Author : Sayantan Haldar

Published on Aug 29, 2025 Updated 0 Hours ago

পশ্চিম ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক গতিশীলতা বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক শৃঙ্খলা গঠনের জন্য এই অঞ্চলে স্থিতিশীল ভারতীয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন

ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণে পশ্চিম ভারত মহাসাগরকে অগ্রাধিকার দেওয়া

ভারত মহাসাগর অঞ্চল (আইওআর) দ্রুত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ভূ-অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের পরিমাণ ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের আশি শতাংশেরও বেশি এবং বার্ষিক প্রায় দশ বিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করে, যা দেশটিকে উদীয়মান সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে সৃষ্ট কৌশলগত চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই অঞ্চলে একটি প্রধান সামুদ্রিক নিরাপত্তা নেতা হিসেবে নয়াদিল্লি গত দশকে তীব্রতর কৌশলগত বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা সমীকরণের প্রতিক্রিয়ায় তার নৌবাহিনীর কর্মক্ষমতা ক্রমাগত প্রসারিত করেছে।

ভারত মহাসাগর অঞ্চল (আইওআর) দ্রুত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ভূ-অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের পরিমাণ ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর উভয়কেই ঘিরে একটি ঐক্যবদ্ধ সামুদ্রিক মঞ্চ হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিকের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ভারত মহাসাগর বৃহত্তর কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করেছে। এই কাঠামো পূর্ব এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় মঞ্চের মধ্যে মানচিত্রাঙ্কন বিভাজনের দিকেও নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গত দশক ধরে ইন্দো-প্যাসিফিকের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা বিদ্যমান এবং বিস্তৃত। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নয়াদিল্লির প্রসার সমমনস্ক দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সামুদ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করে তুলেছে। বিভিন্ন দিক থেকেপূর্ব ভারত মহাসাগর ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পৃক্ততার জন্য একটি মূল মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেকারণ ভারতের অংশীদারদের অবস্থান স্বার্থ এই অঞ্চলে নিহিত। উল্লেখযোগ্য ভাবে, পূর্ব ভারত মহাসাগর ভারত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেও চিহ্নিত করে।

তবে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিপরীত প্রবণতা প্রকাশ করে। নৌ অবকাঠামোতে ভারতের বেশিরভাগ বিনিয়োগ পশ্চিম ভারত মহাসাগরের দিকে পরিচালিত বলে মনে হচ্ছে। এই মনোযোগ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের দ্বারা চালিত হতে পারে — যেমন ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকি, চিনা জাহাজের বর্ধিত উপস্থিতি এবং ভারত-আফ্রিকা সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান তাৎপর্য।

Prioritising The Western Indian Ocean In India S Maritime Security Calculus

সূত্র: শ্লোক গুপ্ত দ্বারা নির্মিত

পশ্চিম ভারত মহাসাগরে অ-চিরাচরিত হুমকি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা

পশ্চিম ভারত মহাসাগর ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে অ-চিরাচরিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতার পুনরুত্থান - যেখানে মুক্তিপণের দাবি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল - পশ্চিম ভারত মহাসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তার দিকে তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এই ধরনের হুমকির প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া ক্রমবর্ধমান ভাবে সুনির্দিষ্ট বলে মনে হচ্ছে, যেমনটা ২০২৪ সালে মরিশাসের আগালেগা দ্বীপে একটি নতুন বিমানঘাঁটি জেটির উদ্বোধন এবং ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম-এর (২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আইওএনএস) মতো কাঠামোতে এর বিদ্যমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেখা গিয়েছেআইওএনএস-এর অধীনে নিশার-আইএফসি-র মতো মহড়া সমসাময়িক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত হুমকি পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একটি প্রধান অ-প্রথাগত নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবেও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, যা বিশ্বের দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী জলরাশিগুলির মধ্যে অন্যতম। এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ মানব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিতে রয়েছে, যেমন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এই সমস্যা সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল সুবিশাল মানব জনসংখ্যার জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তোলে। মলদ্বীপ, মরিশাস এবং সেশেলসের মতো ছোট উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রগুলিও জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি প্রাথমিক জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। অবৈধ, অ-প্রতিবেদিত অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা, মাদক ও মানব পাচার এবং ইয়েমেন ও মোজাম্বিকে সংঘাতের প্রভাবের মতো অন্যান্য অ-প্রথাগত নিরাপত্তা হুমকির দরুন এই ঝুঁকিগুলি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা পশ্চিম ভারত মহাসাগরকে ভারতের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় করে তুলেছে।

আফ্রিকার মূলনীতি: ভারতের ভারত মহাসাগর কৌশলে একটি নতুন ভূমিকা

২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারত তার ‘সাগর’ কাঠামোকে ‘মহাসাগর’-এ (মিউচুয়াল অ্যান্ড হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস রিজিয়নস) সম্প্রসারিত করে আইওআর-এর জন্য তার সামুদ্রিক কৌশলের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে গ্লোবাল সাউথকে সমন্বিত করে। এই মূলনীতির পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আফ্রিকা-ভারত কি মেরিটাইম এনগেজমেন্ট (এআইকেইওয়াইএমই) চালু করা হয়, যা আইওআর-এ পছন্দের নিরাপত্তা অংশীদারএবং প্রথম প্রতিক্রিয়াকারীহিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর মর্যাদাকে সুসংহত করার জন্য একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চআইওএস সাগর – এমন একটি উদ্যোগ, যা ২০২৫ সালের ৮ মে ভারতীয় নৌবাহিনী দ্বারা দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর জুড়ে আইএনএস সুনয়না মোতায়েনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছিল - আফ্রিকান দেশগুলির সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ভারতের প্রচেষ্টা বা প্রতিশ্রুতিগুলির উদাহরণ। দশজন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে আটজনই এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছিল।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর উভয়কেই ঘিরে একটি ঐক্যবদ্ধ সামুদ্রিক মঞ্চ হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিকের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ভারত মহাসাগর বৃহত্তর কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করেছে। এই কাঠামো পূর্ব এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় মঞ্চের মধ্যে মানচিত্রাঙ্কন বিভাজনের দিকেও নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং জিবুতির মতো কৌশলগত কেন্দ্রগুলিতে চিনের বিস্তৃত উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে, ভারত মহাসাগরে প্রধান সামুদ্রিক নিরাপত্তা শক্তি হিসেবে টিকে থাকার ভারতের প্রয়োজনীয়তা পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি অধিক মনোযোগ দাবি করে।

পশ্চিম ভারত মহাসাগরে চিনের চ্যালেঞ্জ

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনা গবেষণা জাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা চিন্তাভাবনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চিন কর্তৃক প্রায়শই গুপ্তচর জাহাজ এবং দ্বৈত-ব্যবহারের গবেষণা জাহাজ হিসাবে মনে করা এই ধরনের গবেষণা জাহাজ মোতায়েনের ফলে দক্ষিণ চিন সাগর (এসসিএস) এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বাইরেও বিস্তৃত কৌশলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জিবুতিতে তার সামরিক ঘাঁটি আফ্রিকান দেশগুলির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা পশ্চিম ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এই পদক্ষেপগুলি স্বাভাবিক ভাবেই সেই দেশগুলিতে উদ্বেগের কারণ হয়েছে, যাদের জাতীয় স্বার্থ বাধ্যবাধকতা এই অঞ্চলে চিনা আধিপত্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। চিনের কিছু বন্দর কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত। গোয়াদর বন্দর হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত হলেও ডোরালেহ বন্দর বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে অবস্থিত। এশিয়া, আফ্রিকা ইউরোপের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির জন্য উভয়ই অপরিহার্য। ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশন-এর (আইওআরএ) মতো আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নেতৃত্ব দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে চিন-ভারত ওশান ফোরামে চিনের ব্যাপক অংশগ্রহণের দাবিতে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা বহুপাক্ষিক স্তরেও লক্ষ করা যায়।

একটি পশ্চিমি পথ নির্ধারণ: ভারতের উদীয়মান সামুদ্রিক ভাবমূর্তি

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনা গবেষণা জাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা চিন্তাভাবনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

গত দশক ধরে ভারতের নৌবাহিনীর প্রচেষ্টা পশ্চিম ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তার নৌবাহিনীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর নকশার অংশ বলে মনে হচ্ছে। অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি, ভারত-আফ্রিকা যোগাযোগের উপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগ এবং চিনা রাজনৈতিক প্রভাবের দ্রুত বিস্তারের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, নয়াদিল্লি পশ্চিমা নৌবাহিনীর উপর আরও মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পর নৌবাহিনীর উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ঝুঁকির ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কারণে এই পশ্চিমমুখী পুনর্বিন্যাসও সময়োপযোগী বলে মনে হচ্ছে। পূর্ব ভারত মহাসাগর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিশ্বব্যাপী অংশীদারদের কাছ থেকে আরও বেশি করে মনোযোগ পেলেও সাম্প্রতিক নিদর্শনগুলি পশ্চিম ভারত মহাসাগরের লক্ষ্যে ভারতের কৌশলগত মনোযোগের ধারাবাহিক গতিকেই নির্দেশ করে। পশ্চিম ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক গতিশীলতা বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক শৃঙ্খলা গঠনের জন্য এই অঞ্চলে স্থিতিশীল ভারতীয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

 


সায়ন্তন হালদার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট।

শ্লোক গুপ্ত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের রিসার্চ ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.