Author : Nisha Holla

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 10, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতের স্টার্টআপ উত্থান বিদেশি পুঁজির উপর নির্ভরশীল। আগামী দশকে দেশকে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করতে হবে এবং প্রকৃত প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ তহবিলকে কাজে লাগাতে হবে।

উদ্ভাবন ফিরিয়ে আনা: দেশের ভিতর থেকেই ভারতের স্টার্টআপ ভবিষ্যতের অর্থায়ন

ভূমিকা

মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে। দেশের বিশ্বমানের সফটওয়্যার পরিষেবা এবং পরামর্শদাতা ক্ষেত্র এবং সেই সঙ্গে এর অগ্রণী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) দ্বারা চালিত হয়ে এই বাস্তুতন্ত্রটি ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড  (ডিপিআইআইটিদ্বারা স্বীকৃত ,৯০,০০০-এরও বেশি স্টার্টআপপ্রায় ১০,০০০ বিনিয়োগকারীর সমর্থন এবং ১২০টিরও বেশি ইউনিকর্ন তৈরির মাধ্যমে ভারতের স্টার্টআপ ক্ষেত্রটি উল্লেখযোগ্য গতি অর্জন করেছে। এই উদ্যোগগুলি ২০১৪ সাল থেকে সম্মিলিত ভাবে ১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা) তহবিল সংগ্রহ করেছেযা ফিনটেকভোক্তা -কমার্স, এসএএএসলজিস্টিকসমোবিলিটি এবং ক্রমবর্ধমান ভাবে ডিপ টেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ (এআই) বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধি চালিত করছে।

তবে এই সাফল্যের ভিত্তি বহুলাংশে বিদেশি পুঁজির উপর নির্ভরশীলযা মোট স্টার্টআপ তহবিলের প্রায় ৮৩ শতাংশ। যদিও বিদেশি পুঁজি নিঃসন্দেহে ভারতের স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছেতবুও দেশের প্রযুক্তিগত এবং উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক তারল্য চক্রভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিদেশি সিদ্ধান্তের কাছে আবদ্ধ থাকতে পারে না।

যদিও বিদেশি পুঁজি নিঃসন্দেহে ভারতের স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে, তবুও দেশের প্রযুক্তিগত এবং উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক তারল্য চক্র, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিদেশি সিদ্ধান্তের কাছে আবদ্ধ থাকতে পারে না।

আগামী দশকে অভ্যন্তরীণ পুঁজির বিশাল উৎসকে একত্রিত করে ভারতকে স্টার্টআপ অর্থায়নের একটি কাঠামোগত ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবেযাতে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা সৃষ্ট সম্পদ শেষ পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের কাছে পৌঁছয় এবং জাতীয় প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে।

ভারতের স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্র: পরিধি এবং গতি

• স্টার্টআপ: ২০২৫ সালের মধ্যে ,৯০,০০০-এর বেশি নিবন্ধিতযা ২০১৪ সালের ৫০০-এর কম সংখ্যা থেকে একটি অভাবনীয় বৃদ্ধি।

• বিনিয়োগকারী: প্রায় ১০,০০০ বিনিয়োগকারীযার মধ্যে দেশীয় এবং বিদেশি উভয় ধরনের প্রায় ,১০০টি সক্রিয় ভেঞ্চার এবং গ্রোথ ইক্যুইটি ফান্ড রয়েছে।

• ইউনিকর্ন: ১২০টিরও বেশি সংস্থার মূল্যায়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশিযা ফিনটেক-কমার্সএন্টারপ্রাইজ এসএএএসলজিস্টিকস এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মতো প্রতিটি প্রধান স্টার্টআপ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে।

• অর্থায়নের গতিপথ: ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে স্টার্টআপ অর্থায়নে মোট ১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগৃহীত হয়েছেযা বিশ্বব্যাপী মন্দা শুরু হওয়ার আগে ২০২১ সালে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

• ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) পাইপলাইন: জোম্যাটো, নায়িকা এবং ম্যাপ মাই ইন্ডিয়া- মতো সংস্থাগুলি ২০২৫ সালে আরও তালিকাভুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে  আইডিয়াফোর্জ-এর আইপিও- একটি যুগান্তকারী মুহূর্তের সাথে ডিপ-টেক স্টার্টআপগুলির তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি পাবে।

লেনদেনের পরিমাণ এবং স্টার্টআপ ঘনত্বের দিক থেকে ভারতের বাস্তুতন্ত্র এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের পরেই বিশ্বব্যাপী তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে এটি এখনও বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল।

সমস্যা: বিদেশি নির্ভরতা এবং সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি

ভারতের স্টার্টআপ অর্থায়নের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেযা ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১১. লক্ষ কোটি টাকার সমান। এর মধ্যে রয়েছে:

• গ্লোবাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডযেমন সেকোইয়া ক্যাপিটাল, টাইগার গ্লোবাল, অ্যাকসেল এবং সফট ব্যাঙ্ক

• কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিনিয়োগমূলক শাখাযেমন গুগল, ইনটেল এবং কোয়ালকম

• প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থাযার মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ, কেকেআর অ্যান্ড কোম্পানি, কার্লইয়াল গ্রুপ এবং বেইন ক্যাপিটাল

• হার্ভার্ডইয়েল এবং এমোরির মতো এনডাওমেন্টগুলি সরাসরি এবং গ্লোবাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (ভিসিফার্মের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে।

• কানাডার সিপিআইবিবি এবং ওটিপিপি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালপার্স-এর মতো পেনশন তহবিল।

• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসিঙ্গাপুরজাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবনী অর্থনীতিগুলি দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে যে, যখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশগ্রহণ করে, তখন বাস্তুতন্ত্রটি মূলধনের গভীরতা এবং নীতির স্থিতিস্থাপকতা উভয়ই অর্জন করে।

ভারতীয় স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ত্বরান্বিত মূল্য সৃষ্টি এটিকে বৈশ্বিক এশীয় বিনিয়োগ বরাদ্দের একটি কেন্দ্রীয় সুবিধাভোগী হিসেবে নিশ্চিত করেছে। যদিও এই পুঁজি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছেএটি ভারতের জন্য তিনটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে:

. বাহ্যিক ধাক্কার প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা: যখন বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধি পায় বা তারল্য কমে যায়তখন ভারতে লেনদেনের কার্যকলাপ তীব্র ভাবে সঙ্কুচিত হয় - যা সম্প্রতি ২০২৩ সালে দেখা গিয়েছেযখন ভারতের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বাহ্যিক ঘটনার কারণে ২০২১ সালের ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তহবিলের পরিমাণ ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছিল।

২. প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের ক্ষতি: প্রযুক্তি মঞ্চগুলিতে অতিরিক্ত বিদেশি মালিকানা তথ্য সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি করেএবং এর সঙ্গে অত্যাধুনিক ক্ষেত্রগুলিতে মেধা সম্পত্তির (আইপিক্ষতির অতিরিক্ত ঝুঁকিও থাকে।

৩. সম্পদ সৃষ্টির অফশোরিং: ভারতীয় উদ্ভাবনী সাধনী দ্বারা সৃষ্ট মূলধনী লাভ এবং লভ্যাংশ দেশীয় বিনিয়োগকারীপেনশনভোগীকর্পোরেশন বা পরিবারের পরিবর্তে মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে চলে যায়।

ভারতের উদ্ভাবনী অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী নীতিকে অবশ্যই মূলধন এবং সক্ষমতার দেশীয় মালিকানার দিকে ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহিত করতে হবেযাতে কৌশলগত প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক মূল্য জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। সর্বোপরিযখন বিদেশি সার্বভৌম পুঁজি, বিমা সংস্থাএনডাওমেন্ট এবং পেনশন তহবিলগুলি ভারতীয় স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রকে উল্লেখযোগ্য লাভ-সহ একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ গন্তব্য হিসাবে দেখেতখন ভারতীয় প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির জন্য একই সুযোগগুলিতে বাধা থাকার কোনও কারণ নেই।

বৈশ্বিক নেতাদের কাছ থেকে শিক্ষা

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবনী অর্থনীতিগুলি দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছেযা প্রমাণ করে যেযখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশগ্রহণ করেতখন বাস্তুতন্ত্রটি মূলধনের গভীরতা এবং নীতির স্থিতিস্থাপকতা উভয়ই অর্জন করে।

দেশ

মডেল

মূল প্রক্রিয়া

ফলাফল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

পেনশন তহবিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় এনডাওমেন্ট

ক্যালপার্সইয়েল এবং হার্ভার্ড ভেঞ্চার ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি  সীমিত অংশীদার (এলপি) হিসেবে কাজ করে

সিলিকন ভ্যালির পরিধিকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় পুঁজির গভীরস্থিতিশীল উৎস

চিন     

সার্বভৌম ‘বিগ ফান্ড

অর্ধপরিবাহী এবং এআই-তে রাষ্ট্র-পরিচালিত বিষয়ভিত্তিক তহবিল

শিল্পনীতির সঙ্গে পুঁজির কৌশলগত সমন্বয়

সিঙ্গাপুর

টেমাসেক এবং জিআইসি

সরকার-মালিকানাধীন বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংস্থা

ব্যক্তিগত উদ্ভাবনে সার্বভৌম সম্পদের সমর্থন

ইজরায়েল

ইয়োজমা কর্মসূচি

সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক তহবিলযা পরে বেসরকারীকরণ করা হয়

১৯৯০-এর দশকে ইজরায়েলের ভেঞ্চার শিল্পকে উৎসাহিত করেছিল

উৎস: লেখক কর্তৃক সঙ্কলিত

ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিকে উন্মুক্ত করা

ভারতের নীতি নির্ধারণী ব্যবস্থাকে অবশ্যই বিমা সংস্থাপেনশন তহবিলএনডাওমেন্টকর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল এবং পাবলিক ফান্ড-অফ-ফান্ডস-এর (এফওএফ) মতো অভ্যন্তরীণ পুঁজিকে উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

পেনশন তহবিলগুলিকে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে (এআইএফ) অ্যাঙ্কর এলপি হিসেবে বিনিয়োগ করার ক্ষমতা দিতে হবে। ভারতের পেনশন তহবিলযা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও) এবং পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (পিএফআরডিএ) নিয়ে গঠিত এবং এর পরিমাণ ৪০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (~৪৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিকল্প সম্পদে বর্তমান বরাদ্দ নগণ্য। ২০২১ সালে ইপিএফও বোর্ড বার্ষিক জমার শতাংশ এআইএফ- বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেযা একটি স্বাগত পদক্ষেপ কিন্তু এটি অবকাঠামো বিনিয়োগ ট্রাস্টের মতো সরকার-সমর্থিত বিকল্পগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। পিএফআরডিএ এবং ইপিএফও- উচিত স্টার্টআপ এবং এমএসএমই-এর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী ক্যাটাগরি- এআইএফ- বার্ষিক জমার শতাংশ বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। তাদের প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড এবং শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স ইতিহাস রয়েছে এমন এআইএফ নির্বাচন করে ঝুঁকি কমানো উচিত। 

বিমা সংস্থাগুলির দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস

বিমা সংস্থাগুলি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের আর একটি প্রধান উৎস। ভারতে ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (আইআরডিএআই) অধীনে অসংখ্য বিমা সংস্থা রয়েছেযাদের একটি উল্লেখযোগ্য তহবিল রয়েছে। শুধুমাত্র লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি) একাই ৫৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (৬৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সম্পদ পরিচালনা করে। এটিকে আইআরডিএআই-এর অধীনে মোট পরিচালিত সম্পদে প্রসারিত করা যেতে পারেযা ৮০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (~৯৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিমা তহবিলগুলি দীর্ঘমেয়াদি এবং ভেঞ্চার বিনিয়োগের জন্য আদর্শ ভাবে উপযুক্ত। তবে আইআরডিএআই-এর নিয়ন্ত্রক নিয়মগুলি স্টার্টআপে বিনিয়োগের জন্য সহায়ক নয় এবং এই সংস্থাগুলোকে নিরীক্ষিত ট্র্যাক রেকর্ড-সহ নিয়ন্ত্রিত ভেঞ্চার ফান্ডে একটি ক্ষুদ্র শতাংশ বিনিয়োগ করার জন্য বিচক্ষণ পথ তৈরি করতে হবে।

ছাড়াওভারতের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলি — ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) এবং অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমন এনডাওমেন্ট তৈরি করছেযা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে স্পিনআউটগুলিকে প্রাথমিক তহবিল সরবরাহ করতে পারে। তবে সরকারি আদেশ তাদের উল্লেখযোগ্য ভাবে বিনিয়োগ করতে সক্ষম করে না। ভারতের এনডাওমেন্টগুলি নিয়ন্ত্রক জটিলতাএকাধিক কমপ্লায়েন্সের প্রয়োজনীয়তা-নগদ বা দীর্ঘমেয়াদি অনুদানের প্রতি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং একটি ব্যাপক আইনি কাঠামোর অভাবের সম্মুখীন হয়। তাদেরকে হার্ভার্ড এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মতো বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করা  তাদের থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণের স্বাধীনতা দিয়ে তাদের তহবিল সংগ্রহ বিনিয়োগের কাঠামোও একই ভাবে সাজাতে হবে।

ভারতীয় কর্পোরেট জগৎ বিশ্বব্যাপী অন্যতম লাভজনক এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী একটি খাত গড়ে তুলেছে। সেই অনুসারেতাদের সিএসআর তহবিলও বেশ তাৎপর্যপূর্ণযা ২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছেযা ২০২০ অর্থবছরের প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা থেকে ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ পুঁজিকে ইমপ্যাক্ট ফান্ডে আংশিক ভাবে বিনিয়োগ করে অথবা ক্ষেত্রভিত্তিক এআইএফ- বিনিয়োগকারী ফান্ড-অফ-ফান্ডস- (এফওএফএকত্রিত করে কাজে লাগানো যেতে পারে।

সুচিন্তিত সংস্কার এবং বৃহৎ আকারের এফওএফ-এর মাধ্যমে পেনশন, বিমা এবং সার্বভৌম মূলধনকে কাজে লাগাতে পারলে ভারত একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার চক্রে প্রবেশ করবে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় দেশীয় উদ্ভাবনকে চালিত করবে এবং এর প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করবে। 

পরিশেষেস্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (এসআইডিবিআইফান্ড অফ ফান্ডস (এফওএফসরকারি হস্তক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের আখ্যান এবং এটি বাস্তুতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য প্রমাণিত হয়েছে। এটি ১৫০টিরও বেশি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে (এআইএফ১১,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেপরবর্তী বিনিয়োগে পাঁচ গুণেরও বেশি লাভ প্রদান করেছে এবং সরকারি খাতের তহবিলের অতুলনীয় প্রভাব প্রদর্শন করেছে। এফওএফ-এর অসাধারণ সাফল্য এবং আরও সরকারি খাতের মূলধনের জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও প্রথম প্রতিশ্রুতির নয় বছর পর ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে আরও ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তবে ভারত সরকার কেবল একটি সফল অর্থায়ন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে পারে না। ভারতের জনসংখ্যার (১৪৪ কোটি), অর্থনীতির (প্রায় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারযা এক দশকে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে) এবং স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রের বৃদ্ধির সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতেদেশটির আরও অনেক এফওএফ প্রয়োজন। শুরুতেই এর জন্য ৫০,০০০ কোটি টাকার একটি ডিপ টেক ফান্ড এবং সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকোয়ান্টাম কম্পিউটিংপ্রতিরক্ষা প্রযুক্তিস্বাস্থ্য প্রযুক্তি এবং অর্ধপরিবাহীর জন্য বিষয়ভিত্তিক এফওএফ প্রয়োজন। সরকার প্রাথমিক ক্ষতির মূলধন সরবরাহকারী হিসাবে কাজ করতে পারেযা প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত সীমিত অংশীদারদের আকৃষ্ট করে প্রতিটি সরকারি টাকাকে পাঁচগুণে পরিণত করবে।

পুরস্কার: প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্য

ভারত সরকার এবং আমলাতন্ত্রের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনকে কাজে লাগানোর জন্য বেশ কয়েকটি নীতিগত উপায় রয়েছে। বিমা সংস্থাপেনশন তহবিল এবং এনডাওমেন্টগুলি বার্ষিক প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে এই বার্ষিক বরাদ্দের সামান্য শতাংশও স্টার্টআপগুলির জন্য বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করতে পারে। এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে: অর্থায়ন চক্রকে স্থিতিশীল করবেবাহ্যিক ধাক্কা কমাবে এবং ভারতীয় উদ্ভাবনের মালিকানাকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বমানের সংস্থা তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। বাস্তুতন্ত্রটি যথেষ্ট অভ্যন্তরীণ আর্থিক সহায়তা ছাড়াই এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। পরবর্তী প্রবাহকে অবশ্যই দেশীয় মূলধন দ্বারা অর্থায়ন করতে হবে। সুচিন্তিত সংস্কার এবং বৃহৎ আকারের এফওএফ-এর মাধ্যমে পেনশন, বিমা এবং সার্বভৌম মূলধনকে কাজে লাগাতে পারলে ভারত একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার চক্রে প্রবেশ করবেযেখানে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় দেশীয় উদ্ভাবনকে চালিত করবে এবং এর প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করবে।

 


নিশা হল্লা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভিজিটিং ফেলো

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.