Published on Jul 21, 2025 Updated 0 Hours ago
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার: উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য কেন ভাল নীতিমালা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থাপত্য (আইএফএ) সংস্কারের আহ্বানের অগ্রভাগে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন চাহিদা, জলবায়ু-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ, সংঘাত ও হিংস্রতা, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ও ঋণের চাপ-‌সহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা।

আইএফএ সংস্কারের বিতর্ক বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির (আইএফআই) উপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুটি ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠান (বিডব্লিউআই) — আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব ব্যাঙ্ক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) — এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এমডিবি)।
[১]   এমডিবি ব্যালান্স শিট অপ্টিমাইজ করা এবং উন্নত দেশগুলির কাছ থেকে বর্ধিত মূলধন পাওয়ার লক্ষ্যে ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক শক্তি ও ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, এই প্রচেষ্টাগুলি ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে সম্পদকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে, কারণ উন্নত অর্থনীতিগুলি সামরিক ব্যয়, পরিকাঠামো ও ম্যানুফ্যাকচারিং এবং জৈব চিকিৎসা, ডিজিটাল ও সবুজ প্রযুক্তিতে গবেষণা-‌উন্নয়ন-‌উদ্ভাবনে (আরডিআই) বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়। বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপস ও আলোচনার ইচ্ছা হ্রাস করে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এই প্রবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, যদিও উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থিক চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবু স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে আইএফআই-এর সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ঐতিহ্যবাহী সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ছাড়িয়ে বিকল্প সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক বেসরকারি মূলধন ও দেশীয় সঞ্চয় অন্তর্ভুক্ত।

এই প্রেক্ষাপটে, আইএফআই-‌গুলি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বছরের পর বছর ধরে তারা সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পর্কে অতুলনীয় জ্ঞান সঞ্চয় করেছে। বিভিন্ন অর্থনীতির গভীর ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত এই দক্ষতা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে মূল্যবান ও নিরপেক্ষ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এমন দেশীয় সক্ষমতা, কাঠামো, প্রতিষ্ঠান, নীতি এবং প্রকল্পগুলিকে শক্তিশালী করতে, জনসাধারণের ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে, এবং দেশীয় মূলধনকে একত্রিত করতে এই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে। এই প্রচেষ্টাগুলি অতঃপর সুপরিকল্পিত বৃদ্ধি কৌশলগুলিতে অবদান রাখে, যার জন্য এই লেখকেরা আগে একটি সাধারণ কাঠামো প্রস্তাব করেছেন। 
[২]

আইএফআই ও এমডিবি: অভিযোজন ও স্ব-সংস্কারের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য

ডব্লিউবিজি, প্রাচীনতম আইএফআই-‌গুলির মধ্যে একটি, মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে পুনর্গঠন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডব্লিউবিজি দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে তার কার্যভার প্রসারিত করে: ১৯৫৬ সালে আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং ১৯৫৯ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি  (আইডিএ)।
[ক]

১৯৭০-এর দশকে, ডব্লিউবিজি দারিদ্র্য হ্রাসের দিকে মনোনিবেশ করে, এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নের মতো নতুন খাতে ঋণ প্রদান সম্প্রসারণ করে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে, এটি কাঠামোগত সমন্বয় নীতি (এসএপি) প্রচার করে এবং প্রাক্তন সোভিয়েত-সংযুক্ত দেশগুলিতে বাজার-বান্ধব সংস্কারকে সমর্থন করে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলির প্রতিক্রিয়া জানায়।

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিক থেকে, ডব্লিউবিজি স্থিতিশীল উন্নয়ন, জনসম্প্রদায়-চালিত উদ্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা এবং স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
[খ] তবে, এসএপি-র সামাজিক পরিণতি উপেক্ষা করা এবং তথাকথিত ওয়াশিংটন ঐকমত্যের অধীনে সকলের-‌জন্য-‌অভিন্ন-আকার পদ্ধতি প্রয়োগ করার জন্য ডব্লিউবিজি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

নিশ্চিতভাবেই, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে বিডব্লিউআই-‌গুলি পুনর্বিন্যাস ও স্ব-সংস্কারের মধ্য দিয়ে গেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালে ভারী ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশ (এইচআইপিসি) প্রোগ্রাম চালু করা, ১৯৯৭ সালে কৌশলগত চুক্তি ও কর্মীদের বিকেন্দ্রীকরণ প্রবর্তন করা, ১৯৯৯ সালে আর্থিক ক্ষেত্র মূল্যায়ন কর্মসূচি (এফএসএপি) এবং দারিদ্র্য হ্রাস ও বৃদ্ধি সুবিধা (পিআরজিএফ) তৈরি করা, ২০০০ সালে ক্যাপিটাল মার্কেটস কনসালটেটিভ গ্রুপ (সিএমসিজি) এবং ২০০১ সালে স্বাধীন মূল্যায়ন অফিস (আইইও) প্রতিষ্ঠা করা।
[গ],[৩]

কোভিড-১৯ অতিমারির পরেও কৌশলগত প্রতিফলন অব্যাহত ছিল। ২০২২  সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিডব্লিউআই-‌গুলির বার্ষিক সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ডব্লিউবিজি-কে দারিদ্র্য হ্রাস, ভাগ করা সমৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরিণতিতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত রোডম্যাপ
[৪] জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন, সেই সঙ্গে অতিমারি প্রস্তুতি, প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়াসহ বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের পণ্যের (জিপিজি) উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। জি২০-র ভারতীয় প্রেসিডেন্সি কর্তৃক কমিশনপ্রাপ্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী (আইইজি) ২০২৩ সালে আরও সংস্কারের প্রস্তাব করেছিল। তাদের দুই খণ্ডের প্রতিবেদনে ‘‌আরও ভালো, বৃহত্তর এবং সাহসী’‌ এমডিবি-এর পক্ষে কথা বলা হয়েছে। [ঘ],[৫] ২০২৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং  একটি বাসযোগ্য গ্রহে ভাগাভাগি করা সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে বিডব্লিউআই-এর ভূমিকা সম্পর্কে অংশীদারদের পরামর্শের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিডব্লিউআই-রা একটি  বহিরাগত উপদেষ্টা গোষ্ঠী গঠন করেছিল। [ঙ]

প্রসঙ্গ: উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থায়নের প্রয়োজন

স্থিতিশীল উন্নয়ন প্রতিবেদন (এফএসডিআর) ২০২৪ অনুমান করে যে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বার্ষিক এসডিজি অর্থায়নের ব্যবধান ২.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত। ২০২০-র দশকের গোড়ার দিকের জটিল সংকট — যার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ অতিমারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি — উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে, জনসাধারণের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে, এবং দুর্বলতা আরও গভীর করেছে। এমডিবি-‌গুলির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি এই অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল প্রমাণিত হয়েছে। আইএমএফ ও ডব্লিউবিজি-র ২০২৪ সালের বসন্তকালীন সভায় ১০টি এমডিবি ঘোষণা করে যে, ব্যালান্স শিট অপ্টিমাইজেশন ব্যবস্থা পরবর্তী দশকে অতিরিক্ত ৩০০ বিলিয়ন থেকে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারে, যা প্রতি বছর মাত্র ৩০ বিলিয়ন থেকে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য, অর্থাৎ এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের জন্য যা প্রয়োজন তার থেকে অনেক কম।
[৭]

প্রকৃতপক্ষে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্য হ্রাসে কষ্টার্জিত অর্জনের ক্ষয় দেখা গিয়েছে। অপুষ্টির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আফ্রিকায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন - এই প্রবণতা অতিমারির পরে আরও তীব্র হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে অপুষ্টির প্রকোপ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আফ্রিকাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিণত করেছে। সেখানে ২০২৩ সালের হিসাবে প্রায় ২০ শতাংশ জনসংখ্যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।

চিত্র ১. বিশ্বব্যাপী এবং নির্বাচিত অঞ্চলে অপুষ্টির প্রকোপ (%, ২০১৭-২০২৩)

 Reforming International Financial Institutions Why Good Policies Matter More For Developing Countries
সূত্র: এফএও, আইএফএডি, ইউএনএফ, ডব্লিউএফপি, ডব্লিউএইচও, (২০২৪)।
[৮]

দ্রষ্টব্য: ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান আনুমানিক।

 

একসঙ্গে বহু সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনসাধারণের অর্থায়নকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে, কারণ সরকারগুলি ক্রমবর্ধমান সুদের হার মোকাবিলা করার সময় এর প্রভাব কমাতে লড়াই করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনসাধারণের ঋণ উন্নত অর্থনীতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে, বহিরাগত সার্বভৌম ঋণ (চিন বাদে) ২০০৮ সালের স্তরের প্রায় ২.৫ গুণ বেড়ে গিয়েছিল।[৯]

২০১০ সাল থেকে সরকারি ঋণ-জিডিপি অনুপাত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে গড় অনুপাত ২০১০ সালে প্রায় ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও সামগ্রিক গড় অতিমারির শীর্ষ স্তর থেকে (২০২০ সালে জিডিপির ৬০ শতাংশেরও বেশি) হ্রাস পেয়েছে, আফ্রিকায় এর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, এবং ২০২৩ সালে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে।
[চ],[১০]

উন্নয়নশীল দেশগুলির, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকার (এসএসএ) মুখোমুখি আরেকটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হল জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগ এবং সংঘাত উভয়ের কারণে বাধ্যতামূলক বাস্তুচ্যুতি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত, বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) সংখ্যা গত দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এসএসএ বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও সমস্ত আইডিপি-‌ প্রায় অর্ধেক সেখানকার মানু্ষ।
[১১]  ২০২৩ সালে সংঘাত-সৃষ্ট স্থানচ্যুতি পূর্ববর্তী দশকের গড়ের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি ছিল। [১২]


চিত্র ২. বিশ্বব্যাপী এবং নির্বাচিত অঞ্চল অনুসারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির সংখ্যা (২০১৪-২০২৩ সালে, মিলিয়ন মানুষের মধ্যে)

 Reforming International Financial Institutions Why Good Policies Matter More For Developing Countries

সূত্র: আইডিএমসি (২০২৪) [১৩]

বিঃদ্রঃ: ইএপি: পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল: এমইএনএ: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা; এসএ: দক্ষিণ এশিয়া।

এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাগুলি প্রতিকূল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্বারা আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা আইএফআই ও এমডিবি-এর যে কোনও অর্থবহ সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইএফআই-এর মূল সংস্কারের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক বাধা


ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ আইএফআই-এর অর্থবহ সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মেরুকরণের মূল দিকগুলি নিম্নরূপ:

মার্কিন-চিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিদলীয় ঐকমত্য বিশ্বব্যাপী প্রাধান্য বজায় রাখার দিকে সরে গিয়েছে, বিশেষ করে চিনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায়। বিশ্বব্যাপী জিডিপি, শিল্প উৎপাদন, সামরিক ব্যয়, আরডিঅ্যান্ডআই এবং বাণিজ্যে চিনের ক্রমবর্ধমান অংশ — যা পরিচ্ছন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য বিশ্বব্যাপী মূল্য শৃঙ্খলে তার গভীর একীকরণের সঙ্গে মিলিত — এই প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ওয়াশিংটনের এই মনোভাব বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (‌ডব্লিউটিও) আপিল সংস্থায় নিয়োগে বাধা প্রদান, মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইন (আইআরএ) এবং ২০২২ সালের চিপস এবং বিজ্ঞান আইনের মতো নতুন শিল্পনীতি প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি), এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রত্যাহারের প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলি এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে। লেখার সময়, এমনকি বিডব্লিউআই-তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অংশগ্রহণ, এবং তাদের ক্রেডিট রেটিং-এর প্রভাব, অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে।
[১৪]

 

চাপের মুখে ইউরোপের অর্থনৈতিক মডেল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রাক্তন ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের (ইসিবি) গভর্নর মারিও দ্রাঘির নেতৃত্বে একটি প্রতিবেদনে পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবায় আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে — এগুলিই সেই সব ক্ষেত্র যা প্রতিযোগিতামূলকতা, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। [১৫]  তবে, বার্ধক্যজনিত সামাজিক ব্যয় এবং অটোমেশন-চালিত চাকরির স্থানচ্যুতির পাশাপাশি এই অগ্রাধিকারগুলিকে অর্থায়ন করা ইউরোপীয় সরকারগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণে তাদের ক্ষমতাকে সীমিত করে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর ৩২ সদস্যের জন্য জিডিপির ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করার পর গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
[১৬]  এই লক্ষ্যটি ইতিমধ্যেই পোল্যান্ড [১৭] দ্বারা এবং এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো বাল্টিক রাষ্ট্রগুলি দ্বারা গৃহীত হয়েছে। [১৮] ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে, যা ২০২৪ সালে জিডিপির ৬.৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের মোট সামরিক ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে। [১৯]


ওডিএ হ্রাস। উচ্চ-আয়ের দেশ এবং অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির ওডিএ ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেনে অবদান ও শরণার্থীদের জন্য খরচ, সেইসঙ্গে কোভিড-১৯-সম্পর্কিত সাহায্যের শেষ পর্ব বাদ দিলে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) উন্নয়ন সহায়তা কমিটির (ডিএসি) ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ওডিএ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
[২০]  ২০২৩ সালে, মোট ওডিএ ২২৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদি সমস্ত ডিএসি দেশ তাদের মোট জাতীয় আয় (জিএনআই)-‌এর ০.৭ শতাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করত, তাহলে অতিরিক্ত ১৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতির প্রায় ৫ শতাংশ — পাওয়া যেত।


২০২৫ সালের গোড়ার দিকে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)-‌র কার্যক্রম স্থগিত করা পশ্চিমী রক্ষণশীল-জনপ্রিয় আন্দোলনগুলিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার দিকে আরও জোর দেয়।
[ছ] এই প্রবণতাগুলি বিবেচনা করে, এটি ধরে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত যে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য উপলব্ধ সরকারি বহিরাগত সম্পদ আগামী পাঁচ বছরে বৃদ্ধি পাবে না। এর ফলে এই দেশগুলির জন্য বিকল্প অর্থায়নের উৎসগুলি অনুসন্ধান করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বেসরকারি পুঁজি বাজারে।

 

উন্নয়নশীল দেশ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা: সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্তের দিকে

এই অংশে উন্নয়নশীল দেশ এবং আইএফআই-এর মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে বিকশিত হতে পারে এবং হওয়া উচিত তা অন্বেষণ করা হয়েছে।

যৌথ পদক্ষেপ এবং সহযোগিতার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র

আইএফআই ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার ভবিষ্যৎ চারটি  অগ্রাধিকার ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা উচিত যার জন্য জরুরি মনোযোগ প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে কার্যকরভাবে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

এই সহযোগিতার একটি স্তম্ভ হতে হবে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং প্রশমন। আইএফআই-এর উচিত জলবায়ু ঝুঁকি পরিচালনা এবং নিম্ন-কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রাপ্যতা সহজতর করে এবং ঋণ-এর বিনিময়ে জলবায়ু বিনিময়ের মতো উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াগুলির প্রসার করে সহায়তা করা। অর্থায়ন ছাড়াও তাদের জলবায়ু-সপ্রতিভ কৃষি, শক্তি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির উপর প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদান করা উচিত, এবং একইসঙ্গে কার্বন মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং সবুজ বিনিয়োগ কৌশলগুলির উন্নয়নে সহায়তা করা উচিত।

ঋণের স্থায়িত্ব এবং আর্থিক স্থিতিস্থাপকতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য আইএফআই-এর প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা উচিত। এই সহায়তার মধ্যে স্বচ্ছ ঋণ অনুশীলন সমর্থন করা, আর্থিক সংকট প্রতিরোধ করা, এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঋণ পুনর্গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

ডিজিটাল গণ-‌পরিকাঠামো (ডিপিআই) উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য আরেকটি রূপান্তরমূলক সুযোগ উপস্থাপন করে। এই ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য ডিপিআই কীভাবে জনসেবা সরবরাহ উন্নত করতে পারে, প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তুলতে পারে, এবং উদ্ভাবন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে সম্পর্কে মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে। আইএফআই-দের উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য চাহিদা-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করা উচিত, যার লক্ষ্য ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অধিকার-সংরক্ষণকারী এবং স্থিতিশীল করা। উপরন্তু, তাদের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি মূল্যায়ন এবং এই রূপান্তরকে পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা উচিত।

পরিশেষে, আইডিপি-দের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ক্রমশ জরুরি হয়ে উঠছে, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায়, যেখানে সংঘাত এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে স্থানচ্যুতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইএফআই-দের উচিত আয়োজক দেশগুলিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিকাঠামো ও জনসেবা বৃদ্ধি করা। সমান্তরালভাবে, তাদের এমন প্রোগ্রামগুলিকে সমর্থন করা উচিত যা অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে, আইডিপি-দের জন্য সামাজিক অন্তর্ভুক্তি প্রচার করে, এবং কার্যকরভাবে স্থানচ্যুতি পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা জোরদার করে।

এই ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে, আইএফআই এবং উন্নয়নশীল দেশগুলি আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির প্রতিক্রিয়া জানাতে আরও স্থিতিস্থাপক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করতে পারে।

বেসরকারি মূলধন একত্রিত করা

ওডিএ-গুলি ক্ষমতা স্থবির হয়ে যাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ায়, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বেসরকারি ক্ষেত্রকে সম্পৃক্ত করার জন্য আরও কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আইএফআই-গুলি বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টায় টেকসই বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা প্রদান করতে পারে।

আইএফআই সহায়তা একাধিক স্তরে কাজ করতে পারে, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর এবং নির্দিষ্ট চাহিদার উপর নির্ভর করে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্তরে, বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের দেশগুলির (এলআইসি) জন্য, একটি অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত। ক্ষেত্রভিত্তিক পর্যায়ে, আইএফআই-গুলিকে বিদেশী বা দেশীয় উৎস থেকে বেসরকারি মূলধন প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এমন ক্ষেত্র-নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাগুলি সনাক্ত এবং তার মোকাবিলা করার জন্য কাজ করা উচিত। প্রকল্প পর্যায়ে, বিনিয়োগ দক্ষতা সর্বাধিক করার জন্য প্রকল্প নির্বাচন ও মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দিকে সহায়তা নির্দেশিত হওয়া উচিত।

মধ্যম আয়ের দেশগুলির (এমআইসি) জন্য, আইএফআই সহায়তা ক্ষেত্রভিত্তিক এবং প্রকল্প-স্তরের হস্তক্ষেপের উপর আরও বেশি মনোনিবেশ করতে পারে। এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন উপায়ে ঐতিহ্যবাহী অনুশীলন থেকে একটি পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথমত, এটি সম্পদ সংগ্রহের জন্য সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য স্বল্প-ও-‌মধ্য-মেয়াদি লক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে। দ্বিতীয়ত, এটি প্রতিটি দেশের অনন্য চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইএফআই সহায়তা তৈরি করে একটি সকলের-‌‌জন্য-‌এক-আকার মডেল থেকে দূরে সরে  আসে। পরিশেষে, এটি দক্ষতার উপর জোর দেয়, এবং নিশ্চিত করে যে আইএফআই সহায়তার প্রতিটি ডলার কৌশলগতভাবে সর্বাধিক সম্ভাব্য প্রভাবের জন্য ব্যবহার করা হয়।

নীতিগত সহায়তার বাইরেও, আইএফআই-‌গুলিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য গ্যারান্টি এবং ঝুঁকি প্রশমনের উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে অনুঘটক হিসাবে কাজ করা উচিত। তারা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সহজতর করতে পারে, যা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবাগুলির অর্থায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সম্পদকে একত্রিত করে। উপরন্তু, উচ্চ-‌প্রভাবশালী ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য মিশ্র অর্থায়নের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা — যা সরকারি ও বেসরকারি তহবিলকে একত্রিত করে — প্রসারিত করা উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হল দায়িত্বশীল এবং টেকসই ব্যবসায়িক অনুশীলনগুলিকে উৎসাহিত করা। আইএফআইগুলির পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসন (ইএসজি) মানগুলিকে একীভূত করতে কোম্পানিগুলিকে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা উচিত, এবং এইভাবে বিনিয়োগ যাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা যায়। তাদের স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নয়নকেও সমর্থন করা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরকে সহজতর করা উচিত, এবং দেশীয় ব্যবসাগুলিকে বিশ্ব বাজার ও উদ্ভাবনের প্রাপ্তিসক্ষম করা উচিত। বেসরকারি ক্ষেত্রের সম্পৃক্ততা জোরদার করে আইএফআইগুলি তহবিলের ব্যবধান পূরণ করতে, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বৃদ্ধি আনতে সহায়তা করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে, গত দুই দশকে অভূতপূর্ব মূলধন সম্পদের অধিকারী আর্থিক খেলোয়াড়দের উত্থান দেখা গেছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ, শীর্ষ ৫০০ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলি ১২৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিচক্ষণ সম্পদ পরিচালনা করেছে — যা ২০২২ সালের তুলনায় ১২.৫ শতাংশ বেশি।
[২১] অধিকন্তু, ২০২৪ সালে বেসরকারি ইকুইটি চুক্তি সম্পাদন ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, [২২] যেখানে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল একই বছরে ১.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিচালনা করেছে। [২৩]


অতিরিক্ত মূলধন প্রবাহকে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ইন্ধন জোগাচ্ছে — শুধুমাত্র চিন ২০২৪ সালে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্বৃত্ত রেকর্ড করেছে — এবং কাতারের ক্রমবর্ধমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের মতো শক্তির অপ্রত্যাশিত ফলন নিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে দেখা যায় এমন খুচরা বিনিয়োগকারীদের অনুমানমূলক বিনিয়োগের ক্ষুধার ইঙ্গিত দেয়, যাকে সঞ্চয়ের উল্লেখযোগ্য উচ্চ-রিটার্ন, উৎপাদনশীল ক্ষেত্র যেমন কম্পিউটিং শক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও পরিচ্ছন্ন জল ও পরিবহণ পরিকাঠামোর মতো ইউটিলিটিগুলির দিকে পুনঃনির্দেশিত করা যেতে পারে।

ভবিষ্যতে, আইএফআই ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও লক্ষ্যনির্ভর এবং কৌশলগত হয়ে উঠতে হবে। আইএফআই-‌গুলির উচিত বৃদ্ধি-বান্ধব কৌশলগুলিকে সমর্থন করে এমন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে প্রযুক্তিগত সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে তাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, কাঠামো, প্রতিষ্ঠান ও নীতিগুলিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন অর্থায়ন একত্রিত করা যায়।

উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য সুপারিশ

এই প্রবন্ধে পূর্বে বর্ণিত ওয়াশিংটন ঐকমত্য-পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে,
[২৪] উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আইএফআই-গুলির সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য একটি নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তাদের তুলনামূলক সুবিধার উপর ভিত্তি করে দেশীয় বৃদ্ধি কৌশল তৈরি করতে আইএফআই-গুলির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত, যাতে অর্থনৈতিক নীতিগুলি জাতীয় শক্তি ও সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা যায়। বিশ্বাসযোগ্যতা সংরক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য আর্থিক দায়িত্ব বজায় রাখা, বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করা, এবং প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ও শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা অপরিহার্য। অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বৃদ্ধি আস্থা তৈরি করবে, এবং এও নিশ্চিত করবে যে নীতিগুলি বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থ প্রতিফলিত করে, এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সঙ্গে আপস না করে অর্থনৈতিক কাঠামোগুলিকে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম করে।


উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার আরেকটি অগ্রাধিকার। ডিজিটাল রূপান্তরকে উৎসাহিত করে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে, এবং আধুনিক পরিকাঠামোতে প্রবেশ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশগুলি দক্ষতা উন্মুক্ত করতে পারে এবং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা-‌শক্তি বাড়াতে পারে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যাতে বিস্তৃত অর্থনৈতিক লাভে রূপান্তরিত হয় তা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অপরিহার্য।

স্থিতিশীল বৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত রূপান্তরও প্রয়োজন — কম মূল্য সংযোজিত ক্ষেত্রের উপর নির্ভরতা থেকে উচ্চ উৎপাদনশীল শিল্পে স্থানান্তরিত হওয়া। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও শিল্প উন্নয়নকে সমর্থন করা, এবং উচ্চ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ও বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ, বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে একীভূতকরণ এবং কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি আনবে।
 
আর্থিক ক্ষেত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যের এমন প্রক্রিয়াগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত যা অর্থনৈতিক জটিলতার জন্য দক্ষতার সঙ্গে সম্পদ বরাদ্দ করে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে, এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে লাভকে চালিত করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জননীতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় দক্ষতা ও প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করবে। সংযোগ, সবুজ পরিকাঠামো এবং মানব মূলধনে কৌশলগত বিনিয়োগ স্থিতিশীল বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।

বহিরাগত প্রেসক্রিপশন গ্রহণের পরিবর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলির উচিত কৌশলগতভাবে আইএফআই-এর সঙ্গে জড়িত হওয়া, তাদের অনন্য অর্থনৈতিক গতিপথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়ন এবং পরামর্শমূলক পরিষেবাগুলিকে রূপ দেওয়া। এই পদ্ধতি জাতীয় উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী দক্ষতা ব্যবহার করার সময় সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে।

আইএফআই-এর জন্য সুপারিশ

আইএফআই-দের কৌশলগতভাবে তাদের সম্পদ বরাদ্দ করা উচিত যাতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ক্ষেত্রগুলিতে প্রভাব সর্বাধিক করা যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে, শাসন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে, এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি করা একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সরকারগুলিকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করে আইএফআই-গুলি আরও স্থিতিস্থাপক এবং গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শুধু পরিকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করার পরিবর্তে, আইএফআই-দের প্রাপক দেশগুলিতে প্রকল্প নির্বাচন এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উপর মনোনিবেশ করা উচিত। এটি করার মাধ্যমে তারা কার্যকর সড়ক প্রকল্পগুলি সনাক্ত করতে পারে, যা পরবর্তীতে মূলধনের উদীয়মান উৎস থেকে তহবিল আকর্ষণ করতে পারে। যদিও এই উদ্দেশ্যটি কখনও কখনও অতীতের প্রকল্পগুলিতে অন্তর্নিহিত ছিল, এটি কখনও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত বা পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যে পরিণত হয়নি। পদ্ধতির এই পরিবর্তন আইএফআই-এর কর্মক্ষমতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় তা প্রভাবিত করবে, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন।

কারিগরি সহায়তার বাইরে, আইএফআই-দের নিরপেক্ষ উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করা উচিত, এবং প্রতিটি দেশের প্রেক্ষাপট অনুসারে প্রমাণ-ভিত্তিক নীতিগত সুপারিশ প্রদান করা উচিত। নীতি সংলাপ এবং জ্ঞান ভাগাভাগি সহজতর করা গেলে তা নিশ্চিত করবে যে উন্নয়ন কৌশলগুলি স্থানীয় চ্যালেঞ্জগুলির প্রতি প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন। উপরন্তু, আইএফআই-গুলিকে গ্যারান্টি এবং ঝুঁকি প্রশমন যন্ত্র প্রদান করে বেসরকারি মূলধন একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে, এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাও অপরিহার্য। আইএফআই-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে আস্থা তৈরি, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক বাধাগুলি অতিক্রম করার উপর মনোনিবেশ করা উচিত। একটি বিকেন্দ্রীভূত, ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক পদ্ধতি প্রতিটি দেশের চাহিদা অনুসারে সহায়তা তৈরি করতে সাহায্য করবে, এবং এভাবে আইএফআই সহায়তাকে আরও কার্যকর এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রতি প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন করে তুলবে।

মধ্যম আয়ের দেশগুলির জন্য, আইএফআই-এর উচিত তাদের স্বতন্ত্র চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের পথগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি পৃথক পদ্ধতি গ্রহণ করা। সংস্কারের জন্য প্রণোদনা প্রদান এবং কাস্টমাইজড সহায়তা প্রদান এই দেশগুলিকে অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং স্থবিরতা এড়াতে সহায়তা করবে। আইএফআই-দের অবশ্যই জলবায়ু-উন্নয়ন সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতে হবে, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনে বিনিয়োগ করতে হবে, সবুজ প্রযুক্তি প্রচার করতে হবে, এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন অনুশীলনগুলিকে সমর্থন করতে হবে। এই কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে মনোনিবেশ করে আইএফআই তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে, অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারে, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল বৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আরও ভালভাবে সহায়তা করতে পারে।

উপসংহার

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলি আইএফআই ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। মূলত আন্তর্জাতিক সহায়তার উপর নির্ভর করার পরিবর্তে, উন্নয়নশীল দেশগুলির উচিত উন্নয়নের জন্য বেসরকারি মূলধন — বিদেশি এবং দেশীয় উভয় — একত্রিত করার জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করা।

পরিবর্তে, আইএফআইগুলিকে স্থিতিশীল ও স্থিতিস্থাপক বৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রতিষ্ঠান-নির্মাণ এবং বেসরকারি মূলধন একত্রিতকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এই সুযোগগুলি সর্বাধিক করার জন্য, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে তাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা সক্রিয়ভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিতে আইএফআই-‌গুলির সঙ্গে কৌশলগতভাবে জড়িত হতে হবে।

ক্রমবর্ধমান খণ্ডিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে, আইএফআই থেকে উপলব্ধ সীমিত সম্পদের সর্বাধিক কার্যকর ব্যবহারের জন্য শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব এবং জনসাধারণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি অপরিহার্য।

পাদটীকা

  

[ক] আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন (আইএফসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বেসরকারি ক্ষেত্রের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য, আর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) কম ঋণ-যোগ্য দেশগুলিকে সহায়তা করার জন্য।

[খ] অন্য এমডিবি-‌গুলি তখন থেকে একই পথ অনুসরণ করেছে।

[গ] সাম্প্রতিক মাইলফলকগুলির মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং ভাগ করা সমৃদ্ধি প্রচারের যুগ্ম লক্ষ্য গ্রহণ, ২০১৬ সালে ফরোয়ার্ড লুক কৌশল, ২০১৮ সালে আইবিআরডি/আইএফসি মূলধন প্যাকেজ এবং ২০২০ সালে ভঙ্গুরতা, সংঘাত এবং হিংস্রতা (এফসিভি) সম্পর্কিত প্রথম ডব্লিউবিজি কৌশল। দেখুন: https://www.worldbank.org/en/news/statement/2023/01/13/ world-bank-group-statement-on-evolution-roadmap

[ঘ] বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক সংস্কার ট্র্যাকারের মাধ্যমে এমডিবি-‌গুলির সংস্কারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট (সিজিডি)। দেখুন: https://www.cgdev.org/media/mdb-reform-tracker

[ঙ] বহিরাগত উপদেষ্টাদের দলে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রাবতী; কোট ডি'আইভরির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিক আচি; এবং ইউএনআই-এর প্রাক্তন উপ-মহাসচিব মার্ক ম্যালোচ ব্রাউন।  দেখুন: https://www.imf.org/en/News/Articles/2024/06/28/pr24250-imf-wbg-announce-joint-bretton-woods-80-initiative। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পলিসি সেন্টার ফর দ্য নিউ সাউথ (পিসিএনএস)-‌এ এই উদ্যোগের কাঠামোর মধ্যে চ্যাথাম হাউস রুলসের অধীনে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। দেখুন: https://www.policycenter.ma/events/bwi-80-dialogue-futureworld- bank-group-and-international-monetary-fund

 
[চ] আফ্রিকান দেশগুলির মধ্যে সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৬০ শতাংশের বেশি, যা ২০১৩ সালে ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে, আইএমএফ জানিয়েছে, যে ১১টি দেশ ঋণের সংকটে রয়েছে তার মধ্যে ৯টি সাব-সাহারান আফ্রিকা (এসএসএ)-তে রয়েছে, আর ২৪টি দেশ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে (এসএসএ-তে ৮টি সহ), ২৫টি মাঝারি ঝুঁকিতে এবং ৭টি কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

[ছ] এই অবস্থানের একটি উদাহরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে। দেখুন: https://www. heritage.org/progressivism/commentary/how-usaid-went-woke-and-destroyed-itself

[১] এমডিবি-গুলির মধ্যে ডব্লিউবিজি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (আরডিবি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আরডিবি-‌গুলির মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এএফডিবি), এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি), কাউন্সিল অফ ইউরোপ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (সিইবি), ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অফ ল্যাটিন আমেরিকা (সিএএফ), ইউরোপীয় ব্যাঙ্ক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইবিআরডি), ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক (ইআইবি), ইন্টার আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (আইডিবি বা আইএডিবি), এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (আইএসডিবি)-‌এর মতো প্রধান এবং তথাকথিত উত্তরাধিকারী প্রতিষ্ঠান। গত দশকে দুটি নতুন আরডিবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হল এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক (এআইআইবি) এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এনডিবি)। ইউরেশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ইডিবি)-‌র মতো আরও ছোট আরডিবি-‌ও রয়েছে। আমেরিকায় ক্যারিবিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (সিডিবি) এবং সেন্ট্রাল আমেরিকান ব্যাঙ্ক অফ ইকনমিক ইন্টিগ্রেশন (বিসিআইই)-‌এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি অন্তর্ভুক্ত করে সাব-রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এসআরডিবি)-‌গুলিও রয়েছে। আফ্রিকায় এসআরডিবি-‌গুলির মধ্যে রয়েছে "সাউথ আফ্রিকান ট্রেড [অ্যান্ড] ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ([পূর্বে] পিটিএ ব্যাঙ্ক নামে পরিচিত), ইস্ট আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ইএডিবি), ওয়েস্ট আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (বিওএডি) এবং ইকোওয়াস ব্যাংক ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইবিআইডি)"। ওশিয়ানিয়ায় প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। দেখুন: https://www.climatepolicyinitiative.org/gca-africa-adaptationfinance/ actors/sub-regional-development-banks-srdbs-2/

[২] এই কাঠামোটি করিম এল আইনাউই এবং হিন টি ডিন-এর "ওয়াশিংটন কনসেনসাসের পর নিউ সাউথের অর্থনৈতিক উন্নয়ন", গ্রুপ দেতুদে জিওপলিটিক্স,  ২০২৪, https://geopolitique.eu/en/2024/12/18/navigatingtodays- complex-economic-policy-triangle-a-view-from-the-south-en/ -‌এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।

[৩] ওটাভিয়ানো ক্যানুটো এবং অন্যান্য, "দ্য রিফর্ম অফ দ্য গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল  আর্কিটেকচার: টুওয়ার্ডস এ সিস্টেম দ্যাট ডেলিভারস ফর দ্য সাউথ," অ্যাটলান্টিক কাউন্সিল/আফ্রিকা সেন্টার অ্যান্ড পলিসি সেন্টার ফর দ্য নিউ সাউথ, ২০২৪, https://www.policycenter.ma/publications/ reform-global-financial-architecture-toward-system-delivers-south

[৪] ক্যানুটো এবং অন্যান্য, "দ্য রিফর্ম অফ দ্য গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার: টুওয়ার্ডস এ সিস্টেম দ্যাট ডেলিভারস ফর দ্য সাউথ"

[৫] জি২০ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলিকে শক্তিশালী করা: ট্রিপল অ্যাজেন্ডা, ২০২৩, https:// www.gihub.org/resources/publications/strengthening-multilateral-development-banks-the-triple-agenda-reportof- the-g20-independent-experts-group/.

[৬] রাষ্ট্রপুঞ্জ, স্থিতিশীল উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৪। উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন এক যুগসন্ধিক্ষণে, রাষ্ট্রপুঞ্জ, ২০২৫,
https://sdg.iisd.org/news/annual-sdg-financing-gaps-measured-in-trillions-fsdr-2024/


[৭] ওইসিডি, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন ২০২৪, প্যারিস, ওইসিডি প্রকাশনা, ২০২৪, https://doi.org/10.1787/8f1e2b9b-en. সংগৃহীত: https://www.oecd.org/en/publications/multilateral-development-finance-2024_8f1e2b9b-en.html

[৮] এফএও, আইএফএডি, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, এবং হু, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অবস্থা ২০২৪ – ক্ষুধা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং সকল প্রকার অপুষ্টির অবসানে অর্থায়ন, রোম, ২০২৪, https://doi.org/10.4060/cd1254en

[৯] মেরিনা জুকার-মার্কেস, কেভিন পি গ্যালাগার, এবং উলরিচ ভোলজ, উন্নয়ন ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে খেলাপি: ঋণ স্থায়িত্ব এবং ২০৩০ অ্যাজেন্ডা এবং প্যারিস চুক্তির জন্য দৌড়, বোস্টন ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট পলিসি সেন্টার, সেন্টার ফর সাসটেনেবল ফাইন্যান্স, এসওএএস, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়; হাইনরিখ বোল ফাউন্ডেশন, ২০২৪, https://drgr.org/research/ report-defaulting-on-development-and-climate-debt-sustainability-and-the-race-for-the-2030-agenda-and-parisagreement/

[১০] ইউএনসিট্যাড, আ ওয়র্ল্ড অফ ডেট রিপোর্ট ২০২৪। আ গ্রোয়িং বার্ডন টু গ্লোবাল প্রসপারিটি, ২০২৪, https://unctad.org/publication/ world-of-debt

[১১] আইডিএমসি, গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট ২০২৪,  https://www.internal-displacement.org/global-report/ grid2024/

[১২] আইডিএমসি, গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট ২০২৪

[১৩] আইডিএমসি, গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট ২০২৪

[১৪] মার্ক জোন্স, “মুডি’স ওয়ার্ল্ড” "ট্রাম্প সমর্থন প্রত্যাহার করলে ব্যাঙ্কের ট্রিপল-এ রেটিং হুমকির মুখে পড়বে," রয়টার্স, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, https://www.reuters.com/business/finance/moodys-warns-triple-a-threat-if-trump-pulls-world-banksupport- ২০২৫-০২-১০/

[১৫] মারিও দ্রাগি, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ, ইউরোপীয় কমিশন, ২০২৪, https://commission.europa.eu/ topics/eu-competitiveness/draghi-report_en#paragraph_47059

[১৬] “বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মন্তব্য,” হোয়াইট হাউস, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫, https://www. whitehouse.gov/remarks/2025/01/remarks-by-president-trump-at-the-world-economic-forum/

[১৭] দ্য ইকনমিস্ট, “হাউ পোল্যান্ড ইমার্জড অ্যাজ আ লিডিং ডিফেন্স পাওয়ার,” https://www.economist.com/europe/2025/01/22/ how-poland-emerged-as-a-leading-defence-power

[১৮] রিচার্ড মিলনে এবং মার্টন ডুনাই, “লিথুয়ানিয়া অ্যান্ড এস্তোনিয়া প্লেজ টু মিট ডোনাল্ড ট্রাম্প’‌স ৫% টার্গেট অন ডিফেন্স স্পেন্ডিং,” দ্য ফাইনান্সিয়াল টাইমস, https://www.ft.com/content/a999f239-3104-419a-95dc-bf9c04242b2f

[১৯] ফেনেলা ম্যাকগার্টি এবং কার্ল ডিউই, “গ্লোবাল ডিফেন্স স্পেন্ডিং সোরস টু নিউ হাই,” মিলিটারি ব্যালান্স ব্লগ, দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস), ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, https://www.iiss.org/online-analysis/militarybalance/ ২০২৫/০২/global-defence-spending-soars-to-new-high/

[২০] “অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)”, দ্য ওয়ান ক্যাম্পেন, https://data.one.org/topics/official-developmentassistance/

[২১] থিংকিং এহেড ইনস্টিটিউট, বিশ্বের বৃহত্তম ৫০০ সম্পদ ব্যবস্থাপকেরা, থিংকিং এহেড ইনস্টিটিউট এবং পেনশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস যৌথ গবেষণা, অক্টোবর ২০২৪, https://www.thinkingaheadinstitute.org/research-papers/the-worldslargest- asset-managers-2024/

[২২] আলেকজান্ডার এডলিচ এবং অন্যরা, গ্লোবাল প্রাইভেট মার্কেটস রিপোর্ট ২০২৫: প্রাইভেট ইক্যুইটি ইমার্জিং ফ্রম দ্য ফগ, প্রাইভেট ক্যাপিটাল প্র্যাকটিস, ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানি, ফেব্রুয়ারি ২০২৫, https://www.mckinsey.com/industries/private-capital/our-insights/ global-private-markets-report#/

[২৩] "আইই ইউনিভার্সিটি এবং আইসিইএক্স-ইনভেস্ট ইন স্পেনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল মোট ১৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ পরিচালনা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪% বেশি," আইই ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর দ্য গভর্নেন্স অফ চেঞ্জ, নভেম্বর ২০২৪, https://www.ie.edu/university/news-events/news/sovereign-wealth-funds-managed-total-132-trillion-assets- 2023-14-previous-year-according-report-ie-university-icex-invest-spain/

[২৪]
এল আইনাউই এবং ডিন, "ওয়াশিংটন ঐকমত্যের পরে নতুন দক্ষিণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন"

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Karim El Aynaoui

Karim El Aynaoui

Karim El Aynaoui, Executive President, Policy Center for the New South Morocco ...

Read More +
Hinh T. Dinh

Hinh T. Dinh

Hinh T. Dinh is Senior Fellow, Policy Center for the New South and President, Economic Growth and Transformation. ...

Read More +
Akram Zaoui

Akram Zaoui

Akram Zaoui is Chargé de Mission to the Executive President, Policy Center for the New South. ...

Read More +