Published on May 04, 2026 Updated 0 Hours ago

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যে কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এই ইঙ্গিতটি একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র পাকিস্তানের উপর বস্তুগত মনস্তাত্ত্বিক উভয় প্রকার মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার সংকল্পকে প্রতিফলিত করে

পাকিস্তানকে বেশি মূল্য দিতে বাধ্য করা

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম এলাকায় একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-এ-তৈবা (এলইটি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠন দি রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। এই হামলার লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলার ঢেউ ছড়িয়ে দেওয়া। গত দশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ভারতের সংকল্প একাধিকবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ২০১৫ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা, ২০১৬ সালের উরি এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা—এই তিনটি প্রধান সন্ত্রাসী ঘটনা মূলত নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ঘটানো হয়েছিল। তবে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের সংকল্পে গত দশকে শুধু একটি বিবর্তনমূলক পরিবর্তনই দেখা গিয়েছিল। এই পরিবর্তনটি এসেছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ইচ্ছা, সংকল্প এবং সক্ষমতার প্রদর্শনের মাধ্যমে। অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন, ভারতের সন্ত্রাসী পরিকাঠামো এবং সন্ত্রাসের হোতা অর্থাৎ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে একটি “নতুন স্বাভাবিক” পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি নিশ্চিত প্রতিক্রিয়ার দ্বারা চিহ্নিত। তবে, ভবিষ্যতে শুধুই প্রতিশোধের আশ্বাস সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিরুদ্ধে কোনও নিশ্চয়তা দেয় না। পাকিস্তানে সামরিক-জিহাদি আঁতাঁতের গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ভারতকে বিশ্বাসযোগ্য পূর্ব-‌প্রতিরোধ (‌ডেটারেন্স)‌ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং ঝুঁকিগুলি পরিচালনা করতে হবে।


পুলওয়ামা হামলার জবাবে ভারত সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে লক্ষ্য করে বালাকোটে বিমান হামলা চালায়, যা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিমানশক্তির ব্যবহার প্রদর্শন করে। এই দুটি ঘটনাই নয়াদিল্লিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার নজির স্থাপন করতে এবং শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ক্রমিক বিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করেছিল।



গত দশকে, ২০১৫ সালের পাঠানকোট হামলা, ২০১৬ সালের উরি হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলা প্রধানত নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো বড় সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এর জবাবে ভারত সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংকেত প্রদানের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটি ক্রমান্বয়িক কিন্তু দৃঢ় পন্থা অবলম্বন করেছে। ২০১৬ সালে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে লক্ষ্য করে সীমান্ত পেরিয়ে একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়, যার পরে নয়াদিল্লির রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এর স্বীকৃতি দেয়। পুলওয়ামা হামলার জবাবে ভারত সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে লক্ষ্য করে বালাকোটে বিমান হামলা চালায়, যা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিমানশক্তির ব্যবহার প্রদর্শন করে। এই দুটি ঘটনাই নয়াদিল্লিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার নজির স্থাপন করতে এবং শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ক্রমিক বিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করেছিল।

সর্বশেষ পর্বটি ছিল অপারেশন সিঁদুর এবং তা ছিল ভারতের সংকল্পের পরীক্ষা, কিন্তু এতে প্রতিপক্ষের উপর ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সামরিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগও দেখা গিয়েছে। ৭ মে, ২০২৫-এ অপারেশন সিঁদুরের অংশ হিসেবে ভারত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) অঞ্চল এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই তালিকায় দুটি প্রধান সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে মুরিদকে এবং বাহাওয়ালপুর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ভারতের এই সর্বশেষ শক্তি প্রদর্শন অতীতের নীতি থেকে বহু বিচ্যুতি তুলে ধরেছিল। প্রথমত, ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির এবং ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। দ্বিতীয়ত, নয়াদিল্লির পরিমিত এবং উত্তেজনা না বাড়ানো হামলার জবাবে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার পর ভারত দেশজুড়ে ১১টি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই ধরনের গভীর হামলা ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাতের সময় প্রদর্শিত সংযম থেকে একটি বিচ্যুতি ছিল। তৃতীয়ত, পারমাণবিক পরিমণ্ডলে ভারতের প্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহার পাকিস্তানের নিম্ন পারমাণবিক সীমা দ্বারা চিহ্নিত অপ্রতিসম পারমাণবিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে। ফলস্বরূপ, অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ভার সমানভাবে পাকিস্তানের উপর চাপিয়ে দেয়। চতুর্থত, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য সামরিক ও অসামরিক পদক্ষেপগুলিকে সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ করেছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখা, সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনও সংলাপে না-‌যাওয়া, এবং ভবিষ্যতে কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জবাব দেওয়া — এই তিনটি হল চলতি কৌশলগত জবরদস্তির প্রধান সূচক।


নয়াদিল্লি সংযমের যুগ থেকে সরে এসেছে, বিশেষ করে ঝুঁকি গ্রহণ এবং পাকিস্তানের উপর মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। এটি প্রয়োজনীয় হলেও, নিজে থেকেই যথেষ্ট নয়। ভারতকে বিজয়ের একটি বিশ্বাসযোগ্য, সুস্পষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য খুঁজে বার করতে হবে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন ভারতের বিরুদ্ধে মূল্য দিতে ইসলামাবাদের ইচ্ছাকে ভেঙে দেওয়া।



ভারতের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ একটি কৌশলগত বিরতিতে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ইঙ্গিত নয়াদিল্লিকে পাকিস্তানের জন্য তাদের নিজস্ব শর্তে একটি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যে কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এই ইঙ্গিতটি একটি নতুন ছক তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র পাকিস্তানের উপর বস্তুগত ও মনস্তাত্ত্বিক উভয় ধরনের আঘাত হানার সংকল্পকে প্রতিফলিত করে। সুতরাং, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ওপর এই কৌশলগত বিরতিই চূড়ান্ত পরিণতি নয়।

সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র জোরালো বার্তা দিয়ে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ইচ্ছা ও সংকল্প প্রদর্শন সত্ত্বেও, কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গিয়েছে।

প্রথমত, প্রয়োজন দেখা দিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি জবরদস্তিমূলক প্রভাব অর্জনের জন্য নয়াদিল্লি এবং ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে তাদের প্রচলিত পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেই পরিমাণে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, বিশেষ করে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে, ভারতের নীতি দর্শকের ক্ষতির একটি উপাদানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রভাবসহ জবাব দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লি গুরুতর চাপ অনুভব করতে পারে। তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের বিশেষ প্রেক্ষাপটের কারণে, ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও পরিচালিত হয়। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। সুতরাং, উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অতিক্রম করলে ভারতের জন্য প্রচলিত এবং পারমাণবিক ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলি অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে। চতুর্থত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর, চিনের সমর্থনে পাকিস্তান  ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই কয়েক দশক পুরনো। তবে, আজ নয়াদিল্লি সংযমের যুগ থেকে সরে এসেছে, বিশেষ করে ঝুঁকি গ্রহণ এবং পাকিস্তানের উপর মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। এটি প্রয়োজনীয় হলেও, নিজে থেকেই যথেষ্ট নয়। ভারতকে বিজয়ের একটি বিশ্বাসযোগ্য, সুস্পষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য খুঁজে বার করতে হবে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন ভারতের বিরুদ্ধে মূল্য দিতে ইসলামাবাদের ইচ্ছাকে ভেঙে দেওয়া। অতএব, এই সংকটময় মুহূর্তে, নয়াদিল্লির উচিত নয় তার প্রচলিত পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করার জন্য সক্ষমতা অর্জনে পিছপা হওয়া। নীতি নির্ধারকদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে যে, উদীয়মান হুমকির আবহে বিশ্বাসযোগ্য প্রচলিত পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ‘কতটা’ সক্ষমতা যথেষ্ট? এর উত্তর নিহিত রয়েছে চিন এবং পাকিস্তান উভয়ের সামরিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের পরিবর্তনশীল চাহিদার মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে বার করার মধ্যে।

একই সঙ্গে, পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত অবসাদ তৈরি করতে ভারতকে আক্রমণাত্মক গোপন অভিযানের এবং শক্তিশালী অস্বীকৃতি ব্যবস্থার কার্যকর সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।



এই ভাষ্যটি প্রথম ওপেন -এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...

Read More +
Rahul Rawat

Rahul Rawat

Rahul Rawat is a Research Assistant with ORF’s Strategic Studies Programme (SSP). He also coordinates the SSP activities. His work focuses on strategic issues in the ...

Read More +