Expert Speak Health Express
Published on May 30, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতে কিউডেঙ্গার অনুমোদন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, কিন্তু ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের জটিলতা, ডেংভ্যাক্সিয়ার অভিজ্ঞতা এবং শুধুমাত্র টিকানির্ভর কৌশলের সীমাবদ্ধতা একটি সতর্ক সমন্বিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শুধুসুপারিশযোগ্য নয়, অপরিহার্য করে তুলেছে।

ভারতে কিউডেঙ্গা: প্রতিশ্রুতি, দৃষ্টান্ত এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ পথ

ডেঙ্গু হল মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যাকে এই সংক্রমণের ঝুঁকিতে রাখে। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখের কিছু বেশি, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ভারতে ২০২৫ সালে ১.২ কোটি রোগী শনাক্ত হয়। দ্রুত নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ডেঙ্গুর বিস্তারে উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা রেখেছে, যা এখন ১০০টিরও বেশি দেশে স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান। যেহেতু এর কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকা তৈরি করা বেশ কঠিন। এই বছরের মার্চ মাসে, সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)-এর একটি বিষয় বিশেষজ্ঞ কমিটি ডেঙ্গু টিকা — কিউডেঙ্গা — প্রবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে , যা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তা সত্ত্বেও, ডেঙ্গু কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত কৌশল অপরিহার্য।


ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে এটাই হল মৌলিক চ্যালেঞ্জ — একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনকে অবশ্যই চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই প্রতিরক্ষামূলক অনাক্রম্যতা প্রদান করতে হবে; অন্যথায়, আংশিক অনাক্রম্যতা (উদাহরণস্বরূপ, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অর্জিত) গুরুতর পরিণতির কারণ হতে পারে, যদি ব্যক্তিটি পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।



ডেঙ্গু (ডিইএনভি) সংক্রমণ জিনগতভাবে একই রকম কিন্তু স্বতন্ত্র চারটি ধরন বা সেরোটাইপের যে কোনও একটির কারণে হতে পারে — ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩, এবং ডিইএনভি-৪। এই সংক্রমণ উপসর্গবিহীন হতে পারে, যার ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয় যা নিজে থেকেই সেরে যায়, অথবা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম (ডিএসএস)-এর মতো আরও গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন এবং যা কখনও কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারে। ভিন্ন সেরোটাইপের দ্বারা দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু সংক্রমণ হলে তা যথেষ্ট ঝুঁকি বহন করে: পূর্ব-বিদ্যমান অ্যান্টিবডি (উদাহরণস্বরূপ, পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে প্রাপ্ত) পরবর্তী সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে ভাইরাসের প্রবেশকে সহজতর করে এবং রোগের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে এটাই হল মৌলিক চ্যালেঞ্জ — একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনকে অবশ্যই চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই প্রতিরক্ষামূলক অনাক্রম্যতা প্রদান করতে হবে; অন্যথায়, আংশিক অনাক্রম্যতা (উদাহরণস্বরূপ, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অর্জিত) গুরুতর পরিণতির কারণ হতে পারে, যদি ব্যক্তিটি পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

কিউডেঙ্গার প্রতিশ্রুতি

জাপানের টাকেডা একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন—কিউডেঙ্গা (টিএকে-০০৩)—তৈরি করেছে, যা এখন ভারতের সিডিএসসিও সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। ভারতে এটি চালু হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে একটি পোস্ট-মার্কেটিং সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সমীক্ষার শর্তে এই অনুমোদনটি দেওয়া হয়েছে, যা একটি সতর্ক নিয়ন্ত্রক পদ্ধতির প্রতিফলন। কিউডেঙ্গা হল তিন মাস ব্যবধানে দেওয়া দুটি ডোজের একটি ব্যবস্থা, এবং এর জন্য ডেঙ্গু ভাইরাসের পূর্ববর্তী সংস্পর্শের প্রয়োজন হয় না। এটি ৪১টি দেশে অনুমোদিত হয়েছে এবং প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। এটি হু দ্বারা প্রস্তাবিত ডেঙ্গু ভ্যাকসিন, এবং সংস্থাটি উচ্চ-প্রাদুর্ভাবপূর্ণ অঞ্চলে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রয়োগের সুপারিশ করে। ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) এবং যুক্তরাজ্য (ইউকে) এই সুপারিশটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে কিউডেঙ্গাকে অনুমোদন দেয়, এবং এরপর থেকে ব্রাজিল এটিকে তাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভারতে, হায়দরাবাদ-ভিত্তিক বায়োলজিক্যাল ই ভ্যাকসিনটির স্থানীয় উৎপাদনের জন্য টাকেডার সঙ্গে একটি অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে।

৬ বছরের কম বয়সী যেসব মানুষ আগে কখনও ডেঙ্গুর সংস্পর্শে আসেনি, তাদের ক্ষেত্রে ডিইএনভি-৩ এবং ডিইএনভি-৪ সংক্রমণের পর রোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ বেশ কয়েকটি এশীয় এবং দক্ষিণ আমেরিকান দেশে ডিইএনভি-৩ পুনরায় আবির্ভূত হতে শুরু করেছে।



কিউডেঙ্গার কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, এটি আশাব্যঞ্জক হলেও এর কার্যকারিতা সূক্ষ্ম। গাণিতিক মডেলিং গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, মাঝারি থেকে উচ্চ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে, ৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের টিকা দিলে ১০ বছরের মধ্যে ডেঙ্গু-সম্পর্কিত হাসপাতালে ভর্তির হার ১০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই টিকাটি ডেঙ্গুর পূর্ববর্তী সংস্পর্শ নির্বিশেষে ডিইএনভি-২ এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুরক্ষামূলক, কারণ এর মূল ভিত্তি একটি জীবন্ত-দুর্বলীকৃত (লাইভ-অ্যাটেন্যুয়েটেড) ডিইএনভি-২ স্ট্রেইনের উপর নির্মিত। যারা পূর্বে ডেঙ্গুর সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি অন্যান্য সেরোটাইপের বিরুদ্ধে মাঝারি মানের সুরক্ষামূলক অনাক্রম্যতা প্রদান করে। তবে, ৬ বছরের কম বয়সী যেসব বাচ্চা আগে কখনও ডেঙ্গুর সংস্পর্শে আসেনি, তাদের ক্ষেত্রে ডিইএনভি-৩ এবং ডিইএনভি-৪ সংক্রমণের পর রোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ বেশ কয়েকটি এশীয় এবং দক্ষিণ আমেরিকান দেশে ডিইএনভি-৩ পুনরায় আবির্ভূত হতে শুরু করেছে। অধিকন্তু, সময়ের সাথে সাথে টিকার কার্যকারিতা হ্রাস পেতে দেখা গিয়েছে, যা দ্বিতীয় ডোজের এক বছর পর উপসর্গযুক্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ শতাংশ থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে শুধুমাত্র টিকাদান কোনও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। এই পর্যবেক্ষণগুলি এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে, পূর্ববর্তী সংস্পর্শ নির্বিশেষে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা প্রদানকারী একটি আদর্শ ডেঙ্গু টিকা তৈরি করা কঠিন হতে পারে।

ডেংভ্যাক্সিয়া পর্ব

সানোফি পাস্তুর দ্বারা তৈরি বিশ্বের প্রথম লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ডেংভ্যাক্সিয়ার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের উপর নজরদারিকে বিশেষভাবে সামনে এনেছে। ডেংভ্যাক্সিয়ার বাজার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, যাঁরা আগে কখনও ডেঙ্গুর সংস্পর্শে আসেননি, তাঁদের মধ্যে রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গুর সংস্পর্শে এলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। এই পর্যবেক্ষণটি সামনে আসে ফিলিপিন্স-‌সহ বিভিন্ন সরকার ডেংভ্যাক্সিয়ার লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার পর। ফিলিপিন্সে একটি বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচির (যেখানে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল) পর হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া যায়। এটি প্রমাণ করে যে, ডেঙ্গুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে বাজার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ডেংভ্যাক্সিয়া শুধুমাত্র তাদেরই দেওয়া হয় যারা আগে ডেঙ্গুর সংস্পর্শে এসেছেন, কিন্তু টিকা গ্রহণের হার কম হওয়ায় সানোফি সম্ভবত এর উৎপাদন বন্ধ করে দেবে।


ভারতের প্যানাসিয়া বায়োটেক দেশের প্রথম দেশীয় ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট — ডেঙ্গিঅল — তৈরি করেছে এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে।



বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর অন্যতম সর্বোচ্চ প্রকোপ বহনকারী দেশ ব্রাজিল সম্প্রতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে আরও একটি ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে: বুটানটান-ডিভি, যা ব্রাজিলের একটি বায়োলজিক্স গবেষণা কেন্দ্র বুটানটান ইনস্টিটিউট দ্বারা তৈরি। এটি ১২ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত এবং বিশ্বের প্রথম একক-ডোজের ডেঙ্গু ভ্যাকসিন। কিউডেঙ্গার তুলনায় বুটানটান-ডিভি-র একক-ডোজ পদ্ধতি একটি বাস্তব সুবিধা প্রদান করে, কারণ দ্বিতীয় ডোজটি সঠিকভাবে গ্রহণ করা একটি চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও, ভারতের প্যানাসিয়া বায়োটেক দেশের প্রথম দেশীয় ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট — ডেঙ্গিঅল — তৈরি করেছে এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে।

সমন্বিত কৌশল

ভারতে কিউডেঙ্গার এসইসি অনুমোদন সিডিএসসিও-র অনুমোদন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলার জন্য একটি সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, জৈবিক বাহক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যেমন ওলবাকিয়া-সংক্রমিত মশার প্রবর্তন যা ডেঙ্গু সংক্রমণ দমন করে তা কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ওলবাকিয়া-সংক্রমিত মশা মানুষ বা পরিবেশের জন্য সামান্যই ঝুঁকি তৈরি করে, এবং সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এদের ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়াও,  কমব্যাট উদ্যোগের অধীনে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস, রোগের ফলাফল নির্ধারণের জন্য বায়োমার্কার শনাক্তকরণ, এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ সম্পর্কে বোঝাপড়া শক্তিশালী করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত মডেলিংয়ের মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরিশেষে, সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই) একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি চিকিৎসা নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করছে এবং ডেঙ্গু-প্রবণ দেশগুলিতে এই ট্রায়াল সম্প্রসারণের জন্য ড্রাগস ফর নেগলেক্টেড ডিজিজেস ইনিশিয়েটিভ (ডিএনডিআই)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করবে। এদিকে, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ মসনোডেনভির  একটি ফেজ ২এ ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক ফল দেখানো সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের সংক্রামক রোগ পোর্টফোলিওর অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এর ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলি চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিকল্প প্রস্তুতকারক সংস্থা খুঁজে বার করতে আলোচনা চলছে।

উপসংহার

কিউডেঙ্গার অনুমোদন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কিন্তু রোগটির জটিলতা এখনও রয়ে গিয়েছে। ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে যে এর প্রয়োগ একটি পর্যায়ক্রমিক ও প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়—এমন একটি পদ্ধতি যা ফার্মাকোভিজিল্যান্সের উপর জোর দেয়, দেশীয় উৎপাদনে (স্বদেশী ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তৈরি-‌সহ) বিনিয়োগকে সমর্থন করে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে। ডেংভ্যাক্সিয়া পর্বটি ডেঙ্গুর জটিলতা এবং ব্যাপক ফার্মাকোভিজিল্যান্স সমীক্ষার আগেই একটি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলে কী ঘটতে পারে তার একটি কঠোর অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। কিউডেঙ্গার সতর্কতামূলক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে যে এটি একটি কার্যকর জনস্বাস্থ্য সরঞ্জাম হিসেবে রূপান্তরিত হবে।



লক্ষ্মী রামকৃষ্ণন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইককনমিক ডিপ্লোমেসি-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.