Author : Gurjit Singh

Published on Sep 22, 2025 Updated 0 Hours ago

পাকিস্তানের আসিয়ানের উন্নত সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টা পরিচিত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, দুর্বল সংযোগ ভূ-রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে সম্পূর্ণ আলোচনার আকাঙ্ক্ষা স্থগিত রয়েছে। 

পাকিস্তানের আসিয়ান উচ্চাকাঙ্ক্ষা: সম্পৃক্ততার সীমা এবং অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে আসছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) সঙ্গে সম্পর্ককে সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার (এসডিপি) থেকে ফুল ডায়লগ পার্টনার (এফডিপি) মর্যাদায় উন্নীত করার জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।  পাকিস্তান ১৯৯৩ সালে এসডিপি-তে পরিণত হলেও এর প্রথম সভা ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান ২০০৪ সালে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে (এআরএফ) যোগ দেয়। প্রতীকী অংশগ্রহণের ঊর্ধ্বে উঠতে পাকিস্তান লড়াই করেছে। আসিয়ানের প্রসার পুনরুজ্জীবিত করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে ইসলামাবাদের আকাঙ্ক্ষাকেই দর্শায়। তবুও কাঠামোগত সমস্যা, সীমিত অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণ এবং কৌশলগত সন্দেহ পাকিস্তানের গভীর অংশীদারিত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তান পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টারস মিটিং প্লাস-এর (এডিএমএম-প্লাস) মতো আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন কাঠামোতে যোগদানের জন্যও তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান আসিয়ানের প্রতি তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তীব্র করেছে। কর্মকর্তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী পরিদর্শন করেছেন, বাণিজ্য প্রতিনিধিদের আতিথেয়তা প্রদান করেছেন এবং পাকিস্তানের ভিশন ইস্ট এশিয়ানীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই পদক্ষেপগুলি পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত অঞ্চলের - দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চিন - বাইরেও বৈদেশিক নীতিকে বৈচিত্র্যময় করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টাকে দর্শায়। পাকিস্তান পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টারস মিটিং প্লাস-এর (এডিএমএম-প্লাস) মতো আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন কাঠামোতে যোগদানের জন্যও তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এগুলি এখনও বন্ধ রয়েছেকারণ এগুলি সীমিত প্রতিষ্ঠান, যা দুর্বলতা এড়িয়ে যেতে চায়তবুও এই পদক্ষেপগুলি ইসলামাবাদের ভূ-রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার পরিবর্তন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।

এই পদক্ষেপগুলি সত্ত্বেও আসিয়ান পাকিস্তানের মর্যাদা উন্নত করতে দ্বিধাগ্রস্ত। সবচেয়ে স্থায়ী সমস্যাগুলির অন্যতম হল পাকিস্তানের নীতিগত পদ্ধতির অসঙ্গতি। আসিয়ান বিশ্বাস ধারাবাহিকতার উপর নির্মিত দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বাভাসযোগ্য অংশীদারিত্বকে মূল্য দেয়। বিপরীতে আসিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা মাঝেমধ্যেই হয়েছে এবং প্রায়শই তা অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরিবর্তনের দ্বারা পরিচালিত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি একটি সুসংত প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ছাড়া ইসলামাবাদ আসিয়ানের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থিতিশীল সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আর কটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হল অর্থনৈতিক। আসিয়ান মূলত একটি বাজার-চালিত সংগঠন। পাকিস্তান আসিয়ান দেশগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করলেও তবুও এই অঞ্চলে তাদের রফতানি সীমিত এবং ভারসাম্যহীন। তা ছাড়া, আসিয়ান থেকে পাকিস্তানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) সীমিত। ভারতের বিপরীতে – যে দেশটি আসিয়ান জুড়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে - পাকিস্তান এই ব্লকের সঙ্গে কোনও অর্থবহ বাণিজ্য চুক্তি করেনি। সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণের অনুপস্থিতি আসিয়ানের জন্য একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে ন্যায্যতা দেওয়ার বিষয়টি কঠিন করে তোলে।

ভারতের বিপরীতে – যে দেশটি আসিয়ান জুড়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে - পাকিস্তান এই ব্লকের সঙ্গে কোনও অর্থবহ বাণিজ্য চুক্তি করেনি।

সর্বোপরি, সাংস্কৃতিক মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগও দুর্বল রয়ে গেছে। ভারত, জাপান দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যে শক্তিশালী শিক্ষা, প্রবাসী পর্যটন সংযোগ গড়ে তুলেছে, তার বিপরীতে পাকিস্তানের এই অঞ্চলের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বা নাগরিক সমাজ-স্তরের সেতুবন্ধন খুব কম। শিক্ষা সংক্রান্ত আদান-প্রদান ন্যূনতম, জনসাধারণের কূটনীতির অপ্রতুলতা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিরল। সামাজিক পর্যায়ে এই সংযোগের অভাব আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে সদিচ্ছা তৈরিতে পাকিস্তানের ক্ষমতাকে সীমিত করে।

কৌশলগত ভাবে পাকিস্তানের কিছু আসিয়ান দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে, বিশেষ করে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সহ-ক্ষেত্রগুলিতেতবে পাকিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় দৃশ্যমান বা কেন্দ্রীয় শক্তি নয়। দক্ষিণ চিন সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে আসিয়ানের গভীর উদ্বেগ রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের অবদান সীমিত। তা ছাড়া চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিছু আসিয়ান সদস্যকে সতর্ক করে তুলতে পারে, বিশেষ করে তাদের সঙ্গে, যারা চিনা প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক।

এ ছাড়াও বিস্তৃত ধারণাগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিছু আসিয়ান রাষ্ট্র পাকিস্তানকে নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, যার মধ্যে চরমপন্থা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভারতের সঙ্গে তার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আসিয়ানের নিরপেক্ষতা এবং আঞ্চলিক শান্তির প্রতি অগ্রাধিকারের অর্থ হল অভ্যন্তরীণ দক্ষিণ এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তাদের মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় না। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং মাঝে মাঝে ভারত-বিরোধী ভাষায় আসিয়ানের প্রচারণার প্রচলন দক্ষিণ এশীয় বিরোধে পক্ষ নেওয়া এড়িয়ে যাওয়া সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে।

এই বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তান তার আসিয়ান কৌশল পুনর্বিবেচনার সুযোগ খুঁজছে। ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা - যা স্ব-সমালোচনামূলক বলে মনে হয়েছিল - ২০২২ সালে পরিচালিত হয়েছিল। গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, পাকিস্তানের উচিত তার সম্পৃক্ততায় প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্ভবত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি নিবেদিতপ্রাণ আসিয়ান বিভাগের মাধ্যমে (অনেকটা ভারতের আসিয়ান-এমএল বিভাগের মতো) এমনটা করা, যা রাজনৈতিক চক্রকে অতিক্রম করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ইসলামাবাদের উচিত বাণিজ্য চুক্তি প্রচার এবং পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আসিয়ান বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে আসিয়ান সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে তার অর্থনীতিকে সমন্বিত করে অর্থনৈতিক কূটনীতি বৃদ্ধি করা।

তৃতীয়ত, পাকিস্তান বৃত্তি, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং শিক্ষাগত সংযোগের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করতে পারে। অপ্রচলিত হুমকি যৌথ মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (এইচএডিআর) অনুশীলনের চারপাশে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্গঠন আসিয়ানের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার প্রতি ভারতের সফল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সুবিধার উপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক আখ্যানেরও অভাব রয়েছে। স্থিতিশীল উন্নয়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো অভিন্ন সাধারণ স্বার্থ তুলে ধরার পরিবর্তে পাকিস্তান প্রায়শই আসিয়ানকে ভারতের প্রতি ভারসাম্যহীনতা হিসাবে অথবা চিন-কেন্দ্রিক কৌশলের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করেছে, যার ফলে তার নিজস্ব কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামাবাদের উচিত বাণিজ্য চুক্তি প্রচার এবং পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আসিয়ান বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে আসিয়ান সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে তার অর্থনীতিকে সমন্বিত করে অর্থনৈতিক কূটনীতি বৃদ্ধি করা।

আসিয়ানের সতর্ক এবং ঐকমত্য-ভিত্তিক প্রকৃতি ইঙ্গিত দেয় যে, কেবলমাত্র একটি স্থিতিশীল, বহুমাত্রিক এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততাই পাকিস্তানকে তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা প্রদান করতে পারে। পূর্ণাঙ্গ আলোচনার অংশীদারিত্বের পথ দীর্ঘ। গবেষণা উপসংহারে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান আসিয়ানের মূল্যবোধ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করে, তা হলে দেশটি তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা অর্জন করতে পারে।

আসিয়ানে পূর্ণ আলোচনা অংশীদার মর্যাদার জন্য পাকিস্তানের চাপ কি তীব্র হয়েছে?

ইসলামাবাদ পূর্ণ আলোচনা অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করার সঙ্গে সঙ্গেই আসিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক সম্ভবত মনোযোগ আকর্ষণ করছে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার সৈয়দ আহসান রাজা শাহ সাম্প্রতিক একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং আসিয়ানের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততার মূল্যের উপর জোর দিয়েছেন। এই পুনর্নবীকৃত প্রচেষ্টা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে, যখন পাকিস্তান আসিয়ানের প্রথম আঞ্চলিক আলোচনা অংশীদার হয়ে ওঠে। তবে জাকার্তায় আসিয়ানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত এই বিবৃতি দিচ্ছেন না, বরং দিচ্ছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার!

হাই কমিশনার আসিয়ানকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিবেশগত স্থায়িত্ব-সহ বিস্তৃত পরিসরে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামাবাদের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের উন্নত মর্যাদা নিয়ে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মালয়েশিয়ার প্রাইম মিনিস্টার দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে সাম্প্রতিক মতবিনিময়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মালয়েশিয়া আসিয়ানের মধ্যে পাকিস্তানের একটি বিশিষ্ট সমর্থক। তারা এখন পাকিস্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য তার চেয়ারম্যান পদকে কাজে লাগাচ্ছে। আনোয়ার ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে প্রকাশ্যে তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ৭ জুন এটি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছিলেন যে, আসন্ন আসিয়ান নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে। পুত্রজায়ায় ইদ-অ-আঝার নামাজ পড়ার পর আনোয়ার বলেন, ‘এটি  আসিয়ান নেতাদের সম্মেলনে আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে। মালয়েশিয়ার এই অনুমোদন বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালে আসিয়ানের সভাপতিত্ব করছে মালয়েশিয়া আর পাকিস্তান এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়।

গত তিন দশক ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন প্রযুক্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারিক সহযোগিতার মাধ্যমে আসিয়ান-পাকিস্তান সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও চিভারতের মতো আসিয়ানের প্রধান অংশীদারদের তুলনায় বাণিজ্যের পরিমাণ সামান্যই থেকেছে। ২০২২ সালে পাকিস্তান-মালয়েশিয়া এফটিএ এবং পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির মতো চুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ বাণিজ্য স্তর ছুঁয়েছে।

সম্প্রতি আসিয়ান-পাকিস্তান জয়েন্ট সেক্টরাল কোঅপারেশন কমিটি (এপি-জেএসসিসি) অগ্রগতি মূল্যায়ন সহযোগিতার নতুন পথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে (এআরএফ) তার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে চাইছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা গতিশীলতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। এটি একমাত্র আসিয়ান-কেন্দ্রিক সংস্থা, যার সদস্য পাকিস্তান এবং এআরএফের নিজস্ব প্রাণশক্তি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সম্প্রতি আসিয়ান-পাকিস্তান জয়েন্ট সেক্টরাল কোঅপারেশন কমিটি (এপি-জেএসসিসি) অগ্রগতি মূল্যায়ন সহযোগিতার নতুন পথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। যথাক্রমে ২০২৩ ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম অষ্টম এপি-জেএসসিসি সভায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বাস্তব ফলাফল প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবহারিক সহযোগিতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মত হন।

এই কাঠামোর অধীনে আয়োজিত ২০২৩ সালের ব্যবসায়িক সম্মেলন ৪০০ টিরও বেশি ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বি২বি) সভাকে সহজতর করেছে এবং আসিয়ান দেশ এবং পাকিস্তানের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) এর মধ্যে চুক্তি সহ প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করেছে। এই গতির উপর ভিত্তি করে, উভয় পক্ষ ২০১৯-২০২১ সাল থেকে ব্যবহারিক সহযোগিতা ক্ষেত্র (পিসিএ) কাঠামোকে আরও বিস্তৃত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী পিসিএ ২০২৪-২০২৮ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে।

আসিয়ানের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল এবং আসিয়ানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের এপি-জেএসসিসি বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে আসিয়ানের প্রধান কৌশলগত নথির অধীনে সহযোগিতার সুযোগগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক কেন্দ্রিক আসিয়ান আউটলুক (এওআইপি), আসিয়ান সংযোগ ২০২৫-এর মাস্টার প্ল্যান (এমপিএসি) এবং আসিয়ান ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ (আইএআই) কর্ম পরিকল্পনা ৪ অন্তর্ভুক্তআসিয়ান আশা করে যে, তার সংলাপ অংশীদাররা (ডিপি) তার পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে বর্তমানে পাকিস্তানের পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাব রয়েছে।

২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার আসিয়ান সভাপতিত্বে পূর্ণ আলোচনা অংশীদার মর্যাদার জন্য পাকিস্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ঝিমিয়ে পড়েছে, তবে কোনও অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। নতুন ডিপি গ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ - যা ইসলামাবাদের অনুরোধকে দীর্ঘ বিলম্বিত করেছে - এখনও একটি প্রযুক্তিগত বাধা। ১৯৯৬ সাল থেকে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ২০২১ সালে আসিয়ানকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো ডিপি মর্যাদা প্রদানের জন্য রাজি না করা পর্যন্ত কোনও নতুন আলোচনা অংশীদারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাজ্য সফল হলেও পাকিস্তান আসিয়ানকে বোঝাতে পারেনি যে, ভারত ইতিমধ্যেই একটি আলোচনা অংশীদার হওয়ার কারণে তাদের একই মর্যাদা প্রাপ্য।

অন্যান্য আসিয়ান দেশ যারা চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করবে, যেমন ২০২৬ সালে ফিলিপিন্স, ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুর, ২০২৮ সালে তাইল্যান্ড এবং ২০২৯ সালে ভিয়েতনাম, তাদের সম্প্রসারণ বা পাকিস্তানের প্রার্থিতা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই।

পাকিস্তান মালয়েশিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক উষ্ণতা ব্যবহার করে ডিপি ধারণাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি পাকিস্তানের কূটনীতিকে কিছুটা হলেও প্রদর্শনের সুযোগ করে দেয় এবং অন্য দিকে মালয়েশিয়া তাদের ভ্রাতৃত্ববোধকে উপস্থাপন করে। তারা ভাল করেই জানে যে, নতুন ডিপি গ্রহণের বিষয়ে আসিয়ানের মধ্যে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। স্থগিতাদেশটি বহাল রয়েছে এবং মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান পদ ২০২৫ সালে শেষ হবে, যা আবার ২০৩৫ সালের আগে ফিরে আসবে না। অন্যান্য আসিয়ান দেশ যারা চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করবে, যেমন ২০২৬ সালে ফিলিপিন্স, ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুর, ২০২৮ সালে তাইল্যান্ড এবং ২০২৯ সালে ভিয়েতনাম, তাদের সম্প্রসারণ বা পাকিস্তানের প্রার্থিতা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। এই দেশগুলির মধ্যে কিছু দেশ ধারাবাহিক ভাবে পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষাকে ভেটো দেয় বলে জানা গিয়েছে

আসিয়ান দ্রুতই তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করুক বা না করুক, আসিয়ান সম্প্রদায়ের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে ব্যবহারিক সম্পর্ক জোরদার করার কাজ এখন বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্য দিয়ে চলছে, যেমন উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল এবং অন্য ইউরোপীয় উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে, যারা সকলেই আসিয়ানে অবদান  রাখতে পারে। যদি না আসিয়ান পাকিস্তানে তুলনামূলক মূল্য দেখতে না পায়, তাহলে ব্যবহারিক সহযোগিতা ক্ষেত্রের (পিসিএ) বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

 


গুরজিৎ সিং জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, আসিয়ান এবং আফ্রিকান ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।


 নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.