অপারেশন সিঁদুর ভারতের যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্রমবিকাশমান কৌশলে গোয়েন্দা তথ্যের সংমিশ্রণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
এই প্রবন্ধটি ‘প্রতিক্রিয়া থেকে পুনর্গঠন: অপারেশন সিঁদুরের এক বছর’ শীর্ষক প্রবন্ধ সিরিজের একটি অংশ।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ঠাণ্ডা মাথায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার দুই সপ্তাহ পর, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো সামরিক অভিযান, যার লক্ষ্য ছিল সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী পরিকাঠামোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলিকে ধ্বংস করার মাধ্যমে পূর্ব-প্রতিরোধ (ডেটারেন্স) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ৭ মে ২০২৫-এ শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল উপমহাদেশের প্রথম অ-সংঘর্ষমূলক যুদ্ধ, এবং তাই এর প্রতিটি দিকই জটিল গোয়েন্দা কাঠামোর দ্বারা সমর্থিত ছিল। সীমান্ত বরাবর কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারের স্ক্রিনে আসা ডেটা পয়েন্টগুলি ম্যাপ করা হত, এবং এমন একটি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করা হত যেখানে স্থলবাহিনীর ব্যবহার সম্ভব ছিল না। একই সময়ে, রিয়েল-টাইম মাল্টি-সেন্সর ডেটার অবিরাম প্রবাহের মাধ্যমে ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্ষম করা হয়েছিল যাতে ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’-এর অধীনে পাকিস্তানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঝাঁককে নির্ভুলভাবে প্রতিহত করা যায়। এর ফলে বেসামরিক জীবন ও সম্পত্তির ন্যূনতম ক্ষতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুর ছিল উপমহাদেশের প্রথম অ-সংঘর্ষমূলক যুদ্ধ, এবং তাই এর প্রতিটি দিকই জটিল গোয়েন্দা কাঠামোর দ্বারা সমর্থিত ছিল।
এক বছর পর, ভারত তার গোয়েন্দা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। এর বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) তাদের নিজ নিজ সহযোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে মিলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার পাকিস্তানি প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে প্রতিবেশী ও তার বাইরের অংশীদারদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রসারিত করেছে। সাউথ ব্লকের (বর্তমানে সেবা তীর্থ) কৌশলবিদরাও গোয়েন্দা বিভাগসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার সকল স্তরে সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করেছেন। ১১ মে ২০২৫-এর যুদ্ধবিরতির পরবর্তী এই দুটি গতিপথ বিশ্লেষণ করে, এই নিবন্ধটি গত এক বছরে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা কাঠামোর উপর অপারেশন সিঁদুরের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পরীক্ষা করেছে।
গোয়েন্দা সংযোগ এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমন্বয়
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে আইএসআই কর্তৃক সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তার বিপদ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির ফলে ভারত এই অঞ্চলে ও এর বাইরে সহযোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে তার যোগাযোগ চুক্তি প্রসারিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আইএসআই ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অস্থিরতাকে এবং প্রবাসী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিস্তারকে নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে, আর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক গভীর করেছে। এর জবাবে, মে ২০২৫ থেকে ভারতের পাল্টা কৌশল পাকিস্তানের প্রভাব খর্ব করার জন্য গোয়েন্দা যোগাযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে আইএসআই কর্তৃক সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তার বিপদ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির ফলে ভারত এই অঞ্চলে ও এর বাইরে সহযোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে তার যোগাযোগ চুক্তি প্রসারিত করেছে।
আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ঢাকায় মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী শাসনকালে, আইএসআই দ্রুত তার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির সঙ্গে সহযোগিতা প্রসারিত করে, যার অংশ হিসেবে আইএসআই-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক জানুয়ারি ২০২৫-এ ঢাকা সফর করেন। এই সময়ে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির মধ্যে, আইএসআই ভারতের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত অভিযানের জন্য বাংলাদেশকে একটি বিকল্প উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ২০২১ সালে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার কার্যকলাপের অনুরূপ অস্ত্রসজ্জিত অভিবাসন, শেখ হাসিনার প্রশাসনের অধীনে দুর্বল হয়ে পড়া গোয়েন্দা নেটওয়ার্কগুলির পুনর্গঠন, এবং জেএমবি-র মতো গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন প্রদান—যা পাকিস্তানের কয়েক দশক ধরে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দেওয়ার নীতিরই অনুরূপ। মায়ানমারে আইএসআই দেশটির চলতি গৃহযুদ্ধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক প্রসারিত করেছে এবং বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তারা মায়ানমারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে পরিচালিত ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) (আলফা-আই)-এর মতো ভারতবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। মায়ানমারে আইএসআই-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স’ গঠন করা, যা সংগঠিত অপরাধী চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত এবং ভারতে উপস্থিতি আছে এমন চারটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনকে নিয়ে গঠিত।
অপারেশন সিঁদুর ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে আইএসআই কর্তৃক সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা বিপদ নিরসনের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা প্রচেষ্টায় এক জরুরি অবস্থা তৈরি করে। র, ডিআইএ ও ডিরেক্টরেট অফ মিলিটারি ইন্ট্যালিজেন্স (ডিএমআই)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের ডিরেক্টরেট-জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্ট্যালিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর যোগাযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা আংশিকভাবে নিরসনে সাহায্য করেছে। আশা করা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটিতে আইএসআই কর্তৃক নির্মিত সন্ত্রাস ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কগুলিকে প্রতিহত করা যাবে। একইভাবে, মায়ানমারে ডিআইএ এবং ডিএমআই সন্ত্রাসবাদ থেকে উদ্ভূত অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সে দেশের গোয়েন্দা কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, ডিএমআই এবং ডিআইএ মায়ানমারে পাকিস্তান-সমর্থিত আলফা-আই-এর নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা এবং বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সমন্বয় করে, যা দেশটিতে আইএসআই-এর উপস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের অভিপ্রায় ও ইচ্ছার ইঙ্গিত দেয়।
অপারেশন সিঁদুর ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে আইএসআই কর্তৃক সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা বিপদ নিরসনের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা প্রচেষ্টায় এক জরুরি অবস্থা তৈরি করে।
প্রতিবেশী দেশগুলির বাইরে, ২০২৩ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আইএসআই-সংশ্লিষ্ট খলিস্তানি আন্দোলনকারী হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যুতে ভারতীয়দের জড়িত থাকার দাবির কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ফলে র এবং কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল এবং কানাডার এনএসএ নাতালি ড্রুইনের মধ্যে আলোচনার পর উভয় পক্ষ আইএসআই-সমর্থিত খলিস্তানি চরমপন্থা এবং সংগঠিত অপরাধের মতো বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নিরাপত্তা সংযোগ কর্মকর্তা (এসএলও) বিনিময় করতে সম্মত হয়। অপারেশন সিঁদুরের অব্যবহিত পরে আইএসআই-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার যে তাগিদ ভারতের কৌশলগত মহলকে গ্রাস করেছিল, তার দ্বারা আবারও রূপায়িত এই চুক্তিটি উত্তর আমেরিকার মতো দূরবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে আইএসআই কর্তৃক ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি সৃষ্ট বিপদ মোকবিলার জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কার
অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত তার গোয়েন্দা সক্ষমতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে আধুনিকীকৃত করেছে। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গোয়েন্দা-কেন্দ্রিক চাহিদা, বিশেষ করে দ্রুততর গোয়েন্দা তথ্য সংশ্লেষণ ও প্রচারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা, মাল্টি এজেন্সি সেন্টার (ম্যাক)-এর কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলেছে। এই কেন্দ্রটি হল সেই নোডাল প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে ভারতের ২৮টি সামরিক, পুলিশ এবং বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও ডেটা প্রেরণ করা হয়। ম্যাক এখন আরও দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংশ্লেষণের জন্য নতুন এআই/এমএমএল সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মিশন সুদর্শন চক্র তৈরির ঘোষণাও করেন। এটি একটি দেশীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা একাধিক উৎস থেকে জাতীয় গোয়েন্দা ডেটাবেস এবং সেন্সর ডেটাতে রিয়েল-টাইম অ্যাক্সেসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই দুটি উদ্যোগই ভারতের কৌশলগত মহলে গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের কাছে রিয়েল-টাইম প্রচারের গতি বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করাকে তুলে ধরে, যা অপারেশন সিঁদুর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে অ-সংঘর্ষ যুদ্ধের সূচনার দ্বারা চালিত।
অপারেশন সিঁদুর ভারতে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত হুমকিকেও তুলে ধরেছিল এবং ‘প্রহার’ নামক একটি গোয়েন্দা-চালিত জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া ‘প্রহার’ ভারতজুড়ে গোয়েন্দা সংস্কারের একটি নতুন তরঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। এটি তার নোডাল সংস্থা ম্যাক, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং এর সহযোগী সংস্থা জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স অন ইন্টেলিজেন্স (জেটিএফআই)-এর মধ্যেকার বিচ্ছিন্নতা দূর করার সুস্পষ্ট দাবি জানায় এবং সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় তাদের রিয়েল-টাইমে সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ পরিসরে সোশ্যাল মিডিয়ার ডেটা সংগ্রহ এবং একাধিক প্রযুক্তিগত ও মানবিক গোয়েন্দা উৎসের মাধ্যমে তার যাচাইকরণ।
অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত তার গোয়েন্দা সক্ষমতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে আধুনিকীকৃত করেছে।
ভারত তার গোয়েন্দা সাফল্যের উপর ভিত্তি করে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং অপারেশন সিঁদুরের সময় চিহ্নিত প্রধান দুর্বলতাগুলি থেকে শিক্ষা নিয়েছে। সম্ভব স্মার্টফোনের মতো এনক্রিপ্টেড হ্যান্ডহেল্ড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্মের সাফল্য নিশ্চিত করেছিল যে, সংঘাত চলাকালীন ফিল্ড কমান্ডারদের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত থাকবে। দেশীয় কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো যেতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১,০০০ কিলোমিটার কোয়ান্টাম নেটওয়ার্কের উন্নয়ন। এই অগ্রগতি ভারতের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কারণ তারা ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় তাত্ত্বিকভাবে অভেদ্য যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির পথ খুঁজছে। একইভাবে, সংঘাত চলাকালীন বিজনেস সিস্টেমস ইন্টারন্যাশনালের মতো পাকিস্তান-ভিত্তিক, আইএসআই-সংশ্লিষ্ট রিসেলারদের দ্বারা ম্যাক্সার স্যাটেলাইট চিত্র ক্রয়ের ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য, কারণ তা ব্যাপক ওপেন-সোর্স ইন্ট্যালিজেন্স (ওসিন্ট) এবং বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের এই যুগে ভারতের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মুখোমুখি হওয়া কাউন্টার ইন্ট্যালিজেন্স দুর্বলতাগুলিকে তুলে ধরেছে। ভারত এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ একটি বিশেষায়িত চিত্রভিত্তিক গোয়েন্দা ইউনিট ডিফেন্স জিওস্পেশিয়াল এজেন্সি (ডিজিএ) প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেছে। এর উদ্দেশ্য হল, শান্তিকালীন ও যুদ্ধকালীন উভয় সময়েই বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে শত্রুপক্ষের অবাধ প্রবেশাধিকারের কারণে সৃষ্ট কাউন্টার ইন্ট্যালিজেন্স প্রতিবন্ধকতা সীমিত করা।
অপারেশন সিঁদুরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি লক্ষণীয় যে, ১১ মে-র যুদ্ধবিরতি ছিল কেবলই একটি বিরতি, কোনও চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। সেই প্রেক্ষাপটে, ভারতকে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সময় অতীতের যুদ্ধের থেকে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
অর্চিষ্মান রায় গোস্বামী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনাবাসী জুনিয়র ফেলো এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পিএইচ ডি গবেষক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Archishman Ray Goswami is a Non-Resident Associate Fellow with the Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation, New Delhi. His work focusses on the intersections ...
Read More +