Author : Samir Saran

Published on May 24, 2024 Updated 0 Hours ago

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি সমৃদ্ধ আরব সাগর সম্প্রদায়ের জন্য গঠনমূলক ভিত্তি স্থাপন করছেন

আরব সাগরের প্রচলিত উত্তরাধিকার বুঝে নেওয়া

এই নিবন্ধটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-এ।


স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই ভারত নিজের পশ্চিম উপকূলীয় জলরাশির প্রতি অবিচার করে এসেছে। আমরা বারংবার ভুলে যাই যে, আরব সাগর দীর্ঘকাল ধরে ধারণা, আখ্যান, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের জন্য একটি উর্বর সেতুর ভূমিকা পালন করেছেএই জলরাশি দিয়ে জ্ঞানের ভাণ্ডার ভারতে প্রবাহিত হয়েছে এবং স্থায়ী বন্ধুত্ব সূচিত হয়েছে। নিজের পূর্বসূরি যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর (পিএম) চেয়ে নরেন্দ্র মোদী এই অবহেলার অন্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন। আবু ধাবিতে তাঁসপ্তম সফরটি অন্য যে কোন পূর্বসূরির তুলনায় চেয়ে ছ’বার বেশি। ২০১৫ সালে মোদীর প্রথম সফরের আগে তিন দশকেরও বেশি সময় ব্যাপী কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আমিরাতে পা রাখেননি।

সংখ্যাগুলি প্রায়শই গুরুত্বহীন হলেও কখনও কখনও তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। যেমনটা বিজনেস স্কুলের পাঠ্যে থাকে: যা গণনার আওতার বাইরে, তা আদতেই গণ্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর সাতটি সফর একটি নির্দিষ্ট চিত্রকেই তুলে ধরে। এটি সম্পর্কের পরিবর্তন এবং একে অপরের গুরুত্বের ক্রমবর্ধমান উপলব্ধিকে দর্শায়। ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক নির্মিত হয়েছে। এটি সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ভারত-ইউএই সম্পর্ক আর ঐচ্ছিক নয়, বরং বাধ্যতামূলক; কোনও বিকল্প নয়, বরং এক প্রবৃত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একটি পদ্ধতিগত সংশোধন করে বলেছেন, তারা এখন পারস্পরিক ভাবে অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য

 

একই সময়ে তিনি ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগ দেন, যা কিনা উদীয়মান প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে উদ্ভাবনের জন্য একটি মঞ্চ

 

এই সম্পর্কের গঠনই ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী মোদী সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন, যা আবু ধাবির আরও বহুত্ববাদী সমাজের প্রচারকেই দর্শায়। একই সময়ে তিনি ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগ দেন, যা কিনা উদীয়মান প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে উদ্ভাবনের জন্য একটি মঞ্চ। একযোগে এগুলি বৃহত্তর সম্পর্কের জন্য একটি সংমিশ্রণ হিসাবে কাজ করে। দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি একে অপরের স্বকীয়তা উদযাপন করছে। তারা একে অপরের পরিবর্তনের অংশ হতে আগ্রহী এবং কেউই অপরকে বদলে দিতে চায় না। অনেক  দেশের সঙ্গেই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তা সত্ত্বেও এই ধরনের বন্ধুত্ব প্রায়ই ভারত কী করতে পারে বা পারে না এবং ভারতের কী করা উচিত বা উচিত নয়… এ হেন নির্দেশমূলক ধারার সঙ্গেই সূচিত হয়। ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্ক কেন উল্লেখযোগ্য, তার একটি প্রধান কারণ হল এই যে, সম্পর্কটি আদতে বর্ণনামূলক, নির্দেশমূলক নয়।

ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বন্ধনটি দুই দেশের স্বকীয়তার এক উদ্‌যাপন, একক হয়েও বৈচিত্র্যময়। কারণ ভারতের সংস্কৃতি রীতিনীতির বৈচিত্র্য এবং দেশের মধ্যে অন্তর্নিহিত ভিন্নতাকে অস্বীকার করা যায় নাআর এই সম্পর্ক একক। কারণ ভারত অপরিচিত একটি অঞ্চলে নিজের জমি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং নিজের জন্য অচিত্রিত পথ নির্মাণ করছে। নিজস্ব উপায়ে উভয় দেশই এই অঞ্চলে আধুনিক সময়ে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আক্ষরিক অর্থেই একটি শুষ্ক মরুভূমির মাঝখানে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি তৈরি করেছে। ভারতের নির্দিষ্ট উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের কোন সমান্তরাল নেই। কারণ দেশটির প্রতিটি রাজ্যই এক স্বতন্ত্র দেশের সমান। উভয় দেশের কাছেই অনুসরণ করার মতো কোনও বিশেষ মডেল নেই, মেনে চলার মতো পূর্বপরিকল্পিত কোনও বিন্যাসও নেই। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি এটিইএবং এটিই সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে থাকবে যখন উপার্জনের রূপান্তর আসবে, পরিকাঠামোয় সংস্কার হবে এবং একটি অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল বিশ্বের দিকে পৃথিবী এগিয়ে চলবে।

আমাদের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রবাসী মানুষজন। জায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে অংশ নিতে ৬০০০০-এরও বেশি ভারতীয় নাম লেখান। যাই হোক, এই ধরনের পরিসংখ্যান সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের বাস্তব চিত্রকে দর্শায় না। কারণ আসল বিষয়টি হল এই যে, ভারতীয়রা বর্তমানে আবুধাবি দুবাইয়ের ক্ষমতার উচ্চ স্তরে একাধিক পদে আসীন রয়েছেন। যে পদগুলি ইউরোপীয় ও মার্কিনদের দখলে থাকত, সেই সব পদে অর্থাৎ অর্থ, শক্তি বা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ব্যাপক সংখ্যক ভারতীয়দের উত্থান ঘটেছে। ভারতীয়রা বর্তমানে মূল্যবান উপদেষ্টা, সৃজনশীল প্রতিভা এবং অর্থশাস্ত্রে বিচক্ষণ হিসাবে স্বীকৃত হচ্ছেন। একটি একুশ শতকের দেশ গড়ে তুলতে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভবিষ্যতে অবদান রাখতে আমিরাতিদেসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয়রা কাজ করছেন। আমিরাতবাসী এবং ভারতীয়দের এই বলয়টি বর্তমান শতাব্দীর প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে এই বলয়টি ভারতকে দেশ, অঞ্চল বৃহত্তর ভাবে মানবজাতির সুবিধার জন্য একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র করে তুলছে।

 

যে পদগুলি ইউরোপীয় ও মার্কিনদের দখলে থাকত, সেই সব পদে অর্থাৎ অর্থ, শক্তি বা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ব্যাপক সংখ্যক ভারতীয়দের উত্থান ঘটেছে।

 

চিনের উত্থানের ফলে হংকং, সিঙ্গাপুর, লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কের মতো গুটিকয়েক শহর উপকৃত হয়েছেকিন্তু চার ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন হয়ে ওঠার ভারতের যাত্রায় গোটা বিশ্ব উপকৃত হবে। আবু ধাবি ও দুবাই এই যাত্রায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে থাকবে। ভারত যেমন উপকৃত হবে, তেমন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও সাধিত হবে। আরও এগিয়ে দেখলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিই হয়ে উঠবে ভারতের নতুন প্রবেশদ্বার। এটি এমন একটি প্রতিভার কেন্দ্র হয়ে উঠবে, যা ভারতীয় সুযোগ ভারতীয় প্রতিভাকে বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এটি এমন একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠবে, যেখানে পণ্য জ্বালানি ভারত থেকে ও ভারতে… উভয়মুখী প্রবাহিত হবে। এটি এমন একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে, যেখানে এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের উৎস হয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি সমৃদ্ধ আরব সাগর সম্প্রদায়ের জন্য গঠনমূলক ভিত্তি স্থাপন করছেন। দুই দেশই ইতিহাসে বর্ণিত সামুদ্রিক অবস্থানে ফিরে গিয়েছে এবং সেটির পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে একুশ শতকের আলোকে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই দুই দেশ আফ্রিকা, ইউরোপ এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য জনকেন্দ্রিক, উন্নয়নকেন্দ্রিক এবং বৃদ্ধিচালিত সমাধান প্রদান করবে। উপসাগর উপমহাদেশের মধ্যবর্তী পরিসরটি এই শতাব্দীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বায়নের উত্স হিসাবে তার ভূমিকা পুনরুদ্ধার করবে, ঠিক যেমনটা সহস্রাব্দ আগে ছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.