফ্রিকা গ্রোথ করিডোর, পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে ভারত-জাপান করিডোর এবং বঙ্গোপসাগরে আসিয়ান-ভারত ক্রুজ সংলাপ।



টোমাস লুকাসজুক ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অফ পলিটিকাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-‌এর ডিপার্টমেন্ট অফ রিজিয়নাল অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ বিভাগের গবেষক এবং ভারতে পোল্যান্ডের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত (২০১৪-২০১৭)

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.