বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর শান্তির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মায়ানমারের হুন্তা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান তীব্র করেছে এবং দেশের মানবিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরও গভীর করেছে।
২০২৫ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে মান্দালয়-সাগাইং অঞ্চলে আঘাত হানা সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তার পর অবিরাম বিমান হামলার ফলে মায়ানমারের মানবিক সঙ্কট আরও খারাপ হচ্ছে। সামরিক হুন্তা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী উভয়ের পক্ষ থেকে ত্রাণ প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা সত্ত্বেও, এই আহ্বানগুলি সহিংসতা থামতে পারেনি। বরং যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থা লঙ্ঘন বিদ্যমান অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে। হৃত অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য হুন্তার মরিয়া ভাব দেশের নিরাপত্তার পরিসরকে ক্রমশ আকার দিয়েছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির উপর তাদের দখল শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।
২৮ মার্চ মান্দালয়-সাগাইং ভূমিকম্প - যেটিতে ৩,৭৩৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, ৫,১০৮ জন আহত হন এবং ১২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন - দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। রাজ্য প্রশাসন পরিষদ (এসএসি) ২ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে, যা প্রাথমিক ভাবে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল এবং পরে মে মাসের শেষ পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়েছিল। তবে বাস্তবে, বিমান হামলা কেবল তীব্রতরই হয়েছে। এসএসি কর্তৃক ৭৪১টিরও বেশি বিমান হামলা বেসামরিক এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে স্কুল, বাড়িঘর এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং এর ফলে কমপক্ষে ১১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু (দ্রষ্টব্য চিত্র ১)।
চিত্র ১: ভূমিকম্পের পর হুন্তার বিমান হামলা (২৮ মার্চ - ১৩ মে, ২০২৫)

সূত্র: আইএসপি-মায়ানমার
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলির অন্যতমটি ঘটে ১২ মে, যখন সাগাইং অঞ্চলের তাবায়িন টাউনশিপের ওতেইন টুইন গ্রামের একটি স্কুলে অনির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন বোমা হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ২৩ জন নিহত হয় — তার মধ্যে ২১ জন স্কুলছাত্র এবং দু’জন শিক্ষক — এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়। স্কুলটি আনিয়ার (শুষ্ক অঞ্চল) অনেক স্কুলের মধ্যে একটি, যারা শনাক্তকরণ এবং বিমান হামলা এড়াতে গোপনে স্কুল চালচ্ছিল। ঠিক একদিন পরে ১৩ মে রাখাইন স্টেটের রাথেডং টাউনশিপের টুন ইয়া ওয়াই গ্রামে একটি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে একজন শিশুও ছিল। এসএসি দায় অস্বীকার করলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিমানটিকে হুন্তা যুদ্ধবিমান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ২০২২ সালে দেপাইন টাউনশিপে একই রকম হামলা ঘটেছিল, যখন আর একটি স্কুলে আঘাত হানা হয়েছিল এবং সেখানে ১১ জন শিশু নিহত হয়েছিল।
বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হুন্তা বিরোধী শক্তিগুলিকে চাপ দেওয়ার জন্য একটি পদ্ধতিগত অভিযান চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যার ফলে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন (ইএও) এবং গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির প্রতি জনসমর্থন হ্রাস পাবে, যারা বর্তমানে দেশের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। হুন্তা বুঝতে পারছে যে, এই গোষ্ঠীগুলি বেসামরিক সমর্থন ছাড়া তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে না।
হুন্তার বিমান অভিযান চিরাচরিত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বাইরেও প্রসারিত হয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান ভাবে আবাসিক ওয়ার্ড, হাসপাতাল এবং অ-সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ধর্মীয় ভবনগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি কেবল সামরিক আগ্রাসনই নয়, বরং সম্প্রদায়গুলিকে আতঙ্কিত করা এবং হুন্তার সরাসরি প্রভাবের বাইরের অঞ্চলগুলিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ইচ্ছাকৃত কৌশলকেও প্রতিফলিত করে। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হুন্তা বিরোধী শক্তিগুলিকে চাপ দেওয়ার জন্য একটি পদ্ধতিগত অভিযান চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যার ফলে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন (ইএও) এবং গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির প্রতি জনসমর্থন হ্রাস পাবে, যারা বর্তমানে দেশের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। হুন্তা বুঝতে পারছে যে, এই গোষ্ঠীগুলি বেসামরিক সমর্থন ছাড়া তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে না।
সামরিক সমন্বিতকরণের হাতিয়ার হিসেবে নির্বাচন
এই অসম ও অস্থির পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা সমন্বিত করতে চায়। মায়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধান অনুসারে, জরুরি অবস্থা শেষ হওয়ার ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনী বারবার জরুরি শাসনের মেয়াদ বাড়িয়েছে, যার সর্বশেষ মেয়াদ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের (এনডিএসসি) কাছে ফিরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যেখানে সামরিক নিয়োগপ্রাপ্তরা আধিপত্য বিস্তার করেন। যাই হোক, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হুন্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়েকে এনডিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিস্থাপন করেন, যার ফলে তিনি সাংবিধানিক বিধানগুলিকে কাজে লাগাতে এবং অনির্দিষ্ট কালের জন্য সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করতে সক্ষম হন।
২০২৫ সালের ৮ মার্চ হুন্তা বহুদলীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। ২৬ মার্চ হুন্তা চারটি ধাপে নির্বাচন পরিচালনার বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করে: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে। ৯ মে পর্যন্ত হুন্তা-নিযুক্ত ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনে ৭৭টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত ছিল, যার মধ্যে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) মতো সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত দলগুলির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছোট জাতিগত ও আঞ্চলিক দলও ছিল। তবে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এবং শান ন্যাশনালিটিজ লিগ ফর ডেমোক্রেসি-সহ (এসএনএলডি) গণতন্ত্রপন্থী গুরুত্বপূর্ণ দলগুলিকে বলপূর্বক বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন - অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে - অবাধ বা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পরিবর্তে বৈধতার আড়ালে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি রয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার পর থেকে, সরকার ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক শক্তিদের শান্ত করার চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের উপর দমন-পীড়ন তীব্রতর করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন - অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে - অবাধ বা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পরিবর্তে বৈধতার আড়ালে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি রয়েছে।
কৌশলগত জোট এবং সামরিক আধুনিকীকরণ
এ দিকে, হুন্তা সমমনস্ক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। ৯ মে মস্কোতে উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথম বারের মতো চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক-সহ তাদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলি রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে তাদের কৌশলগত জোটকে শক্তিশালী করার স্পষ্ট অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দেয়। শি মায়ানমারের ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রচেষ্টার প্রতি চিনের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং হুন্তার পরিকল্পিত নির্বাচনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্য দিকে, মিন অং হ্লাইং মায়ানমারের অভ্যন্তরে চিনা স্বার্থ এবং প্রকল্পগুলির সুরক্ষার আশ্বাস দেন।
২০১৯-২০২৩ সালের মধ্যে রাশিয়া এবং চিন ছিল মায়ানমারের দু’টি বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী, যা তাদের প্রধান অস্ত্র আমদানির যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ এবং ২৬ শতাংশের জন্য দায়ী। ২০১৮ সালের ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি চুক্তির আওতায় মায়ানমার রাশিয়ার কাছ থেকে ছ’টি এসইউ-৩০এসএমই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান পেয়েছিল, যার মধ্যে শেষ দু’টি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরবরাহ করা হয়েছিল। একই মাসে হুন্তা ছ’টি রুশ-নির্মিত এমআই-১৭ হেলিকপ্টার, আর একটি কে-৮ডব্লিউ যুদ্ধবিমান এবং একটি ওয়াই-৮ সহায়তা বিমানের বরাত দেয়। এ ছাড়াও মায়ানমার বিমান বাহিনী এমআইজি-২৯ এবং ওয়াইএকে-১৩০ পরিচালনা করে, যদিও এগুলি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের আগে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে এগুলির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে মায়ানমার চিন থেকে ছ’টি এফটিসি-২০০০জি যুদ্ধবিমানও পেয়েছিল, যেগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
হুন্তা তাদের ড্রোন অস্ত্রাগার উল্লেখযোগ্য ভাবে সম্প্রসারণ করেছে। ২০২৪ সালে চিনে তৈরি মানবহীন বিমানবাহী যান (ইউএভি) এবং রাশিয়ার তৈরি অরল্যান-১০ ই এবং ওরিয়ন- ২ (হেলিওস) ড্রোন ক্রয় করেছে, যা তাদের রাত্রিকালীন অভিযানক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হুন্তা-বিরোধী বাহিনীর কাছে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রের অভাব থাকলেও তারা ভারী মেশিনগান, যেমন .৫০ ক্যালিবার অস্ত্র ব্যবহার করে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া সামরিক বিমানকে গুলি করে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তা ছাড়া, প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলি নজরদারি ও আক্রমণাত্মক অভিযান উভয়ের জন্য বাণিজ্যিক ড্রোন এবং চিনে উদ্ভূত থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নেপিদোতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সমন্বিত আক্রমণে প্রায় ৩০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। উভয় পক্ষের তরফে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্রের ক্রমাগত সংগ্রহ এবং স্থিতিশীল তহবিলের কারণে সামরিক বাহিনী প্রযুক্তিগত সুবিধা বজায় রেখেছে।
নিরাপত্তা, নজরদারি এবং সার্বভৌমত্ব
২০২৫ সালের ১৮ মে একাধিক সমন্বিত প্রতিরোধ হামলার পর মান্দালয়ে চিনা তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অফ-টেক স্টেশন থেকে সামরিক কর্মীরা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে বেজিং এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি যৌথ চিন-মায়ানমার নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলে আসছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হুন্তা বিদেশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে (পিএসসি) বৈধতা দেয়, যা মূলত চিনা স্বার্থ রক্ষার জন্য গোষ্ঠীটিকে অস্ত্র দিয়ে মায়ানমারের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেয়।
সর্বোপরি, ২০২২ সাল থেকে চিন ফেসিয়াল রেকগনিশন ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার ডিজিটাল নজরদারি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে আসছে। যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়ে চিনের নজরদারি প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা মায়ানমারের সার্বভৌমত্ব এবং হুন্তাকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বেজিংয়ের পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকেই দর্শায়।
অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) পাঁচ-দফা ঐকমত্য একটি ভিত্তি তৈরি করলেও, ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর (ইইউ) মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কাছ থেকে আরও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা সকল অংশীদারের সঙ্গে আলোচনাকে সহজতর করবে।
মায়ানমারের সঙ্কট যত তীব্র হচ্ছে, ততই এর আঞ্চলিক সমস্যা - শরণার্থী প্রবাহ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা হুমকি - জরুরি মনোযোগের দাবি করছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) পাঁচ-দফা ঐকমত্য একটি ভিত্তি তৈরি করলেও, ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর (ইইউ) মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কাছ থেকে আরও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা সকল অংশীদারের সঙ্গে আলোচনাকে সহজতর করবে।
আসিয়ানের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হুন্তার সহিংসতা রোধে ব্যাপক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার জন্য চাপ দিতে হবে। চিন ও রাশিয়া এই ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, কানাডা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন ক্রমবর্ধমান ঐকমত্যকেই জোরদার করে। একটি সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে দুর্বল করে দিতে পারে এবং সংঘাতের তীব্রতা কমাতে পারে। একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বিশৃঙ্খলায় মায়ানমারের ডুবে যাওয়াকে আটকাতে পারে কি না এবং ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য দেশটির জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করতে পারে কি না, তা-ই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...
Read More +