Author : Harsh V. Pant

Published on May 14, 2025 Updated 0 Hours ago

ক্রমশ বৃদ্ধির সাক্ষী থাকা ভারত সন্ত্রাসবাদের পরিণতিকে তার উৎসস্থলেই ফিরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে

অপারেশন সিঁদুর: মতাদর্শগত পরিবর্তন এবং বাঁকবদলের বিন্দু

পাকিস্তান যে তার নিজস্ব বিভ্রান্তির জগতে বাস করছে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর ভাষণে ভারতের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেন। পাকিস্তানকে ভারত-পরিচালিত অযৌক্তিক যুদ্ধের শিকার এবং পহেলগামের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতিকে ইসলামাবাদ কর্তৃক গৃহীত কূটনৈতিক সমঝোতা হিসেবে নয়, বরং তিনি পাকিস্তানের কথিত সামরিক দক্ষতার ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেন। বাস্তবতা অবশ্যই সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন, যার ফলে ভারত কোনও শর্তের অপেক্ষা না করেই পারস্পরিক সম্মতিতে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল।

গত কয়েক দিন ধরে ভারত যে পদক্ষেপ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তান থেকে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং পাকিস্তানে যাতায়াতকারী বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করা। অদূর ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আরও উল্লেখযোগ্য ভাবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নয়াদিল্লি পাকিস্তানের প্রতি তার নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে ভারতকে লক্ষ্য করে যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলাকেই যুদ্ধের প্রচেষ্টা বলে বিবেচনা করা হবে। সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পুরনো পদ্ধতির মৌলিক পরিবর্তন না হলে, ভারত পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছে যে, অপারেশন সিঁদুরের পুনরাবৃত্তি হবে। যারা পাকিস্তানে ভুয়ো বিজয়ের ঘোষণা করছে, তাদের হিসেব-নিকেশে টিকে নতুন স্বাভাবিকবিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

গত কয়েক দিন ধরে ভারত যে পদক্ষেপ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তান থেকে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং পাকিস্তানে যাতায়াতকারী বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করা।

পহেলগামে ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং বিগত কয়েক মাসে রাওয়ালপিন্ডি থেকে উদ্ভূত মুনির মতবাদের ফলে প্রতিবেশ অঞ্চলে যে বিপদ ঘনীভূত হয়েছে, সেটিকে হালকা ভাবে নেওয়ার আর কোনও সুযোগ নয়াদিল্লির কাছে নেই। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তরফে এটি ছিল শেষ চাল। অভ্যন্তরীণ ভাবে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতার নাটকীয় পতন, পাকিস্তান সম্পর্কে আদৌ চিন্তিত নয় এ হেন এক উদীয়মান ভারত, পাকিস্তানের নির্যাতিত হওয়ার প্রচলিত আখ্যানে ক্রমশ আগ্রহ হারিয়ে ফেলা এক বিশ্ব এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের পর উপত্যকায় স্বাভাবিকীকরণের আলোকে কাশ্মীর সমস্যা চিরতরে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আসলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ পুনরুজ্জীবিত করতে বাধ্য করেছে, যেখানে তিনি তাঁর দেশের জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তাঁরা নিজেদের সন্তানদের হিন্দু-মুসলিম পার্থক্যের গল্প বিশদে বোঝান। মুনির বলেন যে, ‘আপনাদের নিজেদের সন্তানদের পাকিস্তানের ইতিহাস বলতে হবে, যাতে তারা ভুলে না যায় যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিন্দুদের থেকে আলাদা।’ কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ঘাড়ের শিরা’ (জুগুলার ভেন) বলে উল্লেখ করে তিনি ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে কাশ্মীরিদের কখনও পরিত্যাগ না করার চিরাচরিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আখ্যানকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

তাই পহেলগাম হত্যাকাণ্ড এবং তার পরে উত্তেজনা এত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই সমীকরণের নেপথ্যে ছিল এমন এক পাকিস্তান, যারা সংঘাতকে ধর্মীয় আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে এবং এমন এক ভারত, যে সাম্প্রতিক অতীতের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানি সেনাকে পুনরায় সুযোগ না দিতে অনড়। ভারত তার অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামোর উপর পাল্টা আক্রমণ করে এবং নিজের অভিযানকে ‘কেন্দ্রীভূত, পরিমিত এবং অনুত্তেজক হিসাবে বর্ণনা করে পাকিস্তানকে একটি অফ-র‍্যাম্প প্রদান করে। এর পাশাপাশি জোর দিয়ে ভারত এ কথাও বলে যে, তাদের লক্ষ্য ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বার মতো  গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসবাদী শিবিরগুলির উপর হামলা চালানো, পাকিস্তানি সামরিক কেন্দ্র বা বেসামরিক এলাকার উপর হামলা চালানো নয়।

পাকিস্তানের তরফে চালানো অধিকাংশ হামলাই ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মূল করতে সমর্থ হয়েছে।

যেমনটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, পাকিস্তান ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের বেসামরিক নাগরিক সামরিক কেন্দ্রগুলির উপর হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। নয়াদিল্লি প্রস্তুত ছিল এবং তাদের নিজস্ব সামরিক সম্পদ ব্যবহার করে প্রত্যুত্তর নেয়। পাকিস্তানের তরফে চালানো অধিকাংশ হামলাই ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মূল করতে সমর্থ হয়েছে। ভারতের ব্রহ্মস বিমান থেকে উৎক্ষেপিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাওয়ালপিন্ডির কাছে চাকলালা, পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধা জাকোবাবাদ, ভোলারি এবং স্কারদুতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে আঘাত করার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তাটি সুস্পষ্ট ছিল যে, ভারত একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তীব্রতার বৃদ্ধির পথে হাঁটতে ইচ্ছুক সক্ষম এবং ভারত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। অতীতে ভারতের কৌশলগত সংযম দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার সমীকরণকে বদলে দিলেও ক্রমবর্ধমান ভাবে নয়াদিল্লির কৌশলগত ঝুঁকি নেওয়ার সদিচ্ছা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করছে। নিজের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক ভারত শুধু মাত্র সমানে সমানেই অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কথাবার্তা চালাতেও আগ্রহী।

গত সপ্তাহের উত্তেজনার পর প্রতি-উত্তেজনার তীব্র সমীকরণের যে কথাটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা হল, নয়াদিল্লি কোনও অন্তহীন যুদ্ধের চোরাস্রোতে ডুবে যেতে আগ্রহী নয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির কৌশলগত লক্ষ্য হল ভারতীয় প্রবৃদ্ধির আখ্যানকে তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ প্রদান করা। রাশিয়া ও ইরায়েলের সঙ্গে অযৌক্তিক তুলনা এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রেক্ষিতের সঙ্গে এই সংঘাতকে গুলিয়ে ফেলা শুধু মাত্র চরম ভুলই নয়, বরং আজকের বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে ভারতের আসল চালিকাশক্তিকেও অবমূল্যায়ন করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারত কেবল বৃহত্তর ক্ষমতা অর্জন করবে না বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে অংশীদারিত্বকেই কৃষ্ট করবে না, বরং এ কথাও সুনিশ্চিত করবে যে, পাকিস্তানের সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি স্থায়িত্ব পায় – যে বিচ্ছিন্নকরণের বিষয়টি মুনিরের মতো ইসলামপন্থীরা না হতে দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারত সেই ফাঁদে পা না দিয়ে উচিত কাজই করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের পরিণতিকে তার উৎসস্থলে প্রেরণ করার দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দিয়েছে। এটিই হল অপারেশন সিঁদুরের প্রকৃত বার্তা!

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মিন্ট-এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.