ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা স্বল্পমেয়াদি সুবিধা দিলেও পাকিস্তানের আনুগত্য—এবং কৌশলগত নির্ভরতা—দৃঢ়ভাবে বেজিংয়ের সঙ্গেই আবদ্ধ রয়েছে।
গত কয়েক মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের শৈত্য ভাঙার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে, যার লক্ষণ হিসেবে দেখা গিয়েছে উচ্চ-পর্যায়ের পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ওয়াশিংটন সফর, নতুন অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি, প্রতিবেদিত পাসনি বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জ্বালানি সম্পদ নিয়ে আলোচনা, এবং মধ্যপ্রাচ্যে সহযোগিতা। এই ঘটনাগুলি থেকে বোঝা যেতে পারে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চলা উত্তেজনা ও অবহেলার পর পাকিস্তান আবার মার্কিন বলয়ে ফিরে আসছে। তবে, আরও গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায় যে এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন কৌশলগত এবং সাময়িক, যা উভয় দেশকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা দেবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সীমিত। পাকিস্তানের আনুগত্য চিনের প্রতিই অটুট রয়েছে, যা তার ‘সর্বসময়ের’ কৌশলগত অংশীদার এবং ভারতের সঙ্গে মোকাবিলায় একটি পরীক্ষিত বাহ্যিক সমর্থক।
পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরিচিতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং কম শুল্ক হারের মতো দ্রুত প্রাপ্তিযোগ্য বিষয়গুলি। এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্য, ইজরায়েল-গাজা পরিস্থিতি এবং ইরান সম্পর্কিত নীতিগুলিতে পাকিস্তানের সমর্থন চাইছে, এবং তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ক্রিপ্টো এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার মতো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রতিদানও প্রত্যাশা করছে। তবে, এই সুবিধাগুলি সম্ভবত স্বল্পস্থায়ী হবে এবং পাকিস্তানের উভয় পক্ষকে সামলানোর প্রবণতা, সেইসঙ্গে চিনের উপর তার ব্যাপক নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতাকে অসম্ভব করে তোলে।
এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন কৌশলগত এবং সাময়িক, যা উভয় দেশকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা দেবে, কিন্তু কোনও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সীমিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির সময় ইসলামাবাদ নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমানভাবে বেজিংয়ের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রদর্শনে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে ‘লেনদেনভিত্তিক বা চপল’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে এই সম্পর্ক কখনওই নির্ভরযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। উপরন্তু, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে চিন পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য অংশীদার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, কারণ বেজিং ধারাবাহিকভাবে ইসলামাবাদকে তার প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করেছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন ও নিশ্চিত করে বলেছেন যে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক চাইলেও, তা কখনওই চিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিনিময়ে হবে না। একইভাবে, ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরও চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ককে ‘অনন্য, পরীক্ষিত এবং ব্যতিক্রমীভাবে স্থিতিস্থাপক’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই গভীর চিন-পাকিস্তান অংশীদারিত্বের প্রমাণ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্টকহলম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) মতে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তান ছিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ, যে ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করেছে চিন থেকে। তুলনামূলকভাবে, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য কোনও কিছুই সরবরাহ করেনি। চিন পাকিস্তানকে জে-১০সি-সহ উন্নত যুদ্ধবিমান এবং সেইসঙ্গে জেএফ-১৭ বিমানের সহ-উৎপাদন, সশস্ত্র ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং ট্যাঙ্ক সরবরাহ করেছে। ফলস্বরূপ, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখন চিনা যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এই নির্ভরতা চিনকে একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিয়েছে, কারণ বেজিংয়ের সমর্থন ছাড়া পাকিস্তান তার সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে পারে না। আসিফ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের জন্য চিনের দিকে ঝুঁকেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ‘অবিশ্বস্ত’ প্রমাণিত হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা দিলেই তারা সাহায্য ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, চিন এই ক্ষেত্রে অধিক নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে, কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের একটি সাধারণ শত্রু রয়েছে, যা হল ভারত। চিন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগত সহায়তা প্রদান করেছিল। চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের মধ্যে অনুরূপ একটি ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তামূলক দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা এখন কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তার উপর, এই ধরনের সহযোগিতা ইসলামাবাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেজিংয়ের মনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারিত্বকেও বিপন্নতার মুখে ফেলতে পারে। প্রতিরক্ষার দিকটি বাদ দিলে, চিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বোঝা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি করবে না, এবং ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কিছু দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও মেনে নিতে পারে।
৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রকল্প চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর অগ্রগতি নিয়ে চিন হতাশ। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সময় এই প্রকল্পটিকে উভয় দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। সিপিইসি-র বেশিরভাগ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে, এবং ২০২৪ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়টিও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট, সেইসঙ্গে দুর্নীতির খারাপ রেকর্ড এবং অন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি সিপিইসি-র ধীর গতির অন্যতম প্রধান কারণ। আর্থিক ক্ষতি, প্রকল্প সম্পন্ন হতে বিলম্ব, এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করা সত্ত্বেও চিন পাকিস্তানের উপর নির্ভর করে চলেছে। বেজিংয়ের জন্য, ইসলামাবাদ ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার; এটি প্রচলিত ও অপ্রচলিত উভয় উপায়ে পশ্চিম সীমান্তে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং চিনা প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জামের একটি প্রধান আমদানিকারক। এছাড়াও, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায়ও সহায়ক হতে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও বিদেশ নীতির কাঠামো চিনের সঙ্গে এতটাই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও কৌশলগত পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
এর বিপরীতে, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অনেক কম। পাকিস্তানে বিরল খনিজ পদার্থ উত্তোলনে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের জন্য ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস (ইউএসএসএম)-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তিটি চিনের মোট বিনিয়োগের তুলনায় নগণ্য। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তানের কথিত খনিজ সম্পদ অতীতে বারবার ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর অর্থনীতিকে উন্নত করতে কোনও অবদান রাখেনি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালে একটি অফশোর তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম (যেটিতে মার্কিন সংস্থা এক্সনমোবিল জড়িত ছিল) একটি বড় আবিষ্কারের আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। উপরন্তু, চিন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের খনিজ উত্তোলন শিল্পে গভীরভাবে জড়িত, তারা বালুচিস্তানের সাইন্দাক কপার-গোল্ড খনি পরিচালনা করছে এবং রেকো দিক তামা ও সোনার খনিতে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৩০,০০০ চিনা নাগরিক কর্মরত থাকায় বেজিংয়ের এই ক্ষেত্রগুলিতে সরাসরি স্বার্থ রয়েছে। এটা অসম্ভাব্য যে পাকিস্তান তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদগুলি সম্পূর্ণরূপে মার্কিন কোম্পানিগুলির হাতে তুলে দেবে, কারণ চিন তা হতে দেবে না।
এমনকি আসিফও স্বীকার করেছেন যে, ইসলামাবাদের ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে বেজিং চিন্তিত নয়, কারণ চিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ‘পরীক্ষিত ও প্রমাণিত’, এবং এর কোনও বিকল্প নেই। বরং, পাকিস্তানে প্রস্তাবিত মার্কিন বিনিয়োগ পরোক্ষভাবে চিনের জন্যই উপকারী হবে, কারণ আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানকে তার চিনা ঋণ পরিশোধ করতে এবং বালুচিস্তানের মতো অঞ্চলে অসামরিক অস্থিরতা থেকে সিপেক প্রকল্পগুলিকে রক্ষা করা সহজ করে তুলবে। সিপেক প্রকল্প এবং প্রদেশে চিনা নাগরিকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চিনের প্রতি ইতিমধ্যেই গভীর অসন্তোষ রয়েছে। বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখওয়ার কিছু স্থানীয় প্রতিনিধি এই প্রদেশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি মজুত সম্পর্কে পাকিস্তানের অতিরঞ্জিত দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। ফলে, মার্কিন কোম্পানিগুলি এই চুক্তিগুলি থেকে মুনাফা অর্জনে হিমশিম খেতে পারে এবং যে কোনও অর্থনৈতিক সুবিধা চিনের হাতেই চলে যেতে পারে।
এছাড়াও, পাকিস্তান একটি অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পরিচিত, যে দেশটি মুখে যা বলে তা তাদের কার্যকলাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকের পর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে চিন, রাশিয়া ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি চতুর্পক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেন। চারটি দেশ আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে, যেখানে তারা দেশটির অভ্যন্তরে বা আশেপাশে কোনও সামরিক ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করে। এটি সম্ভবত এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় করা হয়েছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন বাগরাম বিমানঘাঁটিতে পুনরায় প্রবেশাধিকার চাইতে পারে। এটি ছিল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট দ্বৈতাচার, কারণ একদিকে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছিল, আবার একই সময়ে দেশটি এই অঞ্চলে আমেরিকার নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিরোধিতা করার জন্য চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অবিশ্বস্ত অংশীদারের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা খোঁজার পরিবর্তে একটি কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা শ্রেয়।
পাকিস্তানি স্ববিরোধিতার আরেকটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হল গাজার যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনার প্রতি তাদের প্রাথমিক প্রশংসা। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনাটি সমর্থন করার দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার একটি স্পষ্টীকরণ জারি করে বলেন যে, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি ‘আমাদের দলিল নয়’, এবং তারা এটিকে সমর্থন করে না। এই ধরনের কূটনৈতিক 'দ্বৈত খেলার' আচরণ ইসলামাবাদের জন্য অস্বাভাবিক নয়, এবং এই উদাহরণগুলি ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে বাধা এবং আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও বিদেশনীতির কাঠামো চিনের সঙ্গে এতটাই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও কৌশলগত পুনর্গঠনের সুযোগ নেই। চিনা অস্ত্রের উপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা, সিপেক প্রকল্প, বেজিং থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা এবং পাকিস্তানি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘন ঘন সমর্থনের বিবৃতি ইসলামাবাদে চিনের প্রাধান্যকে নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের এই নতুন সূচনা ইসলামাবাদকে সাময়িক স্বস্তি, নতুন বিনিয়োগ এবং আর্থিক সহায়তা দিতে পারে এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্কে সাময়িক ফাটল তৈরি করতে পারে। তবে, এটি পাকিস্তানে চিনের জড়িত থাকার গভীরতা এবং পরিধির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।
ওয়াশিংটনের জন্য এটি একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পাকিস্তান আবারও একটি বিশ্বস্ত প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র (এমএনএনএ) হতে পারে, এই ধারণাটি মূলত ভ্রান্ত। পাকিস্তান কৌশলগত বিষয়ে চিন এবং তার অংশীদারদের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভান করে তার সুবিধাবাদী নীতি বজায় রাখবে। অতএব, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন ভারতের সঙ্গে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ব্যাপক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে সতর্কতার সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্কটি এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিহত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অবিশ্বস্ত অংশীদারের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা খোঁজার পরিবর্তে একটি কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা শ্রেয়।
সরল শর্মা নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল প্রার্থী। তিনি এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sarral Sharma is a Doctoral Candidate at Jawaharlal Nehru University New Delhi. He has previously served in the National Security Council Secretariat. He was a ...
Read More +