রহমানের নয়াদিল্লি সফরটি একটি সতর্ক ও বিষয়ভিত্তিক সংযোগের প্রতিফলন, যেখানে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রমাগত মতবিরোধ সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ১২ ফেব্রুয়ারির ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে দলটির কঠিন সম্পর্কের ইতিহাসকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবুও, ৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার প্রাথমিক রূপরেখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর হিসেবে এই সফরটি নয়াদিল্লির প্রতি ঢাকার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। রহমান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রহমান তাঁর অভিজ্ঞতাকে কূটনৈতিক ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে উভয় দেশই ‘আলোচনা করতে, উদ্যোগ নিতে এবং সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক’ এবং ‘ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে।
৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার প্রাথমিক রূপরেখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের প্রায় দেড় বছরের টানাপড়েনের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উভয় দেশই আস্থা পুনর্নির্মাণে আগ্রহী। এর জন্য শুধু স্থগিত প্রকল্প ও চুক্তিগুলি পুনরুজ্জীবিত করার গঠনমূলক প্রচেষ্টাই নয়, বরং সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে চলা মূল উদ্বেগগুলি নিরসনে উভয় পক্ষের সদিচ্ছাও প্রয়োজন। এই সফরকালে এমনই বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে, যার প্রতিটিই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করে।
জ্বালানি নির্ভরতা এবং সরবরাহের রাজনীতি
খলিলুর রহমানের হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে দেখা করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ভারত থেকে আরও বেশি ডিজেল ও সার সরবরাহের অনুরোধ করা। বাংলাদেশ তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬৩ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল। এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটি আগে থেকেই যে জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন ছিল এটি তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দেশটির শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। ফলস্বরূপ, মজুতদারি ও আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা রোধ করতে বিএনপি সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা এবং দৈনিক জ্বালানি বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ বেশ কিছু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে, একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা আগামী বছরগুলিতে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ৩ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার আশংকা তৈরি করায় প্রশাসনের জন্য বিদেশি সহায়তা চাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
ফলস্বরূপ, তারেক রহমান পরিশোধিত তেল আমদানি বাড়াতে চেয়েছিলেন এবং আসামের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এই পরিকাঠামোটি বিদ্যমান রেল ও সমুদ্রপথের পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতের ডিজেল বিক্রি বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের কারণে ভারত এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ বন্ধ করে দেয়। অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ডিজেল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। বিএনপি-র অধীনে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া শুধু বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দিকেও একটি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে। পুরী জানিয়ে দেন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ সাপেক্ষে রহমানের অনুরোধটি ‘দ্রুত এবং অনুকূলভাবে’ বিবেচনা করা হবে।
বিএনপি-র অধীনে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া শুধু বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দিকেও একটি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
জলবণ্টন এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
খলিলুর রহমানের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন এই বছরেই দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা জল চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন অববাহিকার রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যেন শুষ্ক মরসুমে (১ জানুয়ারি–৩১ মে) কৃষি, জীবিকা এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গঙ্গা থেকে পর্যাপ্ত জল পায় তা নিশ্চিত করা। তবে, এটি বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হয়েছে। প্রথমত, বিশেষজ্ঞেরা যুক্তি দেন যে সবচেয়ে সংকটময় শুষ্ক সময়ে বাংলাদেশ প্রায়শই তার ন্যায্য অংশ পায়নি। তবে, ভারত দাবি করে যে তারা চুক্তিটি মেনেই চলছে এবং জল বণ্টনের অন্যান্য শেয়ারিং সাইকেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল ছাড়ছে। একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হল, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য ন্যূনতম জল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয় না। এর পরিবর্তে, এতে বলা হয়েছে যে, “যদি কোনও ১০ দিনের মধ্যে ফারাক্কায় জলের প্রবাহ ৫০,০০০ কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে উভয় সরকার সমতা, ন্যায্যতা এবং কোনও পক্ষের ক্ষতি না করার নীতি অনুসারে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বয় সাধনের জন্য অবিলম্বে আলোচনায় বসবে।” যদিও যৌথ নদী কমিশনের উপর সংঘাত নিরসনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, এর কার্যকারিতা দুই সরকারের মধ্যকার সহযোগিতামূলক সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। ফলে গত বছরের মতো কূটনৈতিক টানাপড়েনের সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ খুব কম থাকে।
দ্বিতীয়ত, এটাও মনে করা হয় যে, চুক্তিটির একমাত্র মনোযোগ ফারাক্কা ব্যারেজের জল সরবরাহের উপর থাকা একটি ত্রুটি, কারণ বাংলাদেশের জন্য প্রবাহ বরাদ্দের আগেই এর একটি বড় অংশ উজানে ভারত ব্যবহার করে ফেলে। যদি উজানে গঙ্গার প্রবাহ কমে যায়, তাহলে পরিবেশগতভাবে ভঙ্গুর সুন্দরবন ব-দ্বীপ মারাত্মক পরিবেশগত চাপের সম্মুখীন হতে পারে। এ কারণে, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর মনোযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে, গঙ্গার প্রবাহকে এর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত আরও সামগ্রিকভাবে দেখা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চুক্তিটির পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। ত্রিশ বছর আগের তুলনায় এখন গঙ্গার প্রবাহ ভিন্ন, এবং নজিরবিহীন সময়ে বন্যা ও খরা দেখা দিচ্ছে। তাই, পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অভিযোজনমূলক জলবণ্টন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। "তথ্যভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত সক্রিয় বন্যা ব্যবস্থাপনাকেও পুনরায় আলোচিত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ।"
বাংলাদেশের শর্তে গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তা বিএনপি-র জন্য ব্যাপক জনসমর্থন এনে দেবে, এবং প্রমাণিত হবে যে দেশটির সঙ্গে তার একাধিক মূল আন্তঃনির্ভরশীলতা রয়েছে সেই বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অনুকূলভাবে আলোচনা করার সক্ষমতাও তাদের আছে।
সুতরাং, এটা বোঝা যায় কেন রহমান তাঁর সফরকালে নদীর জলের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি এই উদ্বেগের মানবিক দিকটির উপর জোর দিয়ে বলেছেন, "মানুষ তো মানুষই। ভারত হোক বা বাংলাদেশ, আমরা ঠিক একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি।" এই বক্তব্যের পেছনে কিন্তু একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। সাবেক আওয়ামী লিগ সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর সমালোচনা ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সৌহার্দ্য থাকা সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে না পারা। বাংলাদেশের শর্তে গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তা বিএনপি-র জন্য ব্যাপক জনসমর্থন এনে দেবে, এবং প্রমাণিত হবে যে দেশটির সঙ্গে তার একাধিক মূল আন্তঃনির্ভরশীলতা রয়েছে সেই বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অনুকূলভাবে আলোচনা করার সক্ষমতাও তাদের আছে। এটি দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল জামাতে ইসলামির বিরুদ্ধে দলটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, যাদের বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধী বিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যর্পণের প্রত্যাশা ও আইনি সীমাবদ্ধতা
আলোচনায় প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে আসে এবং ঢাকা ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ইউনুস প্রশাসন এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল। ভারত যদিও আগে বলেছিল যে আইনি ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে তারপর থেকে দেশটি প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে, ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারতের আগ্রহ ঢাকার উদ্বেগের প্রতি এক ধরনের সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়। এটি এই ক্রমবিকাশমান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পার্থক্য তুলে ধরে: যদিও কিছু রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে সহযোগিতা সম্ভব হতে পারে, হাসিনার বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন, বিশেষ করে এর সঙ্গে যুক্ত মৃত্যুদণ্ডের কারণে। নয়াদিল্লির জন্য, প্রত্যর্পণের যে কোনও পদক্ষেপের আইনি, রাজনৈতিক ও সুনামগত পরিণতি রয়েছে। সুতরাং, উভয় পক্ষই বিষয়টি সংযমের সঙ্গে মোকাবিলা করছে বলে মনে হচ্ছে, এবং একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে হাসিনা-সংক্রান্ত প্রশ্নটির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।
নয়াদিল্লির জন্য, প্রত্যর্পণের যে কোনও পদক্ষেপের আইনি, রাজনৈতিক ও সুনামগত পরিণতি রয়েছে। সুতরাং, উভয় পক্ষই বিষয়টি সংযমের সঙ্গে মোকাবিলা করছে বলে মনে হচ্ছে, এবং একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে হাসিনা-সংক্রান্ত প্রশ্নটির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।
এই প্রধান বিষয়গুলির বাইরেও, রহমান জনগণের মধ্যে সংযোগের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, এবং বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর ভারত ভিসা পরিষেবা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল, যদিও পরে বিশেষ করে চিকিৎসা ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে পর্যায়ক্রমে তা শিথিল করে। এটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা এবং ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও রন্ধনশৈলীর পরিচিতির কারণে বাংলাদেশি চিকিৎসা পর্যটকদের জন্য ভারতই প্রধান গন্তব্যস্থল। যদিও সম্পর্কের টানাপড়েনের সময় চিন বিকল্প হিসেবে কুনমিং-এ তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই বিকল্পে একই রকম সাশ্রয়ী মূল্য এবং সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব রয়েছে।
চিকিৎসা পর্যটন, অপরিশোধিত তেল এবং জল বণ্টনের জন্য ভারতের উপর এই নির্ভরতা শক্তিশালী ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে। অন্য কৌশলগত অংশীদারদের থেকে ভিন্নভাবে, এই প্রতিবেশী দেশদুটি অভিন্ন সম্পদ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় উদ্বেগ ভাগ করে নেয়, যা স্থিতিশীল সহযোগিতাকে অপরিহার্য করে তোলে। তার উপর, কোভিড-১৯ অতিমারি বা সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মতো যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে এমন বাহ্যিক ধাক্কার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যকার সংযোগ একটি সেফটি ভালভ হিসেবে কাজ করতে পারে।
খলিলুর রহমানের ভারত সফর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অতি-প্রয়োজনীয় সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূচনার ইঙ্গিত দেয়। ভারত ও বিএনপি-র মধ্যকার প্রাথমিক মতপার্থক্যের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং অন্যান্য শক্তির সঙ্গে বিএনপি-র জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নয়াদিল্লির জন্য যে অসুবিধাজনক হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। এর মধ্যে ঢাকার বিদেশনীতি যে কোনও শূন্য-ফলাফলের খেলা (জিরো সাম গেম) নয়, রহমানের এই দাবি নতুন করে আশ্বস্ত করেছে। ভারত বাংলাদেশের জন্য এক বহিরাগত অংশীদার নয়, বরং একটি কাঠামোগত উপস্থিতি বলে তাঁর মন্তব্য এই সম্পর্কের চিরন্তন যুক্তিকে তুলে ধরে।
সোহিনী বোস অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের আ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...
Read More +