মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাহ্যিক চাপ সত্ত্বেও পাকিস্তানকে তার অবস্থানে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই ইজরায়েলের সঙ্গে সীমাবদ্ধ সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
Image Source: Getty
ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ কিছু প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। যাই হোক, দ্বন্দ্বের সবচেয়ে সমসাময়িক বিশ্লেষণের মধ্যে একটি দেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে গবেষণা বেশ কম করা হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এবং একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তি হিসাবে পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী পাকিস্তানের ভূ-কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের মধ্যে দেশটি কী ভাবে তার ভূমিকা উপলব্ধি করে, তা মূল্যায়ন করা অপরিহার্য।
ইজরায়েলকে পাকিস্তানের প্রত্যাখ্যান: ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফসল
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের কাছাকাছি আসার জন্য ইজরায়েলের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তান এমনটা করেছে। পাকিস্তান গঠনের পর থেকে প্রথম কয়েক দশকে ইজরায়েল পাকিস্তানের কাছে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করেছিল, যা পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছিল। সর্বোপরি, ১৯৯২ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির নির্বাচনকে সমর্থন করে কূটনৈতিক ভাবে পাকিস্তানের মন জয় করার চেষ্টা করলেও ইজরায়েলের জন্য পাকিস্তানের মন গলেনি। ইজরায়েলের পাকিস্তানের কাছাকাছি আসার আকাঙ্ক্ষা বিভিন্ন কারণ দ্বারা চালিত হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক শক্তি এবং আফগানিস্তান ও ইরানের নৈকট্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করতে পারে এবং অঞ্চলটিতে ইজরায়েলের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে।
প্রথমত, ইজরায়েল উন্মুক্ত বাণিজ্য থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে সক্ষম হবে, যদি তারা পাকিস্তানের কৃষি ও সামরিক পণ্যের বিশাল বাজারে প্রবেশ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি এবং আফগানিস্তান ও ইরানের নৈকট্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করতে পারে এবং অঞ্চলটিতে ইজরায়েলের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে। ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার পর থেকে, পাকিস্তান হামাস এবং প্যালেস্তাইন ইসলামিক জিহাদ-এর (পিআইজে) মতো গোষ্ঠীগুলির প্রভাবের জন্য আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যেহেতু এই শক্তিগুলি অতীতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত ভাবে সম্পৃক্ত ছিল, তাই তা এই অঞ্চলে ইজরায়েলের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। সবশেষে বলা যায়, পাকিস্তান ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা অন্যান্য ইসলামিক রাষ্ট্রের জন্য ইজরায়েলকে স্বীকার করার পথ প্রশস্ত করতে পারে। কারণ সামরিক ও পারমাণবিক শক্তি হিসাবে পাকিস্তানের যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে। এই স্বীকৃতি বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৪টি দেশের জোট অর্থাৎ প্রধানত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নেতৃত্বে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন-এর (ওআইসি) সদস্যদের মধ্যে ইজরায়েলের সফট পাওয়ার বা কূটনৈতিক শক্তি এবং কূটনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করতে পারে।
এর বিপরীতে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পাকিস্তানের অস্বীকৃতির নেপথ্যে ছিল তার নিজস্ব ধর্মীয়-রাজনৈতিক কারণ। প্রথমত, একটি মুসলিম দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য জনবাদী ও ধর্মীয় সমর্থন রয়েছে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান সরকার তার নিজের দেশের অভ্যন্তরে বিরোধী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির তরফে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা করে, যা আখেরে ইজরায়েলের জন্য স্থিতিশীল হলেও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য নাগরিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। সর্বোপরি, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে অটল রয়েছে এবং ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ভাবে সম্পৃক্ত হলে ইজরায়েল সম্ভবত এই বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান দুর্বল করার জন্য তাকে চাপ দেবে।
পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে অটল রয়েছে এবং ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ভাবে সম্পৃক্ত হলে ইজরায়েল সম্ভবত এই বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান দুর্বল করার জন্য তাকে চাপ দেবে।
পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন: কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
১৯৭০-এর দশকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জর্ডনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা বাদ দিলে ফিলিস্তিনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বোঝা সোজা। দেশটি কূটনৈতিক শৃঙ্খলে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার বিষয়ে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে বিশেষ করে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ওআইসি-তে সংঘাতের সমাধানের জন্য কঠোর ভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অটল মনোভাব চাপের মুখে পড়েছে। ২০২০ সালে মরক্কো, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর কার্যকর ভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে দেশগুলির সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে এবং ওআইসি সদস্য দেশগুলির জন্য স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভাষ্যকাররা উল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরব ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে উল্লেখযোগ্য ভাবে চাপ দিয়েছিল যাতে সৌদি আরবও দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলির দ্বারা দেশের বৃহত্তর গ্রহণযোগ্যতার মঞ্চ তৈরি হয়। যাই হোক, কিছু পাকিস্তানি নাগরিক (ব্যক্তিগত ক্ষমতা দর্শিয়ে) এবং ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকটি সফর ছাড়া এই সম্পর্কগুলিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তেমন বিশেষ কিছু করা হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং ফিলিস্তিনে ইজরায়েলের যুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তানের সমর্থন ধারাবাহিক হলেও সীমিত থেকেছে। গত এক বছরে পাকিস্তান গাজায় মানবিক সহায়তার ১০টি চালান পাঠিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বৃত্তি প্রদান করেছে। সর্বোপরি, প্রাইম মিনিস্টার শেহবাজ শরিফ ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবরকে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ডে’ বা ‘ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস’ হিসাবে অভিহিত করেছেন। দিবসটির উদ্যাপনের অংশ হিসেবে তিনি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে দেশের জোট সরকারের নেতাদের সঙ্গে একটি অল-পার্টিজ কনফারেন্স বা সর্বদলীয় সম্মেলন (এপিসি) আহ্বান করেন এবং ওআইসিকে গাজায় বিদ্যমান গণহত্যা মোকাবিলায় জরুরি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করার দাবি জানান। এপিসি-তে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা এবং অন্যান্য ইসলামিক দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল। সম্মেলনের পরের দিন ফিলিস্তিন এবং লেবাননের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল অনুমোদন করা হয়, যা পাকিস্তানকে এই অঞ্চলে তার মানবিক প্রচেষ্টাকে গভীরতর করার সুযোগ করে দেয়।
পাকিস্তান প্রায়শই ওআইসি-তে তার অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে এবং ফিলিস্তিনি কারণের জন্য ওকালতি করার পাশাপাশি কাশ্মীর সম্পর্কিত নিজস্ব স্বার্থের প্রচার চালায়।
পাকিস্তান একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক ও গোয়েন্দা শক্তি হলেও ফিলিস্তিনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই কারণগুলি অনুপস্থিত। বরং পাকিস্তান প্রায়শই ওআইসি-তে তার অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে এবং ফিলিস্তিনি কারণের জন্য ওকালতি করার পাশাপাশি কাশ্মীর সম্পর্কিত নিজস্ব স্বার্থের প্রচার চালায়। যাই হোক, এই প্রচেষ্টাগুলি ওআইসি-র সঙ্গে অসম শক্তি সমীকরণের দরুন তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। অন্য দিকে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করার পাশাপাশি প্রায়শই পাকিস্তানের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে (যেমন পাকিস্তানের বিরোধিতা সত্ত্বেও ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো)। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে প্রতিক্রিয়া এড়ানো পাকিস্তানের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত একাধিক বাহ্যিক নির্ভরতার মাধ্যমে তার সমর্থনকে সীমিত করে তুলেছে।
ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নীতি কী ভাবে বিকশিত হবে?
পাকিস্তানি বৈদেশিক নীতির দিকনির্দেশ প্রায়ই বেসামরিক খাত (প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতায় থাকা দল) এবং সামরিক যন্ত্রের মধ্যে আলোচনার ফলাফল। সামরিক সংস্থার মধ্যে অনেকেই মতাদর্শগতভাবে ইজরায়েলের বিরোধিতা করলেও সামরিক কর্মকর্তাদের এমন একটি দলও রয়েছে, যারা সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু বিতর্কের ক্ষেত্রে আরও বাস্তববাদী পদ্ধতির পক্ষে সওয়াল করে।
এটি একাধিক কারণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। প্রথমত, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতি স্বীকার করে নেন, যেটিকে তাঁরা মূল্যবান সম্পদ বলেই মনে করেন। দ্বিতীয়ত, এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ তেহরিক ই-তালিবান পাকিস্তানের মতো গোষ্ঠীগুলিকে প্রশমিত করার আরও উন্নত উপায় অবলম্বন করার উদ্দেশ্যে ইজরায়েলের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে চান। কারণ তেহরিক ই-তালিবান পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুগুলির বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণ শুরু করেছে। তৃতীয়ত, পাকিস্তান জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জলের সঙ্কট মোকাবিলায় সাহায্য করার জন্য ডিস্যালিনেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ইজরায়েলের দক্ষতাকে একটি সম্ভাব্য সমাধান বলে মনে করে।
সর্বোপরি, উপরে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। এ দু’টি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ পাকিস্তান এখন ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণে জর্জরিত। এই দু’টি আরব শক্তি সীমিত আকারে ইজরায়েলের নিন্দা করলেও তারা দীর্ঘমেয়াদে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ এমন এক সমীকরণ, যা পাকিস্তানের নিজস্ব নীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা আসলে ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্থাপনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং, অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান-ইজরায়েল সম্পর্ক দু’টি উপায়ে বিকশিত হতে পারে। এক দিকে, ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক – যে কিনা তার বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ক্রেতাও বটে - পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি নিতে পারে। বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা আসলে ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্থাপনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে, যদি তারা বিশ্বাস করে যে ইজরায়েলের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি তার কৌশলগত স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। যা-ই হোক না কেন, ইজরায়েল যদি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তি চালিয়ে যেতে থাকে, তা হলে তাকে অবশ্যই স্বীকার করে নিতে হবে যে, তারা নিজেরাই জটিল পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছে এবং সেই অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয়দের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার কাজ ইজরায়েলকেই করতে হবে।
বেশ কিছু দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বৈদেশিক নীতিনির্ধারণের বিষয়ে মতাদর্শগত ভাবে দলগুলির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এড়াতে কিছুটা পরিসর প্রদান করেছে। পাকিস্তান এখন তার নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করার দিকে মনোনিবেশ করছে এবং অবিলম্বে ইজরায়েল রাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোত্তম সম্ভাব্য পথ নির্ধারণ করবে না। আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলি ও রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের দ্বারা ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার শৃঙ্খল উন্মোচন করার জন্য অভ্যন্তরীণ ভাবে চাপ দিলেও ফিলিস্তিনে ইজরায়েল যে বর্বরতা চালিয়েছে, সেটিই সম্ভবত এই আলোচনাকে অন্তত আগামী কয়েক বছরের জন্য হলেও স্থগিত রাখবে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান ফিলিস্তিনের বিষয়ে তার নৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, যা আবার এই প্রসঙ্গে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমাপতিত হয়েছে।
মোহাম্মদ সিনান সিয়েচ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নন-রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
অম্বর খোয়াজা লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স-এর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের ছাত্র।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Mohammed Sinan Siyech is a Non – Resident Associate Fellow working with Professor Harsh Pant in the Strategic Studies Programme. He works on Conflict ...
Read More +
Ambar Khawaja is a Master’s student studying Public Administration at the London School of Economics and Political Science. She has a background in international development ...
Read More +