কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে জলবায়ু সংকট পর্যন্ত দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে নতুন রূপ দিচ্ছে, এবং এমন নীতির দাবি জানাচ্ছে যা অগ্রগতি ও মানসিক স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
বিশ্ব যখন ২০২৫ সালের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই উপলব্ধি বাড়ছে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রায়শই একটি লুকনো মানবিক মূল্য থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্কহেইম তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে, মানসিক স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জগুলি কেবল ব্যক্তিগত মনস্তাত্ত্বিক কারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন গবেষণার মাধ্যমেও ডুর্কহেইম-এর এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণিত হয়েছে যে, বিশেষ করে দ্রুত সামাজিক পরিবর্তনের সময়কালে সমাজের কাঠামোগত বিশৃঙ্খলা আত্মহত্যার উপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিকীকরণ, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিশ্বায়ন—যার প্রতিটিই বিশ্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
ডুর্কহেইম-এর পর্যবেক্ষণ ছিল যে, বিশেষ করে দ্রুত সামাজিক পরিবর্তনের সময়কালে সমাজের কাঠামোগত বিশৃঙ্খলা আত্মহত্যার উপর প্রভাব ফেলে।
রূপান্তরের এই ধারাবাহিক ঢেউ—প্রথম শিল্প বিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (৪আইআর) পর্যন্ত, সেইসঙ্গে লিঙ্গ ভূমিকার পরিবর্তন, পরিবেশগত চাপ এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত—সমাজের মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করেছে।
প্রযুক্তিগত রূপান্তর
শিল্প-পূর্ববর্তী সমাজে, যেখানে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পরিবারের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেখানে মানসিক কষ্টের জন্য একটি অন্তর্নিহিত সুরক্ষা এবং সম্মিলিত অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি বিদ্যমান ছিল। প্রতিটি পরিবারে প্রতিটি সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল, আর তার সঙ্গে ছিল বড় পরিবার এবং গোষ্ঠীগত জীবনযাপন। তবে, পরিবারের ক্ষুদ্রায়N, নারী ও পুরুষের ভূমিকার পরিবর্তন, এবং বর্ধিত অভিবাসন পরিবার ও ব্যক্তির মনস্তত্ত্বকে রূপান্তরিত করেছে, যা তরুণ ও বৃদ্ধ উভয়ের মধ্যেই একাকীত্বের জন্ম দিচ্ছে।
আজকের এই পরস্পরবিরোধী বিশ্বে, যেখানে ডিজিটাল বিপ্লবের কারণে অতি-সংযোগের মাঝেও বিচ্ছিন্নতা বিরাজ করছে, সেখানে তরুণরা বিশেষভাবে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করছে, যা তাদের সামগ্রিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার উপর, যেভাবে শিল্পায়ন পারিবারিক ও কর্মকাঠামোকে খণ্ডিত করেছিল, ঠিক সেভাবেই আজকের ডিজিটাল অর্থনীতি কর্ম ও জীবনের সীমানাকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা এক নতুন ধরনের নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে। জার্মানির একটি ২০২৩ সালের গবেষণায় জেনারেশন জেড-এর মধ্যে কর্মজীবনের ভারসাম্য এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মাত্রার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। তার উপর, তথ্যের এই যুগে, যেখানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত এবং আর্থ-সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী বিষয় পরিবেষ্টিত করে রাখে, নেতিবাচক মিডিয়ার সংস্পর্শ মানসিক চাপের কারণগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
যেভাবে শিল্পায়ন পারিবারিক ও কর্মকাঠামোকে খণ্ডিত করেছিল, ঠিক সেভাবেই আজকের ডিজিটাল অর্থনীতি কর্ম ও জীবনের সীমানাকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা এক নতুন ধরনের নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে।
যদিও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আগমন মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে, তবে এগুলিও চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। মানুষের মতো সহানুভূতি ও বিশ্বস্ততা অনুকরণকারী মডেলগুলির কারণে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ব্যবহারকারী থেরাপি ও সাহচর্যের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করছেন। তবে, বিভ্রম বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে। এছাড়াও, বেশ কিছু পদের অপ্রয়োজনীয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা ভারতের আইটি পেশাদারদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে দেখা গিয়েছে।
পরিবর্তিত লিঙ্গ ভূমিকা এবং পরিচয়
এছাড়াও, পূর্বে নির্ধারিত লিঙ্গ ভূমিকায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন দেখতে পেয়েছে যে, নারীদের ভূমিকা প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে ছেলে ও পুরুষরা মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা – যা একটি অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ এবং এটি সেই সমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে যা বিশ্ব অর্জন করতে চায়। শিক্ষার ক্ষেত্রেও এটি সত্য, যেখানে স্কুলের কিশোর ছেলেরা প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের বিলম্বিত বিকাশের কারণে মেয়েদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে।
স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়াগুলি উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের কাজ প্রতিস্থাপন করায়, কম শিক্ষিত পুরুষেরা উচ্চ বেকারত্বের হারের সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে, ঐতিহ্যগতভাবে নারীদের পেশায় পুরুষেরা এখনও সামাজিক কলঙ্কের শিকার হচ্ছেন – এই চ্যালেঞ্জটি আবার ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের পেশায় নারীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ পায়।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন দেখতে পেয়েছে যে, নারীদের ভূমিকা প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে ছেলে ও পুরুষরা মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা।
এছাড়াও, নারীর ভূমিকা শুধু যত্নপ্রদানকারী থেকে অর্থনৈতিক অবদানকারী হিসেবে প্রসারিত হলেও, পুরুষদের ভূমিকা সীমিতই রয়ে গিয়েছে, এবং এই নতুন বাস্তবতায় অনেকেই নিজেদের উদ্দেশ্যহীন মনে করছেন। গত কয়েক দশকে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য ও প্রশংসনীয় হলেও, নীতিগত কাঠামোর মধ্যে আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে, যাতে পুরুষ ও নারী সম্মিলিতভাবে পরিবর্তিত সামাজিক ভূমিকা ও প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সময় লিঙ্গ বৈষম্য আরও বেড়ে না যায়।
একই সঙ্গে, ভারতে ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, চাকুরিরতা নারীরা ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে তাঁদের দ্বৈত ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টায় চাকুরি না-করা নারীদের তুলনায় বেশি মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। গবেষণাটিতে দেখা গিয়েছে যে, ‘ভূমিকার অতিরিক্ত চাপ’ চাকুরিরতা নারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করে, যার ফলে পরিবারে সংঘাত এবং কর্মক্ষেত্রে অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরিবেশগত ও মানবিক সংকট
পরিবেশগত ও জলবায়ুগত কারণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যেকার সম্পর্কের বিষয়টিও ক্রমবর্ধমানভাবে স্বীকৃত হচ্ছে, যা সম্পদ সংকট, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, চরম আবহাওয়ার ঘটনা এবং বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাতের কারণে সৃষ্টি হয়। এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই সংগ্রামগুলির একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝা বহন করে, যা তাদের দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এছাড়াও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) অনুসারে, সংঘাত-বিধ্বস্ত অঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন, যা হালকা বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ থেকে শুরু করে মানসিক বিকার পর্যন্ত হতে পারে। এদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন মাঝারি বা গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছেন এবং চিকিৎসা ও যত্নের সুযোগ সীমিত। এই বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রচারণার মূল বিষয় হল মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য, যা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানসিক সমর্থনের, তাদের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণের এবং জীবন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধারে সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
এছাড়াও, ডুর্খেইম যে তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন তা আজকের প্রেক্ষাপটেও, বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রবণতাগুলিতে স্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫.৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগেছেন, এবং পুরুষদের তুলনায় নারীরা বিষণ্ণতা রোগে বেশি আক্রান্ত হন। ২০১৯ সালে কর্মক্ষম বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল বলে অনুমান করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, প্রায় ৩৫৯ মিলিয়ন মানুষ উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছেন, এবং এঁদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। শুধুমাত্র ২০২১ সালেই আত্মহত্যায় আনুমানিক ৭২৭,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে – যা বিভিন্ন দেশ এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। উদ্বেগজনকভাবে, বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার ৭৩ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে ঘটেছে। এছাড়া, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক জরুরি পরিস্থিতি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি-এর ঝুঁকিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকাশ যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে না।
সামগ্রিকভাবে, মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা ব্যয়ের বাইরেও, পরোক্ষ খরচ—যার মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের কারণে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত—বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বার্ষিক প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে বলে দেখা গিয়েছে। বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ১২ বিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয়। তবুও, মাত্র ৪৫ শতাংশ দেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলা মানসিক স্বাস্থ্য আইন রয়েছে। বিনিয়োগও কম রয়েছে, ২০২৪ সালে এক্ষেত্রে সরকারগুলির গড় ব্যয় মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ। এটু এই বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তোলে যে, প্রতি ১০,০০০ জনসংখ্যার জন্য মাত্র একজন সরকারি মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। একই সঙ্গে, ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকাশ যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে না।
ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের বোঝা
অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে, সমসাময়িক ভারতের সংগ্রামগুলি বিশ্বের বাকি অংশের সংগ্রামেরই প্রতিধ্বনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক কনভেনশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, ভারতের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইন, ২০১৭, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ষা করা, তাঁদের বিষয়টি তুলে ধরা এবং অধিকার পূরণের জন্য পরিষেবা প্রদানের আইনি কাঠামো প্রদান করে। তবে, ২০১৫-১৬ সালে পরিচালিত প্রথম জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা (এনএমএইচএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার ৫.১ শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় বিষণ্ণতাজনিত সমস্যায় ভুগেছেন। ভারতে প্রতি ১,০০,০০০ জনসংখ্যায় আত্মহত্যার হার ছিল ১০.৬, যেখানে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার (১৪.৩ শতাংশ) নারীদের (৭.২ শতাংশ) তুলনায় বেশি ছিল। মহানগরীগুলির বাসিন্দাদের মতো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক রোগের প্রকোপ বেশি ছিল, অন্যদিকে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে মুড ডিসঅর্ডার বেশি দেখা যেত। এছাড়াও, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৯৮ লক্ষ ভারতীয়ের সক্রিয় মানসিক স্বাস্থ্য হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, এই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত বোঝা ভারতে প্রতি ১০,০০০ জনসংখ্যায় ২৪৪৩ ডিসএবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ারস (অক্ষমতাজনিত জীবন বছর, সংক্ষেপে ডিএএলওয়াই) কেড়ে নেয়, এবং ২০১২ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১.০৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারত বর্তমানে নীতিগত প্রচেষ্টাকে নির্দেশনা দিতে এবং সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতিকার উন্নত করার জন্য এনএমএইচএস-এর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে কাজ করছে।
আত্মহত্যার হার শুধু ব্যক্তিদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং তা সমষ্টিগত জীবনের চাপ এবং ভাঙনের চিত্র তুলে ধরে; এটি সমাজের সহায়তা কাঠামো এবং উদ্দেশ্য, আপনত্ব ও স্থিতিশীলতা প্রদানের ক্ষমতার একটি মাপকাঠি।
ভবিষ্যৎ করণীয়
সামগ্রিকভাবে, গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যগত দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজ পরিবর্তনের গতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হিমসিম খায়। আধুনিকীকরণ নারীদের জন্য বর্ধিত স্বায়ত্তশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক একীকরণ এবং সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির মতো সুযোগ তৈরি করলেও, এটি পারিবারিক জীবন, কাজের ধরন, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিকভাবে সমাজকে পুনর্গঠিত করেছে। ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ সত্ত্বেও, ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার এক-তৃতীয়াংশ কমানোর জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণের প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত, এবং বর্তমান গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী মাত্র ১২ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। আত্মহত্যার হার শুধু ব্যক্তিদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং তা সমষ্টিগত জীবনের চাপ এবং ভাঙনের চিত্র তুলে ধরে; এটি সমাজের সহায়তা কাঠামো এবং উদ্দেশ্য, আপনত্ব ও স্থিতিশীলতা প্রদানের ক্ষমতার একটি মাপকাঠি।
১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে, দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজের মানসিক স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জগুলি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার জন্য জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নিরন্তর পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যে এমন বিনিয়োগ প্রয়োজন যা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে, এবং নিশ্চিত করবে যে পরিবর্তন যেন সুস্থতাকে বিসর্জন না দিয়ে সমৃদ্ধি বয়ে আনে। এর জন্য আন্তঃক্ষেত্র সহযোগিতা, নীতিগত উদ্ভাবন এবং শুধু অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিকভাবেও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।
নিমিশা চাড্ডা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসির একজন গবেষণা সহকারী।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Nimisha Chadha is a Research Assistant with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. She was previously an Associate at PATH (2023) and has a MSc ...
Read More +