-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারত যখন বৈদ্যুতিক পরিবহণের দিকে তার পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে, তখন স্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতিটি জরুরি খনিজ পদার্থের উপর নির্ভরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা, এবং নতুন ধরনের জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে (ইভি) রূপান্তরকে স্বয়ংচালিত শিল্পে বিগত কয়েক দশকে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মৌলিক পরিবর্তনগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবহণ ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন একটি প্রধান প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক জীবনচক্রের মোট কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমনের প্রায় ২৩ শতাংশ (৮.৮ গিগাটন) পরিবহণ ক্ষেত্র থেকে আসে, যার মধ্যে সড়ক পরিবহণই সবচেয়ে বড় অংশ (৬.৫ গিগাটন)। কার্বন নির্গমন হ্রাসে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বিবেচনা করা হয়। এগুলিকে তাদের পুরো জীবনচক্রে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের গাড়ির চেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব বলে মনে করা হয়। বেশ কয়েকটি দেশ ২০৫০ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের যানবাহন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন দেশ কীভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছে, সে বিষয়ে প্রচুর গবেষণা ও আলোচনা বিদ্যমান। নরওয়ে এমন একটি দেশ যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রচলনে উচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে।
বর্তমান শক্তি রূপান্তরের একটি প্রধান পরিণতি হল নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থ নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা। অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থগুলিই হল পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরকে চালিত করার মূল উপাদান। ‘অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ’ একটি ব্যাপক পরিভাষা, যা এমন খনিজ পদার্থগুলিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যার কোনও কার্যকর বিকল্প নেই, এবং যেহেতু সরবরাহ এক বা কয়েকটি দেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই আমদানিকারী দেশগুলি সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থগুলিকে এমন উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেগুলির একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এগুলি সাধারণত কম বিকল্পযোগ্যতা, উচ্চ সরবরাহ ঝুঁকি এবং কয়েকটি দেশে উৎপাদন কেন্দ্রীভূত থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থের কোনও সর্বজনীন সংজ্ঞা নেই।
নতুন উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলি অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। স্বয়ংচালিত, ইলেকট্রনিক্স, উৎপাদন, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ শিল্পের মতো শিল্পগুলি আজ এই খনিজগুলির উপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
খনিজ পদার্থ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিস্তৃত দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত হয় এবং তাই এগুলি সীমিত সম্পদ। নতুন উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলি অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। স্বয়ংচালিত, ইলেকট্রনিক্স, উৎপাদন, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ শিল্পের মতো শিল্পগুলি আজ এই খনিজগুলির উপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)-র ২০২১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নেট-জিরো নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য খনিজ পদার্থের চাহিদা বর্তমান সরবরাহের প্রায় ছয় গুণ হবে। খনিজ মজুদের একটি বড় অংশ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিদ্যমান। সম্প্রতি, এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির ভূ-রাজনৈতিক সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিআরসি-তে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ১৯৭০-এর দশকে কোবাল্টের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ২০১০-১১ সালে বিরল মৃত্তিকা মৌল (আরইই)-এর উপর চিনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা হল সরবরাহ ঝুঁকির কয়েকটি উদাহরণ। ২০১০ সালে চিনের নিষেধাজ্ঞার পর, এর প্রতিক্রিয়ায় সরকারগুলি অন্যান্য সরবরাহকারীর সন্ধান করে। ফলস্বরূপ, বিরল মৃত্তিকা মৌল উৎপাদনে চিনের অংশ ২০১০ সালের ৯৭ শতাংশ থেকে কমে ২০১৪ সালে ৮৭ শতাংশে নেমে আসে।
চিনাদের বিরুদ্ধে সুযোগসন্ধানী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। চিনা সরকার এবং ডিআরসি সরকারের মধ্যেকার ‘খনিজ পদার্থের বিনিময়ে পরিকাঠামো’ চুক্তিটিকে এই আচরণের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিনা রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কগুলি তামা ও কোবাল্ট খনির উন্নয়ন অধিকারের বিনিময়ে ডিআরসি-কে পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদান করেছে। সস্তা শ্রম, শিথিল পরিবেশগত নিয়মকানুন এবং কম খরচে ধাতু উত্তোলনের কারণে চিনারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের বৈশ্বিক সরবরাহে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। চিনা আধিপত্যের মাত্রা এই তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে, চিন বিশ্বের ৬৮ শতাংশ নিকেল, ৪০ শতাংশ তামা, ৫৯ শতাংশ লিথিয়াম এবং ৭৩ শতাংশ কোবাল্ট প্রক্রিয়াজাত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল চিনে, এবং এরপরে যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
চিনা আধিপত্যের মাত্রা এই তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে, চিন বিশ্বের ৬৮ শতাংশ নিকেল, ৪০ শতাংশ তামা, ৫৯ শতাংশ লিথিয়াম এবং ৭৩ শতাংশ কোবাল্ট প্রক্রিয়াজাত করে।
চিনা অর্থনীতির কাঠামো এবং এর প্রক্রিয়াকরণ খাতের বিশাল আকার চিনকে প্রক্রিয়াজাত খনিজ পদার্থের একটি স্বল্পমূল্যের সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২২ সালের ইউএসজিএস রিপোর্ট অনুসারে, বিরল মৃত্তিকা খনিজের ৮৫ শতাংশ এবং লিথিয়াম ও কোবাল্টের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ চিনে পরিশোধিত হয়। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা চিনকে এই খনিজগুলি প্রক্রিয়াকরণে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিয়েছে। ২০২০ সাল থেকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান জোরদার করার লক্ষ্যে নীতি গ্রহণের মাধ্যমে খনিজ পদার্থের অফশোরিং (কোম্পানির উৎপাদন ইউনিট বিদেশে নিয়ে যাওয়া) মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইন (ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট) পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন ডিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান নিজেকে একটি বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে তুলে ধরেছে।
ভারতের চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ
ভারত সরকারের লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়িতে ৩০ শতাংশ, বাণিজ্যিক যানবাহনে ৭০ শতাংশ, বাসে ৪০ শতাংশ এবং দুই ও তিন চাকার যানে ৮০ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করা। ভারত পরিচ্ছন্ন শক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য নিয়মকানুন প্রণয়নের লক্ষ্যে কোয়াডের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে সক্রিয়ভাবে জড়িত হচ্ছে। ভারত অস্ট্রেলিয়ার মতো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে ভারত ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সিকিউরিটি পার্টনারশিপ (এমএসপি)-এ যোগ দেয়, যা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের জন্য নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি গোষ্ঠী।
তবে, ভারতকে তার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে খনিজ অনুসন্ধান বাড়াতে হবে, এবং ভূগর্ভস্থ খনিজ ভান্ডার অনুসন্ধানের জন্য বিদ্যমান প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ করতে হবে। চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি দেশের তুলনায় ভারত এই খাতে নগণ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া বিবেচনা করলে, এর থেকে নির্গত কার্বনের পরিমাণ প্রচলিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ব্যাটারি তৈরির পর্যায়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন থেকে নির্গত কার্বন, বৈদ্যুতিক গাড়ির মাধ্যমে অর্জিত নিঃসরণ হ্রাসের পরিমাণের সমানই হয়, যদি না বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে স্থানান্তরিত হয়। একটি সাধারণ গাড়ির তুলনায় একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়িতে ছয় গুণ বেশি খনিজ পদার্থের প্রয়োজন হয়। বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের এই সময়ে হাইব্রিড গাড়িগুলি একটি মধ্যমেয়াদি বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ব্যাটারি তৈরির পর্যায়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন থেকে নির্গত কার্বন, বৈদ্যুতিক গাড়ির মাধ্যমে অর্জিত নিঃসরণ হ্রাসকে বাতিল করে দেয়, যদি না বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে স্থানান্তরিত হয়।
ভারতের জন্য এই খনিজগুলির নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা কেবল শিল্পনীতির বিষয় নয়, এটি জ্বালানি সুরক্ষারও একটি বিষয়। বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলগুলি এখনও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের উচিত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, কারণ এমএসপি-র মতো ফোরামে ভারতই একমাত্র উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। এটা অপরিহার্য যে ভারত গ্লোবাল সাউথের পক্ষে কথা বলবে এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করবে, শোষণমূলক ও নিষ্কাশনবাদী বাজার অনুশীলন প্রতিরোধ করবে, এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতার প্রসার ঘটাবে। একটি সুসংহত নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করবে: কৌশলগত জোটের মাধ্যমে আমদানিকে বৈচিত্র্যময় করা, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াকরণে বিনিয়োগ করা এবং ইভি মূল্য শৃঙ্খলে নবায়নযোগ্য শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা। বৈদ্যুতিক যানবাহন বিশ্বের ভূ-রাজনীতিকে বদলে দিতে চলেছে।
যতীন গোরা আইআইটি দিল্লির স্কুল অফ পাবলিক পলিসির স্নাতক এবং তাঁর কাজ জ্বালানি রূপান্তর ও অবকাঠামো অর্থায়নের রাজনৈতিক অর্থনীতি কেন্দ্র করে।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Jatin Gora has researched the political economy of the power sector in Himachal Pradesh, examining the implementation of World Bank-led reforms and the sector’s evolution ...
Read More +