Published on Dec 08, 2025 Updated 0 Hours ago

পাকিস্তানের অস্পষ্ট কৌশল আঞ্চলিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং আইএসকেপি বেলুচিস্তানে আশ্রয় খুঁজে পায়।

পাকিস্তানের বিপজ্জনক জঙ্গিবাদ: আইএসকেপি বনাম তালিবান এবং বালুচ

মধ্য এশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অস্থির ভূ-প্রকৃতিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রস্থলে একটি আশ্চর্যজনক কৌশলগত পুনর্বিন্যাস ঘটছে। কয়েক দশক ধরে সংঘাতে জর্জরিত এই অঞ্চলটি এখন একটি নতুন হুমকির সম্মুখীন। কারণ ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি) তাদের অপারেশনাল ঘাঁটি আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে স্থানান্তরিত করেছে। এই স্থানান্তর আঞ্চলিক অস্থিরতার ফলাফল নয়, বরং পাকিস্তানের অস্পষ্ট নীতির দ্বারা পরিচালিত একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা একীভূতকরণ, তালিবান এবং বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী উভয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইএসকেপি-কে ব্যবহারের অভিযোগ আসলে একটি অনিশ্চিত কৌশলকে তুলে ধরে, যা ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বালুচিস্তানে ‘শরণার্থী’ খুঁজে বের করা

২০১৫ সালে আইএসকেপি-র আবির্ভাব আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জিহাদি ভূ-পরিসরের মধ্যে একটি তীব্র রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। আফগান তালিবানের বিপরীতে আইএসকেপির আদর্শ একটি মারাত্মক সালাফি কাঠামো দ্বারা চিহ্নিত, যা বিশ্বব্যাপী উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাধ্যমে একটি আন্তর্দেশীয় খিলাফত বা বিশ্বব্যাপী (খিলাফত) উম্মাহর আহ্বান প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। তালিবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তাদের কার্যকর বিদ্রোহ দমন অভিযান আইএসকেপিকে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য করে, যার ফলে ছিদ্রযুক্ত ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে তাদের পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কৌশলগত পশ্চাদপসরণ ঘটে। তার বিশাল অশাসিত স্থান চলমান বিদ্রোহের দরুন এই প্রদেশ আইএসকেপির জন্য একটি আদর্শ আশ্রয়স্থল প্রদান করে। ইসলামাবাদ প্রাথমিক ভাবে আইএসকেপি-র উপস্থিতির প্রতিবেদনগুলিকে প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেয়। তবে ২০২৪ সালে ইরানে কেরমান বোমা হামলা এবং মস্কোর কনসার্ট হল গণহত্যার মতো হামলার মাধ্যমে বাস্তবতা অনস্বীকার্য হয়ে ওঠে, যার উভয়েরই সূত্রপাত বেলুচিস্তানে।

পাকিস্তানের অস্পষ্ট কৌশল আঞ্চলিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং আইএসকেপি বেলুচিস্তানে আশ্রয় খুঁজে পায়।

বেলুচিস্তানে আইএসকেপির প্রবেশের ফলে বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট-এর (বিএলএফ) মতো বালুচ জাতিগত-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, যারা উভয়ই পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা চায়। তাদের জাতীয়তাবাদী আকাঙ্ক্ষা আইএসকেপির ধর্মতান্ত্রিক অ্যাজেন্ডার সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিএলএ মাস্তুংয়ের কাছে আইএসকেপি ক্যাম্পে একটি আগাম অভিযান চালায়, যেখানে ৩০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসকেপি ২৫ মে ২০২৫ তারিখে গ্রুপের মিডিয়া শাখা আল আজাইম দ্বারা প্রকাশিত ৩৬ মিনিটের একটি ভিডিওতে যুদ্ধের ঘোষণা করে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা সম্ভবত পূর্ববর্তী, অনানুষ্ঠানিক অ-আগ্রাসন সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওতে আইএসকেপি বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধর্মনিরপেক্ষ, জাতীয়তাবাদী এবং গণতন্ত্রপন্থী - সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যে বৈশিষ্ট্যগুলিকে 'অ-ইসলামিক' বলে মনে করে ভাবেই চিত্রিত করেছে। এই যুদ্ধ বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা সমীকরণে একটি জ্বলন্ত উপাদান যুক্ত করে, জাতিগত-জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জিহাদিবাদকে সশক্ত করে এবং আইএসকেপি- আরও ক্ষতি করতে তালিবান সম্ভবত গোপনে হস্তক্ষেপ করে

সন্ত্রাসবাদের প্রজননে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা

এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের নীতি, যা নির্দিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সক্রিয় করার জন্য জড়িত এবং যা রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধান সন্ত্রাসবাদ দমনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রমাণ কেবল অবহেলা নয়, বরং রাষ্ট্র এবং তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলির জটিল কৌশলগত বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটি অসম্ভব যে, পাকিস্তান বেলুচিস্তানে আইএসকেপি-র উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল না। পরিবর্তে, তাদের উপস্থিতি সহ্য করা আফগানিস্তানের উপর কর্তৃত্ব অর্জনের জন্য একটি ইচ্ছাকৃত কৌশল বলে মনে হয়। আইএসকেপি-কে কাজ করার অনুমতি দিয়ে পাকিস্তান পরোক্ষ ভাবে কাবুলের তালিবান সরকারকে চাপ দিতে পারে, যা প্রায়শই আইএসকেপি-র কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী এবং একই সঙ্গে আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) অভয়ারণ্যগুলি নিয়ে তার অভিযোগের সমাধান করে। এই প্রক্সি কৌশলটি পাকিস্তানের নিরাপত্তা মতবাদের একটি সু-প্রমাণিত দিক, তবে এর সঙ্গে গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে।

এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের নীতি, যা নির্দিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সক্রিয় করার জন্য জড়িত এবং যা রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধান সন্ত্রাসবাদ দমনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বোপরি, পাকিস্তান বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে আইএসকেপিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে হচ্ছে। যেমনটি আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সালাফি-জিহাদি মতাদর্শে নিহিত আইএসকেপি জাতিগত-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলিকে তাদের ধর্মনিরপেক্ষ, জাতিকেন্দ্রিক বিশ্বদৃষ্টির কারণে ধর্মবিরোধী বলে মনে করে। ইসলামাবাদের জন্য এই শত্রুতা একটি সুযোগ তৈরি করে: আইএসকেপিকে বেলুচিস্তানের কিছু অংশে কাজ করার অনুমতি দিয়ে - সরাসরি তহবিল বা প্রকাশ্য সমন্বয় ছাড়াই এবং এটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর সহিংসতাকে কাজে লাগাতে পারে এবং যুক্তিসঙ্গত অস্বীকারযোগ্যতা বজায় রাখতে পারে।

এই ঐক্য দ্বৈত উদ্দেশ্য সাধন করে। প্রথমত, এটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপর থেকে বিদ্রোহ দমনের বোঝা সরিয়ে দেয়, যাদের অতীতের অভিযানগুলি প্রায়শই দেশীয় আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি আইএসকেপির নিজস্ব অ্যাজেন্ডাকে কাজে লাগিয়ে আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করে, যার ফলে পরোক্ষ ভাবে স্থিতিশীল অবক্ষয়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। আইএসকেপির বৃহত্তর রাষ্ট্রবিরোধী উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কৌশলটি সরাসরি দমনের সম্পূর্ণ মূল্য বহন না করে বালুচ ভিন্নমতকে দমন করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা সহ্য করার ইসলামাবাদের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।

এই পদ্ধতিগুলি পাকিস্তানের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সন্ত্রাসী প্রক্সি ব্যবহার করার স্থায়ী কৌশলের উদাহরণ দেয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপাদানগুলি, বিশেষ করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই), লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি), জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম), লস্কর-ই-ঝাংভি (এলজে) এবং হরকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলামি (হুজি) মতো স্থানীয় সালাফি এবং দেওবন্দি জিহাদি সংগঠনগুলির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই সঙ্গে যোগদান করেছে মারাত্মক আন্তর্জাতিক সালাফি গোষ্ঠী আল কায়েদা (একিউ)। এটি তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি ব্রিগেড ৩১৩-র মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আল কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভাগ করে নেয়।() হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও প্রায়শই পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত সত্তাগুলির কাছ থেকে পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে কাজ করেছে। ব্রুকিংসের ভান্ডা ফেলবাব-ব্রাউনের মতে, পাকিস্তান []হাক্কানি নেটওয়ার্ককে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র এবং সুরক্ষা প্রদান করে আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে।

এই পদ্ধতিগুলি পাকিস্তানের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সন্ত্রাসী প্রক্সি ব্যবহার করার স্থায়ী কৌশলের উদাহরণ দেয়।

সম্প্রতি ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করে আসছে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট শেরি রেহমানও স্বীকার করেছেন যে, ইসলামাবাদের অতীত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত। এই বিরল স্বীকৃতিগুলি এই যুক্তিকে শক্তিশালী করে যে, বেলুচিস্তানে আইএসকেপি-র প্রতি ইসলামাবাদের বর্তমান অনুমোদন অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত এবং আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করার জন্য প্রক্সি যুদ্ধের একটি বৃহত্তর কৌশল প্রতিফলিত করতে পারে।

কেরমান মস্কো হামলার উপর আন্তর্জাতিক ক্ষোভের পর পাকিস্তান ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ২০২১ সালের কাবুল বিমানবন্দর হামলার কথিত সহ-ষড়যন্ত্রকারী আইএসকেপি কম্যান্ডার মোহাম্মদ শরিফুল্লাকে গ্রেফতার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করে এবং সেই সঙ্গে ইসলামাবাদকে একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সহযোগিতামূলক সন্ত্রাসবিরোধী অংশীদার হিসাবে চিত্রিত করে মিডিয়া প্রচারণাও চালানো হয়। এই গ্রেফতার আইএসকেপি নেটওয়ার্কগুলিকে ভেঙে ফেলার প্রকৃত প্রচেষ্টার চেয়ে কৌশলগত দর কষাকষির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে হচ্ছে। একজন বিশিষ্ট অপারেটিভের আত্মত্যাগ সত্ত্বেও শত শত অন্যান্য সন্ত্রাসী বেলুচিস্তান থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কারণ পাকিস্তানের  সামরিক বাহিনী বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপর আগ্রাসন কেন্দ্রীভূত করছে।

এই নির্বাচনী পদক্ষেপটি একটি পুনরাবৃত্তিমূলক কৌশলের প্রতিফলন: যখনই ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) তদন্তের মুখোমুখি হয়, তখনই পাকিস্তান শক্তিশালী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য হাফিজ সাইদের মতো গ্রেফতার প্রদর্শন করে। এই পদক্ষেপগুলি প্রায়শই জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকে অর্থপূর্ণ ভাবে ব্যাহত করার চেয়ে কূটনৈতিক এবং আর্থিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেয়, যা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে টিকে থাকতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করতে দেয়। এই ধরনের পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল লড়াইয়ের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ভঙ্গির একটি ধর প্রকাশ করে।

বেলুচিস্তানে আইএসকেপির উপস্থিতি সহ্য করে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি একটি বিপজ্জনক জুয়া।

উপসংহার

বেলুচিস্তানে আইএসকেপির উপস্থিতি সহ্য করে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি একটি বিপজ্জনক জুয়া। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে এই অনিশ্চিত ভারসাম্যমূলক আচরণ স্বভাবতই অস্থিতিশীল, যা আইএসকেপির সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পতনের ঝুঁকি তৈরি করে এবং যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং তার বাইরেও বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইসলামাবাদের উচ্চ-প্রোফাইল গ্রেফতারের সাবধানে সংগৃহীত আখ্যানের বাইরে বেরিয়ে তাকাতে হবে এবং প্রক্সি সংঘাতগুলিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বালুচ জাতীয়তাবাদীদের দমন করার জন্য আইএসকেপিকে ব্যবহার করে, পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে ইন্ধন জোগায় এবং একটি শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হুমকিকে শক্তিশালী করে, যেমন কেরমান এবং মস্কোতে সাম্প্রতিক হামলা প্রমাণ। এই নীতি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গিবাদকে সক্রিয় করে, প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তাকে দুর্বল করে এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে। বিশ্বব্যাপী এটি আইএসকেপিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ব্যবহার করতে, অত্যাধুনিক আক্রমণ পরিকল্পনা করতে এবং একাকী যুদ্ধবাজদের অনুপ্রাণিত করতে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ সুযোগ করে দেয়। সন্ত্রাসবাদবিরোধী মুখোশ রাষ্ট্রের মদতে নিরাপদ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বাড়বাড়ন্তের বাস্তবতাকে ঢেকে রাখতে পারে না। পাকিস্তানের সহযোগিতা, তা সে পরিকল্পনা বা অবহেলার কারণেই হোক, সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে, চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে উৎসাহিত করবে এবং আরও আক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি করবে। পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, আইএসকেপি-র অবকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য স্বচ্ছ পদক্ষেপ করার দাবি জানাতে হবে। এই সন্দেহজনক পরিকল্পনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে।

 

প্রিয়দর্শিনী বড়ুয়া নয়াদিল্লির সেন্টার ফর এরোস্পেস পাওয়ার অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (সিএপিএসএস) রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট।


 ) জিহাদি জঙ্গিবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর সম্পর্কের উদাহরণ ব্রিগেড ৩১৩ এবং এর নেতা ইলিয়াস কাশ্মীরির চেয়ে বেশি আর কিছুতে দেখা যায় না যিনি একজন প্রাক্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষিত কম্যান্ডো এবং যিনি আল কায়েদার সবচেয়ে বিপজ্জনক কর্মীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার আগে তিনি কাশ্মীরি ব্রিগেড ৩১৩-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যাকে গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলে আল কায়েদার সবচেয়ে মারাত্মক অপারেশনাল শাখা হিসাবে ব্যাপক ভাবে বিবেচনা করেন। এই গোষ্ঠীটি মূলত আফগানিস্তান-পাকিস্তান এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর পরিচালিত হত, যা প্রায়শই রাষ্ট্র-সমর্থিত জঙ্গিবাদ এবং আন্তর্জাতিক জিহাদের মধ্যে রেখা অস্পষ্ট করে দেয়।


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.