কোয়ান্টাম কম্পিউটিং যুগান্তকারী সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু এই প্রযুক্তি সত্যিসত্যি কার্যকর হওয়ার আগেই এর অতিরঞ্জিত দাবি এবং অকাল উত্তেজনা জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
কয়েক দশকের গবেষণা ও বিনিয়োগ সত্ত্বেও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর অগ্রগতি এর দুর্বলতম দিকের, অর্থাৎ বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার অভাবের, কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি সবচেয়ে আশাবাদী হিসাব অনুযায়ীও, বাণিজ্যিকভাবে প্রাসঙ্গিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার যে ‘অন্তত এক দশক দূরে,’ এই বিবৃতিটি বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যদিও কোয়ান্টাম ত্রুটি-সংশোধন এবং হার্ডওয়্যারের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক, ব্যবহারিক বৃহৎ আকারের কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনও সম্ভবত অনেক দূরে। তবে, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে অসংখ্য মিথ্যা এবং অগভীর দাবি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অসৎ হওয়ার পাশাপাশি, এটি অন্যথায় বিকাশমান একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করার অতিরিক্ত প্রভাবও ফেলে। এই ক্ষেত্রটির জন্য বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং এটিকে জর্জরিত করা গুজব ও মিথ্যা দাবিগুলি দূর করার একটি জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, যাতে প্রযুক্তিটির সম্মুখীন হওয়া প্রধান বাধাগুলিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে তার সমাধান করা যায়।
কয়েক দশকের গবেষণা ও বিনিয়োগ সত্ত্বেও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর অগ্রগতি এর দুর্বলতম দিকের, অর্থাৎ বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার অভাবের, কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কিউবিট, কোয়ান্টাম সার্কিট এবং নয়েজ
যেখানে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটিং বিটের উপর নির্ভর করে, যা ০ বা ১ হতে পারে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কিউবিট ব্যবহার করে, যা ০ এবং ১-এর মধ্যে বিভিন্ন মানের একটি সুপারপজিশন গ্রহণ করতে পারে। ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের ডিজিটাল সার্কিটের মতোই, কোয়ান্টাম লজিক গেট ব্যবহার করে কোয়ান্টাম সার্কিট কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল কোয়ান্টাম ডি-কোহেরেন্স বা ‘নয়েজ’, যা কিউবিটের সঙ্গে বাহ্যিক পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার কারণে ঘটে, যার ফলে সময়ের সাথে সাথে তাদের বহন করা তথ্যের ক্ষয় হয়। এর সমাধান করা হয় কোয়ান্টাম এরর কারেকশন (কিউইসি) ব্যবহার করে, যা একাধিক ফিজিক্যাল কিউবিটকে একত্রিত করে ত্রুটি-সংশোধিত ‘লজিকাল’ কিউবিটে পরিণত করার মাধ্যমে কাজ করে।
চিত্র ১: কিউবিট বোঝা
সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর প্রধান প্রতিবন্ধকতা: কোয়ান্টাম এরর কারেকশন
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখন নয়েজি ইন্টারমিডিয়েট-স্কেল কোয়ান্টাম (এনআইএসকিউ) কম্পিউটারের যুগে প্রবেশ করেছে, যা প্রথম বারের মতো এমন সব কাজ সম্পাদনে সক্ষম করেছে যা এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটারের পক্ষেও অত্যন্ত জটিল। তবে, বর্তমানে এই কাজগুলি মূলত বেঞ্চমার্কিং-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর ব্যবহারিক উপযোগিতা সীমিত। প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশের সাথে সাথে, এনআইএসকিউ কম্পিউটারগুলি অবশেষে আরও বড় ফল্ট-টলারেন্ট অ্যাপ্লিকেশন-স্কেল কোয়ান্টাম (এফএএসকিউ) কম্পিউটারের জন্য জায়গা করে দেবে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর ব্যবহারিক প্রয়োগকে সম্ভব করে তুলবে।
তবে, এফএএসকিউ কম্পিউটার তৈরির আগে বেশ কিছু হার্ডওয়্যার এবং অ্যালগরিদমিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার মধ্যে কিউইসি অন্যতম। সহজভাবে বলতে গেলে, কিউইসি-র মধ্যে বারবার কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন চালানো এবং একই সঙ্গে এরর সিনড্রোমগুলি বার করা অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে এই এরর সিনড্রোমের ইতিহাস একটি ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারে পাঠানো হয়, যা এই ত্রুটিগুলোর বেশিরভাগ দূর করার জন্য একটি পুনরুদ্ধারমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে পরামর্শ দেয়। এই প্রক্রিয়াটি সিনড্রোম ডিকোডিং নামে পরিচিত। কিউইসি-র মূল সমস্যাটি এই কারণে উদ্ভূত হয় যে, কোয়ান্টাম সার্কিট থেকে ত্রুটি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াটি নিজেই সেগুলির মধ্যে ত্রুটির বিস্তার ঘটায়। সিনড্রোম ডিকোডিং অ্যালগরিদমগুলির জটিলতার কারণে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়, যেগুলিকে কোয়ান্টাম গণনার সঙ্গে সমান্তরাল কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য অবশ্যই সময়-সাশ্রয়ী হতে হয়।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখন নয়েজি ইন্টারমিডিয়েট-স্কেল কোয়ান্টাম (এনআইএসকিউ) কম্পিউটারের যুগে প্রবেশ করেছে, যা প্রথম বারের মতো এমন সব কাজ সম্পাদনে সক্ষম করেছে যা এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটারের পক্ষেও অত্যন্ত জটিল।
কিউইসি-র জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পথগুলির মধ্যে একটি হল সারফেস কোড, কারণ এটি নয়েজ সহ্য করতে পারে এবং এর সিনড্রোম নিষ্কাশন তুলনামূলকভাবে সহজ। তবে, সারফেস কোডের প্রতিটি লজিক্যাল কিউবিটের জন্য প্রায় ১,০০০ ফিজিক্যাল কিউবিটের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান ডিভাইসগুলির ক্ষমতার বাইরে। তা সত্ত্বেও, গুগলের উইলো প্রসেসরের মতো সাম্প্রতিক অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে, যা সারফেস কোডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। কিউইসি-র অন্যান্য উদীয়মান পথ, যেমন কোয়ান্টাম লো-ডেনসিটি প্যারিটি-চেক (কিউএলপিডিসি), ফ্লাক্সোনিয়াম কিউবিট, এবং ক্যাট কিউবিটও সম্ভাবনাময় বলে মনে হচ্ছে, যদিও এগুলির নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
কিউইসি-র এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, এফএএসকিউ-এর দিকে রূপান্তর ফলপ্রসূ হতে সম্ভবত অনেক সময় লাগবে। এরই মধ্যে, এনআইএসকিউ-এর জন্য কোয়ান্টাম এরর মিটিগেশন (কিউইএম) অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। জিরো-নয়েজ এক্সট্রাপোলেশন (জেডএনই) এবং প্রোবাবিলিস্টিক এরর ক্যান্সেলেশন (পিইসি) -এর মতো কিউইএম অ্যালগরিদমগুলিতে কোয়ান্টাম সার্কিট স্যাম্পলিং করা হয়, এবং পরবর্তীতে প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ক্লাসিক্যাল পোস্ট-প্রসেসিং প্রয়োগ করা হয়। কিউইএম-এর মূল সমস্যা হল, কিউইসি-র তুলনায় এটি সার্কিটের আকারের সঙ্গে অনুকূলভাবে খাপ খাইয়ে নেয় না, যা এটিকে এফএএসকিউ-এর জন্য কম প্রাসঙ্গিক করে তোলে। তবে, এটি এনআইএসকিউ-এর দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে এবং অবশেষে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম এবং সিমুলেশনের বর্তমান অবস্থা
যদিও বর্তমান এনআইএসকিউ-গুলি র্যান্ডম সার্কিট স্যাম্পলিং-এর মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য তথাকথিত ‘কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ;’ [১] অর্জন করেছে, তবুও এগুলির ব্যবহারিক উপযোগিতা সীমিত। কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম বিকাশের জন্য চলমান বেশিরভাগ প্রচেষ্টা ভ্যারিয়েশনাল কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম (ভিকিউএ)-এর উপর কেন্দ্রীভূত, যা কোয়ান্টাম এবং ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং অপটিমাইজেশন ও মেশিন লার্নিং-এ এর সম্ভাব্য প্রয়োগ রয়েছে। তবে, এই অ্যালগরিদমগুলি ব্যারেন প্লেটো ফেনোমেননের মতো একাধিক সমস্যায় জর্জরিত, যার ফলে কোয়ান্টাম অ্যাপ্রক্সিমেট অপটিমাইজেশন অ্যালগরিদম (কিউএওএ)-এর পাশাপাশি ডিকোডেড কোয়ান্টাম ইন্টারফেরোমেট্রি (ডিকিউআই) -র মতো নতুন প্যারাডাইম কৌশল ব্যবহার করে ভিকিউএ-র মধ্যে সাবটাস্ক সম্পাদনের উপর মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রোভার এবং শোর-এর অ্যালগরিদমের মতো প্রমাণিত কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ সম্পন্ন অ্যালগরিদমগুলির জন্য এফএএসকিউ-এর প্রয়োজন হবে।
কোয়ান্টাম সিমুলেশনের ক্ষেত্রে এর প্রধান উপযোগিতা এই যে, নীতিগতভাবে এটি বহু-কণা, দৃঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত সিস্টেম [২] অনুকরণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারগুলির পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন সিস্টেমগুলি বড় হতে থাকে। এই ক্ষেত্রে স্থির অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল চ্যালেঞ্জটি হল কোয়ান্টাম সুবিধা প্রদর্শন করা, যা একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা। যদিও এটা প্রায় নিশ্চিত যে কোয়ান্টাম সিমুলেশনগুলি এনআইএসকিউ যুগেও নতুন বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে, তবে এফএএসকিউ বাস্তবে পরিণত হলে তবেই এগুলি বৃহত্তর বাণিজ্যিক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাবে।
সন্দেহজনক এবং মিথ্যা দাবি
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ক্ষেত্রটি অসংখ্য সন্দেহজনক এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি মিথ্যা দাবির কারণে কলঙ্কিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ অর্জন’ থেকে শুরু করে ‘কোয়ান্টাম এআই’ এবং আরও অনেক বিভ্রান্তিকর ও কারসাজিমূলক ঘোষণা। যদিও এই দাবিগুলির বেশিরভাগই প্রকৃত আবিষ্কার এবং অগ্রগতি থেকে উদ্ভূত, এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কৃত্রিম উন্মাদনা তৈরির জন্য পরিকল্পিত। এই কৌশলটি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এবং কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় সততার অভাবকে প্রতিফলিত করে। ফলস্বরূপ, সত্য এবং কল্পকাহিনীর মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
আয়নকিউ, রিগেটি, এবং ডি-ওয়েভ-এর মতো বেশ কয়েকটি নাম করা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানি গত কয়েক বছরে স্পেশাল পারপাস অ্যাকুইজিশন কোম্পানি (এসপিএসি)-র মতো সংশয়জনক আর্থিক কৌশল ব্যবহার করে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। উপরোক্ত কারণগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রয়োগ কার্যত নেই বললেই চলে। ফলস্বরূপ, এই কোম্পানিগুলির মুনাফার একটি বড় অংশ নির্ভর করে অন্যান্য ব্যবসাকে পরামর্শ দেওয়া বা ‘শেখানোর’ উপর (যেমন প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে) যে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার ভবিষ্যতে তাদের কীভাবে সাহায্য করবে এবং জল্পনা-কল্পনাকে উস্কে দেবে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ডি-ওয়েভ গবেষণা দল একটি বড় দাবি করে জানায় যে তারা তাদের অ্যাডভান্টেজ২ প্রসেসর ব্যবহার করে কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ অর্জন করেছে। তারা এমন একটি চৌম্বকীয় পদার্থের সিমুলেশন সম্পন্ন করে যা সমাধান করতে একটি ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটারের "দশ লক্ষ বছর" সময় লাগত। এর ফলে ডি-ওয়েভের শেয়ারের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ১০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং আয়নকিউ, রিগেটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও আর্কিট কোয়ান্টামসহ অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তবে, এই দাবিটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক গবেষণা দল দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়, যারা প্রমাণ করার দাবি করে যে একই ফলাফল ক্লাসিক্যাল কম্পিউটার ব্যবহার করে সহজেই অর্জন করা সম্ভব।
আয়নকিউ, রিগেটি, এবং ডি-ওয়েভ-এর মতো বেশ কয়েকটি নাম করা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানি গত কয়েক বছরে স্পেশাল পারপাস অ্যাকুইজিশন কোম্পানি (এসপিএসি)-র মতো সংশয়জনক আর্থিক কৌশল ব্যবহার করে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে।
এমনকি বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও প্রয়োজনীয় বেঞ্চমার্কিং এবং যাচাইকরণ না করেই আগ্রহের সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ফলাফল প্রকাশ করার দায়ে দোষী। গুগল ২০১৯ সালেই কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজের দাবি করেছিল, অন্যদিকে আইবিএম ২০২৩ সালে একই কাজ করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফটের মেজরানা ১ চিপের ঘোষণাটি অতিরঞ্জিত দাবি করার জন্য উল্লেখযোগ্য সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। সংস্থাটি ২০১৮ সালের একটি গবেষণাপত্রে একই ধরনের দাবি করার জন্য ইতিমধ্যেই সমালোচিত হয়েছিল, যা তারা পরে প্রত্যাহার করে নেয়।
উত্তেজনা ও জল্পনা তৈরির আরেকটি প্রধান মাধ্যম হল এনক্রিপশন-ব্রেকিং কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বারবার করা দাবিগুলি। রিভেস্ট-শামির-অ্যাডলম্যান (আরএসএ), -এর মতো বেশিরভাগ বর্তমান এনক্রিপশন প্রোটোকল বড় মৌলিক সংখ্যাগুলিকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করার সমস্যার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের জন্য বিশেষভাবে কঠিন। অন্যদিকে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার শোরের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খুব দ্রুত এই কাজটি করতে পারে। তবে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, শোরের অ্যালগরিদম বাস্তবায়নের জন্য এফএএসকিউ-এর প্রয়োজন, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের কাছাকাছিও নেই। তা সত্ত্বেও, সফল কোয়ান্টাম ফ্যাক্টরাইজেশন সম্পর্কে একাধিক দাবি করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে, একদল চিনা গবেষক একটি ডি-ওয়েভ কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে সামরিক-স্তরের আরএসএ-২০৪৮ এনক্রিপশন ভাঙার দাবি করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে ব্যাপকভাবে খণ্ডন করা হয়। বিশেষ করে, “একটি ৮-বিট হোম কম্পিউটার, একটি অ্যাবাকাস এবং একটি কুকুর দিয়ে কোয়ান্টাম ফ্যাক্টরাইজেশন রেকর্ডের প্রতিলিপি ” শিরোনামের একটি সাম্প্রতিক ব্যঙ্গাত্মক গবেষণাপত্রে কম্পিউটার বিজ্ঞানী পিটার গুটম্যান এবং তাঁর সহ-লেখক ১৯৮১ সালের একটি ভিআইসি-২০ ৮-বিট কম্পিউটার দিয়ে কীভাবে এই গণনাটির প্রতিলিপি তৈরি করা যায় তা প্রমাণ করেছেন। লেখকরা আরও বলেছেন যে ২১-এর পরবর্তী কোনও সংখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ফ্যাক্টরাইজেশন সফলভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
উপসংহার: আরও দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা
১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে নিছক একটি চিন্তামূলক পরীক্ষা হিসেবে ধারণাটি তৈরি হওয়ার পর থেকে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার এবং অ্যালগরিদম উভয় ক্ষেত্রেই অনেক দূর এগিয়েছে। তবে, এটি উদ্দীপক বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাগুলি তুলে ধরলেও এর বাণিজ্যিক প্রয়োগযোগ্যতা একটি কঠিন সংগ্রাম হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে ঘিরে কৃত্রিম উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তিকর দাবিগুলি এই সম্ভাবনাময় বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। সম্ভবত সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হল কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর একটি আর্থিক বুদবুদ তৈরি করার সম্ভাবনা, যা বর্তমান মনোভাব অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত ফেটে যাবে এবং ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু বিনিয়োগ এই উদীয়মান প্রযুক্তির বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
এটি উদ্দীপক বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাগুলি তুলে ধরলেও এর বাণিজ্যিক প্রয়োগযোগ্যতা একটি কঠিন সংগ্রাম হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।
এই সমস্যাটির সমাধানে শিক্ষাজগৎ, বেসরকারি ক্ষেত্র এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষাজগৎকে আরও সতর্ক হতে হবে, যার জন্য উন্নততর যাচাই-বাছাই ও পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, কর্পোরেট-সমর্থিত গবেষণা গোষ্ঠীগুলি যাতে কোনও অন্যায্য সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি ক্ষেত্রকে প্রয়োজনীয় বেঞ্চমার্কিং এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই অকালে কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজের দাবি করার অভ্যাস কমাতে হবে। যদিও সাময়িক বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার জন্য এটিকে একটি ভাল উপায় বলে মনে হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে এর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে, যা সেই বিনিয়োগগুলিকেই লাইনচ্যুত করার বিপদ তৈরি করে। যদিও কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ প্রমাণ করাই একটি জটিল কাজ, এবং মাঝেমধ্যে ভুল হওয়াটা বোধগম্য, কিন্তু এই ধরনের দাবির বিপুল পরিমাণ একেবারেই অযৌক্তিক। কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ ট্র্যাকার এবং যুক্তরাজ্যের কিউসিমেট প্রজেক্ট-এর মতো সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলি এই ক্ষেত্রে উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ। এ ছাড়াও, এই প্রযুক্তির সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল প্রতিবেদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতীক ত্রিপাঠী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজি (সিএসএসটি)-র অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
[১] কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ বলতে একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কোনও নির্দিষ্ট কাজ ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের চেয়ে আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদন করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
[২] স্ট্রংলি কোরিলেটেড সিস্টেম বলতে এমন পদার্থকে বোঝায় যেখানে ইলেকট্রনের পারস্পরিক ক্রিয়া তাদের সম্মিলিত আচরণকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Prateek Tripathi is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy and Technology. His work focuses on an emerging technologies and deep tech including quantum ...
Read More +