এ হেন বিবৃতি পাকিস্তানকে সরাসরি খুব বেশি সুবিধা না প্রদান করলেও সেগুলি তাদের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা এবং ভারতের উদ্বেগ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার আরও সুযোগ করে দেবে।
৫ জুন পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার শেহবাজ শরীফ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতি হিসেবে পাকিস্তানকে নিযুক্ত করার কথা ঘোষণা করেন: ১৯৮৮ সালের রেজোলিউশনের মাধ্যমে গঠিত তালিবান নিষেধাজ্ঞা কমিটি এবং ৯/১১-এর পরে গঠিত ১৩৭৩ রেজোলিউশন বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী সন্ত্রাস দমন কমিটি। ইসলামাবাদ এখন দু’টি ওয়ার্কিং গ্রুপের সহ-সভাপতি: একটি ডেনমার্কের সঙ্গে নথিকরণ ও পদ্ধতিগত বিষয়গুলির উপর এবং অন্য গ্রুপটি গ্রিসের সঙ্গে নবগঠিত, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা বিশ্লেষণের দায়িত্বে রয়েছে। পাকিস্তান আবার জুলাই মাসে কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেছে। অপারেশন সিঁদুর এবং সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ঘৃণ্য ভূমিকা তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ত থাকার প্রচেষ্টার পরে এই সাম্প্রতিক নিয়োগগুলি নয়াদিল্লির উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে তার অষ্টম মেয়াদে অংশ নেওয়ার সময় রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমেদ কাশ্মীর সমস্যা তুলে ধরার জন্য এবং সন্ত্রাসবাদের প্রতিকূল প্রভাব প্রতিরোধে কাজ করার জন্য এই মঞ্চটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত বছরের জুন মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার পর পাকিস্তান ১ জানুয়ারি থেকে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শুরু করে। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে তার অষ্টম মেয়াদে অংশ নেওয়ার সময় রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমেদ কাশ্মীর সমস্যা তুলে ধরার জন্য এবং সন্ত্রাসবাদের প্রতিকূল প্রভাব প্রতিরোধে কাজ করার জন্য এই মঞ্চটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, ইসলামাবাদ তার ভারত-বিরোধী কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার সদস্যপদকে কাজে লাগাবে। পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তা ভারতের প্রতি পূর্ববর্তী সমর্থনের পুনরাবৃত্তির তুলনায় তুলনামূলক ভাবে কম ছিল। এর পর ৫ মে রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদ ২০১৯ সালের পর প্রথম বারের মতো ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ নিয়ে বন্ধ দরজার পিছনে আলোচনা করে।
এ ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। আবার সংঘাত-পরবর্তী বিশ্বের কাছে ভারতের প্রচারণা পাকিস্তান, চিন ও সোমালিয়া ছাড়া স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের কাছে পৌঁছনোর উপর মনোযোগ দিয়েছে। ভারতের মতোই পাকিস্তানও নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে, ওয়াশিংটন ডিসি, মস্কো, ব্রাসেলস ও লন্ডনে তাদের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ত্রীদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলগুলি সিন্ধু জল চুক্তি অবিলম্বে পুনঃস্থাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
নয়াদিল্লির পাঠানো সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলগুলি পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ হানার ক্ষেত্রে ভারতের বাধ্যবাধকতা এবং তার পশ্চিমী প্রতিবেশীর কাছ থেকে তারা যে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, সেই কথাই স্পষ্টত যুক্তিসঙ্গত ভাবে তুলে ধরেছে। তবুও এই যুদ্ধে জয়লাভের জন্য আগামিদিনের পথ সহজ হবে না। ভারত আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাঙ্ক কর্তৃক পাকিস্তানকে প্রদত্ত আর্থিক সহায়তা ও ভারতের বিরুদ্ধে তহবিল সংগ্রহের জন্য রাওয়ালপিন্ডির সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। ২০২২ সালে এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকা থেকে পাকিস্তানকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত তার প্রচেষ্টা পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের জন্য পাকিস্তানকে তার সন্ত্রাস-সামরিক ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করা থেকে বিরত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক মাস ধরে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও দুই দেশই এখন তাদের সম্পর্ক রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের গতিশীলতাকে আরও পরিবর্তন করেছে।
গত কয়েক মাস ধরে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও দুই দেশই এখন তাদের সম্পর্ক রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের গতিশীলতাকে আরও পরিবর্তন করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পরেও উভয় পক্ষই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তালিবান উভয় পক্ষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার উন্মুক্ত মনোভাবে ভারতের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ ও বেজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ঘটেছে। পাকিস্তান দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা, বিশেষ করে বালুচ সংগঠনগুলির হামলার জন্য ভারতের সমর্থনের মিথ্যা দাবি প্রচার করার উদ্দেশ্যে এই মঞ্চটিকে ব্যবহার করবে। ইসলামাবাদ আফগানিস্তান ও ভারত উভয়ের উপর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডের জন্য দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের পদগুলি পাকিস্তানকে সরাসরি খুব বেশি সুযোগ প্রদান না করলেও এটি তাদের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলি উত্থাপন করা এবং ভারতের উদ্বেগ থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য আরও সুযোগ করে দেবে। পাকিস্তান খুব স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ দাবির তীব্র বিরোধিতা করবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shivam Shekhawat is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her research focuses primarily on India’s neighbourhood- particularly tracking the security, political and economic ...
Read More +